বিশ্বাসের ভাইরাস – পর্ব চার! মালাকুলমউত অথবা আজরাঈল নামক চরিত্রের সত্যতা কতটুকু?


আজরাঈল সম্পর্কে কয়েকদিন আগে আমি অনলাইন নিউজের একটা লেখা পড়েছিলাম। লেখাটাতে বলা হয়েছে মৃত্যুর অল্প কিছুক্ষণ আগে সাধারণত মানুষের কাছে চারজন ফেরেস্তা উপস্থিত হয়। এবং তারা মৃত্যু পথযাত্রী ব্যক্তিকে চারটা কথা বলেই বিদায় নিয়ে চলে যায়। এরপর আজরাঈল এসে তার ভয়ংকর রূপ দেখিয়ে দেয়, এবং রুহ কবজ করে নিয়ে যায়।
——————————————
নিউজের লেখাটা একটু পড়ে দেখুন!!

আজরাঈল (আ) আসার পূর্বে মৃত্যু পথযাত্রীকে ৪ ফেরেশতা যা বলে যান !!
কুল্লু নাফসিন জায়িকাতুল মাউন’ অর্থ্যাৎ প্রতিটি প্রাণীকেই একদিন মৃত্যুর শরাপ পান করতে হবে। তবে প্রতিটি মানুষের জীবনের অন্তিম মুহুর্তে আজরাঈল (আ) জান কাবুজ করতে আসার আগেই ফেরেশতারা ওই মৃত্যু পথযাত্রীর আশে পাশে ঘোরাফেরা করার পাশাপাশি কিছু বার্তা দিয়ে যায়।
হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে, যখন মানুষের অন্তিমকাল উপস্থিত হয় এবং রূহ বের হবার সময় ঘনিয়ে আসে, তখন চারজন ফেরেশতা তার কাছে উপস্থিত হয়। সর্বপ্রথম এক ফেরেশতা উপস্থিত হয়ে বলবেন “আসসালামু আলাইকুম” হে অমুক!
আমি তোমার খাদ্য সংস্থানের কাজে নিযুক্ত ছিলাম। কিন্তু এখন পৃথিবীর পূর্ব থেক পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত অন্বেষণ করেও তোমার জন্য এক দানা খাদ্য সংগ্রহ করতে পারলাম না। সুতরাং বুঝলাম তোমার মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে হয়ত এখনই তোমাকে মরণ সুধা পান করতে হবে। পৃথিবীতে তুমি আর বেশীক্ষণ থাকবে না।
অত:পর দ্বিতীয় ফেরেশতা এসে সালাম করে বলবেন হে আল্লাহর বান্দা! আমি তোমার পানীয় সরবরাহের জন্য নিযুক্ত ছিলাম, কিন্তু এখন তোমার জন্য পৃথিবীর সবৃত্র অন্বেষণ করেও এক ফোঁটা পানি সংগ্রহ করতে পারলাম না। সুতরাং আমি বিদায় হলাম।
অত:পর তৃতীয় ফেরেশতা এসে সালাম করে বলবেন হে আল্লাহর বান্দা! আমি তোমার পদযুগলের তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত ছিলাম, কিন্তু পৃথিবীর সর্বত্র ঘুরেও তোমার জন্য একটি মাত্র পদক্ষেপের স্থান পেলাম না। সুতরাং আমি বিদায় নিচ্ছি।
চতুর্থ ফেরেশতা এসে সালাম করে বলবেন হে আল্লাহ বান্দা! আমি তোমার শ্বাস-প্রস্বাস চালু রাখার কাজে নিযুক্ত ছিলাম। কিন্তু আজ পৃথিবীর এমন কোন জায়গা খুঁজে পেলাম না যেখানে গিয়ে তুমি মাত্র এক পলকের জন্য শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করতে পার। সুতরাং আমি বিদায় নিচ্ছি।
অত:পর কেরামান কাতেবীন ফেরশতাদ্বয় এসে সালাম করে বলবেন, হে আল্লাহর বান্দা! আমরা তোমার পাপ-পূণ্য লেখার কাজে নিযুক্ত ছিলাম। কিন্তু এখন দুনিয়ার সব জায়গা সন্ধান করেও আর কোন পাপ-পূণ্য খুঁজে পেলাম না। সুতরাং আমরা বিদায় নিচ্ছি।
এই বলে তারা এক টুকরা কালো লিপি বের করে দিয়ে বলবেন হে আল্লাহর বান্দা! এর দিকে লক্ষ্য কর। সে দিকে লক্ষ্য করামাত্র তার সর্বাঙ্গে ঘর্মস্রোত প্রবাহিত হবে এবং কেউ যেন ঐ লিপি পড়তে না পারে এজন্য সে ডানে বামে বার বার দেখতে থাকবে। অত:পর কেরাম কাতেবীন প্রস্থান করবে ।তখনই মালাকুল মউত তার ডান পাশে রহমতের ফেরেশতা এবং বাম পাশে আযাবের ফেরেশতা নিয়ে আগমন করবেন।
তাদের মধ্যে কেউ আত্মাকে খুব জোরে টানাটানি করবেন, আবার কেউ অতি শান্তির সাথে আত্মা বের করে আনবেন। কন্ঠ পর্যন্ত আত্মা পৌঁছলে স্বয়ং যমদূত তা কবজ করবেন। এবং এরই মাধ্যমে একজন মানুষের জীবন অবসান ঘটবে। পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে সে চলে যাবে অনন্ত কালের দুনিয়ায়। সেখানে পৃথিবীর রাজা-বাদশা কিংবা মাস্তান বা সুন্দরী কেউ আর ক্ষমতা দেখাতে পারবে না। তাই আসুন আমরা কবরে যাওয়ার আগে দুনিয়াতে কিছু পূণ্য করে যায়।
——————————————————————-
লেখাটা পড়ার পরে অনেকক্ষণ আমি হাসি থামাতে পারিনি!!

এখন আমার প্রশ্ন হলো, আজরাঈল কি? আজরাঈল কোথায় থাকেন? আজরাইলের আকৃতি দেখতে কেমন? আজরাঈল কি একজন ব্যক্তির নাম, নাকি একাধিক ব্যক্তিকে আজরাঈল নামে ডাকা হয়?

এইবার খুব সূক্ষ্মভাবে লেখাটা খেয়াল করুন!

পৃথিবীতে দৈনিক এক লক্ষ ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়! সেই হিসেবে ঘন্টায় ছয় হাজার দুইশত পঞ্চাশ জন, এবং মিনিটে ১০৪ জন মানুষের মৃত্যু হয়।

এবার মূল আলোচনায় আসা যাক। এই হিসেবে আজরাঈল নামক বস্তুটির ক্ষমতা কতটুকু হতে পারে? পৃথিবীর এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে হলে আজরাঈল নামক কল্পিত বস্তুটির কতক্ষন সময় লাগতে পারে?

আপনাদেরকে একটা সহজ উদাহরণ দেখাই। আমেরিকান যুদ্ধ বিমান যখন জাপানের হিরোশিমায় পারমানবিক হামলা চালিয়ে কয়েক মিনিটের মধ্যে ৭০ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে তখন আজরাঈল নামক কাল্পনিক চরিত্রটি কোথায় ছিলো? যখন বিভিন্ন দুর্ঘটনায় এক সাথে হাজার হাজার মানুষ মারা যায় তখন এই কাল্পনিক চরিত্রটি কোথায় থাকে?

ধার্মিকদের কাছে এই বিষয়ের সঠিক উত্তর নেই। তার পরেও গোঁজামিল দিয়ে এখন ধার্মিকরা বলবে এটা আল্লাহর কুদরত। কারন আপনাদের ধর্ম আপনাদেরকে সেই ভাবেই তৈরী করেছে। আর সেই বিশ্বাস থেকে আপনারা বেরহতে পারতেছেন না।

এইবার আমি বলি আমার মৃত্যু কিভাবে হবে।

যখন আমার শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তার কর্মক্ষমতা বন্ধ করে দেবে, ঠিক তখনই আমার মৃত্যু হবে। আমার মৃত্যু অসুস্থতার কারণে হতে পারে,অথবা যেকোনো প্রকার দুর্ঘটনায়ও হতে পারে। যেমন রোড এক্সিডেন্টে হতে পারে, পানিতে ডুবে হতে পারে, আগুনে পুড়ে হতে পারে, অথবা কোন জঙ্গীর চাপাতির কোপেও হতে পারে। এটা নিয়ে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই।

আমার এই বিষয়টা নিয়ে লেখার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে। নাস্তিকদেরকে অনেক মুমিন মুসলমানরাই এই ভয়টা দেখায় এবং এই বিষয়ে প্রশ্ন তুলে। অনেকেই বলে, আজরাইল সামনে আসলে বুঝতে পারবা, ধর্মের প্রয়োজনীয়তা আছে না নেই।

ওহে মমিন মুসলমান আপনাদের উদ্দেশ্যেই আমি বলতেছি। এই সামান্য বিষয়টা নিয়ে নাস্তিকদের ভালোভাবে ধারণা আছে। আজরাইল জিব্রাইল মিকাইল। নাস্তিকরা এগুলোকে এখন ফান হিসেবে দেখে।

কিন্তু ধার্মিকরা মুসলমানরা এক ভয়ংকর রকম অন্ধবিশ্বাসের মধ্যে বসবাস করতেছে। বাস্তবতার থেকে তারা অনেকটাই পিছিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *