পৃথিবী আমায় চায় না

আমি একজন হিজড়া। কি আঁতকে উঠলেন? কিন্তু মানুষ তো? রক্তে -মাংসে- মজ্জায়- মগজে প্রাণ তো?
আমি আজ লানত দিচ্ছি ইসলামের মুহাম্মদকে (স.)। কেন ? সে কথায় পরে আসছি। তবে এ কথা ঢের জেনেছি, পৃথিবী কেন আমায় চায় না?!

সৃষ্টিকর্তা ও তাঁর মনোনিত পুরুষদের কাছে আজও আমি অভিশাপ! আমাকে অভিসম্পাত্ করেছে প্রতি মুহূর্তে আসমানী কিতাবধারী
আল্লাহ্! ভগবান! ঈশ্বর ! সদাপ্রভু! এবং পরিবার! সমাজ! রাষ্ট্র!
কিন্তু আমি চিৎকার করে বলতে চাই, আমি আমার জন্মের জন্যে দায়ী নই? তাহালে দায়ী কে? দায়ী আমার বিবর্তনীয় প্রকৃতি? 

কারণ, উদ্ভিদ প্রাণ ও অন্যান্য প্রাণীও আমার ক্রটি বহন করছে। তখন কি আল্লাহ্! ভগবান! ঈশ্বর ! ও পৃথিবীর কোনো মানুষ প্রকৃতিকে অভিসম্পাত্ দিচ্ছে?

ফিরে যাই ইসলামের জনক মোহাম্মদের (স.) কাছে। অর্থাৎ তাঁর একটি মুখমৃততে! তার আবার গালভড়া নাম ‘বুখারী হাদিস’ চলুন মুহাম্মদের (স.) মুখমৃতটি পড়ে আসি। ইবনু আব্বাস হতে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহ্ অলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষ হিজড়াদের উপর এবং পুরুষের বেশধারী মহিলাদের উপর লানত করেছেন। তিনি বলেছেন, ওদেরকে ঘর থেকে বের করে দাও। (সহীহ বুখারী, অধ্যায় ৭৭/হাদিস নং ৫৮৮৬) ভাগ্যিস বিবিধ ধর্মের কথিত সৃষ্টিকর্তারা ওমনটা বলেন নি!
বললে মানুষের পৃথিবীর এই আমিই হতাম অভিশপ্ত এক নাম। ‘তুই হিজড়া!’ 

তোমরা এতটাই মনুষ্যত্বহীন যে, হিজড়া বলে একজন আরেকজনকে উপহাস করো!
প্রকৃতি কী আমার সাথে নিষ্ঠুর উপহাস করেনি? এরপরও আমায় নিয়ে উপহাস করা
অমানবিক নয় কী? সত্যিই তোমরা পারও বটে!
সর্ব প্রকার অধিকার বঞ্চিত এক মানুষ আমি, এই পৃথিবীর বুকের ইতিহাসে আর কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের ভিতর এধরনের বঞ্চনার ইতিহাস কোথাও নেই।
তবু আমি বলতে চাই আমি হিজড়া, আমি মানুষ। আমি আমার সমস্ত অধিকার চাই। তোমরা বলো,
এ চাওয়া অন্যায়? অপরাধ? অবৈধ? অযৌক্তিক? অমানবিক? অপ্রাসঙ্গিক? অশালীন? 

(নারী ও পুরুষের পাশাপাশি হিজড়া’দেরকেও মানুষ ভাবতে শিখুন, তাঁদেরকে 
নিয়ে আসুন আমাদের মাঝে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *