রোহিঙ্গা সংকটঃ সমাধান কোন পথে?

দেরিতে হলেও মিয়ানমার থেকে প্রাণ বাঁচাতে ছুটে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, এটা একটা ভালো উদ্যোগ। তবে যতটুকু বুঝতে পারছি বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করা হবে এই দফায় আগত প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ রোহিঙ্গার। তাহলে বিগত ত্রিশ বছর ধরে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া প্রায় ৬ লক্ষ রোহিঙ্গার কি হবে?

জাতিসংঘ, তুরস্ক কিংবা ইন্দোনেশিয়াও দেখছি এবার সহিংসতায় আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নিয়েই কথা বলছে। আন্তর্জাতিক ত্রাণ সহায়তাও এবার আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদেরকেই দেয়া হচ্ছে।
তবে কি পূর্বে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশী বলে ধরে নিয়েছে? বাংলাদেশ সরকারের এই বিষয়ে মনোভাব কি, সেটাও পরিষ্কার নয়। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার বিরোধীতা করার মতো নির্দয় আমি নই। তবে আমি সবসময় চাই রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের একটি সুস্পষ্ট লক্ষ্য থাকুক। সরকার বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে কিভাবে বাংলাদেশে রাখবে, সেটা পরিষ্কার করা দরকার।

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো বা মিয়ানমার কতৃক রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কোঠায়। এমন অবস্থায় এসব রোহিঙ্গার ভবিষ্যৎ কি হবে, তারা কি বাংলাদেশে তৈরি হওয়া শরণার্থী শিবিরেই পুরো জীবন কাটাবে, নাকি তাদের অন্য কোন দেশে পুনর্বাসিত করা হবে, সেই বিষয়ে এখনই আসলে ভাবা দরকার।

বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। এমন অবস্থায় রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়ে সারাজীবন যে তাদের আমাদের দেশে রাখা সম্ভব নয়, সেটা বিশ্ববাসীকে বুঝানো উচিত। মুসলিম দেশ সমূহের সংগঠন ওআইসির সহায়তা চাওয়া উচিত। যেই দেশসমূহ রোহিঙ্গাদের পক্ষে কথা বলছে, সেই দেশসমূহকে রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে পুনর্বাসিত করার আহ্বান রাখা জরুরি। এই কার্যক্রম সফল করতে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।

জাতিসংঘ রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসেছে। জাতিসংঘের জিম্মায় রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে রাখা উচিত। সেটা অবশ্যই একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে। এই সময়ের ভিতরে জাতিসংঘ হয় রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করবে, না হয় বিকল্প কোন দেশে পুনর্বাসিত করবে।

প্রধানমন্ত্রী কাল সংসদে বলেছেন, আজ রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে গিয়েও বলেছেন, আমরা যদি ১৬ কোটি মানুষের খাবারের জোগান দিতে পারি, তাহলে বাড়তি ৫-৬ লাখ মানুষের খাবারের জোগানও দিতে পারবো। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে সাধুবাদ জানাই। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী, আমরা কয় বছর ধরে বাড়তি এই জনগোষ্ঠীর খাবারের জোগান দিবো, সেটা স্পষ্ট করলে ভালো হতো। দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠী হয়তো চাইতে পারে, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করা হোক। সেটা মানুষজন চাইবে কোন মানবিকতা থেকে নয়, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে। কিন্তু সেই পথে সমাধানে আমাদের পক্ষে যাওয়া, নিজের পায়ে কুড়াল মারার সামিল। তখন অন্যান্য দেশে আশ্রয় নেয়া বা অন্যান্য দেশে পাড়ি জমানো আরও প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গার বোঝাও নিতে হবে। শুধু সেজন্য নয়, তখন মিয়ানমার যে বলে আসছে, রোহিঙ্গারা তার দেশের নাগরিক নয়, তারা বাঙ্গালি – এই বক্তব্য সত্য এবং প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে।

আগেই বলেছি, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবু সব ধারনাকে ভুল প্রমাণ করে তারা যদি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়েও নেয়, তাহলে তারা কতজনকে ফিরিয়ে নেবে? তাছাড়া তারা যে রোহিঙ্গাদের উপর আবার গণহত্যা – নির্যাতন চালাবে না, সেটার নিশ্চয়তা কি?

আগামীকাল জাতিসংঘে রোহিঙ্গা বিষয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। কিন্তু জাতিসংঘের আজব নিয়মের ( ভ্যাটো) কারণে সেখান থেকে সমাধান পাওয়ার কোন সম্ভাবনা দেখছি না। কেননা ভ্যাটো প্রদানে সক্ষম চীন আজকেও মিয়ানমারের পাশে থাকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। চীন নিজ দেশে তিব্বতিদের নিধন করছে, পাশের দেশে রোহিঙ্গা নিধনে মদদ দিচ্ছে! মাও সে তুং – এর চীনের এমন অমানবিক আচরনে আমি ক্ষুব্দ! তবু রোহিঙ্গা বিষয়ে একটা সমাধানে পৌঁছানো জরুরি। সেটা বাংলাদেশ এবং এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

১ thought on “রোহিঙ্গা সংকটঃ সমাধান কোন পথে?

  1. পড়লাম। বেশ
    পড়লাম। বেশ
    ==============================================
    আমার ফেসবুকের মূল ID হ্যাক হয়েছিল ২ মাস আগে। নানা চেষ্টা তদবিরের পর আকস্মিক তা ফিরে পেলাম। আমার এ মুল আইডিতে আমার ইস্টিশন বন্ধুদের Add করার ও আমার ইস্টিশনে আমার পোস্ট পড়ার অনুরোধ করছি। লিংক : https://web.facebook.com/JahangirHossainDDMoEduGoB

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *