সমাজ পতিরা যদি মূর্খ হয় তাহলে সমাজ হয়ে পড়ে কামার্ত হাতির মত বেপরোয়া

বশির ট্রাক ড্রাইভার। জামিল মিয়া বেবী টেক্সি চালাত, আর এখন CNG অটো রিক্সা চালায়। আর আব্দুল জব্বার পেশায় একজন রিক্সা ওয়ালা। এরা ঢাকায় এসেছে তাদের জীবিকার জন্য। তিনজনেই বিবাহিত। বৈবাহিক জীবন খুবই সুখের ছিল তাদের। গ্রামে বৌ আর পরিবার রেখে বাঁচার জন্য তারা শহরে মেসে থাকে।
অন্য দিকে জলিল সাহেব একজন ব্যবসায়ী, দেশে বিদেশে তার বেশ কয়েকটা ব্যবসা আছে। ঘরে বৌ আছে। বৌ যথেষ্ঠ সুন্দরী। টাকা পয়সা বাড়ার পর তার মনে রাজনীতির ভুত চেপেছে।
ট্রাক ড্রাইভার, বশির সারা দিন ট্রাক চালায় ঢাকার বাইরে। আর সন্ধ্যায় যখন শহরের রাস্তা খুলে দেয়া হয় তখন ঢাকার ঢুকে। আগে বিকল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়টা কাটাত যাত্রাবাড়ীর এক গনিকালয়ে। সপ্তাহের ২-৩ দিন সেখানে যেত সে। আর বাকী রাত গুলো কাটত কারওয়ান বজারের একটি সস্তা মদ্যশালায়।
আব্দুল জব্বারও বাড়িতে বৌ সন্তানদের রেখে শহরে থাকে। টাকা পয়সা কম হলেও শরীরের চাহিদা মেটাতে গনিকালয়ে আনাগোনা ছিল্। সে থাকত কমলাপুরের টিটিপাড়পা সংলগ্ন এক বস্তিতে।

জামিল মিয়া রাজধানীর ফার্মগেটে রোজ রাতে একটা সস্তা পানশালায় গিয়ে মদ পান করত আর প্রায় রাত কাটত তারি একটা বান্দা গনিকার সাথে।

জলিল সাহেব রোজই ব্যবসায়ীক মিটিং করত চার তারকা আর পাঁচ তারকা হেটেলে। তার বৌ নারীকর্মি একটি এনজিও চালায় সে। সব সময় নারীর অধীকার নিয়ে সভা সেমীনার করে বেড়ায়। আর জলিল সাহেব হোটেলে মিটিং শেষে চড়া দামে উচ্চ শ্রেণীর ব্যাশ্যাদের সাথে সময় কাটায় । কখনো রাতে বাড়ি ‍ফিরত। আবার কখনো হেটেলেই থেকে যেত।
জলিল সাহেব টাকা আর ক্ষমতার জোরে মন্ত্রি হয়ে প্রথমেই ঢাকাকে ‍পতিতা মুক্ত করার ঘোষণা দিলেন। আর নিজের বৌএর এনজিওর মাধ্যমে তোদের একটা ব্যবস্থাও করে দিলেন।
এখন আর ঢাকা শহরে কোন গনিকা নেই। আর নেই কোন গনিকালয়ও। কিন্তু জলিল সাহেবদের মত ধনীদের গনিকার অভাব হয় না। এর পর তিনি সারা বাংলাদেশ থেকে সমস্ত গনিতালয় উচ্ছেদ করলেন। কিন্তু গ্রামে বৌ রেখে কর্মের জন্য শহরে আসা লোক গুলোর কথা কেউ ভাবলেন না।
এরপর যা হবার তাই হল।
হাতি নামের একটি প্রাণী আছে। যে প্রাণীর শরীরে কাম জাগে বছরে মাত্র একবার। এসময় হস্তিনীর সাথে মিলিত হতে কয়েক মাইল দূর থেকে হাতিগুলো ছটে আসে। কিন্তু আসার পর হয়ত দেখল হস্তিনীর কামনা শেষ হয়েগেছে আর না হয় অন্য কোন হাতির সাথে স্ত্রী হাতিটির সম্পর্ক্য হয়েগেছে তখন আর তার কোন কিছুই ঠিক থাকে না। তার কামনায় বলি হতেহয় বেচারী গণ্ডার বা আসোপাশে কোন মেষকো। হাতির মত একটি প্রানী গণ্ডার বা মেষের উপর চড়লে তার মেরুদণ্ড আর আস্ত থাকে না।
আর আশেপাশে কোন মেষ বা গন্ডার না পেলে হাতিটি তাণ্ডব চালায় পাশর গ্রামে। কারন তাড়া জানে গ্রামে গরু বা মহিষ পাওয়া যাবেই। আর পালিত হাতির ক্ষেত্রে হাতিটির বলি হয় তার মাউত বা হাতির পালকের।
দেশ জুরে যে ধর্ষণ আর ধর্ষণের পর হত্যার একটা তাণ্ডব চলছে তার শুরু আজ নয় অন্তত ১০ বছর আগে থেকেই এর শুরু। সমাজ পতিরা যদি মূর্খ হয় তাহলে সমাজ হয়ে পরে কামার্ত হাতির মত বেপরোয়া।

ট্রাক ড্রাইভার বশির, বেবী টেক্সি চালক জামিল মিয়া আর রিক্সা ওয়ালা আব্দুল জব্বার, তাদের নাম প্রয়ই সোস্যাল মিডিয়া আর পত্রিকায় ভাইরাল হয়। কখনো

বেপরোয়া ট্রাকের ধাক্কায় ১০ জনের মৃত্যু

আবার কখনো

যাত্রীর সামনে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির জন্য যাত্রীর বন্ধু/ প্রেমীকের হাতে/ পথচারীর হাতে চালকের গণপিটুনি

এসব কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সব একি সূত্রে গাথা।

২ thoughts on “সমাজ পতিরা যদি মূর্খ হয় তাহলে সমাজ হয়ে পড়ে কামার্ত হাতির মত বেপরোয়া

  1. বাহ। বেশ
    বাহ। বেশ

    আমার ফেসবুকের মূল ID হ্যাক হয়েছিল ২ মাস আগে। নানা চেষ্টা তদবিরের পর আকস্মিক তা ফিরে পেলাম। আমার এ মুল আইডিতে আমার ইস্টিশন বন্ধুদের Add করার ও আমার ইস্টিশনে আমার পোস্ট পড়ার অনুরোধ করছি। লিংক : https://web.facebook.com/JahangirHossainDDMoEduGoB

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *