সবুজের সমুদ্র যাত্রা

আগেও লিখেছিলাম যায় দিন ভালো, আসে দিন কালো। আমার মা বাবা বকধার্মিক নয় বিধায় আমাকে কওমি মাদ্রাসায় পাঠাননি। তবে আজকের দিনে এই না পাঠানোর বিষয়ের সাথে আমার মা বাবা নাস্তিক কিনা সে প্রশ্নও এসে যায়! তবে পুরুষ হিসেবে জন্ম নেওয়ার জন্য আল্লাহকে আমি যেমন শুকরিয়া জানাই তেমনি কোন অন্ধকূপের বাসিন্দা না বানানোর জন্য ধন্যবাদ জানাই পিতামাতাকে। আমার সীমাবদ্ধতার ভিতর দিয়ে যতটুকু খোজ খবর নিতে পেরেছি তা থেকে বলি, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্হায় মাদ্রাসা পদ্ধতিটি খুব একটা আধুনিক, মানবিক ও সামাজিক আবহের ভিতর নেই।সমাজের কোন অংশের মানুষজন এবং কাদের সন্তানেরা সেখানে পড়ালেখা করে, সেখান থেকেই তাদের জীবনমান বিশ্লেষন করা যায়। এখন প্রশ্ন করা যায় সব মাদ্রাসাই কি অবরুদ্ধ বা অমানবিক? উওর অবশ্যই হ্যাঁ হবে না কারন আধুনিকতার, মানবিকতার কোন ধ্রুবক নেই। আমি বা আমরা যা আধুনিক মনে করি অন্যরা তা নাও মনে করতে পারে। তাই শিক্ষার পরিবেশ, সিলেবাস ইত্যাদি নিয়ে তারা তাদের স্বকিয়তা ধরে রাখতে চাইতেই পারে কিন্তু সমস্যা হয়ে যায় অমানবিকতা দিয়ে মানবিকতা, অধার্মিকতা দিয়ে ধার্মিকতা বিবেচনা করতে গেলে।
মহান মুক্তিযুদ্ধের ভিতর দিয়ে আহুত বাংলাদেশের একটি আইনী কাঠামো, সাংবিধানিক ভিত্তি ও জীবনাচারনের রীতিনীতী প্রচলিত আছে। যে কেউ (তা যে ধর্মের হোক, যত সংখ্যাধিক্যই থাকুক না কেন) এই জাতিরাষ্ট্রের অস্বিত্বকে বিপন্ন করতে পারেনা। বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্লট নতুন করে বিশ্লেষন করার প্রয়োজনীয়তা আছে বলে মনে করিনা কিন্তু বাংলাদেশ কোন কমিউনিস্ট রাষ্ট্র, মুসলিম রাষ্ট্র, ব্যর্থ রাষ্ট্র বা অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিনত হবার জন্য নিশ্চয়ই স্বাধীন হয়নি। রাম রাজত্ব কায়েম বা মৌলবাদীদের খায়েশ মিটানোর জন্য নিশ্চয়ই তিরিশ লক্ষ শহীদ এবং কোটি মুক্তিসেনা তাদের জীবনবাজী রাখেননি। তাই কেউ চাইলেই জাতিসত্ত্বা আমরা বিসর্জন দিতে পারিনা। বাংলাদেশকে করদ রাজ্যে পরিনত করে আচার বিচারহীনতার রাষ্ট্রে পরিনত করার জন্য যেমন স্বাধীন হয়নি তেমনি মৌলবাদীদের শহিদ মিনার ভাঙ্গা, শিক্ষা ব্যবস্থা বিপর্যস্ত করে, ইসলামী রাষ্ট্র ঘোষনা করে মুসলিম সংখ্যাধিক্যের জোরে শরিয়ত চাপিয়ে দেওয়ার জন্যেও স্বাধীন হয়নি। তাই মৌলবাদী এবং অপতত্‍পরতাকারীদের অংশ ছাড়া বাকি অংশ যারা ৫২ থেকে ৬৬, ৬৬ থেকে ৬৯, ৬৯ থেকে ৭১ পরবর্তি আজ অবদি তাদের প্রেমের বড় অংশ দেশের জন্য ব্যয় করেছেন তাদের উওরসূরীদের ঝিমিয়ে পড়া ভাব দূর করতে হবে নিঃসংকোচে।
কোন আন্দোলন, কোন রাজনীতী কার পক্ষে গেলো তা বিবেচনের চেয়ে জাতিরাষ্ট্রের অস্তিত্ব (যার উপর নির্ভর করে আমাদের অস্তিত্ব) ধরে রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে অনেক বেশি। স্কুলে ভাবসম্প্রসারনে পড়েছিলাম ‘স্বাধীনতা অর্জন করার চেয়ে রক্ষা করা কঠিন’। কখনো ভাবিনি এই উক্তিটির সম্প্রসারনের জন্য রক্তস্রোতে জন্ম নেওয়া বাংলাদেশকে লড়তে হবে একদিন। এই যুদ্ধে জয়ী হলে দেখা হবে খোলাময়দানে ফাল্গুন বৈশাখে, বদ্ধুরা আড্ডা দিবো টি এস সি জারুল তলা বা পথে পথে। আর পরাজয় হলে, সব আলো নিভে যাবার আগে ভাস্কয্য শহীদ মিনার লুটিয়ে পড়ার আগে, আমার যোদ্ধা পিতা বা পিতামহের প্রিতিকি বিচারের আগে আমার লাশ ভাসিয়ে দিয়ো লাল সবুজের পতাকার সমুদ্র সাম্পানে…
জয় বাংলা

৪ thoughts on “সবুজের সমুদ্র যাত্রা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *