একাল সেকাল

১। সভ্যতার আধুনিকতা মননে না পৌছালেও ইট কাঠ সুড়কির অবকাঠামোয় বাংলাদেশে পরশ বুলিয়েছে নব্বই দশকের শুরুতে। পাশ্চাত্যের অহংকারের বেশির ভাগই এদেশের মানুষ উপভোগ করছে গ্লোবালাইজেশনের বরাতে। কিন্তু সমস্যা হলো সভ্যতার আর্শীবাদের তুলনায় অভিশাপগুলোই এদেশ আয়ত্ত করেছে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। বিঞ্জানের আবিষ্কারগুলো বিভিন্ন জাতি উত্‍কর্ষের জন্য ব্যবহার করলেও অপব্যবহারের মাত্রা দুর্ভাগ্যবশতঃ এদেশেই বেশি। পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও সুবিধাবাদ এদেশের সমাজ ব্যবস্হায় একধরনের ভোগবাদিতা তৈরি করেছে। ফলতঃ নিজেকে নিয়ে বাঁচার তত্ত্ব দিয়ে মানুষকে অন্তমূখী করা হয়েছে, একমুখী পরিবারের কথা বলে সমাজ ছিন্ন ভিন্ন করা হয়েছে, রাজনৈতিক মতাদর্শের কথা বলে বিভাজন পৌছে দেওয়া হয়েছে শোবার ঘরে! সর্বোপরি একধরনের বিকারগ্রস্থ প্রজন্ম পোষা হয়েছে যারা ভয়ংকর রকমের অমানবিক। শিক্ষিত হবার কথা বলে পারিবারিক সৌহাদ্য নষ্ট করার সাথে সাথে এই প্রজন্ম পাড়া মহল্লা বা সমাজের মুরুব্বিপনা এড়িয়ে যাচ্ছে যখন তখন। সমাজের এই অস্থিরতা সবার প্রতি সবার শ্রদ্ধা, সম্মানবোধ ও আন্তরিকতার ভীত নাড়িয়ে দিয়েছে। সন্ত্রাস সংঘাত মরন কিছুই মানুষকে স্পর্শ করেনা মতবাদের বাইরে। মরনে উল্লাস, সংঘাতে নিরবতা, সন্ত্রাসে পক্ষপাত এই সমাজের প্রত্যেকটি মানুষকে (ব্যতিক্রম সহ) যান্ত্রিক অমানুষে পরিনত করেছে।
২। একটা সময় এদেশে শিক্ষিত মানুষ (আক্ষরিক অর্থে) কম থাকলেও স্বশিক্ষিত মানুষ ছিলো হাজারে হাজার। বিশুদ্ধ ও পরিশালিত সামাজিক আবহে নিষ্পাপ, সরল মানুষের আধিক্য ছিল যত্রতত্র। নৈতিকতা, মানবিকতা এদের রক্তে প্রবাহমান ছিলো জাত-পাত ভুলে। ভাল মন্দ, ঠিক বেঠিক, সাদা কালো বোঝার জন্য মানুষের বিবেকই যথেষ্ট ছিলো। নানান সীমাবদ্ধতার ভেতরেও সেই মানুষ, সেই সমাজ কাঠামোই অনেক মানবিক ছিলো। সেই সমাজ সভ্যতার উত্তরাধিকার হিসেবে নানান অবকাঠামোগত সুবিধা নিয়ে বেড়ে উঠায় বর্তমান সমাজের মানবিক হওয়ার কথা হাজার গুন। কিন্তু বাস্তব বলে ভিন্ন কথা! শুধুমাত্র আক্ষরিক শিক্ষার হার ছাড়া সবকিছুতেই আমরা যোজন যোজন দূরে! এত স্কুল কলেজ মাদ্রাসা বিশ্ববিদ্যালয় তবুও মাটির মানুষ নাই!
৩। এখন চারিদিকে প্রতিহিংসার রাজত্ব চলছে ! দেখে নেবো এবং দেখিয়ে দেবো তেই বুদ হয়ে আছে রাজনীতি । সামাজিকতা লৌকিকতার ধার ধারেনা কেউ আর । উদ্বিগ্ন অসহায় জীবন যাপন করছে সকলে। ক্ষমতায় থাকা না থাকা, দাবী মানা না মানাকে কেন্দ্র করে সহিংস আচরনের চরমে সবাই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী দমনে, সরকার পীড়নে, বিরোধী দল পতনে, জামাত শিবির খতমে ব্যস্ত। পারস্পরিক আন্তরিকতা,সৌহাদ্য, ভালোবাসা যাদুঘরে যাওয়ার পথে। মানুষ একে অপরকে হুমকি দিচ্ছে, আক্রমন করছে, ঝাপিয়ে পড়ছে !

৪। হাজার বছরের নদীকে যেমনি অধুনা ড্রেজিং করেও বাচানো যাচ্ছেনা তেমনি কু তে ভরপুর এই ব্যবস্থাপনা কেমনে পারবে মানবিক সমাজ বিবর্তনে?

৫। রাজনৈতিক প্রতিবদ্ধীতার এই অন্ধকার দ্রুত শেষ হবে, মানুষে মানুষে সৌহাদ্য ফিরবে, মিথ্যা সত্যের সহবাস বন্ধ হবে এমনটাই প্রত্যাশা করি ব্যতিক্রমদের কাছে। এই ব্যতিক্রমরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে উঠুক সামাজিক রাজনৈতিক পরিমন্ডলে, যুদ্ধে যুদ্ধে মানুষ শুদ্ধ হোক মানবিয় মানবিকতায়…

২ thoughts on “একাল সেকাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *