কদু সাহেব, লাউ সাহেব, আর বাংলাদেশ

কদু সাহেব একজন বিশিষ্ট মহাশয় ব্যাক্তি। বিশেষ বিশেষ কিছু ব্যাবসা করে তিনি গত এক বছরে কয়েক কোটি টাকা জমিয়ে ফেলেছেন। গত মাসে নিজ জন্মদিন উপলক্ষে তিনি এক বিশাল কাঙ্গাল ভোজের আয়োজন করেছিলেন, তাই এই মাসে তার নামের সামনে মহাশয় বসানো হয়েছে। বসুন্ধরায়ে তার চার তলা বাড়ি, সেখানে কিছুক্ষন পরপর আসছেন বিশিষ্ট গন্যমান্য ব্যাক্তি। সবাইকে কদু সাহেব হাসিমুখে চা খাওয়াচ্ছেন। সেরকম কেউ যদি আসে তাহলে মদের বোতল খুলছেন। এসময়ে আসলেন তার বিশিষ্ট বন্ধু এবং শুভাকাঙ্ক্ষী, লাউ সাহেব। লাউ সাহেব আবার কাজের মানুষ, এসেই দুই বোতল বাংলা মদ সাবার করলেন। বোতলগুলো টেবিলের উপর ভেঙে বললেন, “ভাই, নিজ দেশের মদ ছাড়া আসলে হয় না। বুঝলেন না?”

কদু সাহেব বলেন, “ঠিক বলছেন, ঠিক বলছেন। আসলেই, এ দেশে এতো কিছু থাকতে কেন যে আমরা বাইরের জিনিস আনাই…”

লাউ সাহেব একটু গলা খাকারি দিয়ে বলে, “তা ভাই, কি বলছিলাম জানি?”

কদু সাহেব চা খেতে খেতে উত্তর দেয়, “ব আ কারে বা, ল।”

লাউ সাহেব তার বন্ধুর খোচা খেয়াল না করে বলে উঠলেন, “আহ! মনে পড়েছে। তোমাকে একটা ভাল বুদ্ধি দিতে আসছিলাম।”

“কি বুদ্ধি?”

“তোমার হাতে তো এখন অনেক টাকা তাই না? এই টাকা তো আর সারা জীবন থাকবে না, নাকি থাকবে?”

“কে জানে, থাকতেও পারে।”

“ধরে নিই থাকবে না। এখন এই টাকাটা ভাল কোন ব্যাবসায় খাটালে হতো না।”

কদু সাহেব গলার স্বর একটু নামিয়ে বললেন, “ব্যাবসাটা কি ওই Type-এর কিছু।”

লাউ সাহেব ছোট-খাটো একটা অট্টহাসি দিয়ে বলিলেন, “আরে না না। আমি ভাবছিলাম একটা স্পিনিং মিল করব।”

“স্পিনিং মিল?” কদু সাহেবের ভুরু কুঁচকে গেল। “সেটা আবার কি?”

“আরে স্পিনিং মিল কি তাও জানো না? তোমারে নিয়ে আমি যাব কোথায়? আচ্ছা শুনো, স্পিনিং মিল হল সেসব মিল যেখানে সূতা বুনানো হয়।”

“মানে তাত টাইপের কিছু একটা?”

“আরে নাহ!” লাউ সাহেব নিজের কপাল চাপড়ালেন বন্ধুর জ্ঞানের পরিধি দেখে। “এখন কি আর তাত দিয়ে কিছু বানায়? এখন কত মেশিন টেশিন আছে না? বিদেশ থেকে সে সব এনে ফ্যাক্টরি বসায় সুতা বানানো হয়।”

“ও… শুনে তো মনে হচ্ছে অনেক টাকার কারবারি।”

“তা ঠিক। কিন্তু লাভও অনেক। আর লাভ করাও খুব সহজ।”

লাভের কথায় কদু সাহেবের লোভ জেগে উঠল। তিনি বললেন, “ভাই, বল তো দেখি, কত লাভ হতে পারে এক বছরে?”

লাউ সাহেব নিজের মাথাটা একটু চুলাকালেন, “সঠিক তো জানি নে… তবে দুই-পাচ কোটি তো হইবেই।” সংখ্যাটা অবশ্য আন্দাজে বললেন।

কদু সাহেব একটু নড়ে চড়ে বসলেন। বললেন, “আপনে সিউর তো? মানে এক্কেবারে Sure তো?”

লাউ সাহেব টেবিলের ওপর একটা চাপড় মেরে বললেন, “কারে কি জিগাও একটু চিন্তা ভাবনা কইর‍্যা নাও না। আরে ভাই আমি তোমার বন্ধু না? বন্ধু কখনও আরেক বন্ধুকে ঠকায়?”

কদু সাহেব একটু আমতা আমতা করলেন। “তা তো ঠিক কিন্তু…”

“আচ্ছা ঠিক আছে। আমি তোমারে বলি।” লাউ সাহেব গলাটা একটু লম্বা করে কদু সাহেবের একটু কাছে নিলেন। “বাগেরহাটের সেলিম, নাম ছিল সিলভার সেলিম, বেটা তার সিলভার লাইন স্পিনিং মিল থেইক্যা কত টাকা কামাইছে কিছু জান? এটা খালি একটা উদাহরন দিলাম তোমাকে। দেশে সাড়ে চারশোটার মতো এরকম মিল আছে। প্রত্যেকটার মালিক কোটিপতি। আর কিছু জানা লাগব তোমার?”

কদু সাহেবের আর কিছু দরকার ছিল না। তার পরেও তিনি বললেন যে, “ভেবে দেখব।”

লাউ সাহেব একটু অসন্তুষ্ট ভাব করেই উঠে গেল। মনে মনে অবশ্য এই পোড় খাওয়া ব্যাবসায়ী ঠিকই বুঝেছেন যে মাছ টোপ গিলেছে।

কয়েকদিন পরেই কদু সাহেব তার বন্ধুকে বললেন সব ব্যাবস্থা করতে। লাউ সাহেবকে তিনি এই আশ্বাসও দিলেন যে বন্ধুত্বের খাতিরে তাকে মিলের যে কোন একটা GM-এর পদ দেবেন। লাউ সাহেব তো এবার পেয়ে বসেছে সোনার খনি। প্রথমেই বনশ্রী বাসে উঠে তিনি চলে গেলেন সোজা গাজীপুরে, ভালুকায়। সেখানে কিছু জানাশোনা আছে, তাই জায়গা খুজে পেতে সমস্যা হল না। কিন্তু জায়গার মালিক তো আর জায়গা ছাড়বে না। গ্রাম্য মানুষ, তার একমাত্র ভিটেমাটি; সে ছাড়বে কোন কারনে? লাউ সাহেবের এক কোটি টাকার অফারও তার কানে ঢুকল না। তার মুখে এক কথা, “ভাই একটা মাত্র জায়গা আছে আমার। এ জায়গা মুই ছারমু না। কোনদিনও না।”

কয়েকদিন পরে গ্রাম্য মালিককে কারা যেন লাথি চড় মেরে তার বাড়ি থেকে বের করে দিল। মালিক তো আর অত সহজে ভিটেমাটি ছাড়ে না; আদালতে মামলা ঠুকে দিল। কিন্তু ওকালতি করার একজন উকিলও সে পেল না। যেহেতু এটা বাংলা ছিনেমা না, সেহেতু কোন ‘রাজা’ নামের মাস্তানও বুড়ো লোকটার পাশে দাঁড়াল না। দুঃখ কষ্টে গ্রাম্য বুড়োটা মনে হয় মরেই গেল।

লাউ সাহেবের প্রভাবপত্তি এলাকায়ে বাড়তে লাগল আস্তে আস্তে। তিন চার মাসের মধ্যে কয়েক বিঘা জমি তার দখলে, ছয় মাসে ফ্যাক্টরি বসানোর মতো জায়গা। কতো জন কতো কথা বলে, টাকার থাকলেই সাত খুন মাফ।

একদিন লাউ সাহেব তার লেটেস্ট স্মারটফোন দিয়ে কদু সাহেবকে ফোন দিলেন। বললেন যে সব ঠিকঠাক হয়ে গেছে, এখন কন্ডাক্টর লাগবে, টাকা লাগবে, আর মাল লাগবে।

কদু সাহেব কাজের মানুষ। প্রথমেই গেলেন IBBL ব্যাংকে। সেখানে যেয়ে বললেন, “আমার তো কিছু জমি আছে, তা এখন ফ্যাক্টরি বসাতে ঋণ লাগবে। তা এই নাও কিছু টাকা। কাগজপত্র বানাও এক শ কোটি টাকার, আমাকে দাও তিন শ কোটি টাকা।”

সুদর্শন যুবক হাসিমুখে বলেন, “মুনাফার রেট কিন্তু ১৭.৫০।”

কদু সাহেব তাড়া দেন, “আরে বুঝছি বুঝছি। কাগজপত্র বানাও দেখি।”

বিদেশ থেকে মাল আসলো, কন্ডাক্টর জোগাড় হল। মাল আসার সময়ে লাউ সাহেব আসলেন ঢাকা। এসেই সোজা চলে গেলেন তার প্রিয় ভাগনের কাছে। ভাগনেকে কোলে নিয়ে বললেন, “তোমার তো অনেক কিছু করে দিলাম, এখন আমার কিছু একটা করে দাও।”

ভাগনে পান চিবাতে চিবাতে বলেন, “কি করতে হবে আদেশ করুন আমার হৃদয়বান চাচাজান।”

লাউ সাহেব টাকা বের করে বলেন, “এই নাও ২৫ কোটি। দশ কোটি তুমি রেখে দিও। বাকি টাকা দিয়ে তুমি কাস্টমস থেকে আমার কিছু মাল ছাড়ায় নিয়ে আসবা। পারবা না?”

ভাগনে তার কোলাব্যাঙ্গের মুখটা ভ্যাব্লার মতো ঝাকালেন।

অতি সুন্দর এবং উত্তম উপায়ে কর ফাকী দিয়ে কদু সাহেবের ফ্যাক্টরির মাল দেশে ঢুকতে লাগল। গাছ কাটা হল, মাটি খোঁড়া হল, রাস্তা বানানো হল, ইমারত তোলা হল, বাগান বানানো হল, সবই হল। কন্ডাক্টরকে কাড়ি কাড়ি টাকাও দিতে হল। টাকাগুলোর সিকিভাগও অবশ্য শ্রমিক নামের অমানুষদের কাছে গেল না। তাদের কত সুন্দর বলিষ্ঠ শরীর আছে না? তারা না খেয়েও বাচতে পারে।

অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সবকিছু রেডি। শুধু দুটা কাজ বাকি। প্রথমেই পুরনো শ্রমিক অমানুষদের ঝাঁটা মেরে বাড়ি পাঠানো হল, তাদের জায়গায় নেওয়া হল কয়েক হাজার গার্মেন্টস শ্রমিক অমানুষদের।

আজ ফ্যাক্টরির উদ্বোধন। লাল ফিতা কেটে বিশাল সবুজ দরজা দিয়ে ঢুকলেন ই ডি কদু সাহেব। তার পিছনে জি এম লাউ সাহেব, জি এম মাজু সাহেব, জি এম লাজু সাহেব, জি এম ধানু সাহেব আর জি এম বালু সাহেব। তাদের পিছনে আবার কত ডিজিএম, ম্যানেজার ইত্যাদি ইত্যাদি। সবার ফর্সা মুখে আজ ঝকঝকে সুজির ন্যায় শুভ্র তেলতেলে হাসি। কদু সাহেব গজামিল ইংরেজিতে ভরা একটা বৃহৎ বক্তৃতা দিলেন। বলিলেন যে আজ থেকে এ ফ্যাক্টরি একদল মানুষ আর ছাগলদের জন্য। বলিলেন, সবাইকে ছাগল জবাই করে খাওয়ানো হবে। আরও কত কি যে তিনি বললেন, সবাই ভুলে গেছে।

শুরু হয়ে গেল লাউ-কদু সাহেবের ফ্যাক্টরি। ফ্যাক্টরির নামটা লাউ সাহেব আর কদু সাহেব দুই দিন দুই রাত মাথা খাটিয়ে বের করেছেন। যেই নাম শোনে, সেই বলে, “ফাস্ত ক্লাস ফাস্ত নেম বাবা!”

জি এম-রা খুব শান্তিতে আছেন। সারাদিন শুধু ‘চা দাও’ বলে হাকান, পিওনরা এসে চা দিয়ে যায়। বাইরে গরমে হাত পা পুড়ে যাচ্ছে, ভিতরে এসি হাত পায়ে যেন বরফ লাগিয়ে দিচ্ছে। ম্যানেজাররা বাধ্য হয়ে একটু আধটু কাজ করছেন, না হলে ফ্যাক্টরিই বন্ধ হয়ে যাবে।

চার পাচ মাস পরে কতগুলা দুষ্টু শয়তান মিলে শ্রমিকদের কানে কি জানি এক কুমন্ত্রনা দিল, সবাই বেকে বসল। কেউ আর কাজ করবে না আজ থেকে। যতদিন না তাদের বেতন বাড়ানো হচ্ছে ততদিন কোন কাজ নেই। কদু সাহেবের মাথায়ে তো রক্ত উঠে গেল রাগের চোটে। বললেন, “কাজ করবে না কুত্তাগুলান? দাড়া তোরা। এখনই দাক্তাছি আমার ভাইপোরে। আইস্যা ওরা ছেচানী দিব না; বুঝবি তখন।”

লাউ সাহেবের মাথা আবার ঠাণ্ডা বরফ। এসির ভিতরে থাকতে থাকতে মনে হয় উনার বুদ্ধি বেড়েছে। তিনি আস্তে আস্তে তার বন্ধুর কানে বললেন, “সেধে চল ভাই সেধে চল। এরা অমনে ভাঙবে না। তার চেয়ে আমার কথা শুনো।”

পরদিনই কদু সাহেব তার সুবৃহৎ বক্তৃতা দিলেন। তার এই বক্তৃতা সেদিন থেকেই দেশের প্রত্যেকটি গার্মেন্টস মালিকদের কাছে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের চেয়েও বড় কিছু মনে হতে শুরু করে। অনেকেই বলাবলি করা শুরু করেন যে কদু সাহেবই আগামী গার্মেন্টস মালিকদের পথদ্রষ্টা।

কদু সাহেব তার বিখ্যাত ভাষণে বলেন, “ভাইসব! বুঝছি তোমরা খেতে পাও না। বুঝছি তোমরা একটু অধিকার চাও। কিন্তু আমার এ প্রশ্নের উত্তর দাও, তোমাদের কথা চিন্তা করতে যেয়ে কি আমরা আমাদের লেঞ্জার, মানে লেজের কথা কি ভুলে যাব? আমাদের তো লেজ আছে। সেই লেজে আমাদের তেল দিতে হয়। ওই তেল দিতে আমদের লাগে লাখ লাখ টাকা। তাই তো আমাদের বেতন তিন লাখ, চার লাখ করে; আর তোমাদের বেতন এক হাজার টাকা করে। ভাইসব! একটু বুঝার চেষ্টা কর দয়া করে। আমাদের এই লেঞ্জার দাম অনেক। এই লেঞ্জার কাছে তোমাদের কয়েকজনের জীবন কিছুই না। এই লেঞ্জা আমাদের বাচাইতে অইব, নয়তো তোমরাই মইর‍্যা যাইবা। বুঝলা না?”

বলতে বলতে কদু সাহেবের চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছিল। সকল বিশিষ্ট কর্মকর্তাদেরই চোখ দিয়ে পানি পড়ছিল। চক্ষের পানি দেখেই মনে হয় শ্রমিক অমানুষরা মালিকপক্ষের লেঞ্জার মুল্য বুঝতে পারল। কিন্তু কিছু কিছু কুকুর কেন যেন বারবার ঘেউ ঘেউ করছিল, “তোমরা কি বুঝছ না এরা কি বলছে? এদের শোষণ কি তোমরা দেখছ না?” শ্রমিক অমানুষরা সমস্বরে শাসিয়ে উঠল, “চোপরাও কুত্তা!”

চলতে লাগল। যেভাবে চলছিল সেভাবেই চলতে লাগল। যখনই কোন কিছু হয় তখনই কদু সাহেব এসে লেঞ্জার প্যাচাল পাড়েন, আর চক্ষু দিয়া পানি ফেলেন; শ্রমিক অমানুষেরা সুড়সুড় করে কাজে ফেরে। যখনই কোন ঝামেলা হয়, টাকা আকাশে ওড়ে। ঘুস দিতে দিতে কদু সাহেবের নতুন নামই হয়ে গেল ঘুসদেয়েন সাহেব। লাউ সাহেব তো পেতফোলা কিছু একটা হয়ে গেলেন। আজ কারোরই কোন দুঃখ নাই।

ত্রিশটা বছর পরে…

লাউ আর কদু সাহেব আজ আমেরিকায়। তারা আজকাল আমেরিকার বিশিষ্ট ভি আই পি পার্সন হিসেবে পরিচিত। গত ত্রিশ বছরে অনেক কিছুই ঘটেছে, অনেক কিছুই বদলেছে।

বাংলাদেশের সরকার পুরোপুরি কল্যাপ্স করেছে। কারন তার কাছে আর টাকা নেই, ধার দেনায় জর্জরিত অবস্থা। সেনাবাহিনি কিছুদিনের জন্য দেশটাকে টিকিয়ে রেখেছিল, কিন্তু তারপর আর পারে নি। সুযোগ বুঝে ইন্ডিয়া দেশটাকে অঙ্গরাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল, খানিকটা উন্নতিও করেছিল। কিন্তু তারপর ধপ করে আমেরিকা দাবি করে যে বাংলাদেশকে আমেরিকার হাতে দিয়ে দিতে হবে। এ নিয়ে কূটনৈতিক পরামর্শ বেশিদূর এগোয় নি। যুদ্ধের ঢোল বেজে ওঠে ষড়ঋতুর দেশে। আমেরিকার সাথে তাল মিলিয়ে পাকিস্তানও আজ যুদ্ধ করছে ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে। মনে হচ্ছে কিছুদিন পরে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে।

কোথায় সেই শ্রমিক অমানুষেরা? তারা আজ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তাদের পরিবার খেতে পায় নি, তাদের ছেলেমেয়েরা বড় হয় নি। নতুন করে কোন শ্রমিক অমানুষ আসে নি। অমানুষগুলোর মধ্যে যেসব কুত্তাগুলা ছিল তারা হাসতে হাসতে ধুলা হয়ে গিয়েছে। তাদের হাসি এখনও কিছু মানুষের মনে আতংক জাগিয়ে দেয়।

কোথায় তরুন সমাজ? তারা পাড়ি দিয়েছে বিদেশ। ভাংগা একটা দেশে থাকে কে?

কদু সাহেব আর লাউ সাহেবের অবশ্য এসব নিয়ে মাথাব্যাথা নেই। কদু সাহেব পনের বছর আগে তার বিখ্যাত বক্তৃতার জন্য ইউনুছ সাহেবের মতো শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। লাউ সাহেব তার ‘লেঞ্জা থিওরির’ জন্য বিশ্ববিখ্যাত হয়েছেন। আজ তাদেরকে দেশ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তারা বলে, “আরে ওই গর্ততা আমগো দেশ নাকি? ওই নষ্ট জায়গাটারে যদি আমেরিকা নিউক্লিয়ার মাইর‍্যা ধসায়া পচায়া দিত তাইলেই ভাল অইত।”

তাদের ভাষা সম্পর্কে কেউ কোন অভিযোগ করে না। করবে কেন? তারা তো ভি আই পি।

কদু সাহেব আর লাউ সাহেব আজ লেঞ্জায় হাত বুলাইতে বুলাইতে গান গাইতে থাকেন…

“কি আনন্দ আকাশে বাতাশে।
বান্দরগুলা মরতাছে আস্তে আস্তে।”

…___…

লেখকের মন্তব্যঃ ফুড কনফারেন্সের মতো বানিয়ে ফেললাম পুরোটা। গল্পটা একটু অন্যরকম লেখার ইচ্ছা ছিল। পারি নি। মূল ফোকাস হওয়ার কথা ছিল গার্মেন্টসের ঘটনাগুলি… একটু উলটাপালটা হয়ে গেল। যাই হোক। আশা করি পড়ে মজা পেয়েছেন।

লেখকের মন্তব্য ২… টাকার হিসাব কিছুটা হয়তো উলটাপালটা হয়েছে, আর সবার লাউ সাহেবের মতো ভাগনে থাকে না। তবে, গার্মেন্টসের বা স্পিনিং মিলের গোড়াপত্তন আজকাল এভাবেই হয়।

লেখকের মন্তব্য ৩… সিলভার সেলিম নামে একটা মানুষ সত্যিই আছে। আর ইউনুছ সাহেবকে তো সবাই চেনেনই।

লেখকের মন্তব্য ৪… আমার লেঞ্জা বিষয়ক কথাবার্তায়ে যদি কোন বিশিষ্ট লেঞ্জাওয়ালা ব্যাক্তির লেঞ্জায় আঘাত লেগে থাকে তাহলে দুঃখিত। আপনি ওই লেঞ্জাতা মুখে ঢুকায়া… বাকিটুকু বলা যাচ্ছে না।

লেখকের মন্তব্য ৫… আর যদি অইসব লেঞ্জাবিশিষ্ট ব্যাক্তিদের কোন শুভাকাঙ্ক্ষীদের বা প্রিয় ইউনুছ ছাহেবের কোন শুভাকাঙ্ক্ষীদের এই মুহুর্তে পেত কামড়ায় আর আমারে মারতে হাত নিশপিশ করে তবে সেই হাত আপনারা আপনাদের… এ কথাটাও পুরোটা বলা আমার পক্ষে সম্ভব না।

লেখকের মন্তব্য ৬… ইনফরমেশনগুলোর জন্য বাবাকে ধন্যবাদ।

মাথাটা গরম আছে। তাছাড়া মাইনর ডিপ্রেশনে ভুগছি। তাই কিবোর্ডে উলটাপালটা কথা টাইপ করে ফেলছি।

কাউকে যদি অপমান করে থাকি তাহলে দুঃখিত।

যদি পড়ে থাকেন…

ধন্যবাদ।

৩ thoughts on “কদু সাহেব, লাউ সাহেব, আর বাংলাদেশ

  1. গল্পের স্পিরিট চমৎকার…
    বলার

    গল্পের স্পিরিট চমৎকার…
    বলার স্টাইল প্রথম দিককার লিখা হিশেবে ভালই!!
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    ওভার অল আমার বেশ লেগেছে!! আরও গুছানো গল্প হোক।।

    নিচের ফুটনোট না দিলেই ভাল করতেন…

    1. এটা ফেবুতে প্রথম পোস্ট হয়.
      এটা ফেবুতে প্রথম পোস্ট হয়. সেখানে ফুটনোটের বিশেষ প্রয়োজন ছিল… তাই আর কি…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *