নিরপেক্ষতার মানদন্ড

নিরপেক্ষতা আসলে কি?
নিরপেক্ষতা বা Neutralism কে রাজনৈতিক আদর্শের ক্ষেত্রে দল নিরপেক্ষ বা Nonalignment ও বলা যেতে পারে। শান্তিকালীন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে রাজনৈতিক বা আদর্শগত সম্মিলনে দল নিরপেক্ষ থেকে মতামত দেয়াকেই নিরপেক্ষতা বলে।

এদিকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি বা Neutral point of view (NPOV) হচ্ছে ‘কোন বিষয়ে বা নিবন্ধে বিষয়বস্তু সংক্রান্ত সমস্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ এবং সংখ্যালঘিষ্ঠ মতামতের যথাযথ ও পক্ষপাতহীন প্রতিফলন ঘটা’।


নিরপেক্ষতা আসলে কি?
নিরপেক্ষতা বা Neutralism কে রাজনৈতিক আদর্শের ক্ষেত্রে দল নিরপেক্ষ বা Nonalignment ও বলা যেতে পারে। শান্তিকালীন সময়ে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে রাজনৈতিক বা আদর্শগত সম্মিলনে দল নিরপেক্ষ থেকে মতামত দেয়াকেই নিরপেক্ষতা বলে।

এদিকে নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি বা Neutral point of view (NPOV) হচ্ছে ‘কোন বিষয়ে বা নিবন্ধে বিষয়বস্তু সংক্রান্ত সমস্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ এবং সংখ্যালঘিষ্ঠ মতামতের যথাযথ ও পক্ষপাতহীন প্রতিফলন ঘটা’।

এখন কোনটা কে নিরপেক্ষতা বলব? বিচারক নিরপেক্ষ থাকেন কিভাবে? আচ্ছা বিচারক কি খুনি বা বাদির প্রশ্নে নিরপেক্ষ থাকেন? নাকি বিচারক খুনি বের করেন? আমরা এইটা নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি বিচারক আসামি আসলেই খুনি কিনা তা যাচায় করেন সমস্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ এবং সংখ্যালঘিষ্ঠ মতামতের যথাযথ ও পক্ষপাতহীন প্রতিফলনের ভিত্তিতে। অর্থাৎ নিরপেক্ষতা বলতে বুঝায় সত্যের পক্ষে থাকাকে।

এক কথায় ‘সত্যানুসন্ধানে কোন দল বা গোষ্ঠীর পক্ষপাতদুষ্ট না থেকে সত্য প্রতিষ্ঠিত করায় নিরপেক্ষতা।’ অর্থাৎ ‘সত্যই সুন্দর আর সত্যই নিরপেক্ষ’।

প্রসঙ্গত ২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট দেওয়া হাইকোর্টের এক রায়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত খন্দকার মোশতাক আহমদ, আবু সা’দাত মোহাম্মদ সায়েম ও জিয়াউর রহমানের শাসনকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়।। ফলে মোশতাক, সায়েম ও জিয়ার ক্ষমতাকে সংবিধানের যে সংশোধনীর মাধ্যমে বৈধতা দেয়া হয় তা অবৈধ হয়ে যায়। রায়ের পরপরই সেই রাতেই বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার চেম্বার বিচারপতির আদালতে হাইকোর্টের রায় স্থগিতের আবেদন জানালে তা স্থগিত হয়ে যায়। এইখানে আদালত নিরপেক্ষ সত্য প্রকাশে রায় দিয়েছে আর দলীয় সরকার তার দলের সুনাম রক্ষার্থে বাধা দিছে।

একটা ছোট উদাহরণ দেইঃ একদল ডাকাত পরেছে পাশের বাড়ির করিম সাহেবের ঘরে। এখন তার প্রতিবেশীরা কি করবে? নিরপেক্ষতার ওজুহাতে বসে থাকবে? আমাদের সমাজে কি হবে এক দল ভয়ে দরজা বন্ধ করে কাঁপতে থাকবে, একদল পুলিশ এ ফোন করবে, একদল নিজেরাই আক্রান্তকে সাহায্য করতে যাবে আর হয়ত একদল আক্রান্তের সাথে পূর্বশত্রুতার জের ধরে তালি বাজাবে। এখন পাঠকই বের করে নিন কে নিরপেক্ষ আর এইখানে নিরপেক্ষতা কোনটা?

অথচ এদিকে আমাদের গনমাধ্যমের (Electronic/ Press) মধ্যে নিরপেক্ষতা নিয়ে একটা বিব্রান্তি আছে। তারা মনেহয় ভাবে নিজেদের নিরপেক্ষ প্রমানে প্রয়োজনে সত্য মিথ্যার মাঝ খানে থাকাও জরুরী। সত্য প্রকাশ করলে যদি একদলের সমর্থক পাঠক বা শ্রোতা অথবা দর্শক হারায় তাই তারা এমন সত্য-মিথ্যার মধ্যস্থতা করে বলে দৃশ্যত মনে হয়। আসলে কিন্তু বেপারটা তা হওয়া উচিৎ না কেননা কোন সত্য প্রকাশ যদি কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষেও যায় বা কারো বিপক্ষেও যায় তবে তা প্রচারে বা প্রকাশে বিরত থাকাই বরং বস্তুনিষ্ঠ আর নিরপেক্ষ সংবাদ মাধ্যমের আচরনবিধির পরিপন্থী।

কোন রাজনৈতিক দল রাজাকারদের দেশে এনে নাগরিকত্ব দিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়ে জাতিকে ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে বা কীভাবে গোটা ১ প্রজন্ম কে মিথ্যা বলছে আর ১/২ প্রজন্ম কে Confused করছে আর আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে দূষিত করেছে এইসব প্রকাশ করাই নিরপেক্ষতা। অন্যদিকে নিজেদের কাটতি ধরে রাখার জন্যে এইসব না বলাটাই স্বেচ্ছাচারিতা বা হঠকারিতা। যেমন আমি বলব এর জন্যে ঐ ২ সামরিক জান্তার বিচার হাওয়া উচিৎ আর এ জন্যে ২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট দেওয়া হাইকোর্টের এক রায়তো আছেই। এদেরকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংসের দায়ে অভিযুক্ত করাও দরকার। কারন এই বাংলাদেশের একটাই সত্য তা হল ১৯৭১ আর ১৯৭১ এর চেতনা তদুপরি ১৯৭২ এর সংবিধান। মাকসুদের গানের কথাই বললে সে ২ যুগ (২ দশক ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬= ২১ বছর) এই বাংলা আগুনে পুরেছিলো তখনই মুল সর্বনাশটা হয়।

এই অন্ধকার যুগের পর আমাদের জন সাধারণের মানসিক নিরপেক্ষতা আর বিবেকবোধের অবস্থা দেখুন। শিল্পীদের থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যম সবাই সত্য-মিথ্যার মাঝখানে থেকে কথা বলতে বলতে জাতির জনক আর স্বাধীন বাংলাদেশের রাজাকারের জনককে এক করে নিজেদের নিরপেক্ষ প্রমান করছেন।

যে অন্ধকার যুগের পর জেমস বা Stoic Bliss এর মত গায়কের বা ব্যান্ড দলের গানের কথা কেমন হয়েছে দেখিঃ

“…তুমি বঙ্গবন্ধুর রক্তে আগুন জালা-জ্বালাময়ি সে ভাষন..
তুমি ধানের শিশে মিশে থাকা শহিদ জিয়ার স্বপন….”

[জেমস]
বা,

“..Military Legends Zia one of a kind.”

[Stoic Bliss -Bangladesh]

এই সবই কি আমাদের so-called নিরপেক্ষতা লেভাজ? এই গান গুলোর রেফারেন্স দিলাম এই কারনে যে, আমাদের শিল্পিরা ও নিজেদের নিরপেক্ষ প্রমান করার প্রয়াসে বা কাটতি ধরে রাখতে চেয়েছেন সত্য-মিথ্যা ন্যায়-অন্যায়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে। সত্য বলতে যদি শিল্পীরা ভীত থাকে নিজেদের নিরপেক্ষতা আর গ্রহণযোগ্যতা হারানোর ভয়ে তবে আতঙ্কিত হওয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না সত্যানুসন্ধানি মানুষের। নিজেদের তথাকথিত নিরপেক্ষ রাখতে গিয়ে সত্যের সাথে কম্প্রোমাইজ করলে দেশের ক্ষতি ছাড়া লাভ কখনই হবে না। আর তাই সংবাদমাধ্যম, দায়িত্ববান শিল্পী ও সকল সোশ্যাল মিডিয়াকে মনে রাখতে হবে ‘স্বাধীনতাই হচ্ছে মঙ্গলময় রাজনীতির মর্মকথা আর সত্যের প্রকাশ ছাড়া মঙ্গলময় রাজনীতির চিন্তা বাতুলতা’।

সরাসরি রাজনীতির কথায় আসলে বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি ধারন করে না এমন কোন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন পেতে পারে না। গনতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতিয়তাবাদ, ও ধর্মনিরপেক্ষতা এই ৪ মূলনীতি কোন রাজনৈতিক দল ধারন না করলে সে বাংলাদেশে রাজনীতি করতে পারবে না। কারন তা হলে আমাদের সংবিধানের সাথে ঐ সংগঠনের সংবিধান সাংঘর্ষিক হয়ে যাবে যা আইনত বেআইনি। এইসব সত্য প্রকাশের বাধা হতে পারেনা কোন নিরপেক্ষতার ওজুহাত। তাই সকল সংবাদমাধ্যমকে নিরপেক্ষতার মানদণ্ড বলে সত্যকে নির্ধারণ করতে হবে এবং জাতিকে সকল বিষয়ে সত্য জানাতে হবে যা যেকোন সময় যে কোন দলের পক্ষে যেতে পারে তা সংবাদমাধ্যমের ভাবার বা দেখার বিষয় না। আর তাই নিরপেক্ষতার মানদণ্ড হবে নির্ভীক চিত্তে বস্তুনিষ্ঠ সত্য প্রকাশ যা স্বাধীন সমাজ ব্যাবস্থা আর মঙ্গলময় রাজনীতি গড়ে তুলবে।

তথাকথিত নিরপেক্ষতা নয় বস্তুনিষ্ঠ ও সত্যনিষ্ঠ নিরপেক্ষতার জয় হোক…

১১ thoughts on “নিরপেক্ষতার মানদন্ড

  1. নিরপেক্ষতা মানে আমার কাছে
    নিরপেক্ষতা মানে আমার কাছে সম্ভাব্যতার সকল দুয়ারকে সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা। উচিত পক্ষ নেয়া বলতে বুঝি সবভাব্যতার যেকোন একটা দুয়ারকে গমন করার জন্য বাছাই করা প্রত্যেকটা দুয়ারের তুলনামূলক পার্থক্যের মাধ্যমে।

    আপনি ভাল লিখেছেন।

    1. আপনি অতি সঠিকভাবেই
      আপনি অতি সঠিকভাবেই ধরেছেন…
      ‘সম্ভাব্যতার সকল দুয়ারকে সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখাটাই নিরপেক্ষতা’ কোন সন্দেহ নাই!
      আর যখন সম্ভাব্যতার সকল দুয়ারের মাঝে ন্যায়-অন্যায়, সত্য-মিথ্যার দুয়ার বিদ্যমান তখন নিরপেক্ষতা অবশ্যই ন্যায় আর সত্যের পক্ষ নিবে, আমি এইটাই বলতে চাইছিলাম…
      ধন্যবাদ, নিরপেক্ষতা কে আর সুন্দর করে বিশ্লেষণ করার জন্যে…

    1. কেননা কোন ব্যাক্তি সন্ত্রাস
      কেননা কোন ব্যাক্তি সন্ত্রাস দ্বারা আক্রান্ত হলে যদি অন্য ব্যক্তি নিরপেক্ষতার দোহায় দিয়ে নিশ্চুপ থাকে তবে তার শাস্তিই হওয়া উচিৎ…
      আমাদের সত্য-আর-ন্যায়ের প্রশ্নে নিরপেক্ষ হওয়ার কোন সুযোগ নেই। এক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা হচ্ছে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকা! আমাদের সমাজ ও রাজনীতি আজ মিথ্যা ও অন্যায় দ্বারা আক্রান্ত তাই আর তথাকথিত নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ নাই…
      ধন্যবাদ সুন্দর একটি উদ্ধৃতি দেয়ার জন্যে… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

    1. আমি সত্য আর ন্যায় দ্বারা
      আমি সত্য আর ন্যায় দ্বারা বায়াসড… কোন সমস্যা?
      এইটাই চাই আমরা! মানবতা দ্বারা বায়াসড হউন…
      মানুষত্বের জন্যে আমি পক্ষপাতদুষ্ট হতে চাই নিঃশঙ্ক চিত্তে!

  2. নিরপেক্ষ মানেই মৌন ভাবে কোন
    নিরপেক্ষ মানেই মৌন ভাবে কোন পক্ষ সমর্থন করা। যখনই সেটা প্রকাশের মতো যোগ্যতা রাখে না তখনই মানুষ নিরপেক্ষতার মুখোশ পরে।

    জেমসের এই গানটি ভীষণ প্রিয়। কিন্তু যখনই ওই লাইনটি আসে কান থেকে হেডফোন খুলে ফেলি।
    জিয়া আর বঙ্গবন্ধু কখনই কোন অবস্থায় এক হতে পারে না।

    1. এই কাজটা জেমস করছে নিজের
      এই কাজটা জেমস করছে নিজের কাটতি ধরে রাখার জন্যে…
      এইটা বিবেকের সাথে সুস্পষ্ট হঠকারিতা!!
      আমি কখনই এইটা স্বাভাবিকভাবে মানতে পারি নাই।

  3. একদল ডাকাত পরেছে পাশের বাড়ির

    একদল ডাকাত পরেছে পাশের বাড়ির করিম সাহেবের ঘরে। এখন তার প্রতিবেশীরা কি করবে? নিরপেক্ষতার ওজুহাতে বসে থাকবে? আমাদের সমাজে কি হবে এক দল ভয়ে দরজা বন্ধ করে কাঁপতে থাকবে, একদল পুলিশ এ ফোন করবে, একদল নিজেরাই আক্রান্তকে সাহায্য করতে যাবে আর হয়ত একদল আক্রান্তের সাথে পূর্বশত্রুতার জের ধরে তালি বাজাবে। এখন পাঠকই বের করে নিন কে নিরপেক্ষ আর এইখানে নিরপেক্ষতা কোনটা?

  4. “”তারা মনেহয় ভাবে নিজেদের
    “”তারা মনেহয় ভাবে নিজেদের নিরপেক্ষ
    প্রমানে প্রয়োজনে সত্য মিথ্যার মাঝ
    খানে থাকাও জরুরী। “” এমনটা হামেশাই পরিলক্ষিত।
    জিয়া ডাকাতের মতই ক্ষমতায় এসেছিল, এবং এটা মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তি সময়ের ন্যাক্কার জনক ইতিহাস। অবশ্যই তা আমি জানি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কে কেন এমন নবী-উবির মত সব সময় তুলে ধরতে হবে যে তার কোন ভুল থাকতে পারে না। ৭০এর নির্বাচনের আগে কি উনি স্বাধীনতা চেয়েছিলেন নাকি কনফেডারেশান চেয়েছিলেন? নাকি আপনি শুধু ৭ই মার্চের ভাষন দিয়েই বঙ্গবন্ধু কে বিচার করবেন।
    আর বর্তমানে(সকল সংসধনির পর) সংবিধানে আপনি ধর্ম নিরপেক্ষতা কই দেখলেন?
    ন্যায় বলতে নিশ্চই ইসলাম ও আওয়ামিলীগ ই বুঝায় না?

    আপনার লেখাটা ভাল হয়েছে।

    1. ১) দেখেন শেরেবাংলা,
      ১) দেখেন শেরেবাংলা, সহারাওয়ারদি, ভাসানি সবার হাত ধরেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্ভব ছিল। তাঁদের অদূরদর্শিতায় তাঁদের ব্যর্থ করেছে। যাহোক বঙ্গবন্ধু বাংলার এক অবিসংবাদিত নেতা এমন অনেক অনেক বিশেষণে বিশেষায়িত করে লিখা দীর্ঘায়িত করব না। বিশ্বের (জর্জ ওয়াশিংটন বা মহাত্মা গান্ধী এমন অনেকে আছেন…) বেশীরভাগ দেশে যেমন একজন নেতা থাকে জাতির প্রেরণার জন্যে বঙ্গবন্ধু আমাদের সেই নেতা। প্রত্যেক পুত্রই যেমন তার বাবার কিছু দোষ বা ব্যর্থতা চেপে যায় তেমনি তাঁর কিছু ছোট দুর্বলতা আমি নিজ দোষে(গুনে) এড়িয়ে যাব…
      ২) যা বলছিলাম আগের তিন জন যেমন ধর্ম-মন্ত্রিত্ব বা দল এমন কিছুর জন্যে মূল দাবী আদায়ে ব্যর্থ হয়েছেন তেমনি বঙ্গবন্ধু হননি!! আপনি আসলে বিশ্বের স্বাধিকার আন্দোলনের ধারাটি ধরতে পারেন নি। কনফেডারেশান চাওয়াটা ছিল রাজনৈতিক… কেননা এই দাবী স্বভাবগত ভাবেই পাকিস্থানিরা প্রত্যাখ্যান করবে তা আমাদের সবার জানা ছিল। আর তখনই সারা বিশ্বে আমাদের স্বাধীনতার বিষয়টি চিন্তা করবে!! এই ব্যাপারে আর সময় নিয়ে বুঝানো দরকার…
      ৩) আজো আব্রাহাম লিঙ্কনকে শুধু ঐ এক GETTYSBURG স্পীচ দিয়েই বিশ্ব চিনে। আর বঙ্গবন্ধু আমাদের জন্যে তাঁর থেকেও বেশী কিছু কারণ তিনিই আমাদের জর্জ ওয়াশিংটন-আবার তিনিই আব্রাহাম লিঙ্কন…আর খুঁজলে লিঙ্কন-ওয়াশিংটনেরও ব্যর্থতা খুজে পাবেন। আমি বলতে চাইছি বঙ্গবন্ধু ছাড়া আমাদের স্বাধীনতা সম্ভব ছিল না। তাঁর প্রমান ৭ মার্চ এর ভাষণের পর ৯ মার্চ ভাসানি বলেছিলেন মুজিবের হাত ধরেই বাংলাদেশ স্বাধীন হবে।

      আর আওয়ামীলীগের প্রশ্ন এইখানে আসছে কেন? আজকের রাজনৈতিক দলগুলোর স্বরূপ আমাদের এই প্রজন্মের সবাই সমান জানে… (দলীয় কর্মীরা ছাড়া) আশা করি বুঝাইতে পারছি। আমাদের অনেকের আবার সমস্যা কি জানেন? আমাদের অন্য কেউ বুঝাবে এইটা আমরা মানতে পারি না!! ভাল থাকবেন!! সুন্দর একটা রিভিউ দেয়ার জন্যে ধন্যবাদ…
      মনেহয় লিখাটা আরও মজবুত হল আপনার প্রশ্নে!!! :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *