রেললাইন ও অন্তর্বাস বিষয়ক

ভোররাতে আমি বিছানায় লাফিয়ে উঠি; গতরাতের অন্তর্বাসে জানালার কাঁচ মুছে ফেলে আমি দূরে তাকাই; আমি একটি প্রাগৈতিহাসিক সরীসৃপ দেখি; সরীসৃপের সমান্তরাল স্তন পিষে ফেলে ছুটে যায়; একটি অতিকায় রেলগাড়ি; রেলগাড়ি যেমন ঢিমেতালে চলে তেমনটা আমার অনুভব হয় না; আমি আকাশ থেকে নেমে আসি; পায়ের নিচে; অনেক দূরে পর্যন্ত বেদনা গ্রাম; সবুজ বেদনার গ্রাম; সেই বাতিগুলোই জ্বলছে যাদের একটু পরেই নিভে যাবার কথা থাকে; অনন্ত প্রদীপ নিভে গিয়ে জেগে যাবে ঘুমন্ত মানুষ; কিছু অদ্ভুত মানুষ; কিছু অন্তর্যামী মা জেগে উঠবে; কিছু ক্লান্ত বউ জেগে উঠবে; রক্তের দাগ লুকিয়ে কেউ কেউ ডুবে যাবে অতল জলে; আমি জানি সরীসৃপের লেজের আড়ালে আছে পাহাড়; অনেক মায়াবী জলের স্রোত; কমলদহ-বাঘবিয়ানী-বান্দরকূম; আশ্চর্য অচেনা নামের বন; আমি জানালায় দাঁড়াই না আমি আকাশ থেকে নেমে আসি; পেছনে নিঠুর নগর পায়ের নিচে কোমল বেদনার সবুজ নিয়ে আমার ভেসে থাকা হয়; কেউ কেউ লাল রঙ মেখে নিয়ে ঠোঁটে ঘরে ফেরার গান গায়; অজস্র বন্ধুর আবেগ দেখি মায়ের আঁচলে; অথচ রেলগাড়ির হুঁইশেল শুনে আমার ‘আমার’ কথা মনে পড়ে; সে ধীরে ধীরে আসে; গতরাতের বাসি অন্তর্বাসে ডুবে থাকে; আমি জানি, সরীসৃপ- যার স্তনের উপত্যকায় চড়ে খায় অতিকায় রেলগাড়ি।

।।দেওয়ানবাজার।।
ভাদ্র১৫, ১৪২৪।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *