রূপকথা


‘আপনি কি এনগেজড?’
কথাটা শুনে মেয়েটা চমকে উঠলো। চমকে ওঠারই কথা। এমন প্রশ্ন অবশ্যই আশা করে নি। তারওপর মাত্র কিছুক্ষণের পরিচয়ে। পরিচয়ও ঠিক না, কিছুক্ষণ পাশাপাশি বসে থাকা। তারপরও কি মনে করে মিষ্টি করে হাসল। ‘কেন? আপনি কি ইন্টেরেস্টেড?’


‘আপনি কি এনগেজড?’
কথাটা শুনে মেয়েটা চমকে উঠলো। চমকে ওঠারই কথা। এমন প্রশ্ন অবশ্যই আশা করে নি। তারওপর মাত্র কিছুক্ষণের পরিচয়ে। পরিচয়ও ঠিক না, কিছুক্ষণ পাশাপাশি বসে থাকা। তারপরও কি মনে করে মিষ্টি করে হাসল। ‘কেন? আপনি কি ইন্টেরেস্টেড?’
মেয়েটা সম্পর্কে একটু বলে নিই। কিছুক্ষণ আগেই দেখা। দারুণ সুন্দরী। ঢাকা সিলেট হাইওয়েতে দাঁড়িয়ে লিফট নেয়ার চেষ্টা করছিল। আমি গাড়ী নিয়ে তখন ফিরছি সিলেট থেকে। বিকেল তখনও পেরোয় নি। গাড়ীতে আমি একা। নিজেই ড্রাইভ করে ফিরছি। রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে, বাস দেখেলেই হাত তুলে লিফট নেয়ার চেষ্টা করছে। ইচ্ছা সম্ভবতঃ বড় কোন বাসে লিফট নেয়ার। তেমন কোন বাসে উঠলেও দাঁড়িয়ে যেতে হবে। সেটা পারবে বলে মনে হয় না। হয়তো সেজন্য এখনও চলনসই কিছু পায় নি।
আমাকে যদিও থামাবার জন্য চেষ্টা করে নি তবুও থামলাম। সম্ভবতঃ সৌন্দর্যের কারণেই। ভদ্র টাইপের মেয়েই মনে হচ্ছে। যদিও পোষাকে কিছু কাদা লেগে আছে। তারপরও ট্র্যাপ কিংবা আজে বাজে কিছু মনে হল না। পুরো দস্তুর অফিসিয়াল ড্রেসে আমি। মিটিং সেরে সোজা রওয়ানা দিয়েছি। কমপ্লিট পরে আছি ডার্ক ব্লু রঙয়ের। চেহারাও মাস্তান টাইপ না। মনে হয় না লিফট দিতে চাইলে অমত করবে। তারপর ও ঠিক করলাম সরাসরি কিছু বলব না, ভাবতে পারে সুন্দরী মেয়ে দেখে বিগলিত বোধ করছি। ভদ্রতার খাতিরে জানতে চাইছি এমন করে বললাম, কোন সমস্যা?
একটু ইতস্ততঃ করে উত্তর দিল, বাস আমাকে রেখে চলে গেছে।
ভালো লক্ষণ। আমাকে অপছন্দ করলে উত্তর দিত না। পাশ কাটানো কিছু উত্তর দিত। লিফট দেয়ার ইচ্ছা জানাবো? নাকি অন্য কিছু ভেবে বসতে পারে। আমার পরিচয় দিয়ে শুরু করি। এরপর রেসপন্স দেখে ঠিক করব কি কথা বলব। পকেট থেকে নিজের কার্ড বের করলাম। পরিচয় পর্ব শুরু করলাম, আমি ইঞ্জিনিয়ার আরেফিন হাসান। ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। একটা মোবাইল কোম্পানিতে আছি। আমি কি কোন হেল্প এর অফার দিতে পারি?
ফ্যাকাশে একটা হাসি দিল মেয়েটা। সমস্যায় পরে গেছে। ‘না’ বলতে পারছে না। আবার ‘হ্যাঁ’ বলতেও সাহস পাচ্ছে না। আমি আসলে কেমন মানুষ, চেহারা দেখে তো আর বোঝা সম্ভব না। মেয়েটাকে দোষও দেয়া যায় না। কিন্তু মেয়েটার হাতে সময়ও বেশী নেই। আর কিছুক্ষণ পরেই সন্ধ্যা হয়ে যাবে। তখন এভাবে রাস্তার ধারে দাঁড়ানো, আরও বেশী ঝুঁকিপূর্ণ। নিজেকে নিস্পাপ ধাঁচের কিছু প্রমাণ করার সহজ কোন উপায় নেই। মেয়েটার অন্যতম সমস্যা সন্ধ্যা হয়ে আসা। আর আমার একমাত্র ভরসাও সেটাই। আর কিছু সাহায্যে আসতে পারে আমার কার্ড।
একটা ভালো কোন বাসে যদি সিট পেতাম।
অর্থাৎ আমার গাড়ীতে লিফট নেয়ার ইচ্ছে নেই। বরং গাড়ী থামাতে যেন হেল্প করি, সেদিকেই ইঙ্গিত। লোক দেখানো কিছু চেষ্টা করলাম। ঢাকা সিলেট বাস গুলো থামবে না জানা কথা। এরা রাস্তায় লোক উঠাবে না। কিছুক্ষণ চেষ্টার পরে হাল ছেড়ে দেয়ার ভঙ্গি করে বললাম, আমি আরও কিছুক্ষণ সাহায্য করতে পারি, তবে এরকম জায়গায় বাস থামতে চাইবে না। আর সন্ধ্যা হয়ে গেলে তো আরোই থামবে না। একেবারে লোকাল কিছু থামতে পারে, সেসবে উঠতে পারবেন বলে মনে হয় না।
অসহায় একটা দৃষ্টি নিয়ে তাকাল। বুঝে উঠতে পারছে না কি করবে। আমি যে লিফট দিতে আগ্রহী তা মনে হয় আন্দাজ করেছে। আমিও অপেক্ষা করে আছি, কখন লিফট এর অফার টা দিব।
আমরা কয়েক বান্ধবী মিলে সিলেট গিয়েছিলাম। বাসে করেই একসঙ্গে ফিরছিলাম। এমন সময় হঠাৎ বাসের টায়ার নষ্ট হয়। টায়ার পাল্টানোর জন্য বাসটা এখানে থামে। কিছুক্ষণ থামবে ভেবে আমরা নেমে এদিক ওদিক হাঁটছিলাম। এমন সময়…
ভেরী গুড। মনে হচ্ছে আমাকে কিছুটা ভদ্রলোক ভাবতে শুরু করেছে। নিজের দুঃখের গল্প শোনাচ্ছে। এখন রিস্ক নেয়া যায়। মনে হয় রাজী হয়ে যাবে। বললাম, আই থিঙ্ক কার দোষ সেটা এখন ইম্পরট্যান্ট না। আমি ঢাকায় যাচ্ছি। যদি আমাকে ভদ্র গোছের প্রাণী মনে হয় এবং আমার সঙ্গে এক গাড়ীতে যেতে আপত্তি না থাকে, তবে লিফট দিতে পারি।
দ্বিধা এখনও কাটে নি। কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। আরও একটা অফার দিলাম। আপনার ফোন আছে সঙ্গে?
আছে।
এবার শেষ চেষ্টা টা করলাম। বললাম, আপনি বরং ফোন করে বাসায় আমার নাম আর গাড়ীর নম্বর বলে দেন। ঘন্টা তিনেকের ভেতর বাসায় না পৌছলে গাড়ীর নম্বর সহ পুলিশে খবর দিয়ে দেবে। বা চাইলে একটু পরে পরে ফোনে কথা বলতে থাকতে পারেন, জানিয়ে দেবেন ঠিক আছেন কি না। ওকে?

কি আলাপ করা যায়? কিভাবে শুরু করব? তখন আপ্রাণ চেষ্টা করছি বিভিন্ন রোমান্টিক ছবির নায়ক নায়িকার প্রথম আলাপের দৃশ্য মনে করার। কিভাবে নায়ক গুলো সুন্দর কিছু বলে নায়িকাকে মুগ্ধ করেছিল। কোন নির্দিষ্ট ডায়ালগ মনে আসছে না। কিছুই মনে আসছে না। আচ্ছা, কি ধরনের কথায় মেয়েরা বেশ মুগ্ধ হয়। নাকি সোজা সাপটা জাতীয় কথা বার্তা বলব। নাম জানতে চাওয়া? কিংবা কি করেন? কিভাবে শুরু করব ভাবছিলাম। এমন সময় মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল, ‘আপনি কি এনগেজড?’ বলে আমি নিজেও অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। কেন বললাম তাঁর ব্যাখ্যা দিব না প্রসঙ্গ পালটাবো ভাবছি এমন সময় উত্তরটা পেলাম।
কেন? আপনি কি ইন্টারেস্টেড? মুখে দুষ্টুমির হাসি। খুব রাগ করে নি তাঁর মানে। সাহস বেড়ে গেল।
অনেস্টলি স্পিকিং ইয়েস।
একজন মেয়ের সঙ্গে প্রথম দেখায় এসব জিজ্ঞেস করা কি খুব সমীচীন?
আমার কি আর কোন অপশান আছে?
আবার হেসে ফেলল। অপূর্ব মিষ্টি এক হাসি। বোধহয় আমার ছেলেমানুষিতে কিংবা আমার সারল্যে। এবার আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ইয়েস, আই অ্যাম এনগেজড।
ভেঙ্গে ফেলা যায় না?
এবার সত্যিই অবাক চোখে তাকাল মেয়েটা। মানে?
আই নো, ইট সাউন্ডস অকওয়ার্ড। মানে, অ্যাফেয়ার হলে বলার কিছু নেই। বাট তা না হলে, আই মিন…
আপনি জানেন কার সঙ্গে আমি এনগেজড?
খুব বিখ্যাত কেউ?
বলতে পারেন।
ও। কম্পিটিশানে পারবো না বলছেন?
ছোটবেলায় রূপকথার গল্প পড়তেন?
রাজপুত্র আর রাজকন্যা?
সেসব গপ্লের মোরাল কি থাকতো বলেন তো?
কথাটায় কি যেন একটা ইঙ্গিত আছে। কি বলতে চাইছে? মেয়েটা কোন বন্দী রাজকন্যা? কিংবা কোন সমস্যায় আছে? আমার কি তবে কিছুটা সম্ভাবনা আছে? চেষ্টায় থাকবো? সুন্দরী মেয়ে অনেক দেখেছি, কিন্তু এই মেয়েটার জন্য কেন যেন দারুণ একটা আকর্ষণ অনুভব করছি। শেষ চেষ্টা একটা করবই।
বুঝলাম না আপনার কথা।
গল্প গুলোতে একটা রাজকন্যা থাকতো, তাই না?
তা থাকতো। তাঁকে পাওয়ার জন্য কপিটিশানও হত। রাজপুত্র, মন্ত্রিপুত্র, কোটাল পুত্র এদের মধ্যে। কখনও বিভিন্ন দেশের রাজপুত্রের মধ্যে। এসব কথা কেন বলছেন? আমাকে কি কম্পিটিশানে নামতে বলছেন?
মেয়েটা মাথা নিচু করে ম্লান হাসল। তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বলল, না। গল্প গুলোর মোরাল ছিল, রাজকন্যা হচ্ছে একটা পুরস্কার। যার শক্তি বেশী তাঁর জন্য সে নির্ধারিত।
গুরুতর কোন ব্যাপার মনে হচ্ছে। অমতে কিংবা জোর করে বিয়ে হচ্ছে। কিন্তু কেন? কম্পিটিশানে নামতে আমার আপত্তি নাই। পাত্র হিসেবে আমি খুব খারাপ না। ফ্যামিলি ভাল, ভাল জব করি, চেহারা এমন খারাপ না। সবচেয়ে বেশী যেটা জানা দরকার, সুযোগ আছে কি না।
আর ইউ ইন এনি সর্ট অফ প্রবলেম? মানে, জোর করে কিংবা আপনার অমতে হচ্ছে এই বিয়ে? কার সঙ্গে আপনার এনগেজমেন্ট?
শীর্ষ সন্ত্রাসী মিলনের নাম শুনেছেন?

২০ thoughts on “রূপকথা

        1. ইহা তার সুপরিচিত রিপ্লাই…
          ইহা তার সুপরিচিত রিপ্লাই… মাঝে মাঝে মনে হয়, উনি কমেন্ট না করে এই রিপ্লাই সবাইকে কপি পেস্ট করে যায়… :ভেংচি: :ভেংচি: :ভেংচি:

  1. শুরু থেকেই আতঙ্কের মধ্য ছিলাম
    শুরু থেকেই আতঙ্কের মধ্য ছিলাম এবং শেষে এসে ভয় পেয়ে গেলাম ……………… :কেউরেকইসনা:

  2. ছোটগল্প হিসেবে অসাধারন
    ছোটগল্প হিসেবে অসাধারন হয়েছে।আর খুব চাই এটা যেন ব্যাক্তিগত কথাকাব্য না হয় সত্যিকার অর্থে।

  3. গল্পটা আগে কোথাও পড়েছি। ঠিক
    গল্পটা আগে কোথাও পড়েছি। ঠিক মনে পড়ছে না এই মুহূর্তে। আপনি কি অন্য কোন ব্লগে গল্পটা আগে দিয়েছিলেন?

    এনিওয়ে, গল্পটা প্রথম যখন পড়ি তখনই ভাল লেগেছিল। ইষ্টিশনের পাঠকদের মাঝে শেয়ার করবার জন্য ধন্যবাদ। এমন গল্প আপনার কাছ থেকে আরও আশা করছি।

      1. তার মানে আপনিই ডাঃ সানি
        :খাইছে: :খাইছে: :খাইছে:
        তার মানে আপনিই ডাঃ সানি জয়নুদ্দিন? :মাথানষ্ট: আরও আগেই বোঝা উচিৎ ছিল। :মাথাঠুকি: ইষ্টিশনে স্বাগতম :গোলাপ: :ফুল:

  4. আচ্ছা, আপনার কী ফেসবুক আইডি
    আচ্ছা, আপনার কী ফেসবুক আইডি আছে? থাকলে কি অ্যাড করা যায়? আমার আইডিতে ফেসবুক নিকের লিংক দেয়া আছে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *