যাচাই-বাচাই,

মরা মানুষ যেখানে যে অবস্থায় আছে সেখান থেকে তাকে বের
করে এনে জীবিত মানুষের আকারে দাঁড় করানো হবে।
বুকের মধ্যে যেমন ইচ্ছা ও নিয়ত, স্বার্থ ও উদ্দেশ্য, চিন্তা, ভাবধারা এবং
বাহ্যিক কাজের পেছনে যেসব গোপন অভিপ্রায় লুকিয়ে আছে
সেসব খুলে সামনে রেখে দেয়া হবে। সেগুলো যাচাই করে ভালো ও
খারাপগুলোকে আলাদা আলাদা করে দেয়া হবে।
অন্য কথায় শুধুমাত্র বাইরের চেহারা দেখে মানুষ বাস্তবে যা কিছু করেছে
সে সম্পর্কে শেষ সিদ্ধান্ত শুনিয়ে দেয়া হবে না।,।
বরং মনের মধ্যে লুকানো রহস্যগুলোকে বাইরে বের করে এনে দেখা হবে যে,
মানুষ যেসব কাজ করেছে তার পেছনে কি উদ্দেশ্য ও স্বার্থ-প্রেরণা লুকিয়েছিল।
এ বিষয়টি চিন্তা করলে মানুষ একথা স্বীকার না করে পারে না যে,
আসল ও পূর্ণাংগ ইনসাফ একমাত্র আল্লাহর আদালতে ছাড়া আর কোথাও কায়েম হতে পারে না।
নিছক বাইরের কাজকর্ম দেখেকোন ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া যায় না
বরং কি উদ্দেশ্যে সে এ কাজ করেছে তাও দেখতে হবে।।।।।
দুনিয়ার ধর্মহীন আইন ব্যবস্থাগুলোও নীতিগতভাবে একথা জরুরী মনে করে
তবে নিয়ত ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনুসন্ধান চালিয়ে তার সঠিক চেহারা সণাক্ত করার মতো উপকরণ দুনিয়ার কোন আদালতেরও নেই। একমাত্র আল্লাহই এ কাজ করতে পারেন একমাত্র তিনিই মানুষের প্রত্যেকটি কাজের বাইরের চেহারার পেছনে যে গোপন প্রেরণা ও উদ্দীপনা সক্রিয় থাকে তা যাচাই করে সে কোন্ ধরনের পুরস্কার ন্ন।বা শাস্তির অধিকারী হতে পারে তা নির্ধারণ করতে পারেন।
ইতাছাড়া আয়াতের শব্দাবলী থেকে একথা সুস্পষ্ট যে, মনের ভেতরে, ইচ্ছা, সংকল্প ও নিয়ত সম্পর্কে আল্লাহ‌ পূর্বাহ্নেই যে জ্ঞান রাখেন নিছক তার ভিত্তিতে এ ফায়সালা হবে না। বরং কিয়ামতের দিন এ রহস্যগুলো উন্মুক্ত করে সবার সামনে রেখে দেয়া হবে এবং প্রকাশ্য আদালতে যাচাই ও পর্যালোচনা করে এর কতটুকু ভালো ও কতটুকু খারাপ ছিল তা দেখিয়ে দেয়া হবে। এজন্য এখানে(حُصِّلَ مَا فِىۡ الصُّدُوۡرِۙ‏) বলা হয়েছে। কোন জিনিসকে বের করে বাইরে নিয়ে আসাকে ‘হুসসিলা’ বা ‘তাহসীল’ বলে। যেমন, বাইরের ছাল বা খোসা ছড়িয়ে ভেতরের মগজ বের করা। এভাবে বিভিন্ন ধরনের জিনিসকে ছেঁটে পরস্পর থেকে আলাদা করার জন্যও এ শব্দটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। কাজেই মনের মধ্যে লুকানো রহস্যসমূহের ‘তাহসীল’ বা বের করে আনার মধ্যে এ দু’টি অর্থ শামিল হবে। সেগুলোকে খুলে বাইরে বের করে দেয়াও হবে আবার সেগুলো ছেঁটে ভালো ও মন্দ আলাদা করে দেয়াও হবে। এ বক্তব্যটিই সুরা আত তারিকে এভাবে বলা হয়েছেঃ (يَوۡمَ تُبۡلَى السَّرَآٮِٕرُۙ ) “যেদিন গোপন রহস্য যাচাই বাছাই করা হবে।” (৯ আয়াত

!।।
নিচের আয়াতটি অনুধাবন করুন ঃ
সুরা আল আদিয়াত আয়াত ১০. যখন কবরের মধ্যে যা কিছু (দাফন করা) আছে সেসব বের করে আনা হবে এবং বুকের মধ্যে যা কিছু (লুকানো) আছে সব বের করে এনে যাচাই করা হবে???
।।

সূরা আত্ব-তারিক্ব:6 – সে সৃজিত হয়েছে সবেগে স্খলিত পানি থেকে।
সূরা আত্ব-তারিক্ব:7 – এটা নির্গত হয় মেরুদন্ড ও বক্ষপাজরের মধ্য থেকে।
সূরা আত্ব-তারিক্ব:8 – নিশ্চয় তিনি তাকে ফিরিয়ে নিতে সক্ষম।
সূরা আত্ব-তারিক্ব:9 – যেদিন গোপন বিষয়াদি পরীক্ষিত হবে,
সূরা আত্ব-তারিক্ব:10 – সেদিন তার কোন শক্তি থাকবে না এবং সাহায্যকারীও থাকবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *