দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ চাইলে….

বাংলাদেশের প্রধান দুটি সমস্যার নাম জনসংখ্যা ও দুর্নীতি ।জনসংখ্যার আধিক্য অপরাধের মাত্রা বাড়াতে যেমন ভুমিকা রাখতে পারে তেমনি অপরাধকে তার চাইতে অনেকগুন বেশি স্থায়িত্ব প্রদান করে দুর্নীতি ।অবিশ্বাস্য হলেও মিথ্যা নয় যে, দুর্নীতি বন্ধ করলে জনসংখ্যার ও আধিক্য নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব ।দুর্নীতি বন্ধ হলে আমাদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয় ও তৎসংশ্লিষ্ট সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান সমুহ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনে কেমন ভুমিকা রাখতে পারবে তা আপনারাই অনুমান করুন ।যাইহোক, আমার ব্লগপোস্টটির উদ্দেশ্য কিন্তু অন্য বিষয়ে, তাই সরাসরি চলে যাচ্ছি মুল আলোচনায় ।


বাংলাদেশের প্রধান দুটি সমস্যার নাম জনসংখ্যা ও দুর্নীতি ।জনসংখ্যার আধিক্য অপরাধের মাত্রা বাড়াতে যেমন ভুমিকা রাখতে পারে তেমনি অপরাধকে তার চাইতে অনেকগুন বেশি স্থায়িত্ব প্রদান করে দুর্নীতি ।অবিশ্বাস্য হলেও মিথ্যা নয় যে, দুর্নীতি বন্ধ করলে জনসংখ্যার ও আধিক্য নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব ।দুর্নীতি বন্ধ হলে আমাদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয় ও তৎসংশ্লিষ্ট সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান সমুহ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রনে কেমন ভুমিকা রাখতে পারবে তা আপনারাই অনুমান করুন ।যাইহোক, আমার ব্লগপোস্টটির উদ্দেশ্য কিন্তু অন্য বিষয়ে, তাই সরাসরি চলে যাচ্ছি মুল আলোচনায় ।

মাত্র একটি আইন এবং ঐ আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে বাংলাদেশ সোনার বাংলা হতে ৬ মাসের বেশি সময় লাগার কথা নয়!
আমার কথা শুনে হয়তো হাসতেছেন আর ভাবতেছেন এসব তো পাগলের প্রলাপ কিংবা “হাতি ঘোড়া গেল তল আর ভেড়া বলে কত জল?!
কিন্তু না!আমার কথা মিথ্যা নয় সত্যি!
আইনটির নাম এক কথায় ‘দুর্নীতি নিরোধ আইন’।যদিও আইনটি এদেশে বলবৎ আছে কিন্তু বর্তমান ঐ আইনের গঠন কাঠামো,ধারা,প্রয়োগ ক্ষেত্র,শাস্তির ধরন ইত্যাদি সম্পুর্ন পাল্টে দিতে হবে।
আইন বিভাগে লেখাপড়া মোটেও নেই।আইনের মুল ধারা ও ফাক ধারা সম্বন্ধে তেমন জ্ঞান ও নেই,তবুও নিম্নে আমার কল্পনা প্রসুত আইনটির মুল থিমের সংক্ষিপ্ত বিবরন তুলে ধরলাম।
#নামঃ দুর্নীতি নিরোধ আইন ।
#সঙ্গাঃ এক কথায় সরকারি,আধা সরকারি,বেসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্টানে চাকুরিজীবি বা কর্মকর্তা বা কর্মচারী বা তৎসংশ্লিষ্ট ব্যাক্তি বা প্রতিষ্টান কতৃক, যেকোন কিছুর বিনিময়ে ঘুষ চাওয়া,ঘুষ দেয়া,ঘুষ নেয়া,স্বজনপ্রীতি,ইচ্ছাকৃত ভাবে নিজ দায়িত্বে অবহেলা,মানুষকে হয়রানি করা ইত্যাদি কাজ করলে বা করার ইচ্ছাপোষন করলে তা দুর্নীতি বলে বিবেচিত হবে।
#অপরাধীর শাস্তিঃ এখানে কিছুটা জটিলতা আছে ।দুর্নীতিকারী যদি সরকারি,আধা সরকারি,রাষ্ট্রীয় অথচ স্বায়ত্তশাসিত কোন প্রতিষ্টানের চাকুরিজীবি,কর্মকর্তা বা কর্মচারি হয় তবে তার কৃত অপরাধ যত ছোট হোক না কেন শাস্তি সর্বনিম্ন হবে যাবজ্জীবন ও ১লাখ টাকা জরিমানা এবং সর্বচ্ছো ফাঁসি।আর যদি বেসরকারি বা তৎসংশ্লিষ্ট কেউ হয় তবে অপরাধের ধরন অনুসারে শাস্তি নির্ধারিত হবে।তবে কৃত অপরাধ যত ছোট হোক না কেন সর্বনিম্ন শাস্তি হবে ৫ বছর কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং সর্বচ্ছো শাস্তি হবে ২০ বছর কারাদন্ড।সর্বক্ষেত্রে জরিমানার অর্ধেকাংশ পাবে অভিযোকারী(মামলা পরিচালনা খরচ ও দুর্নীতিরোধে উৎসাহ প্রদান কল্পে)।
#বাদীর শাস্তি :এখানে বর্তমানে প্রচলিত ৩১৩ ধারাটি সম্পুর্ন অনুপস্থিত রাখতে হবে।সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে যদি অভিযোগকারী বিবাদীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমান করতে না পারেন তবে,বাদীর শাস্তি হবে সর্বচ্ছো ৭ দিন জেল ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আর সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা জরিমানা।উল্লেখ্য যে, জরিমানার তিনভাগের দুইভাগ পাবে বিবাদী(মামলার খরচ ও সম্মানহানি কল্পে।তবে অভিযুক্ত ইচ্ছা করলে প্রচলিত আইনে বাদীর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করতে পারবেন) আর বাকিটা সরকারি কোষাগার ।
বিঃদ্রঃ : অভিযুক্ত কোন চাকুরিজীবি হলে তাৎক্ষনিক বহিস্কার হবেন এবং নির্দোষ প্রমান হবার আগ পর্যন্ত বহিস্কারই থাকবেন।

সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় আমি শুধু মুল থিম টা তুলে ধরলাম ।আইন বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে অপরাধের ধরন অনুসারে বাকি অপরাধের শাস্তি নির্ধারন করা যেতে পারে ।
#অভিযোগ প্রদানের স্থানঃঅন্যান্য ফৌজদারি মামলার অভিযোগ যেখানে দেয়া যায় সেখানেই অভিযোগ করা যাবে,তবে অভিযোগকারী ইচ্ছা করলে জেলা দুর্নীতি নিরোধ অফিসেও অভিযোগ করতে পারেন।
#তদন্ত কর্মকর্তাঃতদন্তকারী হবেন স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।অভিযোগকারী ইচ্ছা করলে অভিযোগ নামায় কাকে দিয়ে তদন্ত করাতে চান তা উল্লেখ করে দিতে পারেন, যেমন,র্যাব,ডিবি,সিআইডি অথবা জেলা দুর্নীতি নিরোধ অফিসের তদন্তটিম ।
#তদন্তকালঃতদন্তকাল হবে মাত্র ১৫দিন,তবে তদন্ত রিপোর্টে বাদী অনাস্থা জ্ঞাপন করলে পুনর্তদন্তের জন্য আরো ১৫দিন সময় দেয়া যাবে এবং বাদি অনাস্থা মাত্র একবারই দিতে পারবেন ।তদন্ত রিপোর্ট জমা হবার পর কোর্টের বিচারক মাত্র ১ মাসের মধ্যে রায় দিতে বাধ্য থাকিবেন।রায় হওয়ার আগ পর্যন্ত বিবাদীকে জেলে রাখা হবে।এই আইনে জামিন বলতে কিছু থাকবে না ।আপিল মাত্র একবার করা যাবে এবং আপিল করতে হবে রায় প্রদানের পর ৭ দিনের মধ্যে ।উচ্চ আদালত আপিলের পরবর্তী ১মাসের মধ্যে রায় দিতে বাধ্য থাকিবেন।অভিযোগকারী যে কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্টান বা যে কেউ হতে পারবে ।
#আদালতঃ সকল জেলায় আলাদা দুর্নীতি নিরোধ আদালত স্থাপন করে বিচার করতে হবে।আপিল হলে তা নিষ্পত্তির জন্য সুপ্রিম কোর্টে যেতে হবে।সুপ্রিম কোর্টের প্রথমবারের দেয়া রায়ই চুড়ান্ত বলে গন্য হবে।

বিশেষ কথাঃ একটি আইনের সঙ্গা,গঠন,প্রয়োগ ক্ষেত্র ইত্যাদি অনেক বিস্তর বিষয় ।প্রদত্ত থিম অনুসারে এমন একটি আইন তৈরি করতে তেমন অসুবিধা বা প্রতিবন্ধকতা থাকার কথা নয় ।দেশের নামি দামি আইন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এমন একটি আইন যে কোন সরকার যদি তৈরী ও সঠিক প্রয়োগ করতে পারে তবে দেশে কোন সমস্যাই হবার কথা নয়।কঠোর শাস্তিই অপরাধ দমনের একমাত্র পদ্ধতি ।কেবল মাত্র প্রধানমন্ত্রী,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,দুর্নীতি দমন কমিশনার,প্রধান বিচারপতি,আইজিপি, মাত্র এই কয়েকজনের সদিচ্ছা ও স্বচ্ছতায় এধরনের আইনের প্রয়োগ সফলভাবে সম্পাদিত হতে পারে।এই আইনের সফল প্রয়োগ ঘটলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্টিত হতে বাধ্য আর ন্যায় বিচার প্রতিষ্টিত হলে সামাজিক উন্নতি ক্রমান্বয়ে বাড়তে বাড়তে এমন অবস্থায় গিয়ে দাড়াবে যে, দুর্নীতি একেবারে বন্ধ না হলেও সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে ।

আমরা যে কোন কিছুর বিনিময়ে দুর্নীতিমুক্ত সুখী সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখি।হয়তো বাস্তবতা অনুধাবন করার শক্তি আমরা হারিয়ে ফেলেছি, তাই বলে স্বপ্ন দেখা তো পাপ নয় নিশ্চই?উল্লেখিত আইনের মত কড়া একটি আইন তৈরী বা প্রয়োগ কঠিন হতে পারে কিন্তু কোন ভাবেই অসম্ভব নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *