যুদ্ধগান

যখন তোমার সমস্ত কলুষতা দুঃখ বেদনা ক্লিষ্টতা ছাপিয়ে,

শুধুমাত্র ভালোবাসতে চেয়েছিলাম,

তখন তুমি শুনিয়েছিলে যুদ্ধের গান…!!

বারংবার আমায় আহবান জানিয়েছো যুদ্ধের গহীনে তোমায় খুজে নিতে…!!

বারংবার আমি তোমায় জানিয়েছি শান্তিচুক্তির মধ্যবর্তী সমাধিতে আমি….!!

নেপোলিয়ন বেনিটো মুসোলিনী কার ভুত ঘাড়ে চাপিয়ে বারংবার ছুটে এসেছো তলোয়ার হাতে ঘোড়ার খুরের আঘাত হানতে….বারংবার আঘাত হেনেছো…ক্ষতবিক্ষত হয়েছে আমার মগজের দেয়াল….!!

তবুও বারংবার তোমায় আহবান জানিয়েছি শান্তিচুক্তির দ্বারা আমার দেশে অবাধে বৈধতার আশ্রয়ে তোমার সাম্রাজ্যবাদীতাকে…..!!

দিন গেছে বছর গেছে শতাব্দী গেছে তুমিও বদলেছো আধুনিক কৌশলে ঠান্ডা মাথায় ভেঙ্গে দিয়েছিলে আমার সত্ত্বাকে যেমনটা ভেঙ্গেছিলো সোভিয়েত ইউনিয়ন….!!

তবুও আহবান জানিয়েছি সিস্টিন চ্যাপেলের মাইকেলএঞ্জেলোর বিখ্যাত চিত্রকর্ম কিংবা ল্যুভর মিউজিয়ামে রাখা ভিঞ্চির মোনালিসা য় শুধুমাত্র তোমায়ই খুজে পাবো ভালোবেসে….!!

আমার কোন আহবানই তোমায় থামাতে পারেনি ভাঙ্গতে পারেনি তোমার দাম্ভিকতার দেয়াল অহংকারে তুমি পাথর কেটে বানিয়ে ফেলেছিলে আকাস উচু পাহাড়ে নিজের আবাসস্থল যেমন শোনা যায় হাজার বছরের হারানো সভ্যতা ইনকাদের চালচলনে….!!

তোমায় ভালোবেসেই বিপ্লবী হয়েছিলাম কিন্তু আমায় ভালোবাসতে যেয়ে তুমি হয়ে গেলে স্বৈরাচারী….!!

তবুও লোকচক্ষুকে ভুগোল বুঝিয়ে গণতান্ত্রিক উপায়ে তোমায় আহবান জানিয়েছিলাম একনায়িকাতন্ত্র প্রতিষ্ঠায়….!!

এত দিন বছর শতাব্দীর পেড়িয়ে যখন এখন নতুন দিনের সূর্য উঠে হাতে থাকা ছোট্ট স্মার্টফোনে…!!

তখন তুমি ফিরে এলে আমায় সান্ত্বনা দিতে নতুন করে ভালোবাসতে নতুন করে তোমায় আহবান জানাতে….!!

নাহ অনেক দেরী হয়ে গিয়েছে….!!

এরিমধ্যে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে থেকেও জাপান শিখে নিয়েছে নিজস্বতা অর্থনৈতিক কুটিলতা আর বিশ্বের সমগ্রতা যেখানে লিটলবয় আর ফ্যাটম্যান ও জাপানকে আটকে রাখতে পারেনি….!!

এরিমধ্যে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থেকেও বাঙ্গালী নিজের অধিকার আদায়ে দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রহসন থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতার মাইলফলক স্পর্শ করে ফেললো যেখানে অপারেশন সার্চলাইট কিংবা বুদ্ধিজীবী হত্যা ও বাংলাদেশকে আটকে রাখতে পারেনি…..!!

অথচ তুমি এই নিতান্ত অধম আমাকে আটকে ফেলতে চাও অবোধ্য মায়াজালের সাম্রাজ্যবাদে স্বৈরাচারীতার বন্ধনে নিতান্ত নামেমাত্র গনতন্ত্রকে দেয়ালে ঠেকিয়ে গলা টিপে হত্যা করতে…..!!

অথচ মহাকবি গ্যেটের ফ্রাঙ্কফুটের বইমেলায় কিংবা ভাষা আন্দোলনের সেই বিখ্যাত একুশের বইমেলায় নতুন বইয়ের গন্ধে খুঁজতে চেয়েছিলাম তোমার চুলের সুবাস…..!!

কিংবা সক্রেটিসের এথেন্সের কফিশপের জমজমাট কবিতাপাঠের আসরে অথবা বাংলার সকল আন্দোলনের চাক্ষুস সাক্ষী টিএসসি’র ঝারুল গাছটার নীচে তোমার হাসির লাস্যতায় দেখতে চেয়েছিলাম অমর্ত্যলোকের নৃত্য….!!

কিন্তু যতবার ভালোবেসে তোমায় আহবান জানিয়েছি ঠিক ততবারই তুমি গ্রীক যুদ্ধ দেবতা এরিসের তলোয়ার কিংবা শাস্ত্রীয় পুরাণ মতে লংকা থেকে ছুটে এসেছো শুধুমাত্র আমায় বিচ্ছিন্ন করতে বহুরুপী রাবণ রুপে…..!!!

অথচ আমি শুধু ভালোবেসে একটা ক্ষণে তোমায় চেয়েছিলাম যেমনটা ইতিহাস চাইবামাত্র পেয়েছিল নবী ইউসুফ আর জুলেখা নামে কিংবা রোমিও আর জুলিয়েটের উপাখ্যানে……!!

এখন তুমি কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়ার কিরণমালা হয়ে আমায় ভালোবাসার আহবান জানাও অট্টালিকা সমান ইমারতে স্বেচ্ছায় ভোরের কিরণ হয়ে আছড়ে পড়ো দিগন্তে নিজেকে মেল ধরে…..!!

অথচ এখন নরওয়েতে সূর্য উঠে না তিনমাস হলো হয়তো উঠবে আরো তিনমাস পরে কিন্তু এতদিনে আর ততোদিনে তোমার ছায়া বিকেলের আলোয় চিরকালের জন্যই আমার বিপরীতে……!!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *