প্রথম ভুলটা আমাদেরই।

আজ আমরা যাদেরকে জঙ্গি বলে জানি তারাও একদিন স্কুল মাঠে সবার সাথে দাঁড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীতে গলা মিলিয়েছে। এরাই সবার মতো লাইনে দাঁড়িয়ে জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছে। আর আজ তারাই এই দেশের স্বাধীনতা দিবসে হামলা করে একের পর এক পুলিশ, Rab আর সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে। এর পেছনে তারা যতোটা দায়ী ততোটা দায়ী আমরাও। এক একটা পরিবারই এক একটা জঙ্গী জন্ম দেওয়ার পেছনে প্রধান কাজটা করেছে।

আমরা রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করেছি। আজও আমাদের স্বাধীনতা দিবসটা রক্তের মাধ্যমে পালন করতে হয়। তবে কি সত্যিই আমরা স্বাধীন হয়েছি? একটা ভাব- সম্প্রসারণ পড়তাম “স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করাই কঠিন”। পরীক্ষার পেপারে লিখতে লিখতে একবারও মনে হয় নি একদিন আমাদেরকে এই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে।

আজ আমাদের মধ্যেই একটা ছেলে জঙ্গী হওয়ার কারণটা কি জানেন? কারণটা আমরাই। আমরাই তাদেরকে স্বাধীনতা দিবস কিংবা বিজয় দিবসে বাসা থেকে বের হতে দেই নি। আমরা তাদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের কাহিনীটাকে একটা ত্রিশ পৃষ্টার গল্পের বই হিসেবে তুলে ধরেছি। তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছি মুক্তিযু্দ্ধের গভীরতাটা। আমরা পারি নি বুঝাতে আমাদের বাবা, চাচা, দাদারা নিজের শরীরের তাজা রক্তের বিনিময়ে দেশটা স্বাধীন করেছেন। যদি বুঝাতে পারতাম তবে আজ তাদের হাতেই আমাদের কেউ প্রাণ হারাতো না।

একটা ছেলে স্কুলে যায় কি না, কার সাথে মিশছে, কি করছে এসব দেখার সময় আমাদের নেই। কিন্তু যখনই নিজের সন্তানটাকে জঙ্গীর তালিকায় দেখলাম তখনই বললাম একবারের জন্য মনে হয় নি আমার ছেলেটা এসবের সাথে যুক্ত।

বাংলাদেশ এর খেলার খবর রাখেন না বা বাংলাদেশ হারলে মন খারাপ করে বসে থাকেন না এমন মানুষের সংখ্যা কম হলেও একটু কষ্ট করলেই তাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাবে। আমি বলছি না যে, দেশের খেলা না দেখলেই বা এসবের খবর না রাখলই সে জঙ্গী। আজ সে জঙ্গী নয় কিন্তু কাল যে সে জঙ্গী হবে না তার গ্যারান্টি কে দিবে? কারণটা জানেন? কারণটা হচ্ছে দিন দিন দেশের প্রতি তার ভালোবাসাটা কমে যাচ্ছে। অথবা এই দেশটার জন্য তার মনে কোন ভালোবাসা জন্মায় নি। সে অবশ্যই অন্য কোন জিনিসের প্রতি আসক্ত যেটার কারণে নিজের দেশের খেলা দেখাটা তাদের কাছে বিরক্তিকর। এইসব মানুষেরাই ব্রেইন ওয়াশের শিকার হয়। ওরা আজ পর্যন্ত নিজের দেশকে ভালোবাসতে শিখে নি। এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে আরেকজন এসে ব্রেইন ওয়াশ করেই তাকে অন্য রাস্তায় নিয়ে যাবে।

এবার আসি ধর্মের ব্যাপারটায়। আমার মনে হয় না কোন ধর্মে বলা হয়েছে মানুষ হয়ে আর একটা মানুষ হত্যা করলে বেহেস্ত বা স্বর্গে যাওয়া যাবে। কিন্তু প্রায়ই শুনি জঙ্গীরা বলে তারা “আল্লাহ” বা “ঈশ্বর” এর পথে আছেন। এটার ব্যর্থতাও আমাদের। আমরা সঠিকভাবে তাদের কাছে পবিত্র ধর্মটাকে উপস্থাপন করতে পারি নি। এই সুযোগটাই আর একজন কাজে লাগিয়ে তাকে উল্টো-পাল্টা নীতিকথা শুনিয়ে একজন জঙ্গীতে পরিণত করেছে।

যা কিছুই বলেন না কেন। প্রথম ভুলটা আমরাই করেছি। আর এজন্যই আমাদের ভীড়েই তৈরি হচ্ছে এক একটা জঙ্গী। নিজেদের সন্তানদেরকে একটু সচেতন করে রাখলে আর একজন প্রকৃত মানুষে সৃষ্টি করার চেষ্টা করলে দেশে কোন জঙ্গির সৃষ্টি হবে বলে আমি মনে করি না। আর এই ভুলটা করেছেন বলেই আজ দেশের সকল মানুষকে দুশ্চিন্তায় রাত কাটাতে হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *