বেতাল হরতাল…………

ব্যস্ত মানুষের জীবনে হরতাল এনে দেয় অবসরের সুযোগ। গতবাধা সরকারী ক্যালেন্ডারের লাল তারিখগুলোর সাথে যোগ হয় কিছু বোনাস ছুটি। পরিবেশ দুষন রোধে বড় ভুমিকা রাখে হরতাল। রাস্তায় জ্যাম থাকে না। আমরা ছোট বেলায় পড়েছি অর্থই সকল অনর্থের মূল। আর যেহেতু হরতাল অর্থনীতি স্থবির করে দেয়, তাই অনর্থ কম হয়। কিছু পুরাতন,ফিটনেসহীন, রাস্তায় চলার অযোগ্য বাস,গাড়ি পুড়িয়ে শেষ করা যায়। দুই-চার জন মানুষ মরে আমাদের দেশের জনসংখ্যার চাপ কিছুটা কমায়। স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় বাচ্চারা বাসায় নিজেদের পড়ালেখার প্রস্তুত করার সুযোগ পায়। সারামাসের জমে থাকা সিনেমা গুলো দেখে শেষ করা যায় এইদিনে। যেহেতু মেয়েরা শপিং এ যেতে পারে না এই দিনে, তাই পরিবারের বেশকিছু টাকাও সঞ্চিত হয় হরতাল উপলক্ষে। আর বেশী সৌভাগ্যবান হলে আপনার জন্মদিন বা বিবাহবার্ষিকীতে পড়তে পারে হরতাল। পড়লে বাঁচাতে পারেন বেশ কিছু টাকা (ফাউ বন্ধু বান্ধব দেড়শ টাকার বডিস্প্রে বা সবচেয়ে ছোট সাইজ আফটার শেভ ১০টাকার র‍্যাপিং পেপারে মুড়িয়ে অথবা এক প্যাকেট সিগারেট যা থেকে যাওয়ার যাওয়ার আগ পর্যন্ত ৮/১০টা নিজেই কোপাইয়া দিয়ে, কোপ্তা কালিয়া খেয়ে যেতে পারবে না।)। আবার নিম্ন আয়ের মানুষেরা যেমন রিক্সাওয়ালা, সিএনজি ড্রাইভার, সব্জি বিক্রেতা এরা ভাড়া বা দাম ২/৩ গুন বাড়িয়ে বাড়তি আয়ের পথ দেখে।

যারা হরতাল করেন তাদের কাছে কিছু সুপারিশ। হরতালের দিন এমুজমেন্টপার্ক,সিনেমা হল সহ বিনোদনের জায়গা গুলা হরতাল আওতামুক্ত রাখা রাখা উচিত। যাতে করে মানুষজন অবসর সময়টা ভাল কাটাতে পারে। আর যেহেতু বাংলাদেশের বেশীর ভাগ মানুষ গ্রামে থাকে তাই গ্রামগুলোকেও হরতালের আওতায় আনা হোক। গ্রামের মানুষ পায়ে হেঁটে চলাফেরা করে বেশী, সেখানে রাস্তায় কাঁটা বিছিয়ে পিকেটিং করা যেতে পারে

:নৃত্য: :থাম্বসআপ: 😀

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *