নবনীতার কাছে শেষ চিঠি

প্রিয় নবনীতা,
“ভালো আছো” কিনা জিজ্ঞেস করলাম না। এসব ফর্মাল কোয়েশ্চেন করার আসলে কোন মানে হয় না। উত্তর টা সব সময় জানা থাকে। তবুও “ভালো আছ” ধরে নিয়ে শুরু করলাম। ব্লকড হওয়া সত্ত্বেও গত পরশুদিনের “তব্দা খাওয়া” স্ট্যাটাস টা দেখেছি। নতুন টিউশনি পেয়েছো শুনলাম, ছাত্রটাও চরম পাজি। প্রথম দিনেই টিচারকে বলে কিনা “টিচার আপনি তো আমার চেয়ে ছোট :p “। নতুন বয়ফ্রেন্ডের সাথে তোলা ছবিটা খুব ভালো হয়েছে। তবে কপালে একটা লাল টিপ থাকলে তোমাকে আরো গর্জিয়াস দেখাতো। ভাবছো, এসব অনধিকার চর্চা কেন করছি? আসলেই তো??? আসলে তোমাকে কখনো অন্য কারো মত ভাবি নি। নিজ সত্ত্বার ভিন্ন একটি রূপ হিসেবেই দেখেছি। সম্ভবত ভালোবাসলে যা হয় আর কি!!



প্রিয় নবনীতা,
“ভালো আছো” কিনা জিজ্ঞেস করলাম না। এসব ফর্মাল কোয়েশ্চেন করার আসলে কোন মানে হয় না। উত্তর টা সব সময় জানা থাকে। তবুও “ভালো আছ” ধরে নিয়ে শুরু করলাম। ব্লকড হওয়া সত্ত্বেও গত পরশুদিনের “তব্দা খাওয়া” স্ট্যাটাস টা দেখেছি। নতুন টিউশনি পেয়েছো শুনলাম, ছাত্রটাও চরম পাজি। প্রথম দিনেই টিচারকে বলে কিনা “টিচার আপনি তো আমার চেয়ে ছোট :p “। নতুন বয়ফ্রেন্ডের সাথে তোলা ছবিটা খুব ভালো হয়েছে। তবে কপালে একটা লাল টিপ থাকলে তোমাকে আরো গর্জিয়াস দেখাতো। ভাবছো, এসব অনধিকার চর্চা কেন করছি? আসলেই তো??? আসলে তোমাকে কখনো অন্য কারো মত ভাবি নি। নিজ সত্ত্বার ভিন্ন একটি রূপ হিসেবেই দেখেছি। সম্ভবত ভালোবাসলে যা হয় আর কি!!
একটু ফ্ল্যাশব্যাক করি। প্রথম যেদিন আমায় ফোন দিয়েছিলে (সন্ধ্যা ৭.৩০ এর দিকে) তখন আমি ঘুমাচ্ছিলাম। আমি কখনো আননোন নাম্বার থেকে আসা ফোন ধরি না। মাঝখানে “সিম ক্লোনিং” বিষয়ে একটা প্যানিক ছড়ানো হয়েছিলো-তা নিশ্চয় জানো! যাই হোক, ঘুমের ঘোরে ফোন পিক করেই “হ্যালো” বললাম। ওপার থেকে ভেসে আসা উচ্চ ফ্রিকোয়েন্সির নারী কন্ঠ শুনে কিছুটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলাম। “কে বলছেন” জিজ্ঞেস করাতেই বললা “আমি-ই”। বাকিটা আমি বুঝে নিয়েছি।
এরপর থেকে শুরু।
ফেসবুকে চ্যাট ও প্রতিদিন সন্ধ্যায় নিয়মিত কথা বলতে বলতে কখন যে তোমার মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে গিয়েছিলাম তা টেরই পাই নি। সমস্যার শুরু টা হয় তহন যখন” মায়া”টা পরিণত হয় “ভালোবাসায়”। তোমাকে যতবারই বলতাম “চল আজ দেখা করি!” “বিকালে টিএসসি আসতে পারবে??” ব্লা ব্লা তুমি ততবারই এড়িয়ে যাবার ভান করে বলতে “এত তাড়া কিসের??” বিশ্বাস করো, ওই সময় যে আমি কি পরিমাণ রাগতাম, তার ফলে যে তাপ উৎপন্ন হতো তাতে বোধ করি কার্বন-ফাইবারও গলিয়ে ফেলা যেত :p …. এ নিয়ে তোমার সাথে অনেক ঝগড়া হয়েছে। কতবার যে আমরা একে অপরকে ব্লক-আনফ্রেন্ড করেছি তারও হিসেব নেই। তারপর নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে আমরা আবার ফিরেও এসেছি। মনে আছে, ফোনে কথা বলার সময় তুমি প্রায়ই অভিযোগ করতে যে আমি কথা গুছিয়ে বলতে পারি না। কিন্তু গতকাল এক বন্ধু আমাকে বললো, আমি নাকি খুব ভালোই সিকোয়েন্স মেইন্টেইন করে কথা বলি যা তোমার অভিযোগকে পুরোপুরি নাকচ করে দেয়। হয়তো প্ল্যাটফর্মের ভিন্নতার কারণে তোমার সাথে কথা বলার সময় আমার জড়তা টা একটু বেশিই প্রকাশ পেয়েছিলো!!
একটা কথা না বলে পারছিনা, তুমি মোটেই টিপিক্যাল কোন মেয়ে নও। তোমার “ব্রেক দ্যা সার্কেল” টাইপ মনোভাব আমি সত্যিই পছন্দ করতাম। প্রচলিত ট্র্যাডিশনের প্রতি তোমার জিরো টলারেন্স দেখাতে গিয়ে মাঝে মাঝে তুমি নিজেকে বিদ্রোহের অগ্নিমূর্তি হিসেবে উপস্থাপন করতে। তবে তোমার একগুঁয়ে আর জেদের কারণে মাঝে মাঝে তোমার উপর খুব রাগ হতো। কিন্তু তুমি কন্ডোলেন্স জানানোর পরিবর্তে উল্টো ঝাড়ি দিয়ে বলতে,”কিছুই করার নাই!!” কি ফাজিল মেয়ে!! :p
তবে এবার যে কারণে আমাদের মধ্যে সেপারেশন হলো তা বোধ হয় ফেভিকলের মত শক্তিশালী আঠা দিয়েও জোড়া লাগানো যাবে না। আসলে আমাদের আইডিওলজি তে অনেক ডিফারেন্স ছিলো। এই হিউজ ডিফারেন্স নিয়ে আসলে সম্পর্ক তৈরি হয় না, বা হলেও বেশি দিন স্থায়ী হয় না। তাই নিজে থেকে সরে আসলাম। সরে আসতে অবশ্যই কষ্ট হয়েছে। কিন্তু ভালো কিছু পেতে হলে কিচু ত্যাগ করতেই হয়। আমি-ই না হয় সেই sacrifice টা করলাম! তোমার জন্য!
আসলে সারা রাত নির্ঘুম ছিলাম। ঢাকা শহরের যে অবস্থা তাতে ঘুম না আসাটাই স্বাভাবিক। ঘোরের মধ্যে তাই কি লিখতে গিয়ে কি লিখেছি!! মাইন্ড করে থাকলে অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
এই চিঠিটা যখন তুমি পড়বে তখন হয়তো আমি পলাশিতে দিনের ৮ নাম্বার সিগারেট টানছি কিংবা “কল অফ ডিউটি” গেমসের একটা মিশন খেলতে গিয়ে বার বার আটকে গিয়ে মাথার চুল ছিঁড়ছি। কয়েকদিন আগে চ্যাটে যখন বলেছিলাম,”এ সপ্তাহে আমি প্রায় ৫০ টা সিগারেট!!!” তখন তুমি মন খারাপ করার ইমো পাঠিয়েছিলে। এখন আশা করি আর পাঠাবে না।
সবশেষে একটাই কথা, পৃথিবী গোল। একটা বৃত্তের যেই বিন্দুতেই থাকো না কেন তার কেন্দ্র থেকে তা কিন্তু সম দূরত্বেই থাকে। হয়তো ঘুরতে ঘুরতে কখনো তোমার সাথে আমার দেখা হয়ে যেতে পারে।
সেই দিনের প্রত্যাশায় রইলাম।
ভালো থেকো।

১৬ thoughts on “নবনীতার কাছে শেষ চিঠি

  1. অয়ানোনিমাসকে প্রেমে পড়তে দেখে
    অয়ানোনিমাসকে প্রেমে পড়তে দেখে ভালো লাগল। টেকি লোকজনকে কেন জানিনা আমার খুব কাঠ খোট্টা টাইপ মনে হয়। জানি এটা খুব ভুল ধারণা।
    চিঠির গল্পটা ভালো লাগল। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. ধন্যবাদ আতিক ভাই…
      “টেকি

      ধন্যবাদ আতিক ভাই…
      “টেকি লোকজনকে কেন জানিনা আমার খুব কাঠ খোট্টা টাইপ মনে হয়”<< একদম ভুল ধারণা ভাইয়া। ইঞ্জিনিয়ারদের মনে কি কখনই প্রেম ভালোবাসা থাকতে পারে না?? 😀

  2. আপনার চিঠি গল্প পড়ে ভাল
    আপনার চিঠি গল্প পড়ে ভাল লাগলো। আপনি ভাল লিখেন। গল্পে ভাবনা না থাকলে গল্প ভাল লাগে না। যাই হোক, আপনার এই অনুগল্পটা পড়ে আমার জীবনের প্রথম প্রেমপত্রটা দিতে ইচ্ছে করল :p এখনো রেখে দিয়েছি আমার কাছে।

  3. আপনার আবেগ, বেদনা, হতাশা আর
    আপনার আবেগ, বেদনা, হতাশা আর দীর্ঘশ্বাস মিশ্রিত বিচ্ছেদ পত্রটি পড়ে ভালো লগল। তবে আদর্শিক দ্বন্দ্ব কি ছিল জানতে পারলে বিচ্ছেদের ব্যাপারটা পরিষ্কার হত।

  4. ভাই, আসলেই কি বিচ্ছেদ
    ভাই, আসলেই কি বিচ্ছেদ হয়েছে??? :ভাঙামন: :ভাঙামন: :কানতেছি: :কানতেছি: :কানতেছি:

  5. ভাল লেগেছে চালিয়ে
    ভাল লেগেছে চালিয়ে যান।

    অনটপিক: কল অব ডিউটি আমার মাথা স্টেডিয়াম বানিয়ে ছাড়বে…

    1. ধন্যবাদ ক্লান্ত ভাই.. আমি
      ধন্যবাদ ক্লান্ত ভাই.. আমি আবার প্রচন্ড গেম ফ্রিক 😀 … ভালো লাগলো আরেকজন গেম ফ্রিকের দেখা পেয়ে। ভালো থাকবেন 🙂

    1. কষ্ট পাওয়া খারাপ কিছু না..
      কষ্ট পাওয়া খারাপ কিছু না.. কষ্ট মানুষকে পরিশুদ্ধ হতে সাহায্য করে। সাথে সাথে নিজের ব্যক্তিত্ব ও পোটেনশিয়ালিটি সম্পর্কে ধারণা করা যায়। 🙂 আতিক ভাইয়া

  6. হুম আদর্শের দ্বন্দ্ব
    হুম আদর্শের দ্বন্দ্ব পীড়াদায়ক, বিপরির মুখি দ্বন্দ্ব হলে তা আরও বেশি পীড়াদায়ক হয়ে ওঠে। তবু টিকে থাকা অথবা টিকিয়ে রাখা এমনকি স্ববিরোধীতা করেও যা সাস্থের পক্ষে উপকারি না। এত কিছু জেনে তারপরও কথা থাকে, দেখা হবার আশা রেখে “শেষ চিঠি” হয় নাকি? বরং “” চিঠিতে চাই না তোমায়, চাই মুখোমুখি”” ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *