জন্মেছি বলে জ্যোৎস্না দেখি

মৃত মানুষেরা মাটির নিচে চলে যায়
ক্রমাগত নিচের দিকে নামতে নামতে
একদিন খনিতে পৌঁছে যাবে দেহসার,
বায়োগ্যাস হয়ে যাবে–ঠোঁট, চোখ, স্তন
জীবাশ্ম জ্বালানি হয়ে ভবিষ্যৎ-কালে
ঊর্ধ্বমুখে আসবে তারা ভিন্ন পরিচয়ে।
প্রাচীন বৃক্ষের কাণ্ড-মূল-গুঁড়ি হয়েছে
পাথুরে কয়লা! আমার হৃদয় একদিন
পচে গলে সার হবে উদ্ভিদ-শিকড়ে;
সেদিনও সপ্তর্ষিমণ্ডল প্রশ্নচিহ্ন রেখে
প্রতিফলিত হবে কারো নয়নতারায়।

জগতে কখনো প্রাণের জন্ম না হলে
চিরকাল অনুভবহীন থেকে যেত
গ্যালাক্সির সমস্ত বিস্ময়–মা, বাবা,
প্রিয়তম, প্রিয়তমা, প্রেম, দৃশ্য, স্বপ্ন
শত্রু, আদর্শ, নানাবিধ প্রপঞ্চগাথা।
নিষ্ফল, অর্থহীন হয়ে যেত জ্যোৎস্না;
কোনো আকাঙ্ক্ষা থাকত না; ক্ষুধার
মর্মান্তিক উল্লাস থাকত না, থাকত না
হারানোর বৈদ্যুতিক ব্যথা, যন্ত্রণা, মৃত্যু!

সূর্যের সত্যতা জানা হত না জন্ম না নিলে
আমি বলতে যে এক মানুষকে চিনেছি
সেও কোনোদিন প্রকাশ পেত না জগতে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *