তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে ‘অভিজিৎ রায় স্মৃতি পুরুস্কার’ ঘোষণা FFRF-এর

বিখ্যাত বাংলাদেশী-মার্কিন লেখক-মুক্তচিন্তক প্রয়াত অভিজিৎ রায়ের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার সংগঠন Freedom From Religion Foundation একটি বিশেষ স্মৃতি পুরষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। তিন বছর আগে অভিজিৎ রায় ঢাকার রাস্তায় ইসলামী জঙ্গিদের দ্বারা নিহত হন।

বিখ্যাত বাংলাদেশী-মার্কিন লেখক-মুক্তচিন্তক প্রয়াত অভিজিৎ রায়ের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার সংগঠন Freedom From Religion Foundation একটি বিশেষ স্মৃতি পুরষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। তিন বছর আগে অভিজিৎ রায় ঢাকার রাস্তায় ইসলামী জঙ্গিদের দ্বারা নিহত হন।

বাংলাদেশ, দক্ষিণ এশিয়া এবং সারাবিশ্বের বাংলাভাষীদের মধ্যে একটি নতুন চিন্তাধারার আগমন ঘটেছিল অভিজিৎ রায়ের হাত ধরে। জৈব-প্রকৌশলে ডক্টরেট লাভ করা অভিজিৎ রায় এর লেখাগুলোর মূল বিষয় ছিল বিবিধধর্মী— ধর্ম, নাস্তিক্যবাদ, বিজ্ঞান, লিঙ্গচেতনা, অধিকার এবং সাহিত্য। এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে রচিত তাঁর সাতটি বই বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

‘মুক্তমনা’ নামক একটি আন্তর্জালিক বাংলা প্ল্যাটফরম প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। যেখানে বাঙলাভাষী পাঠকদের জন্য যুক্তিবাদী মতধারার পক্ষের বিভিন্ন লেখা প্রকাশ করা হত। মুক্তচিন্তা, মুক্তবাকের ধারার একজন সৈনিক হিসেবে অভিজিৎ রায় বারবার হেনস্থা ও গ্রেপ্তারের শিকার নানা ধরনের লেখক-ব্লগারদের পক্ষে কলম ধরেছেন সেই ব্লগে এবং অন্যত্র। সে কারণেই তাঁর লেখা, কর্মকাণ্ডের ওপর নেমে এসেছিল মৌলবাদী ইসলামী জঙ্গিগোষ্ঠীদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি। যার ফলে ২০১৫ সালের ২৬শে ফেব্রুয়ারি ঢাকার একুশে বইমেলা চত্ত্বরে কুপিয়ে হত্যা করা হয় তাঁকে। সেই একই বইমেলায় অভিজিৎ রায়ের দুটি নতুন বই প্রকাশ পেয়েছিল। তাঁর স্ত্রী, রাফিদা বন্যা আহমেদ (বন্যা)-কেও মারাত্মকভাবে আক্রমণ করে জখম করা হয়, কিন্ত তিনি স্বল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।

অভিজিৎ রায়ের স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যেতে বন্যা আহমেদের পাশে থেকে FFRF চেষ্টা করবে অর্থ সংগ্রহ করে এই পুরষ্কার বা বৃত্তি প্রতি বছর প্রদান করার।

অভিজিৎ রায় স্মৃতি পুরস্কারটি এমন কোন ব্যক্তিকে প্রদান করা হবে, যুক্তিবাদী চিন্তাযজ্ঞের পথে এবং মৌলবাদী মতধারার বিপক্ষে লড়াইয়ে যার অবদান অনস্বীকার্য এবং শিক্ষণীয়। এই পুরস্কারটির প্রদানে কোন ধরনের বিদ্বেষ বা অসাম্যকে গুরুত্ব দেওয়া হবে না। শুধু তাই নয়, এই পুরষ্কারটি সম্মান জানাবে সেই সব সৃষ্টিশীল ও সাহসী ব্যক্তিত্বদের, যাঁদের সামূহিক নান্দনিক, বৈজ্ঞানিক চেতনা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে জন্মানো সৃষ্টিকে থামিয়ে দিতে অক্ষম হয়েছে ধর্মান্ধ চোখ-রাঙানী বা অন্য কোন আর্থ-সামাজিক বা রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা – যাঁদের কাজে স্পষ্ট সুস্থ যুক্তির সৎ চর্চার উপস্থিতি ছিল।

অভিজিৎ রায় স্মৃতি পুরুস্কার সম্পর্কে Freedom From Religion Foundation (FFRF) এর সহ-সভাপতি অ্যানি লরি গেলর বলেন- “অভিজিৎ রায়ের আত্মত্যাগের প্রতি এই বিলম্বিত শ্রদ্ধাটুকু জানাতে পেরে আমরা গর্বিত। তাঁর স্ত্রী বন্যা আহমেদ – যিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন অভিজিৎ রায় এর স্বপ্ন ‘মুক্তমনা’-কে বাঁচিয়ে রাখতে, অন্যান্য আক্রান্ত বাঙলাদেশিদের সাহায্য করতে; তাঁর সাথে কাজ করতে পেরে আমরা ধন্য”।

“নিজের হত্যার কিছু সময় আগেই যেভাবে মেডগার এভার্স বলেছিলেন যে, ‘মানুষকে হত্যা করা সম্ভব, চিন্তাকে নয়’, সেভাবেই যাতে অভিজিতের সৃষ্টিরও মৃত্যু না ঘটে, যাতে করে যুক্তিবাদ এবং একটি স্বাধীন বিবেককে আর কখনো মৃত্যুপথে পতিত না হয়।”

১ thought on “তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে ‘অভিজিৎ রায় স্মৃতি পুরুস্কার’ ঘোষণা FFRF-এর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *