রোহিঙ্গা সমস্যা : সমাধান কোথায়?

মানবতার খাতিরে এ পর্যন্ত ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। মায়ানমারে এ নিপীড়ন
বন্ধ না হওয়ায় তাদের আসার এ ধারা অব্যাহত আছে। মানুষ হিসেবে তাদের পৃথিবীতে সুন্দরভাবে বাঁচার অধিকার আছে। বাংলাদেশের আবেগপ্রবণ মানুষ স্বাগত জানালেও আমাদের সার্বভৌমত্বের জন্য সতর্ক থাকা জরুরী। বাংলাদেশ সরকার কতৃক রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের উদ্যোগ অত্যান্ত সময়োপযোগি একটি সিদ্ধান্ত। সব রোহিঙ্গা লোককে এর আওতায় আনতে পারলে আমাদের জন্য মঙ্গল।

ইউরোপে কোন লোককে পুলিশ ধরলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে নেয়। এ সময় অনেক মানুষ থানায় রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে থাকে। এই বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের ফলে লোকটি আর কোন অন্য পরিচয় বহন করতে পারেনা। ইউরোপে এশিয়ান মানুষের ভাষাগত সমস্যা, চামড়ার রং ও দুর্নীতি না থাকায় মানুষ হয়তো অবৈধভাবে সেই দেশি পারপোর্ট সংগ্রহ করতে পারবে না কিন্তু রোহিঙ্গারা ভাষা, শরীরের রং ও দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশি পাসপোর্ট পেয়ে যেতে পারে। এ জন্য সতর্ক থাকা দরকার। আমি একথা বলছি এজন্য দু একদিন আগে একজন মসজিদের ইমাম নকল স্ত্রী বানিয়ে এক রোহিঙ্গা মেয়েকে পাসপোর্ট বানিয়ে দিতে গিয়ে ধরা খেয়েছেন। অতীতে দেখেছি রোহিঙ্গা ভাইয়েরা বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে গিয়ে আকাম কুকাম করে বাংলাদেশের ইজ্জত ডুবিয়েছেন।

বাংলাদেশে ইয়াবার সবটুকুই আসে মায়ানমার থেকে। এই সুযোগে রোহিঙ্গরা ইয়াবা ব্যবসায় লেগে যেতে পারে। ইতোমধ্যে ইয়াবাসহ এক পরিবার ধরাও খেয়েছেন। তাই সরকারী নজরদারী বাড়াতে হবে।

অবাধে বন কেটে পরিবেশের ক্ষতি করা আর নিজের পায়ে কুড়াল মারা সমান কথা। যে কাজটি ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। নয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরের রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী মো. হোসেন প্রকাশ রফিকের নেতৃত্বে শালবাগান আনসার ক্যাম্প কমান্ডারকে হত্যা করে ১১টি অস্ত্র লুট করা হয়েছিল। খেতে দিলাম বলে যেন আমাদের উপর শুয়ে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও দুই এক জাহাজ খাদ্য দিয়ে সব প্রসংসা পাচ্ছেন এরদোগান। এই পলিটিক্সটা বুঝতে হবে। এরদোগান মায়ানমার সরকারের সাথেও সুসম্পর্কও বজায় রাখছে।

রোহিঙ্গারা তাদের দেশ বসবাসের উপযোগি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকুক তবে দেশের আইন মেনে চলতে হবে। দেশের কিংবা দেশের মানুষের ক্ষতি হতে পারে এমন সন্দেহভাজন রোহিঙ্গা থাকলে অবশ্যই পুশব্যাক করতে হবে। জঙ্গিবাদের বিস্তার যেন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

সাম্প্রতিক একটা নিউজ দেখলাম কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে মায়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢলকে নিরাপত্তার পক্ষে ঝুঁকি বলে মানছে বাংলাদেশও। সোমবার কলকাতায় বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘‘রোহিঙ্গাদের জঙ্গি-যোগের বিষয়টি নিয়ে আমরা ওয়াকিবহাল। উদ্বিগ্নও বটে। সে দিক দিয়ে তারা নিরাপত্তার পক্ষে অবশ্যই ঝুঁকির।’’ আলম জানান, মানবিক কারণে ৮ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থীর আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ চায় মায়ানমার সরকার সব রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ফেরত নিক। কফি আনান কমিটির সুপারিশ মেনে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানেও সচেষ্ট হোক।

পরিশেষে পৃথিবী সকলের বসবাসের উপযোগি হোক । কেউ যেন নিজদেশে পরবাসী না হয়।

১ thought on “রোহিঙ্গা সমস্যা : সমাধান কোথায়?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *