চিত্রা নদীর পারের শশিভূষণ অথবা বাঁশখালীর সমরেন্দ্র

সমরেন্দ্র দাস আমার হাত ধরে বলছিলেন- “দাদা, সেই ঘটনার পরে ইন্ডিয়া থেকে আত্মীয় স্বজনরা বারবার বলছে চলে যেতে ইন্ডিয়ায়। আমি নিজেও দ্বিধায় ভুগছিলাম কি করব ভেবে। একটা সময় চলে যাবো বলেই ভাবছিলাম। কিন্তু আজকে আপনাদের দেখে মনে সাহস পেলাম। কেন যাবো আমি আমার বাপ-দাদার ভিটে ছেঁড়ে? মরলে এই মাটিতেই মরব।”



সমরেন্দ্র দাস আমার হাত ধরে বলছিলেন- “দাদা, সেই ঘটনার পরে ইন্ডিয়া থেকে আত্মীয় স্বজনরা বারবার বলছে চলে যেতে ইন্ডিয়ায়। আমি নিজেও দ্বিধায় ভুগছিলাম কি করব ভেবে। একটা সময় চলে যাবো বলেই ভাবছিলাম। কিন্তু আজকে আপনাদের দেখে মনে সাহস পেলাম। কেন যাবো আমি আমার বাপ-দাদার ভিটে ছেঁড়ে? মরলে এই মাটিতেই মরব।”
কথাগুলো তিনি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষাতেই কিছুটা সহজবোধ্য করে বলছিলেন। আমার সামনে তখন প্রায় মাসখানেক আগে ঘটে যাওয়া বর্বরোচিত হামলার দগদগে ক্ষত নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা পোড়া ভিটে আর মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ। আমি কিছু বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। সমরেন্দ্রের কথা শুনে উনার হাতটা আরও কিছুটা জোরে চেপে ধরে রেখে হাঁটছিলাম আর ক্যামেরায় সাটার চেপে চেপে, ধরে রাখছিলাম দগদগে সেই ক্ষতের স্মৃতিচিহ্ন। আমার কেবলই ঐ মুহুর্তে তানভীর মোকাম্মেলের “চিত্রা নদীর পারে” সিনেমার কথা মনে পড়ছিল। তানভীর মোকাম্মেলের “চিত্রা নদীর পারে” সিনেমার শশিভূষণের কথা মনে আছে? শশিভূষণ সেনগুপ্ত। পেশায় উকিল। দেশভাগের সময় যখন হিন্দু মুসলমান দাঙ্গার রেশ ধরে দলে দলে শশিভূষণেরা ইন্ডিয়ায়, আর ইন্ডিয়া থেকে রহিম, আব্দুলেরা পূর্ব বাংলায় পাড়ি জমাচ্ছেন, সেই সময়ের পটভূমি নিয়ে তৈরি “চিত্রা নদীর পারে”।


সময়টা ১৯৪৭, তৎকালীন পুর্ব পাকিস্থানের ছোট্ট জেলা নড়াইল। শশীভূষণ সেনগুপ্ত নামের এক হিন্দু উকিল (মমতাজউদ্দীন আহমেদ) থাকতেন তার বিধবা বোন অনুপ্রভা (রওশন জামিল), এবং দু’টি ছোট ছেলে-মেয়ে মিনতি ও বিদ্যুৎকে নিয়ে। বাড়ির পাশেই বয়ে চলা নদী চিত্রা। ততদিনে শুরু হয়ে গেছে হিন্দু-মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে দেশভাগ। পূর্ব পাকিস্তান থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন দেশ ত্যাগ করে চলে যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। এ অবস্থায় শশীভূষণের উপরেও দেশত্যাগের চাপ আসতে শুরু করে, কিন্তু তিনি বাপ-দাদার ভিটা ছেড়ে পরদেশে পাড়ি না জমানোর সিদ্ধান্তে অনড়।

শশিভূষণ শেষ পর্যন্ত বাপদাদার ভিটে ছেঁড়ে যাননি। যেই আলো হাওয়ার বেড়ে উঠেছেন, যেই চিত্রা নদীর পারে কেটেছে শৈশব আর যৌবনের পুরোটা সময়, সেই চিত্রা নদীর পারেই শশিভূষণ তাঁর শেষ নিঃশ্বাস ফেলেছেন। সিনেমার শশিভূষণকে দেখে আমরা হয়ত অনেকেই ভাবি এভাবে গো ধরে আর কতজন থাকতে পেরেছেন? নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অসংখ্য শশিভূষণ তাঁর স্মৃতি বিজড়িত চিত্রা নদীর পার ছেঁড়ে পাড়ি জমিয়েছেন ভিন দেশে।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে এইরকম সাপ্রদায়িকতার স্বীকার হয়ে নাম না জানা অসংখ্য শশিভূষণের জীবনের শেষ ইচ্ছেটিও ত্যাগ করে চলে যেতে হয়েছে আজীবন যেই মাটির গন্ধ আর যেই বাতাস বুকে নিয়ে বড় হয়েছেন, সেই মাটি, বাতাস আর নদীকে ফেলে অচেনা নদীর ঠিকানায়। হাজার হাজার কিংবা কোটি কোটি মিনতিকে তার ভালোবাসার মানুষটির মুখ জোর করে মন থেকে মুছে ফেলে পা ফেলতে হয়েছে অজানার পথে। এর যে কষ্ট, আর নিজের নাড়ি ছেঁড়ার যেই যন্ত্রনা তার সাক্ষী হয়ে আছে এই উপমহাদেশের লক্ষ লক্ষ পরিবার।

একটা কথা প্রচলিত আছে- “যার যায় সেই বোঝে”। আসলেই, আমরা যারা এই ধরনের পরিস্থিতির স্বীকার নই তারা কখনই শশিভূষণের কষ্টের পরিমাপ করার ক্ষমতা রাখি না। এটা সম্ভবও নয়। সুনীলের “পূর্ব-পশ্চিম” উপন্যাসের প্রতাপ মজুমদারের কথা মনে আছে? নিজ দেশ ছেঁড়ে স্বেচ্ছায় চলে যাওয়া এক জিনিস, আর বাধ্য হওয়াটা আরেক জিনিস। এর সাথে মিশে থাকে শঙ্কা, অনিরাপত্তা, আর তার চেয়েও বড়- বুকে চেপে থাকা বিশাল এক অপমান আর অভিমানের পাহাড়। সেই পাহাড়ের ভাঁড় বয়ে যেতে হয় আজীবন।

যেই প্রেক্ষাপট বর্ননার জন্য এই লেখার অবতারণা, সম্প্রতি চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ঘটে যাওয়া হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর বর্বর হামলার প্রেক্ষাপটে ইস্টিশনের ব্লগারদের পক্ষ থেকে সামান্য সহযোগিতা নিয়ে ওখানকার অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছু লেখার ইচ্ছে ছিল অনেকদিন থেকেই। কিন্তু নানা ঝামেলায় সেই লেখা আর হয়ে ওঠেনি। আজ সময় নিয়ে সাহস করে লিখতে বসেই গেলাম। আমরা যখন বাঁশখালীতে পৌঁছলাম তখন দুপুর গড়িয়ে গেছে। পুড়ে যাওয়া ভিটে আর মন্দিরে বিকেলের সোনা রোদ পড়ে সেদিনের মতোই যেন আগুনের আভা ছড়াচ্ছিল। ঘটনার তখন প্রায় মাসখানের পেরিয়ে গেছে। সরকারী- বেসরকারি সহায়তায় পোড়া ভিটের উপরে নতুন সিমেন্ট, বালি আর টিনের ঘর উঠেছে। কিন্তু বাঁশখালীর মানুষের মনের পোড়া ঘা তখনও দগদগে স্মৃতি বহন করে চলেছে। নিজেকে খুব ছোট লাগছিল প্রথমটায়। একটা পর্যায়ে সমরেন্দ্র দাস যখন আমার হাত ধরে ঐ কথাগুলো বলছিলেন তখন সত্যিই চোখের জল ধরে রাখা কষ্টকর ছিল আমার জন্য। চোখের জল লুকোবার জন্য ক্যামেরায় চোখ ঢেকে ছবি তোলায় নিজেকে ব্যস্ত রাখছিলাম।


যেই মহিলার বাবা তার মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে হায়েনাদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন, সেই বাড়ির উঠোনে যখন গিয়ে দাঁড়ালাম, তখন সেই মহিলার নির্বাক চোখের দিকে তাকানোর সাহস আমার ছিলোনা। এর আগে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে আহত মানুষগুলোর হাত শক্ত করে চেপে ধরে বলছিলাম- এই দেশে শুধু জানোয়ারদের বসবাস নয়, আমরাও আছি ভাই তোমাদের পাশে। তাদের সাহস হারানো চোখের তারায় কিছুটা নিরাপত্তার ঝলক দেখতে পেয়েছি। যখন তাদের মুখে সেইদিনের ঘটনার বিবরণ শুনছিলাম, আমি শুধু বারবার অনুভব করার চেষ্টা করছিলাম কেমন লাগছিলো সেদিন ঐ মানুষগুলোর? দলে দলে যখন তাদেরই প্রতিবেশী একদল হায়েনা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল চরম হিংস্রতা নিয়ে? কেমন লাগছিলো ঐ গ্রাম্য বধূটির যখন তাঁরই চোখের সামনে ভেঙে চুড়ে, আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছিল তুলসী মঞ্চটি, যেখানে প্রতিদিন সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বেলে ঈশ্বরের বন্দনায় মাটিতে কপাল ঠেকাত? অপরিচত লাগছিলো কি সেই চিরচেনা মাটিকে? আমি জানিনা… আমি সত্যিই জানিনা…

সহযোগিতা হিসেবে আমরা যেই অর্থ নিয়ে গিয়েছিলাম, টাকার অংকে সেটা হয়ত সামান্যই। সেটা আমরা বারবার মুখে বলছিলামও। কিছুটা সংকোচও কাজ করছিল নিজেদের মধ্যে। কিন্তু যেই মানুষগুলোকে আশ্বস্ত করার জন্য আমাদের আগমন, তারাই বারবার আমাদের আশ্বস্ত করছিলেন এই বলে যে- আমাদের দেখে উনারা আবারও বুকে সাহস খুঁজে পাচ্ছেন। কয়েক যুগ ধরে যেই মাটির বুকে হেঁটে বেড়িয়েছেন, বিগত একমাস ধরে অচেনা অনুভুত হওয়া সেই মাটিকে আবারও খুব আপন, খুব চেনা মনে হচ্ছে তাদের কাছে। সেদিন একটা জিনিস আমি বুঝেছিলাম, কাগজের টাকার নোটের চেয়ে ভালোবাসায় আর মমতায় চেপে ধরা অপরিচিত বন্ধুত্বের হাতের শক্তি অনেক অনেক বেশী। আমরা যখন ফিরে আসার কথা বললাম, তখন তাদের চোখে দেখেছিলাম অনেক দিনের আত্মীয় বহুদিন পর বেড়াতে এসে চলে গেলে বিদায় দেওয়ার মুহুর্তে যেমন অনুভূতি হয়, তাদের ঠিক তেমন লাগছিলো। আমাদের গাড়িতে উঠিয়ে দেওয়ার আগে, জোর করে দোকানে নিয়ে গিয়ে দই, মিষ্টি আর চা না খাইয়ে কিছুতেই ছাড়লেন না। তখন সন্ধ্যে গড়িয়ে রাত হয়েছে। আমরা বারবার বলছিলাম আমাদের ফিরতে দেরী হলে গাড়ি পাবো না, সমস্যা হবে। উনারা হাসছিলেন। ফিরতে না পারলে তাদের পোড়া ভিটে আর নতুন আধা গড়া ঘরে যে আমাদের জায়গা দিতে তাদের বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবে না সেটা বারবার হেসে হেসে বলছিলেন। যেনবা আমাদের দেরী হয়ে গাড়ি মিস করলেই উনারা বেশী খুশী হতেন।

ফেরার পথে আমি বারবার অন্ধকারের দিকে তাকিয়ে অনুভব করার চেষ্টা করছিলাম, বাইরের ঘুটঘুটে ঐ অন্ধকারের চেয়েও মানুষের হৃদয়ে কতোটা অন্ধকার জমা হলে এভাবে মানুষ হয়ে মানুষের উপর পৈশাচিক বর্বরতায় ঝাঁপিয়ে পড়া যায়? সেই ৪৭’ এর দেশভাগের সময়ের চিত্রা নদীর পারের শশিভূষণ, আর এই ২০১৩’র বাঁশখালীর সমরেন্দ্রের মাটির প্রতি যেই টান, সেটাতে তো কোন পরিবর্তন দেখলাম না। তবে কেন আজও বদলে গেলো না আমাদের সমাজ আর মানসিকতা? কেন আজও শুধুমাত্র ধর্মীয় পরিচয়ের কারনে একই জল-হাওয়ায় বেড়ে ওঠা মানুষটিকে অনিরাপত্তায় আশংকায় দেশ ছাড়ার কথা চিন্তা করতে হবে? একাত্তরের পাক হানাদার বাহিনী আর এদেশের রাজাকারদের অত্যাচারে দেশ ছেঁড়ে কোলকাতায় আশ্রয় নেওয়া আমার এক ফেসবুক বন্ধু/বড় ভাইয়ের একটা লেখা খুব মনে পড়ছিল-

আমি প্রতি রাতে বরিশাল যাই, পদ্মায় লঞ্চে ভেসে ভেসে দেখতে থাকি ইলিশের নৌকার দিগন্ত বিস্তৃত আলোকমালা। সকালের আলোয় স্নান করি কীর্তনখোলায়। জীবন ছেড়ে ঢুকে পড়ি মাতৃগর্ভে, আমার মা ছুটছেন নাটমন্দির, উঠোন, ঘাটবাঁধানো পুকুর, গোয়াল ঘর। খুঁজে ফিরি সেই কবেকার আলো, ঠাকুমার চামড়া কোচকানো গাল, অস্পষ্ট দৃষ্টি। প্রতি সন্ধ্যায় কৃষ্ণপ্রেমে বিভোর হয়ে কাঁদতেন তিনি। ভোর কীর্তনে জেগে উঠে যেত মনের মানুষ, ভজ গৌরাঙ্গ লহ গৌরাঙ্গ। আমায় নিয়ে চল মন, আমি যেতে চাই আমার আপন মন্দিরে। যেখানে আমি বেঁচে ছিলাম বহুযুগ ধরে। শরীরে কাঁচা ধানের গন্ধ, খর-কুটো নিয়ে খেলতে খেলতে দিন গড়িয়ে রাত। মোটা ভাতের গরম ওম, কাঠাল কাঠের পিড়ি পেতে কাঁসার থালায় খেতে বসে বিড়ালের সাথে খেলা। একে একে পিড়ি কমতে থাকে, থালা হারিয়ে যায়। নাটমন্দির শুকনো পড়ে থাকে আলোহীন। সদর দরজা হাট হয়ে খুলে থাকে। কে আছেন, কেউ আছেন ঘরে? চৌকিদার এসে হাঁক দিয়ে যায়। কেউ নেই ঘরে। থালা বাটি গ্লাস ডুবে যায় পুকুরে। গোয়াল ঘরে হাহাকার করে বোবা প্রাণ। বিড়ালের আর আমার সাথে খেলায় মেতে ওঠেনা, কাঁদামাটিতে নিকোনো হয় না মাটির মেঝে। রান্নাঘর খাবার ঘর অবাক হয়ে থাকিয়ে থাকে, কোনো উৎসব নেই, সাজানো পিড়ি, নিশব্দে জেগে থাকে নিভন্ত চুলা। যুদ্ধ নেমে আসে হঠাৎ করে। আমি লুকিয়ে পড়ি অন্ধকারে, মৃত্যু নেমে আসে মালার মত।

৩৪ thoughts on “চিত্রা নদীর পারের শশিভূষণ অথবা বাঁশখালীর সমরেন্দ্র

  1. সেদিন একটা জিনিস আমি

    সেদিন একটা জিনিস আমি বুঝেছিলাম, কাগজের টাকার নোটের চেয়ে ভালোবাসায় আর মমতায় চেপে ধরা অপরিচিত বন্ধুত্বের হাতের শক্তি অনেক অনেক বেশী।

    আসলেই তাই।

  2. কি কমেন্ট করবো ? লজ্জায়
    কি কমেন্ট করবো ? লজ্জায় ক্ষোভ হতাশা অসহায়ত্ব ঢেকে দিচ্ছে চারপাশ , কিছুই করতে পারিনি তখন , নিউজ ফিডে দেখেছি , আর অসহায়ের মতো ভেবেছি , আসলেই কি এইসব হচ্ছে নাকি কল্পনা ! কল্পনার চেয়েও নিষ্ঠুর ছিল সেদিনগুলো

    সমরেন্দ্রদার কাছে আমরা বড় ছোট হয়ে রইব সারাটা জীবন

    1. ছোট হওয়ার কিছু নাই সিফাত ভাই।
      ছোট হওয়ার কিছু নাই সিফাত ভাই। ওইদিনের পর থেকে মানুষের উপর বিশ্বাস আরও মজবুত হয়েছে।

  3. অসাধারন লিখেছেন আতিক
    অসাধারন লিখেছেন আতিক ভাই।
    চিত্রা নদী দেখেই ভাবলাম আমার নড়াইল নিয়ে লিখেছেন। এসে স্তব্ধ হয়ে গেলাম

    1. আসলে চিত্রা নদীর প্রসঙ্গ
      আসলে চিত্রা নদীর প্রসঙ্গ কিভাবে যে চলে আসল? লেখাটা লেখার সময় আমার কেবলই ঐ সিনেমাটার কথা মনে পড়ছিল।

  4. এ লজ্জা আমাদের আদৌ কখনো শেষ
    এ লজ্জা আমাদের আদৌ কখনো শেষ হবে না। এ অকল্পনীয়ও, যদি এসব মানুষের জায়গায় আমি থাকতাম, তবে কেমন লাগতো আমার, সর্বস্ব হারানোর বেদনা শুধু যে হারায় সেই বুঝে।

    ক্ষমা চাই, কিন্তু এও জানি, এ ক্ষমা যোগ্য অপরাধ নয়।

    1. ঠিকই বলেছেন। এ লজ্জা আমাদের
      ঠিকই বলেছেন। এ লজ্জা আমাদের সবার। তবে সেটা কিছুটা লাঘবের দায় থেকে সেদিন মুক্তি পেয়েছি বলেই মনে হয়েছিল।

  5. কি বলব বুঝতে পারছি না।
    দেশটা

    কি বলব বুঝতে পারছি না।
    দেশটা অনেক সুন্দর। মানুষগুলির মনও আরো সুন্দর। সত্য ও সুন্দরের জয় হোক।

    1. কিছু না বলেই অনেক কিছু বলে
      কিছু না বলেই অনেক কিছু বলে দিয়েছেন। অনেক সময় নীরবতাই কথা বলে। ভালো থাকবেন।

  6. এই লিখার অনেক কিছুই কোট করার
    এই লিখার অনেক কিছুই কোট করার মত। আতিক ভাই, আপনি যখন সমরেন্দ্র এর কথা বলছিলেন আমি ঠিক সে সময়ই সুনীলের পূর্ব-পশ্চিমের কথা মনে করছিলাম। পরবর্তিতে সেটা আপনি নিজেই বললেন। আতিক ভাই শুধু এতটুকু বলি এই যে এই কাজগুলো শুধু ভিকটিমদেরই কাদায় না, কাদায় প্রত্যেকটা ভাল মানুষকে। আমি কি বলবে, এই যে সাম্প্রদায়িক প্রতিহিংসার গ্লল্প যখন আমরা ‘তুলসী গাছের কাহিনী’ ই পড়ি আমাদের খারাপ লাগে সাম্প্রদায়িকতার শিকার একটা তুলসী গাছের জন্যে। আর এখানে তো আস্ত হাজার হাজার মানুষ।

    আপনাকে ধন্যবাদ এটি নিয়ে লিখার জন্যে।

  7. একটু দেরি তে পোস্ট টা দেখলাম।
    একটু দেরি তে পোস্ট টা দেখলাম। অনুপস্থিতির কারনে। শিরোনাম দেখে যা ভেবেছি পোস্ট পড়ে দেখি নাহ তা নয় । পোস্টপড়ার পর মন টা কেমন যেন খারাপ হল । কিছু অনিঃশেষ লজ্জা যোগ হল নতুন মাত্রায় । একফোঁটা খুব পুরান অশ্রু আসবে আসবে করেও আসল না। যাই হোক , সুন্দর উপস্থাপনার জন্য পোস্ট এর বিষয়বস্তু সুন্দর একটা মাত্রা পেয়েছে । আর এই অনুভুতি টা অতুলনীয় –

    সেদিন একটা জিনিস আমি বুঝেছিলাম, কাগজের টাকার নোটের চেয়ে ভালোবাসায় আর মমতায় চেপে ধরা অপরিচিত বন্ধুত্বের হাতের শক্তি অনেক অনেক বেশী

    1. দেরীতে হলেও আপনার চোখ এড়িয়ে
      দেরীতে হলেও আপনার চোখ এড়িয়ে যায়নি, এটাই ভালো লাগল। আরাপনার ভেতরের সুন্দর মনটির দেখা পেয়ে আর বেশী ভালো লাগল। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. অতিথি, আপনাকেও ধন্যবাদ।
      এই

      অতিথি, আপনাকেও ধন্যবাদ।

      এই লেখা নিয়ে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিয়েছি সেটা প্রাসঙ্গিক মনে হওয়ার এখানে কপি মারছি-

      কয়েকদিন আগে ব্লগে একটা লেখা পোস্ট করেছিলাম। অনেক দিন পর পোস্ট লিখলাম। তেমন মৌলিক কোন লেখা না। বাঁশখালীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর মৌলবাদীদের হামলার প্রেক্ষিতে আক্রান্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে ব্লগারদের উদ্যোগে নেওয়া সাহায্য কর্মসূচী নিয়ে আমার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে দেওয়া লেখা। বেশ কয়েকদিন হয়ে গেছে। ভুলেই গেছিলাম লেখাটার কথা। গতকাল একজনের একটা প্রশ্নে থমকে গেলাম। এই পোস্ট পড়ে একজন আমাকে জিজ্ঞেস করেছে হিন্দু সম্প্রদায় নিয়ে আমার চুলকানির কারন কি? আমি তাকে উত্তর দেইনি। দেওয়ার প্রয়োজন মনে করিনি। কারন আমার পরিচিত কেউ আমাকে এইরকম একটা অদ্ভুত প্রশ্ন করতে পারে আমার বিশ্বাস হচ্ছিলো না।

      এখানে আমার উত্তর দিচ্ছি। হিন্দু সম্প্রদায় নিয়ে আমার চুলকানি নাই, আমার চুলকানি মানুষ নিয়ে। কারন একজন ভালো ধার্মিক হতে হলেও একজন ভালো মানুষ, এবং একজন ভালো নাস্তিক হওয়ারও পূর্বশর্ত একজন ভালো মানুষ হওয়া। একজন ধার্মিক মানুষকে ড্রেসক্রাইব করার সময় আমরা বলি- “উনি একজন ধার্মিক মানুষ”। খেয়াল করে দেখেন মানুষ শব্দটি শেষে এসেছে, তার মানে হচ্ছে “মানুষ” আমাদের টাইটেল বা বংশপরিচয়। এরপর আমি অন্য কিছু। তাই আসুন আগে একজন ভালো মানুষ হতে চেষ্টা করি।

      আমার এইসব কথাবার্তায় যাদের চুলকানি উঠল, তারা এই লেখা পড়ার আগে প্লীজ আগে এই লেখাটা পড়ে আসুন- http://www.istishon.com/node/864। তাহলে বুঝবেন কেন আমি উপরের কথাগুলো বলেছি।

  8. ডাক্তার সাহেবকে বরাবরই ভালো
    ডাক্তার সাহেবকে বরাবরই ভালো লাগে…
    এবারে সেই ভালো লাগায় আরেকটু শ্রদ্ধা যুক্ত হলো।

    লাভ ইউ আতিক ভাই…
    :বুখেআয়বাবুল:

  9. কিছু জিনিসের লজ্জা শত খেসারত
    কিছু জিনিসের লজ্জা শত খেসারত দিয়েও পার করে আসা যায় না।আমাদের ইতিহাসে এরুপ লজ্জাজনক ঘটনা এত আছে যে বলার বাইরে।

    1. ঠিক বলেছেন রাইন।
      আপনার

      ঠিক বলেছেন রাইন।
      আপনার সিগনেচারটা আমার খুব পছন্দের। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *