কখনোই নিজেকে একজন লেখক কিংবা গল্পকার মনে হয় না।

সেই ছোটবেলা থেকেই বইপড়ায় আগ্রহ অনেক। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি গল্প কিংবা কবিতার বইও পড়া হতো। কিন্তু একজন লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার বিষয়টা ছিলো সম্পূর্ণ আলাদা। মাঝেমধ্যে বসে ডায়রি লিখা হতো। ভালো কিংবা খারাপ দুটো সময়েই ডায়রি লিখতে ভালো লাগতো। আমার কাছে ডায়রি একটা বন্ধুর মত। সেই থেকেই শুরু। তারপর একটু একটু করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা। তবে কখনোই নিজেকে একজন লেখক কিংবা গল্পকার মনে হয় নি। মানুষের জীবনের বাস্তবিক গল্পের চেয়ে বড় গল্প আর কি হতে পারে। এসব চিন্তা-চেতনা থেকেই গল্প লিখা শুরু। ২০১৬ সালের শুরু থেকে পুরোদমে গল্প লিখা শুরু করি। ফেইসবুকের জনপ্রিয় কয়েকটা পেজে অনেকদিন গল্প লিখতাম। যখন এসব পেজে নিজের লিখা গল্প পোষ্ট করা হতো সেই সময়টার আনন্দ লিখে কিংবা বলেও বুঝানো সম্ভব নয়। এসব পেজে থেকে গল্প প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হলে প্রথম প্রথম অংশগ্রহণ করার সাহস থাকতো না। তারপর ২০১৭ সালে যখন অমর একুশে বইমেলার জন্য গল্প প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হলো নিজের লিখা একটা অপ্রকাশিত গল্প জমা দিয়েছিলাম। তারপর থেকেই অপেক্ষা কখন প্রতিযোগিতার ফলাফল আসবে। তার ঠিক কয়েকদিন পরে ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর নিজের নামটা দেখে বিশ্বাস হচ্ছিল না আমার লিখা গল্পও জাতীয় বইমেলার মত এত বড় মঞ্চে জায়গা করে নিবে। ঐ বছর দুটো বইয়ে আমার লিখা দুটো গল্প প্রকাশিত হয়।

তবে সবসময় গল্প লিখা নিয়ে পড়ে থাকার ইচ্ছে ছিলো না কখনোই। অনেকগুলো রাত কেটেছে কবিতার বই পড়ে আর কবিতা আবৃত্তি শুনে। খুব ইচ্ছে করতো কবিতা লিখার। লিখেছিও। কিন্তু নিজের কাছেই ভালো লাগতো না। তবে থেমে থাকি নি। কবিতা লিখার চেষ্টা করে গেছি প্রতিনিয়ত। এখনও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এবছরও অর্থাৎ ২০১৮ সালের অমর একুশে বইমেলার জন্য গল্প প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হলে সেখানে অংশগ্রহণ করি। আমার লিখা গল্পটা মনোনীত হয়েছে। তবে এবারের বইমেলায় এই একটাই গল্প প্রকাশ হবে আমার। এছাড়া জুন কিংবা জুলাইয়ে আমি আমার প্রথম নিজস্ব একটি বই প্রকাশ করবো। এই বইয়ের জন্য গল্প লিখাও শুরু করে দিয়েছি।

আসলে কখনোই নিজেকে একজন লেখক মনে হয় না। চোখের সামনে যা কিছু ঘটে বা নিজের সাথে ঘটা এক একটা ঘটনাকে গল্পে পরিণত করার চেষ্টা করি। এর বেশি কিছুই না। আর এখন কবিতা লিখায় মনোযোগ দিয়েছি। সবকিছু ঠিকঠাক মত চললে এই বছরের শেষের দিকে আর একটা কবিতার বই প্রকাশ করবো।
কিন্তু এর জন্য সাহসের পাশাপাশি প্রয়োজন হয় কিছু মানুষের সাপোর্ট এর। আমার এই পথচলায় কিছু মানুষ সাথে পেয়েছি যারা যেকোনো ভালো কিংবা খারাপ অবস্থায় আমার পাশে দাঁড়ায়, অনুপ্রেরণা দেয়। তাদের কাছে আমি বরাবরই কৃতজ্ঞ থাকবো। আমার জীবনের প্রথম নিজস্ব বইটাও তাদের জন্যই প্রকাশ করবো।

১ thought on “কখনোই নিজেকে একজন লেখক কিংবা গল্পকার মনে হয় না।

Leave a Reply to দীপ্ত সুন্দ অসুর Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *