বাংলা গানের ইতিহাস

প্রয়োজনীয়তাই উদ্ভাবনের প্রসূতি ।মানুষ প্রথম দিকে চার-পেয়ে জন্তু ছিলো ।যে দিন সে দুই হাত উপরে তুলে গাছে ডাল ধরতে শেখে সেদিন থেকেই তাঁর হাত মুক্ত হয়ে যায় ।তার পর থেকে সে নিত্যনতুন জিনিসের বা উপকরনের প্রজনীয়তা অনুভব করতে শেখে । নিজস্ব বুদ্ধিমত্তায় সে তা পূরণ করতেও শেখে । প্রইয়োজন পরে ভাষার ।শিকারে ,নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান প্রদানে এর প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক হয়ে ওঠে । “হৈ-হৈ”, “পু-পু” বা যেকোনো তত্ত্বের বিচারেই হোক, মানুষ ভাষাকে করে নিয়েছে তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অকৃত্রিম মিত্র হিসাবে ।

প্রয়োজনীয়তাই উদ্ভাবনের প্রসূতি ।মানুষ প্রথম দিকে চার-পেয়ে জন্তু ছিলো ।যে দিন সে দুই হাত উপরে তুলে গাছে ডাল ধরতে শেখে সেদিন থেকেই তাঁর হাত মুক্ত হয়ে যায় ।তার পর থেকে সে নিত্যনতুন জিনিসের বা উপকরনের প্রজনীয়তা অনুভব করতে শেখে । নিজস্ব বুদ্ধিমত্তায় সে তা পূরণ করতেও শেখে । প্রইয়োজন পরে ভাষার ।শিকারে ,নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান প্রদানে এর প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক হয়ে ওঠে । “হৈ-হৈ”, “পু-পু” বা যেকোনো তত্ত্বের বিচারেই হোক, মানুষ ভাষাকে করে নিয়েছে তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অকৃত্রিম মিত্র হিসাবে ।
সারাদিন শিকারের পিছনে দৌড়ে,ডেরায় ফিরে ক্লান্ত শরীরে গাছের ফাঁপা গুঁড়ি বা বাঁশের চোঙায় ফুঁ দিয়ে সামান্য বিনোদনের ব্যাপারটি একসময় অনবদ্য প্রয়োজনীয় হয়ে ঊঠলো ।আগুনকে ঘিরে উদ্দাম নাচ শৃঙ্খলায় না থাকলেও খুব শীঘ্রই তাঁরা পারস্পরিক ঐক্যকে গুরুত্ব দিয়ে সংঘবদ্ধ নাচকে প্রাধাণ্য দেয়া শুরু করে ।ফলে নাচ ওই গোষ্ঠীর একটা শিল্প ,ঐতিহ্য,সংস্কৃতি ও গৌরবের পরিচয় হয়ে উঠে ।
আর গান? পরস্পর অর্থহীন শব্দ,ইঙ্গিত বিনিময় এক সময় পূর্ণ অর্থে রূপ পায় । সে তখন চেষ্টা করে একে ফাঁপা গাছের গুঁড়ির সাথে তাল মেলানোর ।তার সাথে যোগ করে দেয় সারাদিনের পশু শিকারের কাহিনী,বা মনের ইচ্ছা গুলোকে । গোত্র বা গোষ্ঠীর অভাব,সংস্কৃতি,ঐতিহ্যও ধীরে ধীরে আসা শুরু করে ।
তবে সুর ,তাল, এবং সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে দিয়ে গানের জন্ম হয় আরও পরে । আগে মুখের ভাষা সুসংগঠিত হয়েছে । আদিম শিকারী সমাজে পশুর চামড়া দিয়ে তৈরী ঢোলে তালের সমন্বয় থাকলেও গানের নির্দিষ্ট কথা বা অর্থবোধক কথা দ্বারা গানের উদ্ভব আরো পরে। এগুলো ছিলো কোনো উৎসব বা শিকারে যাওয়ার আগে নিজেদেরকে একটু রাঙিয়ে নেয়া ।
এই অর্থহীন সুর বা কথা গুলো বহু বছর পরে একেক জন সংগীতজ্ঞের হাতে পরে সুনিদির্ষ্ট কাঠামো লাভ করে । কিন্তু তদ্দিনে মানুষ অনেক উন্নত পর্যায়ে চলে এসেছে । অর্থাৎ লোকসংগীত থেকেই শাস্ত্রীয় সংগীতের জন্ম হয়েছে । যেমন আগে ভাষা পরে ব্যাকরণ !
আমাদের বাংলা গানের উদ্ভবও তেমনি মনে করা যায়। আমরা আজকে যে রূপ দেখছি তা অনেক চড়াই-উৎরাই,ধাপ-প্রতিধাপ প্রভৃতি লেখচিত্র পেরিয়ে বিশ্ব সংস্কৃতির দরবারে জায়গা করে নিয়েছে ।
গানের ইতিহাস অনেক পুরোনো হলেও বাংলা সুসংবদ্ধ গানের ইতিহাস বেশি দিনের নয় । আবার একে আধুনিক হিসাবেও আখ্যা দেয়া যায় না । প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ (হিন্দুদের) “বেদ” এর দ্বিতীয় অংশ হলো “সাম” বা “সাম বেদ” । সংস্কৃত “সাম” শব্দের অর্থ হলো “সুরারোপিত শ্লোক” । এ গ্রন্থে শ্লোক গুলো আবৃত্তি না করে সুর করে গাওয়া হতো । আবার বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন “চর্যাপদ” থেকেও গানের নমুনা পাওয়া যায় ।কেননা “চর্যাপদ” হলো “চর্যাপদ গীতিকা” বা গানের সমাহার। বৌদ্ধ পন্ডিতেরা তা সুর সহকারে গাইতেন এবং প্রতিটি শ্লোকের উপর রাগ বা রাগিনীর নাম লেখা থাকতো । এ গুলোর মোট সংখ্যা উনিশ এবং যদি “শবরী” ও “শীবড়ী”, “গোবড়া” ও “গৌড়া” কে একটি বিবেচনা করা যায় তাহলে সতেরোটি । আবার “চর্যাপদ” এ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত রাগ হলো “পটমঞ্জরী” । অন্যান্য রাগের মধ্যে “মালসী”, “মল্লারী”, “রামক্রী”, “কামোদ”, “বরাড়ী”, “বঙ্গাল”, “গবড়া” উল্লেখযোগ্য । এগুলো আর্য এবং স্থানীয় সুরের মিশ্রনে তৈরী হয়েছিলো ।
বঙ্গদেশ ভারতবর্ষের এক প্রান্তে অবস্থিত । এখানে অনুপ্রবেশকারী আর্যরা তাদের সংস্কৃতির নিজস্ব সুর অক্ষুণ্ণ রাখতে পারেনি । তার সঙ্গে বঙ্গীয় আঞ্চলিক সুরের ব্যাপক মিশ্রণ হয়েছিলো বলে মনে করা হয় । কেননা তখনকার রাগিনীর মধ্যে গৌড়-মল্লার, গৌড়-সারঙ্গ তাই ইঙ্গিত করে । (চলবে)

৪ thoughts on “বাংলা গানের ইতিহাস

  1. আরো বিস্তারিত দিলে ভাল লাগতো।
    আরো বিস্তারিত দিলে ভাল লাগতো। আর শন্যবাদ আপনাকে এরকম একটি পোস্ট দেয়ার জন্যে।

  2. আমার আইডি পাসওয়ার্ড হারিয়ে
    আমার আইডি পাসওয়ার্ড হারিয়ে গিয়েছিলো ।তাই ভেবেছিলাম নতুন আইডি খুলবো ।তার আগেই ফিরে পেলাম ।আগামীতে মুক্তিযুদ্ধের উপর কিছু লেখা লিখবো ভেবেছি ।চিন্তা ভাবনা চলছে। আপঙ্কেও ধন্যবাদ । @গাজী ফাতিহুন নূর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *