আবার তারা মানুষ হউক!

১.
ডিপার্টমেন্টের জুনিয়র যখন সিনিয়র আপুকে শ্লীলতাহানি করে, তখন আমার কি করা উচিত আমি জানি না। আমি আরো জানি না, আমার সহপাঠী বান্ধবীকে অপমানিত করা হলে কি করা উচিত। শুধু জানি, আমি ও আমার প্রতিবাদী বন্ধুরা সবাই নপুংসক। খুব অসহায় লাগে নিজেকে। প্রতিবাদ করার শক্তি খুজে পাই না। প্রতিবাদ-প্রতিঘাতে নাকি খুটির জোড় লাগে। আমাদের কোন খুটিই নাই, জোড় তো দূর কি বাত। আছে শুধু বিক্ষিপ্ত মনের আস্ফালন এবং অসহায় চোখের করুণ চাহনি। এমন সমাজ তো আমরা চাই না। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে যদি মনমানসিকতা এমন হয়, তাহলে সেরকম বিশ্ববিদ্যালয়ের দরকার নাই। গরুর চারণভূমি করা হোক। কুলাঙ্গারের চারণভূমির থেকে গরুর চারণভূমিই ভাল। দেশের মানুষ তাতে পুষ্টি পাবে।



১.
ডিপার্টমেন্টের জুনিয়র যখন সিনিয়র আপুকে শ্লীলতাহানি করে, তখন আমার কি করা উচিত আমি জানি না। আমি আরো জানি না, আমার সহপাঠী বান্ধবীকে অপমানিত করা হলে কি করা উচিত। শুধু জানি, আমি ও আমার প্রতিবাদী বন্ধুরা সবাই নপুংসক। খুব অসহায় লাগে নিজেকে। প্রতিবাদ করার শক্তি খুজে পাই না। প্রতিবাদ-প্রতিঘাতে নাকি খুটির জোড় লাগে। আমাদের কোন খুটিই নাই, জোড় তো দূর কি বাত। আছে শুধু বিক্ষিপ্ত মনের আস্ফালন এবং অসহায় চোখের করুণ চাহনি। এমন সমাজ তো আমরা চাই না। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে যদি মনমানসিকতা এমন হয়, তাহলে সেরকম বিশ্ববিদ্যালয়ের দরকার নাই। গরুর চারণভূমি করা হোক। কুলাঙ্গারের চারণভূমির থেকে গরুর চারণভূমিই ভাল। দেশের মানুষ তাতে পুষ্টি পাবে।

২.
দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সমুহে এ রকম ঘটনা লজ্জাজনক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পুরনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহে এ রকম ঘটনা সত্যিই ভয়ংকর বিপদসঙ্কেত।

৩.
স্যোসিওলোজি পরে কি শিখলাম? কি শেখা যায়? আদতে কোন বিষয় পড়ে কি কিছু শেখা যায়? মনে হয় যায় না! গেলেও সেটা অন্য কোন শিক্ষা। মানুষ হওয়ার শিক্ষা না। মানুষ হওয়ার শিক্ষা সমাজতত্বে থাকে না। সমাজে তাকে। এ কথা গুলো বলার কারণ হলো- বিশ্ববিদ্যালয় পড়লেই যদি মানুষ হওয়া যেত তাহলে, অমানুষ বদমাশগুলো এখানে লালিত পালিত হতো না। খুব ইচ্ছে ছিলো অনেক গালি দেব ওদের উদ্দেশ্যে। মনটাকে হালকা করবো। পারলাম না। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও আমাদের অনেক পূর্বপুরুষরা কিছু বলতে পারেননি রাজাকারদের ভয়ে। একটাই স্বান্তনা। আমিও তাদের বংশধর। গর্বিত বংশধর।

১৪ thoughts on “আবার তারা মানুষ হউক!

  1. বিশ্ববিদ্যালয় পড়লেই যদি মানুষ

    বিশ্ববিদ্যালয় পড়লেই যদি মানুষ হওয়া যেত তাহলে, অমানুষ বদমাশগুলো এখানে লালিত পালিত হতো না

  2. আমি মর্মাহত… আমরা
    আমি মর্মাহত… আমরা লজ্জিত…
    একটাই কথা বারবার বলিঃ আমাদের শিক্ষা মূল উদ্দেশ্য সৃষ্টিতে সফলভাবে ব্যর্থ বলেই আজ শিক্ষিতরুপী অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন পশুরা এমন কাণ্ড করতে পারে। যতদিন মূল্যবোধ সৃষ্টিতে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ব্যর্থ হবে ততদিন উত্তরণের পথ দেখি না!!
    আশায় থাকলাম, একদিন সবাই মানুষ হবে…
    :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন: :ভাঙামন:

  3. হুম। আমি নিজেও নপুংশক। এর
    হুম। আমি নিজেও নপুংশক। এর প্রমান আমি পেয়েছি। হুমায়ুন আজাদ একটা কবিতায় বলেছিলেন, এই বিংশ শতাব্দিতে সত্য কথা বলাও সাহস। এখন পৃথিবীর মায়া নেই , তাই হয়তো ঝাপিয়ে পড়ব।

  4. দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ
    দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ সমুহে এ রকম ঘটনা লজ্জাজনক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পুরনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহে এ রকম ঘটনা সত্যিই ভয়ংকর বিপদসঙ্কেত।

    1. পথিক,
      আমরা ভাল মানুষের দেশ

      পথিক,
      আমরা ভাল মানুষের দেশ চাই।
      ভাল পরিবেশের বিশ্ববিদ্যালয় চাই।

  5. আমার কাছে অদ্ভুত লাগল
    আমার কাছে অদ্ভুত লাগল ব্যাপারটা। এরকম একটা ঘটনা ঘটল, আর আপনারা কিছুই করলেন না? সবাই নিশ্চয় নষ্টদের দলে নাম লেখায়নি। নাকি আপনারা চেষ্টাই করেননি? ভয় পাওয়াটাই আমার কাছে আশঙ্কাজনক এবং লজ্জাজনক মনে হলো, স্যরি টু সে।

    1. প্রতিবাদ যে একেবারে হয় নাই
      প্রতিবাদ যে একেবারে হয় নাই সেটা কিন্তু না। হয়েছে। তবে, বুকের মধ্যে যতগুলো ক্ষোভ আছে ঝারতে পারিনি। এটাই কষ্ট।

      1. যৌন হয়রানি: আন্দোলনে চবির
        যৌন হয়রানি: আন্দোলনে চবির ছাত্রীরা।আমি জানতাম এভাবে মুখ বুজে সহ্য করে নেবেনা একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাও আবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঐতিহ্যবাহী একটা বিশ্ববিদ্যালয়। অলরেডি সেই কুলাঙ্গারকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। বিচার হবেই। শুধু আমাদের একটু ফুঁসে উঠতে হবে ভাই।

  6. ভাল পদ্ধতি
    ১) অভিযুক্তদের

    ভাল পদ্ধতি

    ১) অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা। এই ব্যাপারে হাটহাজারী থানার ওসি, চট্রগ্রাম জেলা পুলিশ প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করা ও স্মারকলিপি প্রদান করা।

    ২) চট্রগ্রাম ভার্সিটি হতে আজীবন বহিস্কার করা। এই জন্য ভিসি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান, প্রশাসন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচী ও মানব বন্ধন করা।

    ৩) প্রকাশ পেয়েছে, অভিযুক্তদের একজন ছাত্রলীগের কর্মী। ভার্সিটি ছাত্রলীগের সভাপতির সাথে যোগাযোগ করে তাকে সংগঠন হতে বহিস্কারের ব্যাপারে নিশ্চিত করতে হবে এবং সেই সাথে তারা যেন, এই প্রতিবাদের বিপক্ষে কোনভাবেই অবস্থান না নেই, সেটা নিশ্চিত করা।

    ৪) চট্রগ্রাম ভার্সিটির শিক্ষক সমিতির সাথে দেখা করতে হবে এবং তারা এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে যেন বিবৃতি দেন সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

    ৫) একটা সাংবাদিক সন্মেলন করতে হবে, যেখানে সকল মিডিয়ার সাংবাদিক যাতে উপস্থিতি থাকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। এই ব্যাপারে, ভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির প্রেসিডেন্টের সাথে যোগাযোগ করে সহায়তা নেয়া যেতে পারে সহজেই।

    সবচেয়ে ভাল পদ্ধতি

    একেবারেই ঠান্ডা হয়ে যান সবাই। আন্দোলন-প্রতিবাদ সব বাদ দেন। এনার্জি খরচ করার কোন
    দরকার নাই। এক-দুই লাখ টাকার একটা ফান্ড ক্রিয়েট করেন। একটা ভাড়াতে প্রফেশনাল গুন্ডা বাহিনির খোজ করেন। আশা করছি, পেয়ে যাবেন। ওদেরকে এসাইনমেন্ট দেন, ওই দুই কুলাঙ্গারের বিচি চেছে ফেলার জন্য। বিচি চেছা ফেলার পর ওইগুলা হিজড়াই পরিণত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *