অনলাইন অশনিসংকেত

অনলাইন এ বিশেষ করে ব্লগ ফেইসবুকে কয়দিন যাবত শুরু হয়েছে একে অন্যর প্রতি চরম কাদা ছুড়াছুড়ি ।কিভাবে একজনের চাইতে আরেজন মহান অনলাইন দেশ প্রেমিক সাজবেন এই প্রতিযোগিতাই যেন শুরু হয়েছে ।একজন আক্রমন করছেন অন্যজনকে আবার একেক জনের পক্ষ নিয়ে অন্যান্যদের ও ব্যাপক তোড়জোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে ।এই ভাবে কারোরই পেছনভাগ আর গোপন থাকছে না ।সত্য হোক আর মিথ্যা হোক একটা দুইটা বদনাম সহজেই জোটে যাচ্ছে ।এই প্রক্রিয়াটা অনেক আগ থেকে চলে আসলেও বর্তমানে ভাইরাসের মত ছড়িয়ে পড়েছে ।আমার মনে হয় ডাঃ আইজু নিকটি থেকে ইহা ব্যাপক প্রসারতা পায় ।এরপর রাসেল রহমানের সিক্রেট গ্রুপ CP গ্যাং তৈরী হবার পর থেকে ইহা একরকম শিল্পের পর্যায়ে চলে এসেছে ।বর্তমানে কাদাছুড়াছুড়ির জায়গা হিসেবে ফেইসবুক ও ইশ্টিশন ব্লগকে প্লাটফরম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ।এই সমস্যাটা তৈরীর পেছনে কয়েকজন লোক বিশেষ ভুমিকা পালন করেছেন ।আনিস রায়হান,সুশান্ত দাস গুপ্ত, ডাঃ আইজু,অমি পিয়াল,মহামান্য কহেন, নিজুম মজুমদার, কালপুরুষ(ব্যাক্তিটি অজ্ঞাত),আসল পুরুষ(অজ্ঞাত) সহ বেশ কয়েকজনকে কাদা ছুড়াছুড়ি করতে দেখা যাচ্ছে ।

ভাবছিলাম আমার মত ছিচকেদের ক্ষেত্রে এসব ব্যাপারে কথা না বলাই ভাল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিখ্যাত হবার লোভটি সামলাতে পারলাম না তাই কিছু কথা লিখতেই হচ্ছে!

এটা অনলাইন দুনিয়া।এখানে গালি বালফালানো খুবই সহজ ।মোডেম খুলে নিলে এই দুনিয়ার কোন অস্থিত্বই নেই ।তবে পিয়াল,রাসেল, নিঝুমরা এই অনলাইনের মাধ্যমেই ফ্রন্টলাইনে এসেছেন,যতদুর মনে হয় উনাদের কাছে বাস্তব পৃথিবী থেকে অনলাইন দুনিয়ারই গুরুত্ব বেশি ।উল্লেখিত ব্যাক্তিরা অনেকদিন থেকে অনলাইনে আছেন ।এরা অনলাইনের বাইরেও একে অপরের সহিত মোটামুটি পরিচিত ।আমরা যারা নতুনভাবে ফেইসবুকের মাধ্যমে অনলাইনে এসেছি তাদের মধ্যে বেশির ভাগই এদের একেকজনের অন্ধভক্ত ।আমরা সবাই ই কোন তথ্য পাবার পর সত্য মিথ্যা যাচাই না করে ফালতু এডিটেড স্ক্রিনশট ও ইমেজ ক্যাপশন দেখে পাগলের মত লাইক শেয়ার করতেছি সাথে সমালোচনা না করেও ছাড়ছি না ।ভাবখানা এমন যেন, আমি যা জেনেছি তাই ধ্রুব সত্য!বাস্তবে কি তাই?মোটেও না!

অন্যের কথা কানে না নিয়ে নিজের বিবেক বুদ্ধি খাটান ।ব্লগারদের মধ্যে সময়ভেদে,ক্ষেত্রভেদে একে অন্যর বিরোধীতা করতে পারে, একজনের মতের সাথে আরেকজনের মতের মিল না হতে পারে,একজন আরেকজনকে আক্রমন করে কথা বলতেই পারে, তবে আমাদের উচিৎ নয় নেগেটিভভাবে তা ফেরি করা ।

মানুষ চেনা এমনিতেই বড় দায় তাছাড়া, প্রতিনিয়ত আইডি হ্যাক হয়ে যাচ্ছে, একই নামে একই পরিচয়ে অনকটা একাউন্ট শো করতেছে,একজনের স্ট্যাটাস আরেকজনের নামে প্রকাশ হচ্ছে ইত্যাদি সমস্যাতো আছেই । নিজের বিবেক বুদ্ধি বিবেচনা দ্বারা চিনে নিতে হবে কে সঠিক পথে আছে আর কে বিপথে আছে ।আমি আমার বাবার টাকা খরচ করে কেন নিঝুম,পিয়াল,মহামান্য বা আইজুর প্রশংসা কিংবা গীবত গাইবো?হ্যা, ক্ষেত্র বিশেষে গাইতে হয় এবং গাওয়াটা জরুরি তবে, প্রশ্ন হল কখন?
উত্তরটা অতি সহজ, অর্থ্যাৎ যখন বিকল্প ব্যাক্তিটির মতের সাথে আমার মতের মিল হবে তখনই ।এই পর্যায়ে আমি যদি বাম হই তবে বামেরটা আর যদি ডান হই তবে ডানেরটা ।কারন আমি পোক্ত, আমার মানসিকতা সে অনুযায়ীই তৈরী হয়েছে এবং আমার মনন সে দিকেই ধাবিত হবে, জোর চেষ্টা করে হয়তো আমাকে আমি অল্প ব্যবধানে অস্বীকার করতে পারি কিন্তু এক সময় আমার স্বরুপ উন্মচিত হবেই ।

টিকে থাকার সুবিধার্থে, আন্দোলনের খাতিরে শুধু মাত্র পিয়াল না, পিয়াল ভাইদের মত অনেকেই প্রতিনিয়ত গালি,হুমকি ধামকি,বদনাম ইত্যাদি কাধে নিয়েই অনলাইন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্চেন, এবং যাবেন ও আশা করি।আইজুর ব্যাপারে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ থাকলেও নিঝুম ভাইকে দেখেছি দুরদেশে থেকে সরাসরি জীবনের হুমকি নিয়েও জামাতের বিরুধীতা করেছেন বা সর্বোপরি দেশের ভাল মন্দ নিয়ে কথা বলতেছেন, দুর্যোগময় মুহুর্তে মহামান্যকে দেখেছি মানুষের কাছে হাত পেতে হলেও অসহায় নির্যাতিত মানুষের পাশে দাড়িয়েছেন ।এরকম অনেকেই আছেন দেশের জন্য নিজেকে প্রায় উৎসর্গ করে রেখেছেন ।সামান্য ভুল ত্রুটির কারনে তাদের অবদানকে অস্বীকার করা একধরনের কৃতঘ্নতা ।

ইদানিং আইজুকে নিয়ে গন্ডগোল ও CP গ্যাং তৈরী হবার পর থেকে ব্লগ ফেইসবুকে দেখতেছি বিভিন্ন তথ্য প্রমান নিয়ে একটি গোষ্টি একজনের পেছনে অতি সুকৌশলে আরেকজনকে লাগিয়ে দিচ্ছে ।এসব তথ্য প্রমান কতটুকু সত্য বা এতে কি ফায়দা হচ্ছে তা বুঝা না গেলেও এটা পরিস্কার বুঝা যাচ্ছে এর পেছনে বিরাট ষড়যন্ত্র কাজ করছে,ইন্ধন যোগাচ্ছে পুরোনো শত্রুরা ।অন্যদিকে আমার মত আবালরা সারাক্ষন নেট ঘেটে কে কাকে বাঁশ দিলো তা নিয়ে রীতিমত হইচই শুরু করে দিচ্ছি পাশাপাশি উস্কানি তো আছেই ।যার সমালোচনা করছি তাকেই অন্য যায়গায় আবার সমর্থন দিচ্ছি ।এভাবে পাবলিসিটি বাড়িয়ে তিলকে তাল বানিয়ে নিজেদের মধ্যে বিভেদ বাড়িয়ে সুযোগ করে দিচ্ছি শত্রুদের ।
প্রশ্ন হল এভাবে কি চলা উচিৎ?উত্তরঃ না ।
আগে যাচাই বাচাই করাউচিৎ এবং এরপর সমালোচনা বা আলোচনা করা উচিৎ ।যদি গড়মিল থেকেও থাকে তবুও গোপনীয়তার বাইরে এসব বিষয়ে আলোচনা সমালোচনা করা মোটেই উচিৎ নয় ।যাদেরকে নিয়ে এই খেলা শুরু হয়েছে তাদেরকেও সংযত থাকা জরুরি মনে করছি ।মনে রাখুন,একসময় অনলাইন শুধুমাত্র টাইম পাসের জন্য হলেও বর্তমানে তা নয় ।
জয় বাংলা

৭ thoughts on “অনলাইন অশনিসংকেত

  1. টপিক দেইখা পড়ার উৎসাহ হারাইছি
    টপিক দেইখা পড়ার উৎসাহ হারাইছি । :হয়রান: :হয়রান: :ঘুমপাইতেছে: :ঘুমপাইতেছে: :ঘুমপাইতেছে:

  2. হিপোক্রেসির কারণে আজকাল
    হিপোক্রেসির কারণে আজকাল মাননীয় জেন্টলম্যানরাও ‘ভোকচোদ’ দের খাতায় নাম লেখাইতেসে! দা শো মাস্ট গো অন। তেনার হিন্দি চুল ছিঁড়ুক, আর আমরা বইসা বইসা কলা খাই!! :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

  3. আমরা যারা যারা প্রতিনিয়ত
    আমরা যারা যারা প্রতিনিয়ত চেতনা এবং অনুভুতি ফেড়ি কইরা ফিরি তারা এমন সমস্যায় পরুম এটাই স্বাভাবিক…সো ন চিন্তা ডু ফুর্তি…

  4. সত্য হচ্ছে ছাই চাপা আগুনের
    সত্য হচ্ছে ছাই চাপা আগুনের মতো। একসময় ঠিকই প্রকাশিত হয়। তাই যারা দেশের কোটি কোটি মানুষের দেশপ্রেমের চেতনাকে বিক্রি করে দিয়ে ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিলের ধান্দা করেছে তারা একে একে ধরা খাবেই। আপনি আমি যতোই বলি- বন্ধ হোক কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি, সেটা হবে না মনে হয়। কারন কাঁদার একটা বিরাট পাহাড় জমেছে বিগত কয়েক বছরে।

  5. বিষয় দেখে পড়তে না চাইলেও
    বিষয় দেখে পড়তে না চাইলেও অভ্যাস বশতঃ পড়লাম। আমি আগেও বলেছি আবারও বলছি কাদা ছোঁড়া-ছুঁড়ি বাদ দিয়ে ইট ছোঁড়া-ছুঁড়ি শুরু হোক… তারপর বুলেট ছোঁড়া-ছুঁড়ি.. এটাই তো আমাদের স্বভাব সুলভ আচরণ তাই না ?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *