কাবার কথা : আদম থেকে নূহের আমল

আদমের বংশধরদের আর কারো মধ্যেই কাবার কথা কেন কেউ বলেনি ? অথবা তাদের যার যার পূজাপদ্ধতিতেও কোথাও কি কোনো কাবার মতো ঘনক আকৃতির ঘরের কোন তাৎপর্য বলা হয়েছে ? ১ লক্ষ ২৪ হাজার নবী ছিলেন বলা হয়। তাহলে সেইসব নবীরা ও তখনকার মানুষজনও কি হজ করতো ? কাবাঘর তাওয়াফ করতো ? তাহলে তখনকার বা পরবর্তী কোন ইতিহাসে কাবা তাওয়াফের কথা বলা হয়নি কেন ? আল্লাহ কেন নূহ থেকে ইব্রাহীমের মধ্যবর্তী সময়ের মানুষদের কাছ থেকে কাবাকে গোপন রাখলেন?


(১) কাবাঘর নাকি সর্বপ্রথম আদম নির্মাণ করেন।(হাফেজ আসক্বালানী, ফাতহুল বারী, কানযুল ঈমান, বিভিন্ন তাফসীর)। আদম পৃথিবীতে এসে ঘর তৈরী কিভাবে শিখলেন, সেটা জানতে চাইলে হয়তো আপনারা দাবি করবেন, আল্লাহ তাকে শিখিয়েছেন। যদি ধরেও নিই যে, আল্লাহ শিখিয়েছেন এবং কাবা আদমই তৈরী করেছেন। তাহলে আদমের সন্তানেরা সবাই কাবাকেন্দ্রিক উপাসনা, ইবাদাত করতো। বাস্তবে কি আমরা সেটা দেখতে পাই? পৃথিবীতে মায়া, ইনকা, এজটেক, মঙ্গোলিয়ান, রেড ইন্ডিয়ান, আর্য, চৈনিক জাতি, মিশরীয়,ব্যাবিলনীয়, পেট্রা, অাসিরীয়, সুমেরীয়, সিন্ধু, হিন্দু যেসব আদিবাসীদের খোঁজখবর পাওয়া যায়, মুসলিমরা বাদে আর কেউ কি কাবা সম্পর্কে বলেছে? সবজাতিরই তো উর্ধ্বসূত্রে আদমের বংশধর। তাহলে আদমের বংশধরদের আর কারো মধ্যেই কাবার কথা কেন কেউ বলেনি ? অথবা তাদের যার যার পূজাপদ্ধতিতেও কোথাও কি কোনো কাবার মতো ঘনক আকৃতির ঘরের কোন তাৎপর্য বলা হয়েছে ? আদমই যদি কাবা বানায়, তাহলে তার সন্তানদের সবারই এ ঘরের মাহাত্ম্য জানার কথা এবং সব জাতিতেই তা জানার কথা। কোরআন এবং ইসলাম ছাড়া প্রাচীনকালের কোন ইতিহাসে কোথাও কাবার কোন কথাই নেই, এমনকি তাওরাত, বাইবেল এসবেও কাবার কোন নামই নেই, কাবা কে বানিয়েছিলো, তা তো পরের কথা।

(২) মিস্টার আদমের পর দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ কাবাকে নাকি ফের সংস্কার করেন, মিস্টার শীশ। এবং মিস্টার নূহনবীর প্লাবনের আগ পর্যন্ত এই কাবা ছিল বলে দাবি করা হয় বিভিন্ন ইসলামি গ্রন্থে। কানযুল ঈমানে এবং আরেকটি কোরআনের পাশের টীকায় বলা হচ্ছে, নূহের প্লাবনের তা আসমানে তুলে নেওয়া হয়(৬১০ পৃষ্ঠা, সূরা হজ) মিস্টার আদম, মিস্টার শীশ, মিস্টার নূহের মধ্যবর্তী সময়েও অনেক নবি ছিলেন, যেহেতু ১ লক্ষ ২৪ হাজার নবী ছিলেন বলা হয়। তাহলে সেইসব নবীরা ও তখনকার মানুষজনও কি হজ করতো ? কাবাঘর তাওয়াফ করতো ? তাহলে তখনকার বা পরবর্তী কোন ইতিহাসে কাবা তাওয়াফের কথা বলা হয়নি কেন ?

(৩) কোরআনেই কেন কোথাও বলা হয় নি যে আদম কাবা নির্মাণ করেছিলো? বা তখনকার মানুষ ও নূহের পূর্ববর্তী মানুষেরা কাবা তাওয়াফ করতো ?
কোরআনের সূরা ইমরানের ৯৬,৯৭ আয়াত বলে,
“নিশ্চয়ই সর্বপ্রথম ঘর মক্কায় যা মানবজাতির এবাদাতের জন্য নির্ধারিত হয়েছে। এ ঘর বরকতময় ও গোটা পৃথিবীর জন্য হেদায়াতের কেন্দ্র।”
কোরানে তো এটা বলতে পারতো, নিশ্চয়ই মানবজাতির প্রথম এবাদতের ঘর মক্কায়, যেটি আদম নির্মাণ করেছিলো অথবা এ ঘরটি যুগ যুগ ধরে ইবাদাতের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কোরানে বলে নি, যে আদম এবং আদমের পরবর্তী নবীগণ, শীশ, নূহ এরা এ ঘরের এবাদাত করতো। আদমের জান্নাত থেকে বিতাড়নের ঘটনা সবই বলা হয়েছে কিন্তু আদমের কাবা নির্মাণ বা আদমের পরবর্তী নবী ও আদমসন্তানেরা কাবার এবাদাত করতো কি না, এই গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো একেবারেই এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। যদি দাবি করা হতো, কোরানে যে আদম এই ঘর প্রথম নির্মাণ করে এবং পরবর্তী সকল নবী ও আদমসন্তানদের এ ঘরের ইবাদাত করতে আদিষ্ট ছিল, তা বক্তব্য বহুগুণে শক্তিশালী হয়ে যেতো। তা না করে, খুব হালকা করেই বলা হয়েছে মক্কার ঘরটিই প্রথম এবাদাতের ঘর।
আবার ইব্রাহীমের কৃতিত্বকে বিপুলভাবে ফলাও করা হয়েছে।

সূরা বাকারার ১২৫-১২৯ আয়াতে ইব্রাহীম, ইসমাইলের কাবা নির্মানের বিস্তারিত বর্ণনা এসেছে। বলা হচ্ছে,
“এবং স্মরণ করো সে সময়ের কথা যখন আমি এ ঘরকে মানবজাতির জন্য আশ্রয় ও নিরাপদ স্থান হিসেবে নির্দিষ্ট করেছি এবং বলছিলাম, ইব্রাহীমের দাঁড়ানোর জায়গাকে নামাযের স্থানরূপে গ্রহণ করো।”

দেখুন, বেচারা আদমের কৃতিত্ব কিভাবে ইব্রাহীম ছিনতাই করে নিয়ে গেলেন! আর ইব্রাহীমের নির্মানের আগে কি এই কাবাঘর ইবাদাতের কেন্দ্র ও আশ্রয়স্থল ছিলো না?

সূরা হজে ২৬ আয়াতে আবার বলা হচ্ছে, “যখন আমি ইব্রাহীমকে ঐ ঘরের ঠিকানা সঠিকভাবে বলে দিয়েছি।”

তার আগের নবী ও উম্মতদের কেন আল্লাহ সঠিকভাবে জানান নি ? কাবা কি আগে থেকেই একই স্থানে ছিলো না ?
নূহে প্লাবনের পর নূহ কেন এটা আবার নির্মাণ করলেন না? তিনি কি জানতেন না এটা তার ইবাদাত ও হেদায়াতের কেন্দ্র ?

আল্লাহ কেন নূহ থেকে ইব্রাহীমের মধ্যবর্তী সময়ের মানুষদের কাছ থেকে কাবাকে গোপন রাখলেন? নূহের নৌকার অধিবাসীরা তো ঈমানদার ছিলো, তারা কেন কাবা পুনরায় নির্মাণ করলেন না বা আল্লাহ কেন তাদের কাবা নির্মাণের হুকুম দিলেন না? ঐ সময়কার অর্থাৎ নূহ থেকে ইব্রাহিম পর্যন্ত মানুষরা কাবাকে পায় নি, তবুও তারা কি জাহান্নামে যাবে?

২ thoughts on “কাবার কথা : আদম থেকে নূহের আমল

  1. ধার্মিকরা প্রমাণের ধার ধারে
    ধার্মিকরা প্রমাণের ধার ধারে না। তার রূপকথায় বিশ্বাসী। আর কা’বা হচ্ছে মুহাম্মদের রূপকথা। বোকা ধার্মিকরা মুহাম্মদের রূপকথার কা’বাকে সত্য বলে ধরে নিয়েছে। একটু মাথা খাটালেই মুহাম্মদের কাল্পনিক কাবা’র গালগল্প যে কেউ বুঝতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *