খোলা চিঠি……………

রাতুল,


রাতুল,

এখন আমি আর তোমাকে মিস করিনা, জানালার গ্রিল ধরেচেয়ে থাকিনা আগের মতো, তোমার জন্য টিএসসির মোড়ে দারিয়ে কড়া রোদ্দুরে অপেক্ষা করে রাগ করিনা, বালিশের নিচে মুখ লুকিয়ে কান্নাও করিনা চোখের জল শুকিয়ে গেছে অনেক আগেয় শুধু মাঝে মাঝে মোবাইল বেজে উঠলেয় আমি আনমনে ভাবি এই বুঝি তোমার ফোন আসলো এই বুঝি তুমি ওপাশ থেকে বলে উঠলে “লক্ষ্মীটি কেমন আছো”কিন্তু তোমার কল ও আসেনা আর তোমার মুখ থেকে আমার সবচেয়ে প্রিয় লক্ষ্মীটি ডাকটাও শোনা হয়না। আমি তোমাকে কথা দিয়েছিলাম তোমাকে একা করে কখনও কোথাও যাবোনা আমি হয়তো আমার দেয়া কথা আমি রাখতে পারছি না কিন্তু তাই বলে তুমি ভেবোনা আমি তোমাকে ভালবাসিনা আমি এখনও তোমাকে ভালবাসি আগে ঠিক যেমনটা ভালবাসতাম। হয়তো তুমি জানোনা আমি আজও তোমার জন্য অপেক্ষা করছি । আমি এখনও বৃষ্টি ভেজা দিনে তোমাকে মনে করি এই বুঝি তুমি আমার হাত ধরে বলতে চলো আজ একসাথে বৃষ্টিতে ভিজি বৃষ্টির সাথে বৃষ্টির গান করি “আজি ঝরো ঝরো মুখরও বাদলও দিনে, যা নিয়ে নিয়ে নে যা নিয়ে নে, কিছুতে কেনো যে মন লাগেনা” আমি আজও বৃষ্টির দিনের সাথে বৃষ্টির শব্দের সাথে গলা মিলিয়ে তোমাকে মনে করে গান করি ।। আমি আজও বছরের প্রথম দিনে লাল শাড়ী পড়ে রমনার বটমূলে যায় হাতে লাল কৃষ্ণচুড়া নিয়ে দাড়িয়ে থাকি প্রতিটা বছরের মতো!! বার বার ভাবি এই বুঝে তুমি এসে আমার মাথাই কৃষ্ণচুড়া ফুল পড়িয়ে আমাকে গভীর সুখের আলিঙ্গনে জড়িয়ে ধরবে কিন্তু আজ প্রায় ৩ বছর হতে চলল আমার সব আশাগুলো দুমড়ে মুচরে কান্না করছে আমার বুকের গভীরে হয়তো আর বেশিদিন আমাকে এইভাবে অপেক্ষা করতে হবেনা ডাক্তার বলে দিয়েছে আর বড়জোর সপ্তাহ দুই তার পরেই সবকিছুর অবসান হয়ে যাবে । কিন্তু কথা তো এমনটা ছিলোনা তবে কেনো এমনটা হল কেনো আমাকে ছেড়ে তুমি চলে গেলে একটিবার জানতেও দিলেনা আমার ভুলটা কি ছিলো?? আমি জানিনা আমার অপরাধ কি ছিলো কেনো তুমি আমাকে একা করে চলে গিয়েছিলে ?? শুধু জানি তুমি আমাকে ভুল বুঝেছিলে আমাকে একটু সুযোগও দাওনি তোমার ভুলটা ভেঙ্গে দেয়ার ।তুমি চলে গেলে একটিবার জানতে ও দিলেনা আমাকে আমার অপরাধ কি ছিলো ?? বিশ্বাস করো তোমার অবিশ্বাসের কোনো কাজ আমি করিনি ?? তুমি আমাকে বলেছিলে আমাকে অনেক বিশ্বাস করো এই তোমার বিশ্বাসের নমুনা ?? তোমার প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই । তুমি ভালো থেকো আগেও চেয়েছি এখনও চায় যতদিন বেঁচে থাকবো শুধু এতটুকুই চেয়ে যাবো যেনো আমার যতটুকু সুখ পাওয়ার কথা পৃথিবীতে।। আমি আগেও তোমাকেই ভালবাসতাম এখনও বাসি যতদিন বেচেঁ আছি ভালোবেসে যাবো । যদি আমার এই ভালবাসার টানে তোমাকে শেষ দেখাটা দেখতে পারি তাহলে আমার সব চাওয়া পাওয়া পূরণ হয়ে যাবে ।। তুমি হয়তো ভাবছো আমি তোমার নামের শুরুতে “প্রিয়” শব্দটা কেনো দেয়নি কারন আমি জানি তুমি হয়তো আর কার প্রিয়জন হয়ে আছো তাই অন্য কারো প্রিয়জনকে কেড়ে নিতে তো আমি পারবোনা তাই নিজের প্রিয়জনকে অন্যর হাতে তুলে দিলাম ।। ভালো থেকো নিজের প্রতি যত্ন নিও নতুন করে ভালোবাসতে শুরু করো । তোমার জীবন থেকে আমাকে দেয়া প্রতিটিক্ষণ বুকে নিয়ে চলে যাচ্ছি ।।

ইতি

প্রমা

(প্রমা এবং রাতুল দুজন দুজনকে ভালোবাসতো।ওদের রিলেশন ছিলো ৩ বছর ।একদিন হটাৎকি এক অজানা কারনে প্রমাকে ভুল বুঝে রাতুল প্রমাকে ছেড়ে চলে যায় লন্ডন । প্রমা অনেক কষ্ট করেও রাতুলের সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি । রাতুলের পরিবার কখনো চায়নি প্রমা রাতুলের সাথে যোগাযোগ করুক তাই রাতুলের লন্ডনের ঠিকানা প্রমার হাজার অনুরোধেও দেইনি । এইভাবে কেটে যায় ২ বছর । প্রমা যেদিন জানতে পারেতার ব্লাডকান্স্যার সেইদিন থেকে রাতুলকে দেখার জন্য অস্থির হয়ে উঠে । কিন্তু শেষদেখাটা হলোনা তার । প্রমা মৃত্যুর আগে চিটিটা তার বান্ধবীকে দিয়ে যায় এবং বলে যায় যদি কখনও রাতুলের সাথে দেখা হয় তাহলে এই চিঠিটা রাতুলকে দিতে । রাতুল দেশে আসলে প্রমার বান্ধবী রাতুলের সাথে দেখা করে চিটিটা দেয় । রাতুল ঘৃণায় চিটিটা না খুলে তার বুক পকেটে রেখে গাড়ি চালিয়ে যাওযার সময় এক্সিডেন্ট করে । রাতুলকে দেখতে হাসপাতালে যায় তার বন্ধু রাফি তখন ইসারায় রাফিকে দেখে বুক পকেট থেকে চিটিটা বের করে পড়তে বলে । প্রমার লিখা চিঠিটা রাতুলকে পড়ে শুনালো তার বন্ধু রাফি । রাতুল কিছু বলতে পারছেনা শুধু নিরবে চোখের জল ফেলছে । মনে মনে হয়তো রাতুল বলতে লাগলো তুমি একা না আমিও আসছি তোমার কাছে । )

নামগুলো কাল্পনিক কিন্তু ঘটনা সত্যি………………।

২ thoughts on “খোলা চিঠি……………

  1. (No subject)
    :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *