কিভাবে বুঝবেন আপনি পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা পোষণ করেন?

কিভাবে বুঝবেন আপনি পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা পোষণ করেন?

খুব সহজ! না, আপনাকে রকেট সায়েন্টিস্ট হতে হবে না বোঝার জন্য যে আপনি পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার পোষক। শতাব্দি ধরে চলে আসা পুরুষতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণার সোজাসাপ্টা কয়েকটা উদাহরণ দেইঃ

– পুরুষতন্ত্র নারীকে বলে দেয় নারীর ডেফিনেশন কী, নারী আসলে কে? নারী হল মা, নারী হল স্ত্রী, নারী হল কন্যা। নারীর নিজের কোন পরিচয় নেই। পুরুষতন্ত্রের চোখে নারী মানুষ নয়। মানুষ মানে যেন শুধু পুরুষ!
– পুরুষতন্ত্র নারীকে বলে দেয় সে কতটা নমনীয়, কমনীয়, সহনশীল, গৃহকর্মসুনিপুণা, পতিপরায়ণা হবে।
-পুরুষতন্ত্র নারীকে বলে দেয় সে কেমন পোশাক পরবে, কদ্দুর পড়াশুনা করবে, কার সাথে বন্ধুত্ব করবে, কখন বাড়ি ফিরবে, কখন বিয়ে করবে, সন্তান জন্ম দেবে।
-পুরুষতন্ত্র নারীকে, নারীর আচরণকে, নারীর পোশাককে দোষারোপ করে নারীর প্রতি হওয়া কোন সহিংসতার জন্য। পুরুষতন্ত্র মনে করে ধর্ষণ বা ইভ টিজিং এর মত সেক্সুয়াল এবিউসের কারণ নারীর পোশাক এবং আচরণ
– পুরুষতন্ত্র নারীকে বাধ্য করে নাকের গহনা পরতে, শাঁখা-সিদুর পরে সধবা ঘোষনা করতে, পুরুষের অধীনস্ততা প্রমাণ করতে।
– পুরুষতন্ত্র নারীকে দোষারোপ করে কন্যা সন্তানের জন্মদানের জন্য, নারীর শিক্ষাকে দোষারোপ করে স্বামীর মৃত্যুর জন্য
-পুরুষতন্ত্র নারীকে নিরামিষ ভক্ষনে, সাদা কাপড় পরতে বাধ্য করে পতির মৃত্যুতে। সহমরণ আর সতীদাহ পুরুষতন্ত্রের সৃষ্টি।

শত শত বছর ধরে আমাদের মাঝে আমাদের পাশেই থাকে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার পুরুষেরা-নারীরা। পুরুষতান্ত্রিকতা পোষণ করা আধুনিক উচ্চ শিক্ষিত এই ভয়ঙ্কর দুপেয়ে জীবেরা এযুগের নারীকে বলে দেয় নারীর প্রতিবাদ কেমন হবে, নারীর আন্দোলনের ধরণ কেমন হবে!!
আমি ও নারীর অধিকার, নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করি- তবে…..
আমিও ধর্ষণের বিচার চাই কিন্ত…
আমিও ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স এর বিপক্ষে যদি…

এই ভালোমানুষ সেজে থাকা পুরুষতন্ত্রের পালকেরা নারীর আওয়াজকে রুদ্ধ করতে খুব সতকর্তার সাথে আরেক নারীকে দাঁড় করায় প্রতিপক্ষ হিসাবে। আজকের পুরুষতন্ত্রের গৎবাঁধা কথা- নারী আন্দোলন মানে তো রাস্তায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করা নয়, ফেসবুকে রেভোলিউশন নয়- এই, সেই, ওই কর্পোরেট নারীতো চমৎকার কাজ করছে, পরিচিতি পাচ্ছে, সাদুবাদ পাচ্ছে… তাহলে তুমি কেমন নারীবাদী যে কেবল রাস্তায় শ্লোগান দিচ্ছ, মানব বন্ধন করছো, ফেসবুকে লিখে লিখে ফাটিয়ে ফেলছো??

শ্রীমান ও শ্রীমতি, আপনি যখনই আমাকে বলে দেবেন আমার আন্দোলন কেমন হবে, আমার প্রতিবাদ কেমন হবে, আমার শ্লোগান কতটা শালীন শব্দের হবে, তখনই বুঝবেন আপনি পরমতসহিষ্নুতার বিপক্ষে এখনও গহীন গহ্বরে পড়ে আছেন। আপনি পুরুষতন্ত্রকে পুষছেন।

আকেলমান্দকে লিয়ে ইশারাই কাফি হ্যায়!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *