বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক ঘৃনা করার কোনো যৌক্তিকতা নেই

বাংলাদেশ বা যত অনুন্নত, ধর্মান্ধ দেশ আছে বা যেসব অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষই আদর্শ শিক্ষা পায় নি জীবনে বা পেলেও তাদের চিন্তাভাবনায় সেটা প্রকাশ পায় নাহ সেসব অঞ্চলের মানুষ অপরাধ বা অন্যায় বলতে সেসব কাজকেই বুঝে যা মধ্যযুগীয় মানুষ বুঝতো। দুনিয়া যতই এগিয়ে যাক নাহ কেনো, যতই সভ্য হোক নাহ কেনো তাদের মতাদর্শ অনুযায়ী সেসবই ন্যায় বা অন্যায় যা সেই মধ্যযুগে ন্যায় বা অন্যায় ভাবা হতো বা যা তাদের কথিত ঐশ্বরিক বিচারে ন্যায় বা অন্যায়।

অপরাধ সেই কাজকেই বলা যায় যা করলে অন্যের অপকার হবে, অন্য কেউ আঘাতপ্রাপ্ত হবে যা তার প্রাপ্য নয় বা যা করলে কারো সাথে প্রতারণা করা হয়, ঠকানো হয় যা তার প্রাপ্য নয়। অপরাধ তা নয় যা করলে কোনো তৃতীয় ব্যক্তির লোকসান হয় নাহ এবং তা নয় যা করলে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সাথে প্রতারণা করা হয় নাহ। ঠিক তেমনি ভাবেই দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ যদি ভবিষ্যৎ ফলাফল সম্পর্কে সচেতন থেকেই স্বেচ্ছায় পরস্পর পরস্পরের সাথে সঙ্গম করে তাহলে সেটাকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় নাহ। কেননা তা আপনার বা আমার জীবনে লোকসান বয়ে আনছে নাহ। আপনার বা আমার বিবাহবহির্ভূত যৌনতা পছন্দ নয় বলেও সেটা আমরা অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারি নাহ। আপনার বা আমার সেব্যাপারে একটা মতামত অবশ্যই থাকতে পারে তবে আপনার বা আমার পছন্দ অপছন্দ অপরাধের মানদণ্ড হতে পারে নাহ। আপনার ধর্মবিশ্বাসে তা যেভাবে অন্যায় হতে পারে তেমনি অনেক বড় অপরাধ বা বর্বরতা আপনার ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী ন্যায় হতে পারে।

যখন দুইজন মানুষ কারো অপকার নাহ করে, কারো বাড়া ভাতে মই নাহ দিয়ে স্বেচ্ছায় নিজেদের যৌন সম্পর্ক স্থাপন করে তখন আপনার মধ্যে থাকা ধর্মান্ধতা তাদের সাথে করা জুলুম বা বর্বরতা বা হয়রানি সমর্থন করতে শেখায়, কেননা স্বেচ্ছায় বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক আপনার ধর্মবিশ্বাসে অপরাধ। আবার কেউ যখন তার স্ত্রীকে নিজের সেবাদাসী মনে করে, নিজের শস্যক্ষেত্র মনে করে অবাধ্য হলে মারধোর করে তখন আপনি খুব একটা কর্নপাত করেন নাহ। কেননা আপনার ধর্মানুযায়ী এই নিচ হীন বর্বর কাজ টা করার অধিকার পুরুষ রাখে (Quran 4:34) এবং অসভ্য, অমানবিক এই কর্মের জন্য পুরুষকে কোনো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে নাহ (Abu Dawud 2142) । ধর্মান্ধরা এব্যাপারে বলে স্ত্রী ভুল করলে স্বামী শাসন করে গায়ে হাত তুলতেই পারে। অথচ স্বামী একশো ভুল করলেও স্ত্রীর অধিকার নেই স্বামীর গায়ে হাত তোলার। তারা ভাবতেই পারে নাহ স্ত্রী কেনো স্বামীর গায়ে হাত তুলবে, পুরুষের একটা মর্যাদা বলে কথা আছে। অথচ রক্তপাত নাহ করে বা হাড় নাহ ভেঙে যেভাবে খুশি স্ত্রীকে শারীরিক ভাবে আঘাত করা পুরুষের অধিকার সেটা খুব সহজেই তারা ভাবতে পারে অর্থ্যাৎ নারীর আত্মমর্যাদা বলে কিছু নেই! অর্থ্যাৎ একজন পুরুষ চাইলেই কোনো জবাবদিহি ছাড়াই নারী নির্যাতনের অনুমোদন পায় সেই ধর্মবিশ্বাস থেকেই।

প্রেমিক প্রেমিকা লিভ টোগেদার করলে, একান্ত ব্যক্তিগত সময় কাটালে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়ে যায়, দেশ রসাতলে চলে যায়, জাহেলিয়াত যুগ চলে আসে। চারপাশে ঘৃনার উৎসব বয়ে যায় যদিও নারীবিদ্বেষী সমাজ নারীকেই আক্রমণ করে বিকৃত সুখ খুঁজে পায়। যে দেশে একটা রাষ্ট্রধর্ম আছে সেদেশে নারী নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, লিঙ্গবৈষম্য হয়তো বরকতই নিয়ে আসে!!

৩ thoughts on “বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক ঘৃনা করার কোনো যৌক্তিকতা নেই

  1. বিবাহবহির্ভূত শারীরিক
    বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্কে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু বিয়ের সময় যার সাথে বিয়ে হচ্ছে তার কাছে ব্যাপারটা গোপন করাটা অপরাধ। একজন মেয়ে অথবা একজন ছেলে, যার কখনও কারোর সাথে শারীরিক সম্পর্ক ছিল না, সে চাইতেই পারে যার সাথে তার বিয়ে হবে সেই ছেলেটা বা মেয়েটাও যেন তার মতো হয়। এই চাওয়াটা তার অধিকার। কিন্তু কোনো ছেলে অথবা মেয়ে যদি তার পূর্বে ঘটে যাওয়া বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্কের কথা তার বাগদত্তার কাছে গোপন করে তাহলে সেটা অবশ্যই অপরাধ। অপরাধের সংজ্ঞাগুলো মেনেই এটা অপরাধ। এখন কথা হচ্ছে শারীরিক সম্পর্ক করে সেটা স্বীকার করার মানুষিকতা আছে কতজনের?
    আর তাছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মতো অনেক দেশেই পরিবার কাঠামো এখনও ভেঙ্গে পড়েনি। এই দেশগুলোতে আত্মীয়তার বন্ধন এখনও অক্ষত। এই দেশগুলোতে পরিবার কাঠামো ভেঙ্গে না পড়ার কারণ নিয়ে এখন গবেষণা হচ্ছে। এটা সবাই জানে যে এই পরিবার কাঠামোগুলোকে টিকিয়ে রেখেছে কিছু সামাজিক রীতিনীতি এবং অনুশাসন। অনেক ভালো জিনিসও ধর্মপ্রবক্তারা তাদের ধর্মে ঢুকিয়ে দিয়েছে। শুধুমাত্র ধর্মে আছে বলে এগুলোকে উপেক্ষা করা ঠিক হবে না।

  2. বিবাহ কেন করেন দুজনের স্বীকৃত
    বিবাহ কেন করেন দুজনের স্বীকৃত যৌন চাহিদার জন্য,আর একজন স্বামী বা স্ত্রী যদি অন্য কোন নারী বা পুষের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে তাহলে সেটা কি তার অন্য সঙ্গীর সাথে প্ররতারনা নয়।সেটা অবশ্যই প্রতারনা ঠকানো এটা অপরাধ,
    যদি তারা যৌন জীবনে সুখী না হয় তাহলে তাহলে ডিভোর্স দিতে পারেন,এবং পচন্দ মতো সঙ্গী নিতে পারেন,,,

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *