পেপাল বিতর্ক

পেপাল – নিয়ে তর্ক বিতর্ক পুরাই ফালতু পর্যায়ে চলে গেছে । সরকারের ঘোষনা যেমন স্টান্টবাজি ছিলো, লোকজনের প্রতিক্রিয়াও তেমনই কিছুটা মাত্রারিক্ত হয়ে যাচ্ছে ।
বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তি খাতে পেপালের আসা না আসার চেয়েও শতগুন বড় সমস্যা “মানসম্পন্ন” তথ্য প্রযুক্তিবিদ তৈরি করতে না পারা । বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সাইন্স পাশ করা বেশির ভাগ ছেলে মেয়ে (মোট গ্র্যাজুয়েটের ৯০ শতাংশ) তেমন কিছু শিখে বের হচ্ছে না ।
যে ১০ শতাংশ ভালো গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছে তাদের ২-৩ শতাংশ পাশ করার পরপরই বিদেশে পড়তে চলে যাচ্ছে । বাকি ৫ শতাংশ ২-৩ বছরের মধ্যে মাইগ্রেশন করে কানাডা, আমেরিকা বা অস্ট্রেলিয়াতে চলে যাচ্ছে । একুশ শতকে ব্রেন ড্রেন থামানো সম্ভব নয় । তাই সমাধান একটাই । বেশি বেশি কোয়ালিটি গ্র্যাজুয়েট তৈরি করা । ৫০ জন্য তৈরি হলে, ৪০ জন চলে গেলেও ১০ জন থাকবে । যেটা ভারতে হয়েছে বা হচ্ছে ।
ভারত তথ্য প্রযুক্তি খাতে আউট সোর্সিয়ের জন্য জায়ান্ট । তারা জায়ান্ট এই জন্য না যে, তাদের অনেক সংখ্যক ছেলে মেয়ে ফ্রিল্যান্সারে বা আপওয়ার্কে কাজ করে । তারা জায়ান্ট কারন তাদের Wipro, Tata Consultancy, Infosys-এর মতো কম্পানি আছে । যেখানে একেকটা কম্পানিতে লক্ষাধিক লোক কাজ করে । এর বিপরীতে আমাদের এখনো ১ হাজার লোকের তথ্যপ্রযুক্তি কম্পানি নাই 🙁
তথ্য প্রযুক্তিতে বিলয়ন ডলারের স্বপ্ন দেখতে হলে আমাদের সেই মাপের কম্পানি বানাতে হবে । ব্যক্তি ফ্রিল্যান্সার তৈরিকে আমি খারাপ বলছি না, তবে মূল ফোকাস কখনোই তা হওয়া উচিৎ নয় ।
ফোকাস ঠিক না থাকলে ৫ দিনের মোবাইল ডেভলপার আর ১৫ দিনের গেমস ডেভলপার বানানোর মতো হাস্যকর অর্থ আপচয়ের উৎসব হবে, কাজের কাজ কিছু হবে না ।
তবে সরকারের সাথে দুই-চার বছরের কাজের অভিজ্ঞতায় জানি, এইসব অপরাধের দোষ যতটা না সরকারের তারচেয়ে ঢের বেশি তথ্য প্রযুক্তি নেতা/ধান্দাবাজদের ।
৫ দিনে যে মোবাইল ডেভলপার বানানো যায় না, সেটা অ্যাডভোকেট মন্ত্রী না জানতে পারেন (যদিও না জানাটা দোষের) তবে দেশের অন্যতম বড় মোবাইল অ্যাপ ডেভলপার কম্পানি জানে না, তা নয় । তারপরও ৫ দিনের মোবাইল ডেভলপার বানানোর প্রোগ্রাম করে তারা ৫ কোটি টাকা ঠিকই নিয়ে নিয়েছে ।
সারা পৃথিবীতেই এখন তথ্য প্রযুক্তিখাতে দক্ষলোকদের সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিচ্ছেন । নিচের মহিলার নাম, “Audrey Tang” । তাইওয়ানের ডিজিটাল মন্ত্রী । তাকে তাইওয়ানের সেরা দশজন প্রোগ্রামের একজন মানা হয় । বাংলাদেশে আমি কায়কোবাদ স্যারকে বা বুয়েটের কয়েকজন স্যারকে (পদাধিকার বলে) সরকারি টেন্ডার কমিটি ছাড়া কিছুতে দেখেছি বলে মনে পড়ে না । আমি বলছি না, দক্ষ প্রযুক্তিবিদকে মন্ত্রী বানাতে । আমার চাওয়া সৎ ও মেরুদন্ডওয়ালা দক্ষ প্রযুক্তিবিদেরকে সরকারের ডিজিটালাইজেশন উপদেষ্টা করা । তাদের মাধ্যমে ধাদ্ধাবাজ তথ্য প্রযুক্তিবিদদেরকে সরকারী কোষাগার থেকে দূরে রাখা । সঠিক লোকের সঠিক জায়গায় থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।
গ্রাম বাংলায় একটা কথা আছে,
“যদি ছাগল দিয়ে হাল চাষ হতো তবে কেউ কষ্ট করে গরু পালতো না । “

২ thoughts on “পেপাল বিতর্ক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *