আমাদের চিন্তা চেতনায় বেচে থাকবে মুক্তমনা লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়


অভিজিৎ রায় হত্যায় সরাসরি অংশগ্রহণকারী আরাফাত গ্রেফতার হওয়াতে কিছুটা আশার আলো হয়তো দেখা যাচ্ছে কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে এই বিচার আলোর মুখ দেখতে পাবে তো? ধর্মান্ধদের উন্মাদনায় মুক্তমনাদের প্রাণ চলে যাচ্ছে চাপাতির আঘাতে কথাটা অপ্রিয় হলেও সত্য, বাংলাদেশের মোডারেট মুসলমান সম্প্রদায়ের মুখে মুখে একটু স্বস্তির বাণী প্রকাশিত হলেও কথার শেষে মুক্তমনাদের লেখা নিয়ে একটা কিন্তু যেন থেকেই যায় যে কথাটা তারা নির্ভয়ে প্রকাশ করতে নারাজ, বাংলাদেশে সব ধর্ম পালন করার স্বাধীনতা ঠিক আছে তবে মুসলমান ধর্মটাই রাষ্ট্র ধর্ম হিসাবে সংবিধানে ঠিকই আছে এটাই যেন তাদের অন্তরের বক্তব্য। রাষ্ট্র ধর্ম সংবিধানে কেন ঠিক আছে? রাষ্ট্রের কোন ধর্ম থাকে কি না? যাদের কোন ধর্ম নেই তাদের অবস্থান রাষ্ট্রে কি হবে ? এই বিষয়গুলো বাংলাদেশের মোডারেট মুসলমানদের কাছে খুবই অপ্রিয় বা এসব নিয়ে প্রশ্ন করা যাবেনা কিন্তু তাদেরকে বাংলাদেশের মোডারেট মুসলমান হিসাবে আখ্যায়িত করলে বরং খুশিই হবেন।

মিসরে মসজিদে জঙ্গিদের বোমা বিস্ফোরণ ও গুলিতে কমপক্ষে ২৫০ জন নিহত, কারণ ঐ একটাই মুসলমানদের গোত্রীয় সংঘাত, বাংলাদেশের মোডারেট মুসলমানদের এ বিষয় খুব একটা কিছু বলার না থাকলেও তাদের কারণেই আজ নিরক্ষর রস রাজ আর টিটু রায়রা মিথ্যে অভিযোগে জেলের ঘানি টেনে বেড়ায়, সেই দেশের নামই বাংলাদেশ, মুসলমানদের ধর্মীয় উন্মাদনার নির্যাতনের আড়ালে সংখ্যালঘু হিন্দু খ্রিস্টান বৌদ্ধ সবাই আজ নিজ মাতৃভূমিতেই কাটাবে বিনিদ্র রজনী, জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে তাদের বসতবাড়ি, ভিটে মাটি, লুট হয়ে যাচ্ছে তাদের জায়গা জমি আর গবাদি পশু, এক কাপড়ে দেশে ছেড়ে চলে গেল নাসির নগরের কিছু হিন্দু পরিবার, তারপরও ধর্মান্ধ মুসলমানদের সাম্প্রদায়িক উন্মাদনার শেষ নেই, পুলিশের উপস্থিতিতেই আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হল গোবিন্দগঞ্জের সাঁওতালদের বাড়িঘর, গাছের নীচে রাতে ক্ষুদার্থ সাঁওতালদের পড়ে থাকা লাশের সৎকার করার জন্যে খুঁজে পাওয়া গেলনা একটি মাত্র পুরুষ। বিচার হলো না কক্সবাজারের রামুতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক তাণ্ডবের, যশোরের অভয়নগরের তাণ্ডব আজ সময়ের অন্তরালে হারিয়ে যায়। ধর্ষণ উৎসবের এক আনন্দ নগরীতে মানুষ হয়ে বেঁচে থাকা কিছু নর পশু পাঁচ বছরের শিশুকেও ছুড়ে দিচ্ছে নরকের জ্বলন্ত আগুনে , এর নাম কি স্বাধীনতা ? তারপরও বলতে হয় এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবো নাকো তুমি, সকল দেশের সেরা সে যে ….. । আজ দেশ রাজনীতিবিদরা কি ভাবে মদিনা সনদের আলোকে দেশকে পরিচালিত করবেন তারই ফাঁক ফোকর খুঁজতে খুবই ব্যস্ততায় কাজ করে যাচ্ছেন, ওপর দিকে মদিনা সনদের লাইসেন্স ধারীরা মদিনার মসজিদ নব্বইতে নাস্তিক ইহুদী নাসর ব্লগারদের জন্যে প্রবেশাধিকার দিচ্ছেন।

আলোকিত তরুণ প্রজন্মের জন্যে জন্ম নিয়েছিলো এক বাঙালী যুবক অভিজিৎ রায়, লেখনীতে ছিল বিচিত্র, বৈশ্বিক ও দেশিক রাজনৈতিক, সামাজিক, ও বৈজ্ঞানিক বিষয়ে তাঁর বিশ্লেষণাত্মক মূলক লেখাগুলো বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ, তাঁর লেখায় ছিল গভীরতা যার চিন্তা চেতনায় নতুন আশার বাণী ছড়িয়ে পরার আগেই চাপাতির ধারালো আঘাতে লুটিয়ে পড়েছিলেন বাংলা একাডেমীর পাশের রাস্তায় তাঁর নিথর দেহ। ধর্মান্ধরা বিজয়ের উল্লাস করে বুকের ছাতা ফুলিয়ে আনন্দ করেছিল এই বাংলার পথে প্রান্তরে, কেউ কেউ এও বলেছিল একজন নাস্তিকের উপযুক্ত শাস্তি। আমাদের কি আজও লজ্জা হবে না?

মুক্তমনা লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার আসামি আরফাত ও তাদের গংদের প্রকৃত বিচার না হলে আস্তে আস্তে ধর্মীয় কুসংস্কারের গহীনে হারিয়ে যাবে একটি মুক্তধারা ও মুক্ত চিন্তার প্রগতিশীল সমাজ।
আমাদের চিন্তা চেতনায় চিরদিন বেচে থাকবে মুক্তমনা লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়।

— মাহবুব আরিফ কিন্তু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *