মজিদ মিঞা বা প্যাঁচা উপাখ্যান

আমাদের কোন স্মৃতি ছিল না। যা ছিল তা শুধুই বিস্মৃতি। আর আমাদের বিস্মৃতিতে চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমাত একজন মজিদ মিঞা। মজিদ মিঞা জন্মান্ধ, আমরা জানতাম যে ছয় মাস বয়সেই ধরা পরে মজিদ মিঞা মূক ও বধির। তাকে ডাকলে সে তার অন্ধ চোখ জোড়া দিয়ে ফ্যাল ফ্যাল কর তাকিয়ে থাকত আর মাঝে মাঝে অস্ফুঁস্ট স্বরে কান্না জুড়ে দিত। সেই মজিদ মিঞাকে আমরা একদিন দেখলাম সুপুরি গাছ বেয়ে উপরে উঠে যেতে। সুপুরি গাছের মাথায় বসে সে কথা বলত একটি প্যাঁচার সাথে। “কি খবর প্যাঁচা মিঞা ক্যান আছেন? ”

আমাদের কোন স্মৃতি ছিল না। যা ছিল তা শুধুই বিস্মৃতি। আর আমাদের বিস্মৃতিতে চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমাত একজন মজিদ মিঞা। মজিদ মিঞা জন্মান্ধ, আমরা জানতাম যে ছয় মাস বয়সেই ধরা পরে মজিদ মিঞা মূক ও বধির। তাকে ডাকলে সে তার অন্ধ চোখ জোড়া দিয়ে ফ্যাল ফ্যাল কর তাকিয়ে থাকত আর মাঝে মাঝে অস্ফুঁস্ট স্বরে কান্না জুড়ে দিত। সেই মজিদ মিঞাকে আমরা একদিন দেখলাম সুপুরি গাছ বেয়ে উপরে উঠে যেতে। সুপুরি গাছের মাথায় বসে সে কথা বলত একটি প্যাঁচার সাথে। “কি খবর প্যাঁচা মিঞা ক্যান আছেন? ”
এরপর প্যাঁচাটি কিছু একটা বলত যা বুঝার সাধ্য আমাদের কারোই ছিলনা। ঠিক এ সময় হাজির হত আমাদের বাবা, চাচারা। স্কুলে না গিয়ে আমাদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মাথায় চাটি মেরে স্কুলে পৌছে দিত আর বলত ‘পোলাপান বড়ই বদমাশ, খালি ফাঁকিবাজি’। আর তাই মজিদ মিঞার কথোপকথনের বাকি অংশ আমরা কোনদিনই শুনতে পারতাম না। এরপর একদিন পাড়ায় রটে গেল মজিদ মিঞাকে জিনে আছর করেছে তাই সে প্যাঁচার ছদ্মবেশী জিনের সাথে কথা বলে। আর এই সুযোগে প্রতিদিন ক্লাসে এসে ঝিমুতে থাকা মৌলভী স্যার আমাদের পাড়ানোর বিষয় পেয়ে যায়। সেই থেকে তিনি প্রতিদিন আমাদের জিনের বর্ণনা দিতে লাগলেন।
“ জিন হইল গিয়া তুমার আগুনের তৈরী বুঝলা পুলপান” আমরা সবাই সমস্বরে বলতাম “জি
জনাব”।
তিনি আরো বলতেন “আল্লাহ পাক দুটি জিনিসকে তার ইবাদতের লাইগা সৃষ্টি করেছেন।
একটি হইল মানুষ আরেকটি হইল জিন ।তাই পবিত্র কুরান এ আছে ওয়ামা খালাকতুল জিন্নাহ ওয়াল ই্নসা ইল্লাহ লিয়াবুদুন।”
অর্থ হইল গিয়া আমি জিন ও মানুষদের আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি ”।
প্রতিদিন ঠিক এই সময়ে ঘন্টা বেজে গেলে মৌলবি স্যার বেরিয়ে যেতেন, জিন সম্পর্কিত বাকি সব তথ্য আমাদের অজানাই থেকে যেত। পরের দিন মৌলবি স্যার আবার আগের জায়গা থেকে শুরু করতেন জিন হইল গিয়া ……. আর ক্লাস শেষে হত…. সৃষ্টি করিয়াছি। এরই মধ্যে আমাদের বিজ্ঞান ক্লাসে হাজির হয় হয় এক নতুন শিক্ষক। প্রথম দিন তিনি আমাদের গল্প শুনাতে চাইলে,আমার মৌলবি স্যারের অসমাপ্ত জিনের গল্প শুনতে চাইলাম তিনি আমাদের মেছো বাঘের গল্প শুনতে শুরু করলেন। যে বাঘ পথ ভুলে
জনপদে এসে পরলে নগরবাসী তাকে পিটিযে মেরে ফেলেছিল। আর সেই বাঘের চামড়া দিয়ে তৈরী হল একটি লাল কার্পেট। যে কার্পেট ভর দিয়ে ঘুরে বেরাত একটি মূক, অন্ধ ও বধির শিশু । নতুন স্যার গল্পটি এই পর্যন্ত এসে থামলে আমাদের মনে পড়ে মজিদ মিঞার কথা। আমরা মজিরদ মিঞা,বাঘ, জিন ও প্যাঁচা সবমিলিয়ে নতুন এক বিভ্রান্তিতে পড়ি । অগ্যতা আমরা মা-দাদির কাছে জিনের গল্প শুনতে চাইলে তারা ও আমাদের মজিদ মিঞার গল্প শুনাতে শুরু করে। মজিদ মিঞার মায়ের স্বামী সবুর মিঞা প্রগৈাতিহাসিক কালে একবার যুদ্ধে গিয়েছিল। যুদ্ধ থেকে সে ফিরে না এলে ও ফিরে এসেছিল শিং মাছের ছদ্মবেশী নুরু মোল্লা, আর তার এক বছর পর জন্ম হয়েছিল মজিদ মিঞার। বারংবার জিনের গল্প শুনতে
গিয়ে এভাবে মজিদ মিঞার গল্প ঢুকে যাওয়ায় আমরা যথেষ্ট বিরক্ত হলেও তারা প্রতিদিন র্নিবিবকার ভাবে শুনিয়ে যেতে থাকল এই গল্প। এখন আমরা আর মজিদ মিঞাকে সুপুরি গাছ বেয়ে উপরে উঠতে
দেখিনা, কারন মজিদ মিঞা এখন সুপুরি গাছের উপরেই থাকে। আর সেখানে বসে সে প্যাঁচার সাথে তার কথোপকথন চালিয়ে যায়। ইতোমধ্যে আমরা শুনতে পেলাম লম্বা কোর্তা চাপিয়ে হাজির হয়েছে সৌদি ফেরত নুরু মল্লা। যদিও তার শিং মাছ থেকে পুনরায় মানুষ হওয়া সম্পর্কে আমার কোন
হাদিসই বের করতে পারলাম না। সেই সাথে গ্রামের মানুষ তার দেওয়া সৌদি কাফনের কাপড় পেয়ে সেই সম্পর্কে আর কিছুই মনে করতে চাইল না ্ তখন চায়ের দোকানে বসে সবাই বলাবলি করত“মোল্লা সাব নবীর দেশের কাফনের কাপড় দিয়া বড়ই উপকার করছে এখন মরে শান্তি”।
বর্ষার পরপর এলকায় নির্বচনী হওয়া বইতে শুরু করলে সবাই মিলে নুরু মোল্ল­া কে দাঁড় করিয়ে
দেয়। সে সময় আমরা কিছুদিনের জন্য মজিদ মিঞার কথা বিস্মৃত হই। নির্বাচনে জেতার কিছুদিন
জন্য মজিদ মিঞার অবস্থা জানতে চাইলে আমাদের পুনরায় মজিদ মিঞার কথা স্মরণ হয়। সবাই মিঞার জিনে ধরা থেকে শুরু করে সুপুরী গাছে বসত গড়ার কাহিনী জানাল , নুরু মোল্লা সব শুনে গাল
দিল এই বলে যে তোমার মিঞারা বড়ই বদমাশ । এতদিন হইল আমাদের কিছুই শুনাইলানা।” আমরা কিছু না বলে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকি। “আমারে লইয়া চল। হের চিকিৎসাপাতির খরচ আমি দিমু।একটা মানুষ গাছের আগায় বসত করে আর তোমরা মিঞার চুপ মাইরা থাহ”। মজিদ মিঞার চিকিৎসার কথা শুনে আমরা যখন সুপুরি গাছের নিচে ভীর জমালাম। তখন আমরা সেখানে মজিদ মিঞার কিংবা তৎসংশ্লিষ্ট কোন স্মারকের খোঁজ পেলাম না এরপর থেকে আমাদের বিস্মৃতিতেও আর কখনো মজিদ মিঞার কথা মনে আসেনি ।

১২ thoughts on “মজিদ মিঞা বা প্যাঁচা উপাখ্যান

  1. মনে হয়েছে একটু বেশিই দ্রুত
    মনে হয়েছে একটু বেশিই দ্রুত এগিয়েছেন। আর একটু ধীরে সুস্থে গেলে হত। আর লেখা চালিয়া যান…

  2. বার বার কেটে কেটে যাচ্ছিল
    বার বার কেটে কেটে যাচ্ছিল গল্পের ধারাবাহিকতা…
    তবে ভাল হবে!! চালিয়ে যান। :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

  3. আমার কাছে কিন্তু দারুন লাগল
    আমার কাছে কিন্তু দারুন লাগল আপনার লেখার স্টাইলটা। একটু নতুন ধরনের। এটাই আপনার স্টাইল, ধরে রাখবেন প্লীজ। চমৎকার লাগল।

  4. “……..আমরা জানতাম যে ছয়
    “……..আমরা জানতাম যে ছয় মাস বয়সেই ধরা পরে মজিদ মিঞা মূক ও বধির। তাকে ডাকলে সে তার অন্ধ চোখ জোড়া দিয়ে ফ্যাল ফ্যাল কর তাকিয়ে থাকত আর মাঝে মাঝে অস্ফুঁস্ট স্বরে কান্না জুড়ে দিত। সেই মজিদ মিঞাকে আমরা একদিন দেখলাম সুপুরি গাছ বেয়ে উপরে উঠে যেতে। সুপুরি গাছের মাথায় বসে সে কথা বলত একটি প্যাঁচার সাথে। “কি খবর প্যাঁচা মিঞা ক্যান আছেন?……. ”

    মূক, বধির একজন লোক কথা কি করে বলে? অন্ধ লোক গাছেই বা উঠে কি করে? গল্পটার মূল বিষয়টাই বুঝতে পারিনি| হয়ত এটা আমার ব্যর্থতা|

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *