দূরত্ব – গল্প

মোবাইলের আর্তনাদে ঘুম ভাঙ্গে রিনির। নাহ, কল আসেনি। কিন্তু এরকমই তো হওয়ার কথা ছিল। স্বপ্ন থেকে বাস্তবে ফিরে আসে রিনি। সেলফোনটা হাতে নিয়ে তারিখ দেখল। আজকে ৬ ডিসেম্বর … এইতো কয়েক বছর আগেও এই দিনটার ইম্পরটেন্স ছিল অনেক। স্মরণীয় করে রাখতে দুজনের সে কি চেষ্টা। কিন্তু আজ সব বদলে গেছে। খুব অভিমান হয় রিনির। ডায়েরীর পাতা ছিডে লিখতে শুরু করে …


মোবাইলের আর্তনাদে ঘুম ভাঙ্গে রিনির। নাহ, কল আসেনি। কিন্তু এরকমই তো হওয়ার কথা ছিল। স্বপ্ন থেকে বাস্তবে ফিরে আসে রিনি। সেলফোনটা হাতে নিয়ে তারিখ দেখল। আজকে ৬ ডিসেম্বর … এইতো কয়েক বছর আগেও এই দিনটার ইম্পরটেন্স ছিল অনেক। স্মরণীয় করে রাখতে দুজনের সে কি চেষ্টা। কিন্তু আজ সব বদলে গেছে। খুব অভিমান হয় রিনির। ডায়েরীর পাতা ছিডে লিখতে শুরু করে …

রেহান,অনেক দিন কথা হয় না। কত দিন বলতে পারো? হিসেব করেছো ? মনে পড়েছে একবারের জন্যেও? জানি না পড়াটাই স্বাভাবিক, তার পরেও….আমি কিন্তু ভুলিনি একটি মুহূর্তের জন্যেও। তোমার বলতে হবে না, দাড়াও আমিই বলে দিচ্ছি, সাত মাস। মাস। সাতটি মাস কথা হয় না। এরকম যে আগেও হয়নি তা নয়, তবে আগের সব রেকর্ড ভেঙ্গে যাবে এইবার।খুব তো এখন একা থাকছো স্বার্থপরের মতোই… আমি জানি আমাকে তুমি অনেক বিশ্বাস করতে। বিশ্বাসের এতটা অমর্যাদা হয়তো তুমি আশা করনি। কয়েকদিন পরীক্ষার কারনে তোমার সাথে যোগাযোগ হয়নি। ওইদিন সন্ধ্যায় তোমার এসএমএস “I can’t see you to be someones else…” আমি বুঝতে পারিনি মাত্র কয়েকদিনেই আমি তোমাকে আমি এতোদূরে ঠেলে দিয়েছি। খুব রাগ হলো তাই রিপ্লাই দেইনি। তুমি বারবার কল করছিলে, পাশে মোবাইলের লাইট বারবার অন-অফ হচ্ছিল। কিন্তু তারপরও ফোন ধরিনি । বালিশ ভিজে যাচ্ছিল আমার।কাছের মানুষ থেকে এতোটা কষ্ট পাবো আমি ভাবিনি।

যখন তোমার কাছ থেকে কষ্ট পেতাম জানো খুব কষ্ট হতো। তাই কান্না চলে আসার আগেই ফোন রেখে দিতাম। হয়তো ঠিক হয়ে একটু পরই আবার কল দিতাম। আমার লুকোচুরি তুমি ঠিকই ধরে ফেলতে। বলতে, “আমার সামনে কাঁদতে কিসের লজ্জা?” হাঁ আমি এখন অনেক লজ্জাহীন হয়ে গেছি। জানো আমি এখন অনেক কাঁদি। কিন্তু আমাকে আর লুকোতে হয় না। কারন লুকোচুরি ধরে ফেলার মানুষটি আমি হারিয়ে ফেলেছি।

ভেবেছিলাম সব ঠিক হয়ে যাবে। কেন জানি হল না। ৩দিন পর তুমি ফোন দিলে।আমাকে কিছু বলতেই দিলে না। ফোন কাটার একে বারেই শেষ মুহুর্তে বলেছিলে, “অনেক বকেছি, ঝাড়ি দিয়েছি, আজকের পর আর ঝাড়ি শুনতে হবে না, আর তুমি ইচ্ছেমত এখন নিশোর সাথে কথা বলতে পারবা , কখনো ওয়েটিং এ থাকলে তোমাকে আর তোমাকে আর জবাবদিহিতা করতে হবে না। আমি জানতাম না আমার এসএমএসের রিপ্লাই দেয়ার সময় না থাকলেও নিশোর মোবাইলে শ’খানেক এসএমএস না দিলে তোমার ঘুম হতো না … আমারই দোষ রিনি।নিশো আমার ফ্রেন্ড এটা তোমাকে বলা হয়নি। তাহলে তুমি হয়তো আরও গুছিয়ে লুকাতে পারতে আমার কাছ থেকে। ভালো থেকো রিনি। হয়তো কখনো আর কথা হবে না কিন্তু আমি তোমাকে অনেক মিস করবো। আমার জায়গাটা সহজেই নিশো নিয়ে ফেলল but rini i promise no one could ever replace your place in my heart”

তোমার প্রতিটি কথায় আমার মাথার উপর যেন আকাশ ভেঙ্গে পডছিল। খুব কষ্ট হয়েছিল কান্না আটকাতে , পাশেই মা হাঁটাহাঁটি করছিল বলে পারিনি।এসে দেখলে জবাবদিহি করতে হবে তার পরেও পারলাম না চোখের পানি ধরে রাখতে, কান্না আটকাতে। পরেরদিন সকালে উঠে এসএমএস লিখলাম তোমাকে,কিন্তু তারপরেই মনে পডে রাতের ঘটনা। এসএমএসটা সেন্ড না করে ড্রাফটে রেখে দেই । এভাবে সারাদিন অসংখ্যবার তোমাকে কল করতে গিয়ে মোবাইল নাম্বারের সব কটি ডিজিট চাপার পরও গ্রিন বাটনে চাপ দিতে গিয়ে হাত সরিয়ে নিতে হয়েছিল “coz i just lost all the rightsto contact with you”

রেহান খালি চোখে তোমার সব অভিযোগে আমি দোষী। কিন্তু আমাকে নির্দোষ প্রমান করার সেই সময়টুকু আমাকে দাওনি। নিশোর মোবাইলে আমার মোবাইল থেকে যাওয়া শত শত এস এম এস/কল এসবই সত্যি !!

কিন্তু ওগুলো আমার পাঠানো ছিল না। তোমাকে বলেছিলাম লিয়ানার সেট চুরি হয়ে গেছে। ওর পরীক্ষা তাই বাসা থেকে নতুন সেট নিয়ে দেয়নি।তুমি শুনলে রাগ করবে এটা ভেবে বলা হয়নি ওই সময়টায় আমার মোবাইল থেকেই নিশোর সাথে কন্টাক্ট করতো লিয়ানা।

এসব এখন অর্থহীন।

বিধাতা হয়তো চায়নি তোমাকে আমি আগলে রাখি। কিন্তু আমার থেকে ছাডিয়ে নিয়ে তোমাকে এতদূর নিয়ে যাবে তা কখনো ভাবিনি। কতো রাত অভিশাপ দিয়েছি স্বার্থপরের মতো একা থাকছ ভেবে। ওইদিন নিতুর সাথে দেখা। তখন থেকে এখনো কাঁদছি।হয়তো ঝগড়াটা না করলে তোমাকে আমার হারাতে হতো না। আমার বাধা না শুনে এতো বড পাগলামি করতেও পারতে না।তোমার সাথে বাইকে একদিন গিয়েই সাধ মিটে গিয়েছিল আমার। বারবার না করতাম হাইওয়েতে এভাবে বাইক না চালাতে। আমার কোন বাধায় তুমি শুনলে না। বাইকের মায়া না ছাডতে গিয়ে আমার মায়া কাটিয়ে তুমি চলে গেছ না ফেরার দেশে………রেহান আমার অভিমান তো কতো আগেই ভেঙ্গে গেছে, কিন্তু তোমার অভিমান আমি এখন ভাঙবো কি করে?…

চিঠি অসমাপ্ত রয়ে যায়। অনেকগুল স্লিপিং পিল খেয়েছিল। ছোট ভাই দেখে ফেলে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনদিন কোমায় থাকার পর জ্ঞান ফিরে রিনির। মাত্রাতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খাওয়ায় ব্রেন সেলে ইফেক্ট হয়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে রিনি। স্মৃতি লোপ পায়। ভালই তো … রেহানের স্মৃতি নিয়ে মৃত আত্মা নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে রিনিকে হয়তো একটু শান্তিতে থাকতে দিতেই সৃষ্টিকর্তা আরেক চাল দিলেন ..

৫ thoughts on “দূরত্ব – গল্প

  1. ভালো লাগল।
    বেশ কিছু

    ভালো লাগল। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    বেশ কিছু বানান ভুল আছে। ঠিক করে দিয়েন।

  2. আইডিয়াটা চমৎকার। তবে গল্পের
    আইডিয়াটা চমৎকার। তবে গল্পের নামের বানানেই যখন ভুল থাকে তখন পাঠকের গল্পের প্রতি একটা ঋণাত্মক মনোভাব আপনা থেকেই সৃষ্টি হয়ে যায়। আশা করি ঠিক করে নেবেন…

    1. সব অভ্রের দোষ আর তাড়াহুড়া
      সব অভ্রের দোষ 😛 আর তাড়াহুড়া করে পোস্ট দিতে গিয়ে খেয়াল নেই। ধন্যবাদ ভাই। ঠিক করে নিচ্ছি

    2. সব অভ্রের দোষ আর তাড়াহুড়া
      সব অভ্রের দোষ আর তাড়াহুড়া করে পোস্ট দিতে গিয়ে খেয়াল নেই। ধন্যবাদ ভাই। ঠিক করে নিচ্ছি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *