আমরা কি কখনও রাস্ট্রের মূল নীতি থেকে দূরে সরে গেছি ? আমি বলব, না কোন দিনও যাই নাই ।

আমরা সকলেই জানি বাংলাদেশ রাস্ট্র হিসাবে সাংবিধানিকভাবে চারটি মূলস্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত। সেগুলো হলো জাতীয়তাবাদ, ধর্ম নিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র। যদিও অনেক প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে বলে থাকে একাত্তরের ৪টি মূলস্তম্ভ থেকে নাকি আমরা দিন দিন হাঁটি হাঁটি পা পা করে করে অনেকদূর চলে যাচ্ছি । কিন্তু কথাটা মারাত্নকরকম ভুল। আসলে আমরা লাইনেই আছি । জংগীদের কোরান হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা করার মত এইক্ষেত্রে তারাও ভুল অর্থ ও ব্যাখ্যা করছে । তারা ইসলাম থেকে সরে গিয়ে নাস্টেক কাফের হয়েছে বলেই ভুলভাল অর্থ ও ব্যাখ্যা করছে । কি বিশ্বাস হচ্ছে না ? তাইলে নিচেই অর্থ সহ সহি ব্যাখ্যা দেখুন ও হিংসাপনা ছেড়ে সহি পথে আসুন । ইসলাম আমাদের রাস্ট্রের মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক নয় বলেই সকল জ্ঞানী শাসক গোষ্ঠী ইসলামকেই আদর্শ হিসাবে নিয়ে রাস্ট্র ধর্ম গ্রহন করেছে । ইসলামে জাতীয়তাবাদ, ধর্ম নিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র সবই আছে । চারস্তম্ভের অর্থ ব্যাখ্যাসমূহ নিচে দেয়া হলো:

১. জাতীয়তাবাদ –অর্থ বাংলাদেশী মুসলিম জাতীয়তাবাদ। ব্যাখ্যাঃ ৭১’এ বাঙালি অতঃপর বাঙালি মুসলমান পরবর্তীতে মুসলমান বাঙালি এরপর বাংলাদেশী মুসলমান । ফলে এই জাতীয়তাবাদের উপর ভিত্তি করে স্বাধীনতার পর থেকে এই বাংগালী মুসলমানদেরকেই বেশী করে মূল্যায়ন করা হয়েছে । ইসলামের এই জাতীয়তাবাদের কারনেই দুনিয়ায় সকল মুসলমান জাতির রাস্ট্র এক নয় । ভিন্ন ভিন্ন মুসলমান জাতির ভিন্ন ভিন্ন রাস্ট্র । আর এই কারনেই মুসলমান হলেও অন্যদেরকে আমরা সহি মুসলমান বলি না । এটাই আমাদের সহি জাতীয়তাবাদ ।

২. ধর্ম নিরপেক্ষতা –অর্থ মদিনা সনদ । ব্যাখ্যাঃ জাতির পিতা বলে গেছেন, ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে ধর্মহীন নয় । আমাদের বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও নিজেই তা ঘোষণা করেছেন। এর পরেও বিস্তারিত কিছু বলার আছে ? এই মদিনা সনদের ফলে দেশ অমুসলিম শূন্য হলে সেটা ধর্ম নিরপেক্ষতা তত্ত্বের দোষ, তাদের বা আমাদের নয় ।

৩. গণতন্ত্র –অর্থ ইজমা – কিয়াস । ব্যাখ্যাঃ ভাবছেন ইজমা ও কিয়াস ও গনতন্ত্র কি এক ? ইজমা কিয়াস কী ? ইসলাম যদিও পরিপূর্ণ জীবন বিধান এবং সকল কিছু কুরান-হাদীসে আছে তথাপি মহান আল্লা পাক গনতন্ত্র শিক্ষার জন্য ইসলামে ইজমা ও কিয়াস নামে চমকপ্রদ অপশন দিয়েছেন । যদি কোনো কিছু সরাসরি কুরান-হাদীসে পাওয়া না যায় তাহলে ইসলামের ধ্বজাধারী আলেমরা কুরান-হাদীস ঘেঁটে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ফতোয়া জারির নামই ইজমা-কিয়াস।

যেমন: কুরান-হাদীসে টেলিভিশনের নাম না থাকলেও আলেমরা “ছবি আঁকা হারাম” হাদীসের আলোকে ফতোয়া জারি করেন টেলিভিশন দেখা হারাম। যা হোক, সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেয়াটা তো নিখাদ গণতন্ত্র। শুধু তাদের সেই বিষয়ে জ্ঞান থাকতে হবে । ফলে নেতারাও নিজেরা নিজেরা মিলে আলোচনা করে বিভিন্ন আইন তৈরি করে গনতন্ত্রকে শক্তিশালী করে চলেছে । সাধারনরা নিশ্চয় নেতাদের চেয়ে জ্ঞানী নয় তাই না ? অর্থাৎ ইজমা কিয়াসই আল্লার মনোনিত গনতন্ত্র । ফলে স্বাধীনতার পর থেকেই এই গনতন্ত্রই সবাই মেনে ও মানায়ে চলছে । শুধু যারা মত দেওয়ার আলোচনার টেবিলে যায়গা পাচ্ছে না তারাই গনতন্ত্র নাই গনতন্ত্র নাই বইলা কাঁদতাছে ।

৪. সমাজতন্ত্র –অর্থ গনিমতের মাল। ব্যাখ্যাঃ গণিমতের পাঁচ ভাগের এক ভাগ আল্লাহ তথা মুহাম্মদের আর বাদবাকি অংশ সবার মধ্যে ভাগ করে দেয়ার নিয়ম। আর সমাজতন্ত্রের সাধারণ কথাটা হলো সম্পদের সুষম বন্টন। প্রমান হিসাবে দেখুন সেই ৭২ থেকেই হিন্দুদের সম্পত্তি শত্রু সম্পত্তি থেকে অর্পিত সম্পত্তি হিসাবে সংবিধানে যায়গা পেয়েছে এবং সরকারী কম্বল চুরি করেও কোন বিচারের সম্মুখিন হতে হয় নাই । যা গনিমতের মাল তত্বেরই আধুনিক রূপ । তাই সকল দলের দেশ প্রেমিক নেতারাই এই সমাজ তন্ত্র অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে । বড় নেতা বেশী পাবে ছোট নেতা কম পাবে । এটাই আল্লার মনোনিত এক্কেরে শতভাগ সহি সমাজতন্ত্র । এক্ষেত্রে শুধু তারাই সমাজতন্ত্র নাই বইলা চিক্কুর দিতাছে যারা গনিমতের মালের ভাগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ।

এবার আসুন এই মূলনীতি যোগ করে দেখি কি ফলাফল হয় । আমাদের রাস্ট্রের মূলনীতি = জাতীয়তাবাদ (বাংলাদেশী মুসলিম জাতি) + ধর্ম নিরপেক্ষ (মদিনা সনদ) + গনতন্ত্র (ইজমা ও কিয়াস) + সমাজতন্ত্র (গনিমতের মাল) = বাংলাদেশী ইসলামতন্ত্র ।

কি এবার বুঝেছেন তো ! নাকি এখনও হাউকাউ করবেন ?

অতএব আসুন সবাই সহি ভাবে বাংলাদেশী ইসলামতন্ত্র মানি এবং রাস্ট্রের মূলনীতি গুলিকে শক্তিশালী করে দেশের উন্নতি করি , নিশ্চয় মহান আল্লা আমাদের সহায় হবেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *