পাকিস্তানি দুঃশাসন ও পাকিস্তান প্রীতি

খুব খারাপ লাগলো সেলিনা হোসেনের কাঁটাতারে প্রজাপতি উপন্যাস পড়ে।

কত নির্মম,নিষ্ঠুর ছিল পাকিস্তানি শাসক,পুলিশ, সেনাবাহিনী তার ইয়াত্তা নেই। ভাবতেই শরীর শিউরে উটছে।তাদের দিলে কোন মায়া- মমতা ছিলনা, নাকি তারা শুধু রক্তে মাংসে মানুষ। হয়তো তাই। তারা মানুষরূপী পশু। বিবেক,মনুষ্যত্ব এগুলো তাদের অগোচরে ছিল। ক্ষমতার দম্ভে তারা মরিয়া হয়েছিল। এজন্য হয়তো তারা বাংলার খেটে খাওয়া মানুষদের উপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে।

আমারা শুধু, ১৯৫২ এবং ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া বাঙ্গালিদের উপর অমানুষিক, বর্বর, নির্মম, নিষ্ঠুর নির্যাতনের কথা জানি। এর আগেও তারা যে নির্যাতন চালিয়েছিল তা অনেকের অজানা।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হওয়ার কারণে বাংলার মানুষ অনেকেই ভেবেছিল তাদের দুঃখের দিন হয়ে যাবে। কিন্তু না তা হয়নি। বৃটিশদের কাছে বাঙ্গালিরা যেভাবে নির্যাতিত পাকিস্তান হওয়ার পরেও ঠিক একইভাবে পাকিস্তানি শাসকরা তাদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে। শুধু পদ্ধতি পরিবর্তন হয়েছিল।

১৯৫০ সালের জানুয়ারি ‘তে কৃষকদের ন্যায্য ফসলের দাবীতে তেভাগা আন্দোলন শুরু হয়েছিল। এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন ইলা মিত্র।

কৃষকদের দাবী ছিল তারা ফসলের দুই ভাগ নিবে,আর মালিককে দেবে একভাগ। কেননা তারা অনেক কষ্ট করে জমিতে ফসল ফলায়। মালিকরা কষ্ট না করেও দু’ভাগ নেবে তা হবে না। তাই তারা আন্দোলনের ডাক দেয়। তাদের দাবি যৌক্তিক ছিল।

আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়ার কারণে পুলিশ ইলা মিত্র কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর জেলখানাতে শুরু করে অমানুষিক নির্যাতন। যে নির্যাতনের কথা শুনলেই শরীরের লোম খাড়া হয়ে ওঠে।

পাকিস্তানি পুলিশ থানাই বেদম প্রহার করে। শুধু প্রহার করেই ক্ষ্যান্ত হয়নি। তারা তাঁকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। তাঁর যৌনাঙ্গে গরম সিদ্ধ চারটি ডিম ঢুকিয়ে দেয়। মানুষ কত নিষ্ঠুর হলে এমনভাবে অত্যাচার করতে পারে।

আপাতদৃষ্টে তেভাগা আন্দোলনের পরাজয় হলেও, অন্যদিক থেকে এই আন্দোলনকে সফল বলা যায়। কেননা এই আন্দোলন থেকেই মানুষ প্রথম অধিকার আদায়ে সোচ্চার হওয়ার শিক্ষা পায়।

সেসময়ের তেভাগা আন্দোলন আমাদের স্বাধিনতা আন্দোলনের প্রেরণা যোগায়।

পাকিস্তানি শাসনামলে কত অত্যাচার,নির্মমতা, নিষ্ঠুরতা সহ্য করতে হয়েছিল বাংলার মানুষদের যা ইতিহাসে নজিরবিহীন। এসব ইতিহাস আমাদের সকলেরই জানা।

এসবের পরেও আমরা স্বাধিনতার পরবর্তী সময়েও পাকিস্তান প্রীতি বাঙ্গালি মুসলমান দেখতে পাই। তারা এখনো মনে করে পাকিস্তান খাটি ইসলামি রাষ্ট্র। ইসলামের জিম্মাদার। পাকিস্তানকে তারা মনে প্রাণে শ্রদ্ধা করে। ভক্তিতে নুয়ে পড়ে।

আমি বুঝে উঠতে পারি না কেন তাদের কাছে পাকিস্তান প্রিয়।

ইসলামে কি তাহলে ধর্ষণ বৈধ? যদি তাই না হবে। তাহলে কেন? তারা গাণিমতের মাল বলে অন্য ধর্মের নারীদের ধর্ষণ করেছে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে।

আমরা আরও জানি মক্কা বিজয়ের পর মুহম্মদ শত শত বিধর্মী নারীদের ধর্ষণের হুকুম দিয়েছে। সে নিজেও সুন্দর নারীদের নিজের জন্য রেখ দিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *