বৃদ্ধাশ্রম বনাম যৌবনাশ্রম

যৌবনাশ্রম একটা নতুন শব্দ তাইনা? কেউ শুনেননি সম্ভবত৷ আমিও আমার বাপের জন্মে শুনিনি কিন্তু আমিই ব্যবহার করছি আমার সুবিধার্থে৷ আসলে শব্দটা বাজারে নামালাম বৃদ্ধাশ্রমের বিপরীতে৷ কেউ কেউ বৃদ্ধাশ্রমে মা বাবা দিয়ে মানুষের সামনে এসে বলেন বৃদ্ধাশ্রমে মা বাবা পাঠায় কুলাঙ্গাররা৷ কেউ কেউ বাড়িতে মা বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমের চেয়ে বেশি তিতা খাইয়ে বাইরে বলেন, মায়ের মত আপন দুনিয়াতে কেহ নাই আবার কেউ বাপের আহ্লাদে আটকানা৷ ভিন্নতাও আছে তার মধ্যে অনেকে বৃদ্ধাশ্রম পন্থী৷ বৃদ্ধাশ্রম বাড়ানোর প্রয়াসে মতামত রাখেন৷ আমি দুই পন্থাকেই ভেঙ্গে যৌবনাশ্রমকে আনতে চাই৷

কী সেই যৌবনাশ্রম?

আমাদের সন্তানদের মূলত মানুষ করেন মা বাবা৷ সেই মা বাবার উত্তরাধীকারী আমরা হই৷ এমতাবস্থায় যখন পাই তখন অনেকে সিংহাসন দখল করার মত করে বাপ মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে আমরা খুশি৷ রাজা যদি সিংহাসন সেনাপতিকে দেয় তখন রাজার যে অবস্থা হয়, ব্যপারটা অনেকটা তার মতই৷ তাছাড়া একই সংসারে আরো ভিন্ন রকমের ঘটনা হয়৷ যেমন পরের ঘর হতে একটা মেয়েকে বউ করে এনে চাকরানীর মত খাটায় আর নিজের মেয়ে বিয়ে দিয়ে যদি অন্য কেউ একই আচরণ করে তখন নিন্দা করে৷ আবার এমন ঘটনা আছে কালকে এসে আজ সব কিছুর মালিক বনে যায়৷ অনেক সময় ননদ আর শ্বাশুড়ি ধরে পিটায়, কোন ছেলে তা মেনে নেয় কোন ছেলে মানতে পারেনা৷ আবার কোন ছেলে নিজ থেকে মা বাবাকে ব়দ্ধাশ্রমে পাঠায়, কোন ছেলে সবদিক সামলাতে না পেরে বাধ্য হয় পাঠাতে৷ এত নানাবিধ জাল হতে বের হবার উপায় কী?

আমার মতে বের হবার উপায় হলো সমাজের অতীত ভেঙ্গে নতুন করে যৌবনাশ্রম করা৷ অর্থ্যাৎ মা বাবা ততদিন তাদের সন্তানকে ধরে রাখবেন যতদিন না তাদের বিয়ে হচ্ছে৷ দ্বিতীয়ত মা বাবার দ্বায়িত্ব হবে সন্তানকে মানুষ করে গড়ে তোলা, ফলের গাছ হিসেবে নয়, গাছের পল হিসেবে৷ গাছকে ফলের ভার ধরতে হবে, ফলকে গাছের নয়৷ বৃক্ষ যেমন তার ফল হতে আশা করেনা তেমনি পিতা মাতা নামক বৃক্ষেরও তাই হওয়া উচিত৷ সন্তানকে পুঁজি করলে আমাদের নির্ভরশীল হতে বলে যদি তারাই পর নির্ভরশীল হয় তবে আবেগে চোখের পানি তাদের বোধয় প্রাপ্য৷ আর পুঁজি করলে সব সময় ব্যবসায়ে লাভ হবে তা কিন্তু ভুল৷ ভাবনাটা এমন হওয়া দরকার যে, আরে সে আমাকে জন্ম দিয়েছে নাকি আমি দিয়েছি? তার টাকা দিয়ে আমাকে তার উপর নির্ভর করে চলতে হবে কেন? তাকে জন্ম দিয়েছি বলে মানুষ করার দ্বায়িত্ব ছিলো করে দিয়েছি৷ এবার তারটা সে করে নিক৷ অর্থ্যাৎ স্বাবলম্বী হয়ে নিজের সংসার নিজে করুক৷ আলাদা হয়ে যাক যৌবনে৷

তাতে সুবিধা কী?

বাপের বাড়িতে ছেলে থাকবেনা, মেয়ে শ্বশুরবাড়ী কিংবা বাপেরবাড়ী থাকবে না৷ নিজেদেরকে গড়ে তোলার চেতনা জাগ্রত থাকবে৷ কেউ পর নির্ভরশীল হবেনা বা সে চান্স থাকবে না৷ নব দম্পতি বাপেরবাড়ী শ্বশুরবাড়ীর মাঝখানে অবস্থান করবে৷ যদি কারো বাপের বাড়িতে আর্থিক সহযোগীতার প্রয়োজন হয় তারা করবে৷ সমাজিক পারিবারিক ঝগড়া বিবাদ এসব লাগার তেমন সুযোগ নেই৷ নির্যাতন করার মানসিকতা হবে না৷ বাপ, মা, শ্বশুর, শ্বাশুড়ী এসব হঠাৎ আসবে এবং সম্পর্ক ঠিক থাকবে৷ তাতে আলাদা একজনের প্রতি অন্যজনের টানও থাকবে৷ নিজেদের সন্তানকে একইভাবে মানুষ করার আগ্রহ বেড়ে যাবে৷ যৌবন ঘর ছাড়তে পারে, বৃদ্ধ নয় তাই যৌবন হয়ে উঠবে গড়ার যাকে আমি যৌবনাশ্রম বলেছি৷

অনেকে বলেন আমার মা বাবা আমাকে মানুষ করেছে তাদের সেবা পাবার কি অধিকার নেই? মূলত সেবার জন্য মেয়ে আনে অন্য ঘর হতে, নিজে না করে নারীকে দিয়ে করানোর মানসিকতা এটাইতো বড় বৈষম্য৷ তখন সেটা চাকরানীর মতই দেখায়৷ আমাকে মানুষ করলো মা বাপ, সেবা করবে পরের মেয়ে কি সুন্দর দর্শন তাইনা? যে মেয়ে আনা হয় তাকেও তার মা বাবা মানুষ করেছে তাহলে তার দ্বায়িত্ব বিবেকের কাছে কি হবে? সুতরাং দুটোর মাঝখানে অবস্থান নিলে যেমন নিজেদের উন্নতি তেমনি সেবার প্রয়োজনে নিজেদের কাছে আনা যায় কিংবা কর্মী রাখা যায়৷ তাতে কিছু মানুষের একটা আয়ের উৎস হয়ে দাড়াবে৷ তাই বৃদ্ধাশ্রমের চেয়ে যৌবনাশ্রম বেশি দরকার৷ আসলে উন্নত দেশগুলোতে তাই হয়৷ মা বাবারা তাদের সন্তানকে বিয়ে করানোর পর সঙ্গে রাখেন না, আর সন্তানরাও নিজেদের স্বাধীনতায় ঘর সংসার পাতেন৷ এজন্যই উন্নত দেশে বিয়ের আগে নিজেদের ক্যরিয়ারের কথা ভাবেন৷ নিজেরা স্বাবলম্বী হয়ে তারপর বিয়ের দিকে পা বাড়ান৷ যেজন্য তাদের মাঝে আমাদের মত মানসিকতা কিংবা এত কলহ নেই৷

৩ thoughts on “বৃদ্ধাশ্রম বনাম যৌবনাশ্রম

  1. তবুও আমাদের কাছে নতুন এই
    তবুও আমাদের কাছে নতুন এই উপায়টি বেশ ভালোয় লাগল।
    কিন্তু যুবকদের সাবলম্বী হওয়াটা একটা প্রশ্ন আর যুবতীদের নিয়েও ভাববার আছে।
    সর্বোপরি ছেলে-মেয়ে সমান হওয়া অনিবার্য কিন্তু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *