সমাজের ধারা

র্ম নিয়ে কটুক্তি কোনো দেশে ,কোনো কালেই গ্রহণীয় নয়।আমি সেটা মানি এবং মনে প্রাণে বিশ্বাস করি।কারণ আমার অধিকার ততটুকুই যতটুকু আমার নাক।এর বাইরে আমি যা করব তা অবশ্যই নৈতিক ও মানবিক উভয়দিক থেকে অপরাধ।তবে সেইসাথে আমাদের তাও মনে রাখতে হবে আমি যেমন অন্যের বিষয় হস্তক্ষেপ করব না তেমন অন্যরাও আমার বিষয় হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।তাহলে ব্যক্তি-স্বাধিনতা খর্ব হবে।আমাদের আরো একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে,সেটা হল সমালচনা এবং কটুক্তির মাঝে পার্থক্য।যেটা আমরা প্রায়শই গুলিয়ে ফেলি।সমালচনার সংজ্ঞা দাড় করতে গেলে আমি বলব “সমভাবে যা আলোচনা তাই সমালচনা”।অর্থাৎ একটি বিষয়ের ইতিবাচক দিক আর নেতিবাচক দিক দুটোই সমানভাবে যুক্তি দিয়ে আলচনা।আর কটাক্ষ করে যে উক্তি তাই কটুক্তি।দুটোর মাঝেই বিস্তর ফরাক।যেকোন বিষয়ে আলোচনার চেয়ে সমালচনার প্রয়োজনটাই বেশি কারণ এরপরের ধাপটাই পর্যালচনার।সমালচনা সবচেয়ে বেশি কার্যকরী হয় যখন আমরা কোন বিশেষ মতবাদ,ধারণা,কৃষ্টিকে স্থায়িত্ব,ফলপ্রসূ এবং সার্বজনীনতা দিতে চাই।কেননা তখন এই পন্থাটির মাধ্যমেই একটি মতবাদ,ধারণা,কৃষ্টিকে কুসংস্কারমুক্ত এবং প্রয়োগিক করা যায়।।কোন ভাবেই সমালচনার দ্বার বন্ধ করা যাবে না।যদি তা হয় তাহলে একটি জাতির জ্ঞানচক্ষুর উপর কুসংস্কারের ধুলা এমনভাবে পড়বে যেটা পরিষ্কার করতে করতে কয়েকশ প্রজন্ম কেটে যাবে বা আদৌ এটা হবে কিনা তার- ও একটা প্রশ্ন থেকে যায়।এবার আসা যাক ধর্ম প্রসংগে।ধর্মকে একটা জাতীর সংস্কৃতির বিশেষ অংশ বলা যেতে পারে।তবে এটাকে সংস্কৃতির মৌলিক উপাদান বলা যাবে না।কেনোনা সংস্কৃতি তাকেই বলে যাটা একটা জাতীর পুর্ব- পুরুষের জীবনাভ্যাস এবং উত্তরসুরির কাছে ধরা দেয় প্রবাহমান কালের হাজারো বৈচিত্র নিয়ে।কালের পরিবর্তনের সাথে সাথে এটি কিছু মাত্রায় বিবর্তিত হয়; তবে সেটা নিছকই জন-মানুষের জীবন-যাত্রার মানের জন্য।অপরদিকে ধর্মের প্রয়োজনীয়তা মানুষের নৈতিক ও মানবিক দাবীর সাথে পরিবর্তিত হতে পারে।এক্ষেত্রে ধর্ম কিছুটা সংস্কৃতিকে প্রবাহিত করতে পারে কিন্তু আমূল পরিবর্তন ঘটাতে পারবে না।কিন্তু কথা আছে,সংস্কৃতির যেদিকগুলোর সর্বগ্রহণযোগ্যতা আছে সেখানে ধর্মের হস্তক্ষেপ সাজে না।কেনোনা এতে করে জাতীয়তাবোধ হুমকির মুখে পড়ে।ধর্ম একই সময় দুইভাগে প্রবাহিত হয়ঃপরিবারিক জীবন থেকে ব্যক্তি জীবন এবং পারিবারিক থেকে সামাজিক জীবনে।অন্যদিকে,সংস্কৃতি সমাজ থেকে পরিবার অতঃপর ব্যক্তি জীবনে পৌছে।এই দুইএর মাঝে কিছু মিল আছে,যার একটি হল- দুটোই সমালচনার পথ ধরে কুসংকারমুক্ত হয় এবং সার্বজনীনতা ও সর্বগ্রহনযোগ্যতা লাভ করে।আরো একটি দিক হল-দুটোর কোনটিকেই পরিহার করা সম্ভব নয়।তহলে যেমন রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল হয়ে যাবে তেমনই সামাজিক বন্ধন শিথীল হয়ে যাবে।ব্যক্তি জীবনে দুটোরই কার্যকারী প্রভাব আছে।এবার ব্যক্তিজীবন ও ধর্ম প্রসংগে আসা যাক।ধর্মের সৃষ্টি কেনো এবং কিসের প্রয়োজনে তা আমরা সবাই জানি।এখন কথা হচ্ছে একজন মানুষ কি ধর্ম পালনে বাধ্য?যদি ধর্মের আধ্যাতিক ক্ষেত্রটি বাদ দেই এবং শুধু আচরণবিধিটি দেখি তাহলে এই প্রশ্নটির আংশিক উত্তর পাওয়া যায়ুত্তরটি ব্যক্তি-বিশেষের ক্ষেত্রানুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।একটা বিশেষ দৃষ্টিকোন থেকে দেখলে, ব্যক্তির মাঝে যদি নৈতিকতা,মানবিকতা এবং একটি আদর্শ মানুষের সামগ্রিক জীবন-দর্শন থাকে তাহলে তার ধর্মের প্রয়োজন নেই বলব না কিন্তু স্বর্গ-নরকের লোভ-ভয় নাই থাকতে পারে।এবং সেটাকে কোনভাবেই সামাজিক আইনে অপরাধ বলা চলে না।কারণ বিষয়টির দায়-ভার ও কার্যকারন সম্পুর্নই তার নিজের উপর বর্তায়।তবে এক্ষেত্রে এটির পেছনে কোন যৌক্তিক কারণ থাকলে ভাল।আবার এটিও স্মরণে রাখতে হবে যেহেতু সে ধর্মীয় বিষয়বস্তু মানতে পারছে না তাই তার এটি নিয়ে সমালচনা সাজে না।কারণ তখন এটিকে অন্যের অনুভুতিতে আঘাত বলে ধরা হতে পারে।সে ততটুকুই বলবে বা করবে যতটুকু তার নিজের সাথে সম্পৃক্ত।অন্যদের মনে রাখতে হবে যে, সে ওই ব্যক্তিকে বঝাতে পারে,যৌক্তিক বিশ্লেষন করতে পারে কিন্তু উক্ত ব্যক্তিকে কোন প্রকারের চাপ বা লোভ দেখিয়ে বাধ্য করতে পারে না।ধর্ম পালন বাধ্যকতা না সামাজিক প্রয়োজন মাত্র যা ব্যক্তি জীবনকে স্থিতিশীল ও শৃংখলিত করে।

৯ thoughts on “সমাজের ধারা

  1. কটুক্তি আর সমালোচনার পার্থক্য
    কটুক্তি আর সমালোচনার পার্থক্য না বোঝাই ধর্মবিদ্বেষী এবং উগ্র ধর্মান্ধের জন্ম দেয়। আমার মতে সামাজিক কার্যক্রমে এদের কারোরই অংশগ্রহণের অধিকার নেই।

    1. সহমত ! ! ! এই ধরনের
      সহমত ! ! ! এই ধরনের ব্যাক্তিরা আমাদের সমাজে ক্ষতিকর হতে পারে.…কিন্তু এদের বাদ দিয়ে সমাজ ব্যবস্থা কতটুকু গতিশীল থাকবে তাও ভাববার বিষয়.…

    2. সহমত ! ! ! এই ধরনের
      সহমত ! ! ! এই ধরনের ব্যাক্তিরা আমাদের সমাজে ক্ষতিকর হতে পারে.…কিন্তু এদের বাদ দিয়ে সমাজ ব্যবস্থা কতটুকু গতিশীল থাকবে তাও ভাববার বিষয়.…

    3. সহমত ! ! ! এই ধরনের
      সহমত ! ! ! এই ধরনের ব্যাক্তিরা আমাদের সমাজে ক্ষতিকর হতে পারে.…কিন্তু এদের বাদ দিয়ে সমাজ ব্যবস্থা কতটুকু গতিশীল থাকবে তাও ভাববার বিষয়.…

  2. ধর্ম হোক মধ্যবিত্ত কোনো
    ধর্ম হোক মধ্যবিত্ত কোনো পরিবারের শো – পিস, যতক্ষন ঘরে থাকবে শোভা বর্ধন করে যাবে। বাইরে বের করা হলে শুরু হবে মালিকানা নিয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ।।

    1. মন্তব্যের বিষয়বস্তু বোধগম্য
      মন্তব্যের বিষয়বস্তু বোধগম্য হইল না..…..……আপনি সংশোধনবাদী বলতে কি বুঝাইলেন? ? ?আমার লেখা সংশোধনবাদী নাকি এটাকে সংশোধন করা প্রয়োজন ?! ?! ?!

    2. মন্তব্যের বিষয়বস্তু বোধগম্য
      মন্তব্যের বিষয়বস্তু বোধগম্য হইল না..…..……আপনি সংশোধনবাদী বলতে কি বুঝাইলেন? ? ?আমার লেখা সংশোধনবাদী নাকি এটাকে সংশোধন করা প্রয়োজন ?! ?! ?!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *