বদলে দাও, বদলে যাও।

ধড়ফড় করে উঠে বসলাম, বালিশের পাশে মোবাইল ফোনটা বেজে যাচ্ছে, ঘড়িতে সময় ভোর সাড়ে চারটা।

(মাঝরাতে আর ভোর রাতে ফোন বাজলে কোন অজানা কারনে গলা শুকিয়ে যায়। হৃদপিণ্ডের গতি বেড়ে যায়)।
অচেনা একটা নাম্বার ডিসপ্লে হচ্ছে স্কীনে।ফ্যাসফেসে গলায় বললাম, হা হ্যা লো।

মতি ভাইয়ের সাথে দেখা করবো, ব্যবস্থা করে দাও, অপর পাশ থেকে একজন মহিলা বলে উঠলেন।

কি বলছেন আর কে বলছেন? ফ্যাসফেসের বদলে রাগ বের হল গলা দিয়ে। ভোর রাতে…
ইয়ার্কি মারতে ফোন করছে কেউ।

ইয়ে আমি খালা, শাম্মীর আম্মু, ঢাকা থেকে।

ওহ খালা কী হয়েছে? আপনারা সবাই ভাল আছেন? খালু ভালো আছেন?


ধড়ফড় করে উঠে বসলাম, বালিশের পাশে মোবাইল ফোনটা বেজে যাচ্ছে, ঘড়িতে সময় ভোর সাড়ে চারটা।

(মাঝরাতে আর ভোর রাতে ফোন বাজলে কোন অজানা কারনে গলা শুকিয়ে যায়। হৃদপিণ্ডের গতি বেড়ে যায়)।
অচেনা একটা নাম্বার ডিসপ্লে হচ্ছে স্কীনে।ফ্যাসফেসে গলায় বললাম, হা হ্যা লো।

মতি ভাইয়ের সাথে দেখা করবো, ব্যবস্থা করে দাও, অপর পাশ থেকে একজন মহিলা বলে উঠলেন।

কি বলছেন আর কে বলছেন? ফ্যাসফেসের বদলে রাগ বের হল গলা দিয়ে। ভোর রাতে…
ইয়ার্কি মারতে ফোন করছে কেউ।

ইয়ে আমি খালা, শাম্মীর আম্মু, ঢাকা থেকে।

ওহ খালা কী হয়েছে? আপনারা সবাই ভাল আছেন? খালু ভালো আছেন?

না মা সবাই ভাল আছে, আমি খুব জরুরি দরকারে তোমাকে ফোন করেছি। এখন কি খুব বেশি ভোর মা। আমাদের এখানে তো দুপুর রে মা।

না না খালা অসুবিধা নাই, কি ব্যাপার বলেন তো কি মতি ভাই টাই বলছিলেন?

আমাকে আরেকবার মতি ভাইয়ের সাথে দেখা করাই দাও।

কোন মতি ভাই খালা, আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।

দীর্ঘশ্বাস ফেলে খালা বললেন, আমাদের প্রথম আলোর মতি ভাই।

প্রথমত খালা আমি তো প্রথম আলো তে কাজ করি না, আর দ্বিতীয়ত আমি তো অনেক বছর ঢাকা ছাড়া, মতি ভাইয়ের কি আর আমাকে মনে আছে। আপনি বরং উনার অফিসে যোগাযোগ করেন।

বিষণ্ণ গলায় খালা বললেন, সেই আগের মত অনেক বার উনার অফিসে ফোন করেছি কিন্তু দেখা করার সময় তো দিচ্ছে না, আজ চার দিন ধরে ফোন করে যাচ্ছি।

আমি জিগেসা করলাম মতি ভাইয়ের কাছে কেন যাবেন? কোন রিপোর্ট করাবেন?

কিছু পরিচিত আছে এখনো প্রথম আলোতে, ওর হেল্প করে দেবে, মতি ভাইয়ের কাছে যাওয়া লাগবে না।

না না আমি কোন রিপোর্ট করাবো ন।

তাহলে কেন যাবেন?

ক্ষোভ জানাতে যাব।

মানে কি? ক্ষোভ মানে কিসের ক্ষোভ?

উনি মাহমুদূর রহমানের পক্ষ নিয়েছেন কেন তাই জানতে যাব। তুমি একটু ব্যবস্থা করে উনি তোমাকে খুব স্নেহ করেন, আমার মনে আছে, বার বার তোমার কাজের প্রশংসা করছিলেন। তোমার সাহসের কথা বলেছিলেন।

খালা তখন আমি ঢাকা ছিলাম, নিয়মিত কাজ করতাম, একটা ইন্টারন্যাশনাল নিউজ এজেন্সিত
কাজ করতাম। এখন কত বছর আমি ঢাকায় নেই। অনেকের সাথে যোগাযোগ নেই। চাইলেও খালা অনেক কিছু করা সম্ভব না।
মা গো প্লিজ একটু কথা বলে দেখ। আমার খাতিরে একবার ফোন কর। নাছোরবান্ধা খালা, খুব ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর মা। তাকে অনেক করে বোঝালাম। কিন্তু উনি কিছুতেই মানতে রাজি না যে মতি ভাই আমাকে ভুলে যেতে পারেন।

মতি ভাইয়ের সাথে দেখা করার জন্য এই খালা নাছরবান্ধা হইয়েছিলেন প্রায় ১০ বছর আগে,

সেবার উনি মাঝ রাতে ফোন করেছিলেন আমাকে খুলনা থেকে।
মাঝ রাতে ফোন করে উনি মতি ভাইয়ের সাথে আমি যেন তাকে দেখা করাই, উনি মতি ভাইয়ের বিরাট ফ্যান। যখন ঢাকায় বেড়াতে আসতেন, কাওরান বাজার প্রথম আলো অফিসের সামনে দিয়ে যেতে আসতে বা কোথাও “প্রথম আলো” লেখা চোখে পরলে, উনার চেহারা সদ্য প্রেমেপরা কৈশোর উত্তীর্ণ তরুণীর মত লাজুক হয়ে উঠতেন। আর মতি ভাইয়ের নাম নিয়ে তো কাম সারছে পুরায় লাল, নীল বেগুনী হয়ে যেতেন। খালার মতি ভাই ও প্রথম আলোর প্রতি প্রেম সর্বজন বিদিত ছিল।

খালুকেও দেখেছি মতি ভাইয়ের নাম নিয়ে খালা কে খেপাতে।

হঠাৎ খালার মনে হয়েছিল আমি সাংবাদিক তাই আমি তাকে মতি ভাইয়ের সাথে অবশ্যই দেখা করাতে পারবো। উনি বাচ্চাদের মতো ঘ্যানঘ্যান করতেন, মাত্র এক মিনিটের জন্য হলেও আমি যেন দেখা করাই। উনি মতি ভাইয়ের ডান হাতটা একটু ছুয়ে দেখবেন। যেই হাতে কলম ধরেন মতি ভাই, সেই হাত না ছুলে নাকি খালার জন্মই বৃথা।

সেবার মালেকা আপাকে দিয়ে মতি ভাইয়ের সাথে খালার সাক্ষাতের ব্যবস্থা করেছিলাম। খালা, আমি ও শাম্মী গিয়েছিলাম সেদিন মতি ভাইয়ের সাথে দেখা করতে প্রথম আলোর অফিসে। ৩০ মিনিট মত ছিলাম, মজার কথা খালা তেমন কথায় বলেন নি, মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে ছিলেন শুধু। উনি মতি ভাইয়ের প্রত্যেকটি অঙ্গভঙ্গি, মুখ থেকে নির্গত প্রতিটি বাক্য গেঁথে নিচ্ছিলেন আর হ্যাঁ পারলে মনে হয় মতি ভাইয়ের ডান হাতে চুমুই দিতেন। আমরা ঘর থেকে বের হবার আগে মতি ভাই আমার মাথায় হাত রাখে ছিলেন। বাড়ি ফেরার পথে গাড়িতে খালা কম করে হলেও তিনশো বার আমার মাথায় চুমু দিয়েছিলেন কারন আমার চান্দিতে মতি ভাই হাত রেখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে ঊনার আশেপাশের মানুষ বুঝেশুনে মতি ভাই বা প্রথম আলোর নাম নিত না। কারন তাহলে পরের একদেড় ঘণ্টা মতি ভাই ও প্রথম আলো বিষয়ক প্রশংসাপ্ত্র শুনতেই হবেই হবে।

সেই মতি ভাই মুগ্ধ খালা আজ আবার মতি ভাইয়ের সাথে দেখা করতে চাই, জবাব চাই তার কেন সে মাহমুদূর রহমানের মত একটা বাজে মানুষের অন্যায় কাজের পক্ষ নিলেন। আমি বার বার তাকে বললাম, খালা বাদ দেন যার যা মনে হইতাছে করতাছে, আপনি হুদাই সময় ন্সট করতাছেন। উনি আপনার এই ফালতু প্যাঁচাল শোনার জন্যে কেন সময় দিব? আপনি মাথা নস্ট করেন না।

কে শোনে কার কথা, বাধ্য হয়ে বললাম কয়দিন সময় দেন দেখি কার রিকোয়েস্টে উনি দেখা করবো আপনার সাথে।
খালা কিছুক্ষন ইধার উধার কি বাত করে ফোন রাখলেন। আমার পুরা ঘুম চটকে মাথা ব্যথা শুরু হইলো। কি জালাই পরলাম।

মতি ভাইয়ের কি ঠেকা নাকি খালার সাথে দেখা করা।

আসলে খালা একটা জিনিস বোঝে নাই, মতি ভাই এক কথার মানুষ, যা কয় সেইটা করেন। “বদলে যাও, বদলে দাও” শুধু বলার জন্য না করেও দেখালেন। শুধু নিজেই বদলালেন না, আরো অনেক কে বদলে দিলেন।

১০ thoughts on “বদলে দাও, বদলে যাও।

  1. প্রথম আলো সব সময়ের জন্যেই
    প্রথম আলো সব সময়ের জন্যেই একটা পল্টিবাজ পত্রিকা…

    অতীতেও পল্টিবাজি করেছে, এখন করছে, আশা করি ভবিতব্যেও তাই আছে…

    1. কেন যে পল্টিবাজ তাই বুঝলাম না
      কেন যে পল্টিবাজ তাই বুঝলাম না কারন জনপ্রিয়তা যার আকাশ ছোঁয়া।

  2. মতি ভাই তো “বদলে যাও, বদলে
    মতি ভাই তো “বদলে যাও, বদলে দাও” এই কথার বিশ্বাসী তাই সময়ে সময়ে নিজে বদলে যান নিজের অজান্তে । :কেউরেকইসনা: :শয়তান: :শয়তান:

  3. মতি কন্ঠের স্লোগানই এখন প্রথম
    মতি কন্ঠের স্লোগানই এখন প্রথম আলোর জন্য খাটে “সংবাদ বদলে দেয়”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *