ভালো থেকো বন্ধু


পূবাকাশের সূর্যটা আজ নতুন বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে। ভ্রাতৃত্ব আর সম্প্রীতির বন্ধন নিয়ে বন্ধুত্বের আহ্বানে সূর্যের আলো ছড়াবে সৌহার্দ্য আর ভালোবাসার রঙে।

পৃথিবীর অন্যতম নিষ্পাপ সম্পর্কের একটি হলো বন্ধুত্ব। একে অন্যের সুখে-খুশিতে লাফিয়ে ওঠার; একে অন্যের দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর। মন খুলে কথা বলা, হেসে গড়াগড়ি খাওয়া আর চূড়ান্ত পাগলামি করার একমাত্র আধার এ বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব কোনো বয়স মেনে হয় না, ছোট-বড় সবাই বন্ধু হতে পারে। বন্ধুত্বের মধ্যে যে জিনিসটা থাকা চাই তা হল ভালোবাসা। আত্মার সঙ্গে আত্মার টান থাকতেই হবে।

আজকাল আধুনিকতার স্পর্শে এ বন্ধু শব্দটির বদলে মানুষ ইংরেজি ফ্রেন্ড শব্দটিতেই বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। তা সত্ত্বেও বাংলা বন্ধু শব্দটির মাঝে যে আবেদন আছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। সৃষ্টির শুরুতে বন্ধুত্ব ছিল, এখনও আছে, থাকবে অনন্তকাল। আত্মার আত্মীয় বন্ধুকে ধন্যবাদান্তে একঝুড়ি ভালোবাসা জানাতে দীর্ঘদিন ধরে পালিত হয়ে আসছে বিশ্ব বন্ধু দিবস।

পৃথিবীর অসংখ্য দিবসের মাঝে রয়েছে বন্ধু দিবসও। প্রতি বছর আগস্ট মাসের প্রথম রোববার সারা বিশ্বে একযোগে বন্ধু দিবস পালন করা হয়। অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও আজ বন্ধু দিবস পালন করা হচ্ছে।

প্রকৃত বন্ধু হলো সে যিনি অপর বন্ধুর দুঃখে সমব্যাথী হয়, সুখকে সমানভাবে ভাগ করে নেয়। বন্ধুত্ব কোনো সূত্রের মাপকাটিতে মাপা যায় না। যে কথাগুলো গুরুজন বা পিতা-মাতাকে বলা যায় না সে কথাগুলো আমরা প্রাণ খুলে বন্ধুর কাছে প্রকাশ করি।

ভালো লাগা, মন্দ লাগা, সুখ-দুঃখের কথা বন্ধুর কাছে নির্ভয়ে মন খুলে বলা যায়। বন্ধুত্বের বন্ধনে কোনো স্বার্থ থাকে না। বন্ধুত্ব যতই পুরাতন হয়, ততই দৃঢ় হয়। জীবনের প্রয়োজনেই মানুষ বন্ধু খুঁজে নেয়। তবে একথাও ঠিক, সব বন্ধুর গুরুত্ব সমান হয় না। সত্যিকারের বন্ধুত্ব নিয়ে নানান মত থাকলেও একটি ব্যাপারে সকলে একমত বন্ধু ছাড়া জীবন অসম্ভব।

প্রতি বছর আগস্টের প্রথম রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বন্ধু দিবস। ১৯৩৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে দিবসটি পালনের প্রথা চালু হয়। ইতিহাস মতে, ১৯৩৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার এক ব্যক্তিকে হত্যা করে। দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম শনিবার। হত্যার প্রতিবাদে পরদিন ওই ব্যক্তির এক বন্ধু আত্মহত্যা করেন। সে সময় বিষয়টি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

এরপর থেকে জীবনের নানা ক্ষেত্রে বন্ধুত্বের অবদান আর তাদের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য আমেরিকান কংগ্রেস ১৯৩৫ সালে আগস্ট মাসের প্রথম রোববারকে আন্তর্জাতিক বন্ধু দিবস ঘোষণা করে। সেই থেকে আগস্ট মাসের প্রথম রোববার বন্ধু দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। দিন দিন আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই বন্ধু দিবস।

মানুষ স্বভাবগতই আড্ডা ও বন্ধু প্রিয়। পৃথিবীতে অল্প সংখ্যক লোক থাকতে পারে যারা আড্ডা পছন্দ করে না। বন্ধুত্বের পরিপূরক সম্পর্কের মাঝে খুঁজে পাওয়া যায় যাপিত জীবনের রস। কর্মব্যস্ত যান্ত্রিক জীবনে বন্ধুত্বের স্বর্ণালী প্রহরগুলোকে আমরা ভুলতেই বসেছি।

শৈশবে স্কুল ছুটি হলে গাঁয়ের বন্ধুরা মিলে দল বেঁধে নদীতে ঝাপা-ঝাপি, বিকেল হলে লুকোচুরি, কানামাছি আর গোল্লাছুট খেলায় কাটিয়েছি। কলেজ জীবনে ক্যাম্পাস কিংবা করিডোরগুলোকে প্রতিদিনই মুখরিত করে রেখেছি নানান গুঞ্জনে।

আধুনিকতার স্রোতে আমরা হারাতে বসেছি প্রকৃত বন্ধুদের। বন্ধুত্ব এখন আটকে আছে কতিপয় অ্যাপসে।

আজকের এই বন্ধু দিবসে শৈশবে খেলার ছলে বেড়ে ওঠা বন্ধুদের বেশ মনে পড়ছে। জীবিকার তাগিদে কর্মের সন্ধানে আজ কে কোথায়। শৈশোবের অনেক বন্ধুকেই হারিয়ে ফেলেছি। হয়ত তারা ভালোই আছে। কৈশোরেও হারিয়েছি অনেক বন্ধুকে। অভিমান করে কথা হয় না অনেকের সঙ্গে। ব্যস্ততার আঁচরে দিনের পর দিন ধূসর হয়ে পড়ছে এ সর্ম্পকটি। আজ অভিমানগুলোকেই ছুটি দিয়ে নতুন এক বন্ধুত্ব রঙ চড়ানোর দায়িত্বটা নিজের কাঁধে তুলে নিলাম। অভিমান ছেড়ে বলতে চাই বন্ধু যেখানে থাকো ভালো থেকো।

১ thought on “ভালো থেকো বন্ধু

Leave a Reply to এম রাহাত হুসাইন Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *