সোনার বাংলায় বানের পানি

সহজ বিষয়টি যদি আমার স্বীকার করে নেই তবে ভবিষ্যতের জন্যে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা অগ্রগতি ও সাফল্য পাবো ।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ হল নেদারল্যান্ডের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ নেদারল্যান্ডের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ এলাকা বন্যার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, পৃথিবীতে সবচেয়ে ঘন জনবসতিপূর্ণ । প্রাকৃতিক বালির বালুকণা এবং তৈরি ডেক, বাঁধ, এবং প্লাবন ভূমি সমুদ্র থেকে ঝড়ের ঝড়ের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা প্রদান করে । নদী প্রবাহ রাইন ও মিউসের প্রধান নদীগুলির দ্বারা প্রবাহিত পানি বন্যা থেকে প্রতিরোধ করে, আসলেই অদ্ভুত ও সত্যি এই নিষ্কাশন ব্যবস্থা । খাল এবং পাম্পিং স্টেশনগুলির একটি জটিল পদ্ধতি (ঐতিহাসিকভাবে: উইন্ডমিলস) বসতি ও কৃষির এলাকার জন্যে শুষ্ক অংশ শুকিয়ে রাখে। জল নিয়ন্ত্রণ বোর্ড এই সিস্টেম বজায় রাখার জন্য দায়বদ্ধ স্বাধীন স্থানীয় সরকার সংস্থা ।

গভীরে সমুদ্রের অবস্থা আমাদের অনেকেরই হয়তো জানা নাই আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক কারণে গভীর সমুদ্রের উপরিভাগ থাকে অস্থির, সমুদ্রের তলদেশে ব্যাপকভাবে ভূমিধ্বস থেকে শুরু করে ভূমি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দিকে স্থান পরিবর্তন করে, নেদারল্যান্ডের প্রকৌশলীরা সমস্যাটির গভীরে গিয়ে অনুধাবন করে যে সমুদ্রের তলদেশকে শাসন করতে হবে আগে, তাই সমুদ্রের উপকুল এলাকাকে রক্ষা করতে সমুদ্রের তলদেশকে প্রযুক্তির সাহায্যে শাসন করে নতুন নতুন ভূমির বৃদ্ধি ঘটায় ও ডেক তৈরি করে কার্যকর ভাবে নদী উপত্যকায় উচ্চতা বৃদ্ধি করে, নদী ও সমুদ্রের গভীরে নিয়ন্ত্রণের আওতায় নিয়ে আসে | সমগ্র দেশ জুড়ে ছোট ছোট খালের সাহায্যে পানি নিষ্কাশন ও অপ্রয়োজনীয় পানি বহির্গমনের জন্যে বিশালাকায় পাম্প ব্যবহার শুরু করে ।

আমাদের দেশেও অতি সত্বর এ ধরনের প্রযুক্তি নির্ভর প্রকল্প হাতে না নিলে অদূর ভবিষ্যতে আমাদের দেশের একটা বিশাল অংশও পনির নীচে তলিয়ে যাবার সম্ভাবনা থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ কোথায় | প্রযুক্তির সাহায্যে সমুদ্র থেকে ভূমি উদ্ধার করার প্রক্রিয়াতে নেদারল্যান্ডের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের উপকুল অঞ্চল গুলোকে বন্যার কবল থেকে মুক্ত করতে পারি, যদি সেই দিকে দৃষ্টি দিতে হয় তবে সুন্দর বনকে সম্পূর্ণ মুক্ত রেখে বিজ্ঞান সম্মত চিন্তা ধারায় আমাদের এগিয়ে যেতে হবে । আধুনিক সময়ে, বন্যা দুর্যোগগুলি প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে সমুদ্রের প্রভাব কমাতে এবং ভবিষ্যতে বন্যা প্রতিরোধ করার জন্য বড় ধরনের নির্মাণ কাজ প্রকল্প হাতে নিতে হবে ।
বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতির মূল কারণ বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, আর এই পরিবর্তনের জন্যে প্রকৃতিকে দোষারোপ করা মোটেও উচিত হবে না, নদী তার নব্যতা হারাচ্ছে প্রতিনিয়ত পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির সাথে মাটি নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাবার ফলে নদীতে পানি ধারণের ক্ষমতা বা দ্রুত পানি নেমে যাবার গতি হ্রাস পাচ্ছে, খরা মৌসুমে উজানে বাঁধ দেবার কারণে নদীর স্বাভাবিক স্রোত হ্রাস পেয়ে নদী ভরাট হওয়াও একটি কারণ । পশ্চিমা দেশগুলো, ব্রাজিল, চায়না, আমেরিকা, ইন্ডিয়া থেকেই মূলত বিগত ২০০ বছরের শিল্প উন্নয়নের চরম ফল সরূপ পৃথিবীর জলবায়ুর তাপমাত্রা পর্যায়ক্রমে উপরে দিকে ২° সি বেড়ে যায়, এর জন্যে দায়ী অনিয়ন্ত্রিত শিল্পাউন্নয়ন । তাই তাপমাত্রা কে নীচে দিকে রাখতে ও বিশ্ব গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পথ রোধ করতে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় পৌঁছানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে বিশ্ববাসী , সমুদ্র তীরবর্তী দেশগুলোকে রক্ষার তাগিতে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে একটি সমঝোতার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ গুলোকে সমস্যা নিরসনে কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ হয়, দুঃখের বিষয় হচ্ছে অনেক বড় বড় দেশ সেই প্রতিশ্রুতি পালনে অনীহা প্রকাশ করছে, এতে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো সমূহ ক্ষতির মুখে পরে যাচ্ছে ।

আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ১.৫° ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড সীমিত করা, বর্তমানে যেহেতু এটি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি ও প্রভাবগুলির উল্লেখযোগ্য ভাবে কমতে শুরু করেছে তারপরও চাই আরও দ্রুত একটি সমাধান । বিশ্বব্যাপী কার্বনডাইঅক্সাইড নির্গমনের জন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চূড়ান্ত প্রয়োজন চাই ব্যবস্থা নেয়া । জলবায়ু পরিবর্তনে আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত জন সম্পদকে এইসব উন্নত দেশগুলিতে অভিবাসনের ব্যবস্থার প্রয়োজনে বিশ্বের ধনী দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে, প্রতিশ্রুতি মোতাবেক কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে | এই পশ্চিমা দেশগুলির জন্য আমাদের এই করুন অবস্থা । আমাদের দাবি হবে UN Climate Change Conference – November 2017 জার্মানির বনে চুক্তিগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন ।

— মাহবুব আরিফ কিন্তু

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *