ধর্মের শুরুতেই ধর্মীয় অনুভুতিতে অাঘাত।

—– যারা অাল্লাহ বা সেরকম কিছুকে চূড়ান্ত মনে করেন, তারা মূলত: জ্ঞানে, বুদ্ধিতে, সময় ও বিবেক বিবেচনায় সীমাবদ্ধতা টেনে অানেন। তাদের জানা উচিত অজানা শক্তিই চূড়ান্ত যা কিনা ন্যায়বিচার, অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ন্যায়বোধ ধারণ করে।

কিছু মানুষ বলে এবং বলবে তেমনটা স্বাভাবিক। কিন্তু তাদের কেউ কেউ অাবার ‘সবাই’ শব্দটা ব্যবহার করে সবাইকেই নিজেদের মত পাপিষ্ঠদের দলগত করার অপচেষ্টা করে।

কিছু মানুষ বলে থাকে ‘সবাই বলে পাগলের প্রলাপ’, কিন্তু জিজ্ঞাসা গুলোর সাথে কিংবা যথেষ্ট জ্ঞান বুদ্ধি সম্পন্ন সচেতনতাসহ স্ব-জ্ঞানে ধর্ম পরিবর্তনের সাথে কোন পাগলামি জড়িত নেই। অনেকে ধর্ম বিষয়টাই মানতে চায় না কারণ তারা নিজেদের নাস্তিক মনে করেন। কিন্তু স্বপ্নগুলোকে অস্বীকার করা কঠিন যার উপর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ রাখা অসম্ভব। অবিদ্যমান, অকল্পনীয় কোন বিষয় বা দৃশ্য বা পরিস্থিতি যখন উদ্ভুত হয় তখন এমনটা বিশ্বাস করা অযুক্তিক নয় যে অজানা কিংবা অজ্ঞাত বিশেষ কোন শক্তির প্রভাব রয়েছে। কিন্তু তা কি হতে পারে – সেটা জানা বা না জানা মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু, সেরকম কোন শক্তিকে অছিলা করে মানুষে মানুষে সংঘর্ষ মোটেও কাম্য নয়।

গুরুত্বপূর্ণ এটাই যে মানুষ হিসাবে মানুষের সাথে মানুষের অাচরন কিরকম হওয়া উচিত। কিন্তু যারা অাল্লাহ নামের ঈশ্বরকে সন্তুষ্ট করাই মানুষের একমাত্র ধর্ম মনে করেন, তারা তো তাদের ধর্মের গুণেই সংঘর্ষে জড়াতে পারে। তাদের তো জানা উচিত তিনি অাসলে কে। জগতে যা কিছু অাছে তার সব কিছুরই একটা জন্ম বা উৎপত্তি বা শুরু রয়েছে, অর্থাৎ সব কিছুই পিতা-মাতা বা একাধিক বিষয়ের মিলনের ফসল। প্রানীকূল নিজেরা নিজেরা মিলিত হয়ে নতুন কিছুর সূচনা করে অার যেসবের প্রাণ নেই বলে মনে করা হয় সেসব কিছু অন্য কিছুর প্রভাবে মিলিত হয় বা অন্যকোন প্রাণী তাদের মিলিত করে নতুন কিছু তৈরি করে। অর্থাৎ জগতে সৃষ্ট বা অস্তিত্ব অর্জন করা সবকিছুর পিছনেই অন্য এক বা একাধিক বিষয়ের অবদান রয়েছে।

তারপরেও কোন মানুষ বিশেষ কোন ধর্মে বিশ্বাস করতে বাধ্য নয়। কারণ তেমনটা মানব জন্মের অসম্মান। হিংস্র জানোয়ারদের জব্দ করতে যুগ যুগ ধরে মানুষ ঐক্যবদ্ধ ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এই একতা, শৃংখলা আর পরস্পর মান্য নিয়মেরর প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকাটাই একটা ধর্ম। কিন্ত সে শ্রদ্ধাবোধ যদি মানবকূলে জানোয়ার তৈরি করে আর জানোয়ারদের রক্ষা করে চলে তবে মানুষ মাত্রই সে ধর্ম মানতে বাধ্য নয়। কারন, যদি অধিকার হরণ করা হয়, অন্যায়কে শুধু অস্বীকার করা নয়, বরং তা পরাস্ত করার পূর্ণ অধিকার সবারই রয়েছে।

যেখানে দ্বন্দ্ব থাকে সেখানে ন্যায়- অন্যায় থাকে। একজনের কাছে যা ন্যায় অন্য সবার কাছে তা সবসময়ে সঠিক মনে হবে তেমনটা সবসময় প্রত্যাশা করা কঠিন। তবে জেনে-বুঝে সঠিক মানুষরা ন্যায়ের পক্ষে আর খারাপরা অন্যায়ের পক্ষে থাকে। জগতের সকল মানুষ সম্পর্কে যেমন জ্ঞাত হওয়া অসম্ভব ঠিক তেমনি জানা-অজনা সকল শক্তির মধ্য থেকে ঈশ্বর তূল্য পবিত্র শক্তি ন্যায়ের পক্ষে আর শয়তান অন্যায়ের পক্ষে থাকবে – বুদ্ধিমানরা অবশ্যই জানেন যে জগতে যা কিছু অাছে তা অন্যকিছুতে পরিবর্তিত হতে পারে কিন্তু একেবারে বিলীন হবে না। আর এই পরিবর্তনের ভাগ্য নির্ধারণে অজানা কোন শক্তির বিচারই চূড়ান্ত, যে শক্তি সকলের অন্তরের খবর রাখেন। কারন, সবকিছু মূলত: তাঁর দেহেরই অংশ বা তাঁর থেকেই উৎপন্ন। যারা মাটি দিয়ে মানুষ তৈরির কথা বলে থাকেন তাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতাকে ধিক্কার জানাতে হয় এই কারনে যে তারা পদার্থের উৎপত্তি বিচারে সীমাবদ্ধ, অথচ তারা নিশ্চিত বা চির সত্য বলে অনেক দীক্ষা দিয়ে চলছে এবং তা মানুষকে মানতে বাধ্য করছে এবং সেরকম বাধ্যকরণ প্রচেষ্টাকে তারা তাদের ধর্মীয় কাজ মনেকরছে। মানব কল্যাণে ধর্ম প্রচারের অধিকার সবারই থাকে তবে প্রচারের পথে সত্যান্বেষীদের প্রশ্নের সমাধান দেয়া অথবা ব্যর্থতা স্বীকার করাটাই বাঞ্ছনীয়। সত্যান্বেষীদের হেয় প্রতিপন্ন করা, অসম্মান করা, ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা কোন সঠিক ধর্মের কাজ হতে পারে না। অথচ তাদের অনেকে তাদের ব্যর্থতা বা ত্রুটি ঢাকতে ক্রোধের বানে জ্ঞানী, মহামানব, মানবজাতির প্রকৃত বন্ধুদের জীবনও অতিষ্ঠ করে তোলেন। যখন তারা সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে বিশেষ পরিচয় বা কথোপকথনের নিদর্শণের জ্ঞান বিতরণ করেন, যখন অাল্ল্াহ বা সেরকম নির্দিষ্ট কোন কিছুকে চূড়ান্ত মনে করেন তখন সকলের কল্যাণার্থে জেনে রাখা ভাল যে, পরিচিত যেকোন শক্তির থেকে অজানা কোন শক্তি সর্বকালেই অধিকতর ক্ষমতা সম্পন্ন রূপে থেকে যাবে – তা শুধু নিজের দেহ এবং পোশাকে নয় বরং সবকিছুর মধ্যেই বিরাজমান – কারন সবকিছুই একই দেহের অংশ। যারা মনে করেন অাল্লাহ নামক শক্তি মাটি দিয়ে মানুষ বানিয়ে ছিলেন, তাদের কথার সূত্র ধরে প্রশ্ন জাগে যে তাদের সেই বেহেশতে যে মাটি ছিল তা কে, কিভাবে সৃষ্টি করেছিল? ধর্ম শিক্ষার নামে শিশুকাল থেকে যাদের মস্তিস্ক তালাবদ্ধ হয়ে অাছে তারা হয়ত বুঝতে পারবেন না; তবে একটু গভীরে গেলে বলা যায় যে, সব কিছু একই দেহ ও মনের অংশ(বা অন্তর্গত*)। অর্থাৎ যারা অাল্লাহ বা সেরকম কিছুকে চূড়ান্ত মনে করেন, তারা মূলত: জ্ঞানে, বুদ্ধিতে, সময় ও বিবেক বিবেচনায় সীমাবদ্ধতা টেনে অানেন। তাদের জানা উচিত অজানা শক্তিই চূড়ান্ত যা কিনা ন্যায়বিচার, অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ন্যায়বোধ ধারণ করে। এই বিশ্বাসের অনুপস্থিতি বা এই ধর্মের অনুপস্থিতিতে মনুষ্য শুধু পশুধর্মে পরিনত হয়না বরং শয়াতানিতে পরিণত হয়।

পশু-পাখীরাও তাদের সন্তানদের রক্ষা করবার জন্য তেড়ে অাসে। কিন্তু মানবকূলের জানোয়ারদের থেকে রক্ষা পাবার জন্য এবং রক্ষা করবার জন্য মানুষকে চূড়ান্তরূপে অজানা কোন কিছুর উপর অাস্থা রাখতে হয়। আর সেই বিশ্বাস বা অাস্থা থেকেই ধর্ম, যার অনুপস্থিতিতে মানুষ শয়তানের অস্ত্রে পরিণত হয় – অবিশ্বাস, অনাস্থা, শক্তির দাপট এবং অাবেগ ও ভালবাসাহীন সমাজে কে ই বা নিরাপদ, দুর্বলের অধিকার তো শক্তিধরদের ভোগের উদ্দেশ্যে।

ধর্ম দুর্বলদের বঞ্চিত করার জন্য নয়, বরং তাদের রক্ষা করার জন্য। অাস্তিক্য ছাড়া ধর্ম মানে তো সেই নাস্তিকতা যেখানে বিবেক নয়, মনুষ্যত্ব নয় বরং ছলচাতুরি, ধোঁকাবাজি, লোভ ও একাধারে চুরির মানসিকতা এবং ভয় জড়িত। কিন্তু, বিবেক বিবেচনা, অাবেগ, ভালবাসা ছাড়া অাইন বা বিধান যত কঠোরই করা হোক না কেন, বা তার বাস্তবায়ন যত নিখুঁতই করা হোক না কেন, মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটুকুই বা সম্ভব? তবে মানুষকে তেমনটাই করতে হয় যেখানে বিবেক বিবেচনা, অাবেগ, ভালবাসা, ন্যায়বোধ বাঞ্ছনীয় সেসবের সাথে অদৃশ্য শক্তির সম্পর্ক থাকে কিন্তু প্রচলিত ধর্ম বা পৈতৃক ধর্মের উপর বিশ্বাসের কোন বাধ্যবাধকতা থাকে না। একারনেই বলা হচ্ছে প্রচলিত অর্থে যা নাস্তিকবাদ তার মধ্যেও অাস্তিক্য বিদ্যমান থাকে যখন সেই নাস্তিকরা ঈশ্বর তূল্য কোন পবিত্র শক্তির উদ্দেশ্য বা প্রকৃত বিচার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট থাকেন। ভন্ড, ধোঁকাবাজ, ছলচাতুরিকারি যারা যারা বিশ্বাসের পোশাকে অন্তরে অবিশ্বাস জিইয়ে রাখে এবং অাল্লাহ বা সেরকম কোন কিছুকে তুষ্ট করার অছিলা দেখিয়ে অন্য মানুষদের ন্যায্য অধিকারে বাধা সৃষ্টি করে, অমর্যাদা করে, হুমকি সৃষ্টি করে, জুলুম করে অর্থাৎ জানোয়ারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় তারা ধর্মহীন, অাস্থাহীন ও ন্যায়বোধ শূন্য। যেখানে বিশ্বাস, অাবেগ, ভালবাসা, ন্যায়বোধ অনুপস্থিত সেখানে সন্তানরাও পণ্যে পরিণত হতে পারে – এমনকি তারা পশু সন্তানের মত ভাগ্য বরণ করতে পারে। অাবার অাস্তিক্য মানে কোন বিশেষ ধর্মকে বিশ্বাস করা নয়, বরং এতটুকুই যে অাস্তিক্যের ফসল সরূপ তাদের মধ্য ন্যায়বোধ থাকবে, আর এ ক্ষেত্রে, সেই বিশ্বাস এই অাস্থা যোগাবে যে, কোন না কোন শক্তি রয়েছে যা অামাদের সকল কাজ ও চিন্তাভাবনাই নজরে রাখে, বিচার করে- ইহকালে হোক কিংবা পরকালে হোক ফলাফল পেতেই হবে। দুনিয়াতে এই ফলাফল প্রাপ্তির পথেই অপশক্তি বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে, তাই তো পরজন্মে ভোগ করতে হবে। এটাই বাস্তবতা, কারন যা একবার সৃষ্টি হয়েছে তা কখনোই একেবারে বিলীন হয়ে যাবে না – ভাগ্য এটাই যে তা নতুন কিছুতে পরিণত হবে।

মানুষের স্বাধীনতা রয়েছে বিশ্বাস প্রত্যাখ্যান করার কিন্তু অন্যের অনিষ্ঠ করার অধিকার নেই। অনিষ্টকারীদের নিবৃত করা এবং সেই প্রচেষ্টায় যেকোন বিচারকে অনিষ্ঠ করা নয় বরং তা মানবাধিকারের স্বার্থে জানোয়ার নিধনের শামিল। যে কোন বিশ্বাসের যুক্তিসংগত সমালোচনা করা এবং তা প্রত্যাখ্যান করা অবশ্যই সেই বিশ্বাসের ধারক বা সেই বিশ্বাসীদের অনিষ্ঠ করা নয়; বরং মানবকূলের জানোয়ারদের সেই অাচরন সঠিক উপায়ে চিহ্নিত করাটা মানুষের অধিকারই নয়, কর্তব্য। কোন অাচরনকে পাগলামী মনে হলে যুক্তিসংগত কারণ উল্লেখ করে তা জানাবার অধিকার মানুষ মাত্রই থাকে। কিন্তু সুস্থ মানুষকে পাগল বা মানসিক ভাবে অসুস্থ বলে কুৎসা রটানো এবং সেরকম প্রতীয়মান করার অপচেষ্টা করা জানোযারের থেকেও খারাপ কিছু বা শয়তানের কাজ। কিছু মানুষ কুৎসা রটায় এবং রটাবে। কিন্তু, এটা বুঝা উচিত যে, সেরকম গীবতকারীদের, ষড়যন্ত্রকারীদের সন্তানরাও জীবন সঙ্গী হিসাবে গ্রহণ করতে ফেরারি, ভিখারি, নেশাখোর/গাঁজাখোর, চোর, সন্ত্রাসী ও মানসিক ভারসাম্যহীনদের মধ্যে বাদ বিচার করে থাকেন। জানোয়ারের থেকেও ভয়ংকর ঐরূপ কুৎসা রটানো অনিষ্ঠকারীদের ধর্ম ও ধর্মীয় শিক্ষা এবং অাশ্রয় -প্রশ্রয়দাতারা ক্ষতিগ্রস্তদের অপূর্ণ কামনা-বাসনার দাবীর কাছে অনিষ্টকারী হিসাবেই চিহ্নিত থাকবে। ছোটবেলা থেকেই চিৎকার শুনে যে শিশুদের ঘুম ভাঙ্গে – অার ঘুমাবেন না, এটা ঘুমের সময় নয়, এখনি উঠুন, সবাইকে উঠান,… চলে অাসুন, শয়তানের প্ররোচনায় ঘুমিয়ে থাকবেন না,…. ইত্যাদি ইত্যাদি – এবং তেমনটাই যারা ধর্ম মতে কর্তব্য মনে করেন তাদের কাছে তা ভিখারিনীর চিৎকারের মত মনে না ও হতে পারে কিন্তু তারা জীবনভর নিজ নিজ জীবিকার স্বার্থে, নিজ সুবিধার্থে অন্যের অধিকার, মর্যাদা, সময়জ্ঞান, সচেতনতার বিষয়ে উদাসীন হবে, পথেঘাটে বেয়াদব হবে তেমনটাই স্বাভাবিক। শুরুতেই যখন তাদের শিক্ষা দেয়া হয় যে তাদের অাল্লাহ ছাড়া অন্যকোন মাবুদ নেই, তখন থেকেই তাদেরকে মূলত: বেয়াদবি শিখান হচ্ছে। তাদের ধর্ম শিক্ষার শুরুটাই হচ্ছে অন্যদের ধর্মীয় অনুভুতির অাঘাতের মাধ্যমে- অন্যদের ধর্ম শিক্ষা ভুল, তাতে কোন কল্যাণ নেই। কাজেই, তারা জ্ঞান অাহরণে নিরুৎসাহিত হয়ে নিজেরাই নিজেদের এক ঘরে করে রাখে। শিশুকাল থেকেই তারা অন্যদের ভুল, বোকা, ব্যাকডেটেড মনে করছে অার নিজ নিজ মস্তিস্কটাকে সেরা মনে করছে। তাদের শিক্ষা বা তাদের মনে করা বিষয়গুল তাদের নিজেদের মধ্য সীমিত থাকলে হত, কিন্তু তেমনাট নয়, বরং অন্যদের অতিষ্ঠ করে দেয়, বিশেষ করে যখন বেহেশতের লোভে, সোয়াব অর্জনের লোভে, জিহাদের নামে অন্যদের অনিষ্ঠ করে।

যারা নিজ নিজ যোগ্যতার উন্নয়নে নয়, বরং যোগ্যদের অমর্যাদা করে সুবিধা গ্রহণের জন্য, সুবিধা প্রদাণের জন্য সংঘবদ্ধ হয় এবং সেরূপে সংঘবদ্ধ হওয়াটাকে ধর্মের কাজ মনে করে, তারা ধর্মের শত্রু। তারা জেহাদ জেহাদ বলে অাষ্ফালন করতে পারে, বোকাদের উসকানি দিতে পারে, অথচ দেশ ও সমাজের ক্রান্তি লগ্নে তারা সবসময়েই রাজাকারদের মত দৃশ্যমান কোন বৃহত্তর শক্তির পক্ষে থাকে এবং দূর্বলের উপর কাপুরুষোচিত হামলা করতে হিংস্রতার পারদর্শিতা দেখাতে পারে।

গ্রামে গ্রামে তারা ডেকে ডেকে শিশুদের ধর্মে শিক্ষা দিতে ব্যস্ত অথচ তাদের সততা, সতীত্ব , ন্যায়বোধ, শ্রদ্ধাবোধ টিকিয়ে রাখতে অসফল। কিছু রাজনৈতিক দলের মত কিছু মানুষেরও যোগ্যতায় যথেষ্ট ঘাটতি থাকে। তারাই অনেকে ধর্মকে অপব্যবহার করার চেষ্টা করে, যোগ্যদের ঘায়েল করার জন্য। তাদের ধর্ম তাদের অাত্মিক উন্নতি, তাদের সৃষ্টিকর্তার সাথে তাদের বন্ধন ও অাস্থা স্থাপনে কতটুকু অবদান রাখতে পারছে? সেই অযোগ্যরা, বিশেষ করে ধর্মকে কেন্দ্র করে যারা জীবিকা নির্বাহ করে, রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা করে, তাদের অনেকেই তাই সত্য, সচেতনতা ও সত্যান্বেষীদের ভয়ংকর শত্রু। তবে মানুষ মাত্রই সত্যান্বেষীদের পক্ষে থাকেন এবং সত্যের প্রতিষ্ঠা প্রত্যাশা করেন। হয়ত এ কারণেই পরিচিত অপরিচিত কোন বিবেকবান মানুষই কোন যুক্তিসংগত সমালোচনা করেনি যখন বলা হয় মুসলমানদের অাল্লাহ তত্ত্বটা একটা ভুল বা ধোঁকাবাজি বলে প্রতীয়মান হয়। কারণ, যার জন্ম নাই, সৃষ্টি নাই, উৎপত্তি নাই, শুরু নাই তার অস্তিত্ব থাকা কিভাবে সম্ভব! “…. যা এখনো জন্ম হয়নি, এখনো শুরু হয়নি সেরকম কিছুকে অাল্লাহ বলে যারা পরিচয় দিয়েছে তারা মূলত: মানুষকে ধোকা দিয়েছে। তারা এবং তাদের অনুসারীরা বা মুসলমানরা মিথযাবাদী ধোঁকাবাজ অথবা একেবারে বোকা বা…”। তেমনটা বলা মানে কাউকে তেমনটা মেনে নিতে বাধ্য করা নয়, সত্যান্বেষীরা যুক্তিযুক্ত সমালোচনা করবে এবং সত্যের পক্ষে থাকবে এবং প্রকৃত ধার্মিকরা সত্যান্বেষী ও সত্যের পক্ষে থাকবে তেমনটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে মানবকূলের সেই সমস্ত জানোয়ার যারা নিজেদের অাত্মিক উন্নয়নের জন্য ধর্মের চর্চা করে না বরং জীবিকা ও সামাজিক সুযোগ সুবিধার লোভে, নিজেদের অযোগ্যতা ঢাকতে, রাজনৈতিক অযোগ্যতা ঢাকতে ধর্মের নামে সংঘবদ্ধ অথবা একেবারেই বোকাদের মত পরকালীন সৌভাগ্যের লোভে বিভ্রান্ত। ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়া প্রকাশের কৌশল ও ভাষা প্রয়োগের মধ্যেই মূলত: তাদের ধর্মের পরিচয় পাওয়া যায়। মানবকূলের ঐ গুটিকয়েক কলঙ্ক শুধু অাচমকা হামলা, মারধর, নাজেহাল করেই থামেনি, নানা ধরণের কুৎসা রটায় অপবাদ দেয় এমনকি পুলিশ হেফাজতে পাসওয়ার্ডের মত ব্যক্তিগত গোপনীয় বিষয় জানার জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। রাষ্ট্রীয় অাইন বা বিচার ব্যবস্থার উপর তাদের কোন শ্রদ্ধাবোধ অাছে বলে মনে হয় না – তারা নিজস্ব ধর্মীয় অনুভুতি ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের ঊর্ধে উঠে সংবিধান ও অাইনের প্রতি অবিচল থাকতে পারেন না এবং পুলিশসুলভ অাচরণ প্রদর্শণেও ব্যর্থ। অনেকেই জানেন, ব্যবহারে বংশের পরিচয়, কিন্তু তা ধর্মেরও সরাসরি পরিচয় প্রকাশ করে যখন তারা ধর্মীয় অনুভুতিতে অাঘাতের অভিযোগে অাইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তির সাথে ঐরূপ অাচরন করে। অারো লজ্জার বিষয় এটা যে বিশেষ সংঘবদ্ধ চক্রের লেলিয়ে দেয়া জানোয়ার কয়টা হয়ত জানেই না কোথায়, কবে, কোন ব্যক্তির কোন প্রশ্নকে বা জিজ্ঞাসাকে তারা ধর্মীয় অনুভুতির অাঘাত বলে মনেকরে ঐরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে নিজ নিজ ধর্ম বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। কিছু কিছু জ্ঞানের জন্য গ্রন্থ পাঠ অাবশ্যক নয়, যুগ যুগ ধরে মনিষীরা, সচেতন মানুষেরা নিজেদের জীবনে যা চর্চা করেন তার অনেক কিছু মানুষের কল্যাণে শিক্ষণীয় পাঠ্য হিসাবে বিবেচিত হতে পারে। দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখপাত্র ছাড়া প্রতিষ্ঠানের অন্যদের কথা যেমন প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য হিসাবে স্বীকৃত হয়না, তেমনি অনুমতি ছাড়া অন্যদের কথা কারো ব্যক্তিগত মতামত বা বক্তব্য হতে পারে না। যে ব্যক্তি তথ্য প্রদাণের অধিকার পায়নি, তার প্রদত্ত বা পাচারকৃত তথ্য মিথ্যা, ভুল, অগ্রহণযোগ্য বা উদ্দেশ্যপূর্ণ হতেই পারে। যুক্তিসংগত প্রশ্নের বা সমালোচনার যুক্তিসংগত সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়ে অথবা সমাধান দেবার চেষ্টা না করে, ঐ ধর্ম ব্যবসায়ী চক্র অনিষ্ঠকর শয়তানের মত সত্যান্বেষীদের হেয় করে, জনে জনে কুৎসা রটিয়ে মানুষের ধর্মীয় অনুভুতি ব্যবহার করে ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা করে। পেটে লাথি বা পেশায় অাঘাত পেলে, যারা অন্ধ সেজে বা ভুয়া কাগজ নিয়ে ভিক্ষা করে তারাও শত্রু হতে পারে। কিন্তু, তা শুধু তখনই, যখন তারা ব্যাক্তিগত ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাস্তবে তারা অনেকেই নিজেদের পেশাটাকে সমর্থন করেনা, তারা নিজেরাই নিজেদের কর্মকে অন্যায় মনেকরে, কারণ তারা সত্যের পক্ষে। বাস্তবতা এটাই যে সত্যান্বেষীদের যুক্তিসংগত জিজ্ঞাসা সমূহ নয়, বরং ঐরূপ সংঘবদ্ধ চক্রই তাদের ধর্মীয় অনুভুতিতে অাঘাত করে তাদেরকে সত্যান্বেষীদের বিপক্ষে পরিচালিত করে – কারন যুগ যুগ ধরে ধর্মকে ব্যবহার করে তাদের অন্যায্য সুবিধা ভোগের ভবিষ্যৎ একবারেই নড়বড়ে – ধর্মের নামে, ধর্মের শিক্ষার নামে, ধর্মের পেশার নামে অর্থনৈতিক ভাবে শুধু অনুৎপাদনশীল রূপে বেড়ে উঠা গোষ্ঠীর মধ্যেও উচ্ছিষ্ট ভোগে এখন লজ্জা জন্মানোটা স্বাভাবিক। বাস্তবতা মানুষকে এটাই শিক্ষা দেয় যে, যেকোন সম্পদের মালিকানা থাকতে পারে, কিন্তু স্বেচ্ছাচার টিকে থাকে না। রাজ্যে রাজা থাকেন, কিন্তু জনগণের স্বার্থই সবকিছুর ঊর্ধে। তবে, ন্যায়বোধ সকলের মধ্যে থাকে না। ন্যায়বোধ, বিশ্বাস, অাস্থা, অন্য সবার অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালবাসা, জ্ঞান-বুদ্ধি, বিবেক-বিবেচনার চর্চা – এসব অাস্তিক্যের ফসল, যে তারা অন্যায়কে প্রত্যাখ্যান করবে এবং ন্যায়কে গ্রহণ করবে। কিন্তু অাস্তিক অার নাস্তিকদের বাস্তবিক অাচরণ, কর্ম-কান্ড এবং তাদের সম্পর্কে মানুষের মধ্যে যে ধারণা ঢুকে অাছে তাতে তাদের প্রচলিত সংজ্ঞা বিভ্রান্তিকর। সনাতন ধর্ম সম্পর্কে যতটুকু জ্ঞান অাছে তাতে এটা বলা যায় যে দেবতারাও বিচারের উর্ধে নয়, স্রষ্টারাও কর্মফল ভোগ করেন, ন্যায়বোধের কাছে নত হন।
—-::::—-

১ thought on “ধর্মের শুরুতেই ধর্মীয় অনুভুতিতে অাঘাত।

  1. * রণজিৎ মালো নামে একজন স্বশিক্ষিত ব্যক্তি কথাপ্রসঙ্গে বলেছিলেন: সবকিছু – মানুষ, গ্রহ, নক্ষত্র, অাকাশ যা কিছু আছে সব ভগবানের পেটের মধ্যে…পোকার মত – যেমন… পোকা থাকতে পারে মানুষ গরুছাগল – ইত্যাদির পেটে। তার দাবী এটা ভগবান সম্পর্কে তার একান্ত নিজস্ব উপলব্ধি এবং প্যান্থেইজম সম্পর্কে সে অজ্ঞাত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *