গুরু

গুরু শব্দটা মনে এলেই আমার কেমন অদ্ভুত লাগে, হাসি পায়, আবার দম বন্ধও হয়ে আসে । যাক, অতো কথা বলে লাভ নেই, ক্ষতি আছে, জানিনা কেন খাতা গুলোয় মার্জিন দেয়া থাকে, মার্জিন তুলে দিলেওতো অনেক গাছ বাঁচে । যাক, গুরু নিয়ে লিখতে বসেছি গাছ টেনে লাভ নেই ।

আমি নেহাত মুর্খ নই, স্কুলে গেছি । অনেকজন গুরুর কাছেই পেয়েছি শিক্ষা । সব পাঠ মনে নেই, দুয়েকটা আছে । মনে থাকার মধ্যে থেকেই বেছে কয়েকটা বলছি । বিদ্যাসাগরকে বলা হয় দয়ারও সাগর । কিন্তু কবি মশাই ‘বীর’ও বলে গেছেন উনাকে । কিন্তু ‘বীর’ কেন বললেন ? অতি উত্তমরূপে কারণটা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন দিদিমণি, খুব সম্ভব সপ্তম শ্রেণীতে । বিদ্যাসাগরতো দান করতেন, কিন্তু দান করার টাকা পেতেন কই ? আসলে ছোরা-টোরা নিয়ে বাবা-মাকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে সেই টাকা দিয়ে দিতেন গরিব লোকেদেরকে, ছোরা-টোরা নিয়ে কারবার ছিল কিনা, তাই কবি উনাকে ‘বীর’ বলেছেন ।

এই দিদিমণিরই আরো একখান পাঠ মনে গেঁথে আছে । ভাত অভিশাপ দেয় । একটা ভাতও অপচয় করা ঠিক নয়, তরকারি থেকে গেলে ফেলে দিতেই পারো, তরকারি অভিশাপ দিতে পারেনা । তারপর শুনেছিলাম, সেবছর পিকনিকে নাকি অবশিষ্ট মাংস ফেলে দিয়ে ভাতগুলো শুধু বাগানী ছেলেদের দিয়ে আসা হয়েছিল ।

এবার বলছি একজন স্যারের দেয়া পাঠের গপ্পো, স্যার ছিলেন জীবন বিজ্ঞানের । সেদিন পড়াচ্ছিলেন কোশ, কোশের মধ্যে সব থেকে বড় কোশ হচ্ছে গিয়ে ডিম, ডিমের মধ্যে বড় ডিম হচ্ছে উঠের ডিম, উঠ মানে উঠ পাখি । তো ডিমের খোলস হচ্ছে কোশপর্দা, সাদা অংশ সাইটোপ্লাজম, কুসুম হচ্ছে নিউক্লিয়াস । এই স্যার বড্ড বিজ্ঞান মনষ্ক, গোবর থেকে রামনাম সব কিছুর পেছনে লুকিয়ে থাকা বিজ্ঞান বলেছিলেন । সবারই জানা, তাই বলছিনা । বরং বলে ফেলি অন্য একজন স্যারের বিজ্ঞান, তো এবারের প্রশ্ন সন্ধ্যাকালে ঝান, ঘন্টা এসব বাজানো হয় কেন ? কেন ! আসলে সন্ধ্যার সময়টাতে পাতাল হতে মারাত্মক জীবানুদের গ্যাঙ উপরে উঠতে থাকে, তখন ঝান বাজালে সেই সব জীবানুদের পেট যায় ফেটে । কথায় আছে, “পেট ভালো যার, সব ভালো তার”, পেটই যার নেই সে যে মরে গেছে এটা তো স্পষ্ট । অর্থাৎ সন্ধ্যাকালীন জীবানু ধ্বংসই হচ্ছে কা র ণ ।

অপর একজন দিদিমণির কথা বলে আজকের মত ইতি টানবো । দিদিমণি মল্টি-টলেন্টেট, অংক থেকে ইংরিজী, বাংলা থেকে ইতিহাস, ভূগোল থেকে পরিবেশ বিজ্ঞান, সবেতেই পারদর্শি, প্রত্যেকটা বই তিনি পড়ে ফেলতেন গড় গড়িয়ে, পড়ে ফেলা মানেই পড়িয়ে ফেলা এটা আশা করি বুদ্ধিমান পাঠক বুঝে ফেলেছেন । কত কী পড়েছিলেন (মানে পড়িয়েছিলেন) ক্লাসে তার ইয়ত্তা নেই । মনে নেই, থাকার কথাও নয় । শুধু মনে আছে পরিবেশ বিজ্ঞানের কথা, বজ্র পদার্থ কত প্রকার সেটা আমি জানি । সত্যি বলছি জানি । বিশ্বাস করোনা ? মাথা ছুঁয়ে বলছি, যদি মিথ্যা বলে থাকি তাহলে আজই বর্জ্যাঘাতে প্রাণ যাবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *