কোরআনের কলা কাহিনী

যদি আরবের মক্কা বা মদীনায় কলাগাছ জন্মাতো তাহলে নবীজীকে ও তার সাহাবায়ে কেরামকে খালি খেজুর আর রুটি-মাংস, দুধ খেয়ে থাকতে হতো না। হাদীস সমূহের কোথাও নবী কলা খেয়েছেন বা কলার মত সুস্বাদু ফলের তারিফ করেছেন, এমন কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। আরবের মক্কায় ঐ সময়ে কলাগাছ থাকা অসম্ভব। আর নবী এবং যাদের কাছে তিনি ইসলাম প্রচার করছেন, তারা যদি কেউই কলাগাছ না চিনে, তাহলে আল্লাহ কোরানে কলাগাছের কাঁদি কাঁদি কলার লোভ দেখাবেন কেন ? পেট্রায় যদি কলা জন্মাতো, তাহলে পেট্রায় এই আয়াত নাজিল হওয়া সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।

সূরা ওয়াক্বিয়াহ ২৯ নং আয়াতটা খুব ছোট কিন্তু ব্যাপক তাৎপর্যবাহী। আয়াতটা হলো:
” কাঁদি কাঁদি কলা ”
এই আয়াতে পূর্বের আয়াতগুলো এরকম:
২৭.যারা ডানপাশে থাকবে কত ভাগ্যবান তারা
২৮. তারা থাকবে এক উদ্যানে যেখানে থাকবে কাঁটাবিহীন বরই গাছ

পরের আয়াতগুলো এরকম:
৩০. সম্প্রসারিত ছায়া
৩১. প্রবহমান পানি
৩২. ও পর্যাপ্ত ফলমূল
৩৩. যা শেষ হবে না, নিষিদ্ধও হবে না।

বুঝতে পারছেন, ঘটনাটা জান্নাতের, জান্নাত মহান আল্লাহপাক জান্নাতী বান্দাদের জন্য কাঁটাবিহীন বরই গাছ এবং কলাগাছের কাঁদি কাঁদি কলা বন্দোবস্ত রেখেছেন! এবং সম্প্রসারিত ছায়া ! আমি জানি না, বরই গাছ কলাগাছের ছায়ায় মানুষ আরাম করে বসে কিনা।

এইবারে তাফসীরে যাই:
কানযুল ঈমানের ৯৬৪ পৃষ্ঠায় বলা হচ্ছে যে গাছগুলোর শিকড় থেকে চূড়া পর্যন্ত ফলমূলে ভর্তি থাকবে। যখন কোন ফল ছিঁড়ে নেয়া হবে তখন সে জায়গায় অনুরূপ দুটি ফল মওজুদ হয়ে যাবে।

এখন আসি আমার বক্তব্যে:
যেহেতু মক্কায় অবতীর্ণ সূরা, তাই আল্লাহ মক্কাবাসী লোকজনকে লোভ দেখাচ্ছেন, দেখো জান্নাতে যারা যাবে, তারা কত ভাগ্যবান, জান্নাতে কত হুর, কত ফলমূল, আদর আপ্যায়নের ব্যবস্থা আছে। সেখানে কাঁটাবিহীন বরই গাছ, কলা গাছ থাকবে। যেই কলাগাছগুলোর গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত কাঁদি কাঁদি কলা ধরে থাকবে। কানযুল ঈমানের সূরা ওয়াক্বিয়াহর টীকা ২৫ এমনটাই বলছে।

তার মানে এই সূরা যাদের কাছে নাযিল হয়েছে তারা নিশ্চয়ই কলা গাছ সম্পর্কে জানতো, কলাগাছে যে কাঁদি আকারে কলা ধরে সেটাও জানতো, কলা গাছ একটা মরে গেলে তার জায়গায় যে আরো কয়েকটা গাছের জন্ম নেয় সেটাও জানতো, কারণ টীকা ২৬ এ বলা হচ্ছে, যখনই কোন ফল ছেঁড়া হবে, তদস্থলে অনুরূপ দুটি ফল জন্ম নেবে।

তাহলে মুহম্মদ যাদের কাছে আল্লাহর বাণী বলে এই আয়াত চালাতে চাইছে, তাদের লোভ দেখানো হচ্ছে বড় বড় কাঁদি কাঁদি অফুরন্ত কলার।

এখন কোটি টাকার প্রশ্ন হলো :
মুহম্মদের যুুগে আরবের যে জায়গাটা মক্কা বলে আমরা জানি সেখানে কি কলা গাছ ছিলো ?

পুরো হাদীসসমূহ তন্ন তন্ন করে খুঁজলেও তো কলাগাছ সম্পর্কিত হাদীস পাওয়া যাবে না। তাহলে কোরআনে মক্কাবাসীদের কলা খাওয়ানোর লোভ দেখানো হলো কেন, যদি তারা কলা ফলটা জীবনে কেউ না দেখে, এর স্বাদ সম্পর্কে না জানে ?
ড্যান গিবসনের একটা ভিডিও আছে, যেখানে গবেষণা করে প্রমাণ হয়েছে, মুহম্মদের জন্ম মক্কায় নয়, বরং জর্দানের পেট্রায়। (ভিডিওলিংক https://www.youtube.com/watch?v=ko94_TdLrCE)

মজার কথা হলো,
তখনকার পেট্রায় কলাগাছ সহ অন্যান্য ফসল জন্মাতো এবং মাটি উর্বর ছিল। উইকিপিডিয়া বলছে, In the more fertile Jordan River valley, fruits and vegetables including cucumbers, tomatoes, eggplants, melons, bananas, and citrus crops often were produced in surplus amounts.(https://en.wikipedia.org/wiki/Agriculture_in_Jordan)

সাধারণত উষ্ণ জলবায়ু সম্পন্ন দেশসমূহে কলা ভাল জন্মায়। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াই কলার উৎপত্তিস্থল হিসাবে পরিগণিত। কলম্বিয়া ইত্যাদি ল্যাটিন আমেরিকান দেশে কলা প্রধান অর্থকরী ফসল। প্রাগাধুনিক ভারতীয় অর্থনীতিতেও একটি প্রধান অর্থকরী ফসল হিসাবে কলার চাষাবাদ হতো। খনার বচনে আছে, “কলা রুয়ে না কেটো পাত, তাতেই কাপড়, তাতেই ভাত।”

উদ্ভিদ বিজ্ঞানী মালানের মতে ভারতবর্ষ ও চীন কলার জন্মভুমি । কিন্তু আরেক উদ্ভিদ বিজ্ঞানী হিল পাক-ভারত ও মালয়কে কলার উৎপত্তিস্থল বিবেচনা করেছেন। (https://bn.wikipedia.org/wiki/কলা)
আরবের মক্কার উষর-ধূসর মরুপ্রান্তরে কলাগাছ জন্মানো মরীচিকা দেখার মতোই ঘটনা।

যদি আরবের মক্কা বা মদীনায় কলাগাছ জন্মাতো তাহলে নবীজীকে ও তার সাহাবায়ে কেরামকে খালি খেজুর আর রুটি-মাংস, দুধ খেয়ে থাকতে হতো না। হাদীস সমূহের কোথাও নবী কলা খেয়েছেন বা কলার মত সুস্বাদু ফলের তারিফ করেছেন, এমন কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না। আরবের মক্কায় ঐ সময়ে কলাগাছ থাকা অসম্ভব। আর নবী এবং যাদের কাছে তিনি ইসলাম প্রচার করছেন, তারা যদি কেউই কলাগাছ না চিনে, তাহলে আল্লাহ কোরানে কলাগাছের কাঁদি কাঁদি কলার লোভ দেখাবেন কেন ? পেট্রায় যদি কলা জন্মাতো, তাহলে পেট্রায় এই আয়াত নাজিল হওয়া সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত।

মুমিনরা আবার যুক্তি দেখাবেন, আল্লাহর কি কুদরত আল্লাহ পৃথিবীর সব ফল সম্পর্কে জানেন, তাহলে বলবো, আম জাম কাঁঠাল, আনারস, ইত্যাদির মত আরো শতশত কলার চেয়ে রসালো, সুমিষ্ট ফল আছে, সেগুলো উল্লেখ না করে, আল্লাহ কলার কথা কেন বললেন?

এর উত্তর একটাই যে
মুহম্মদ কখনোই আরবের মক্কায় জন্ম নেয়নি, বরং পেট্রায় জন্ম নিয়েছিল।মুহম্মদ ঐসব ফল দেখে নাই, জীবনেও খাইতে পায় নাই, স্বাদ নিতে পারে নিই। শুধু কলার রূপগুণ দেখেই এত মুগ্ধ হয়ে গেছে যে, জান্নাতের কলার লোভ দেখিয়ে মুমিনদের ডাকতে লাগলো আর মুমিনরাও খোসাছাড়া কলার সৌন্দর্য দেখে জান্নাতের কলা খাওয়ার লোভে দৌড়ে গেলো ! কোরানে যে উর্বর বাক্কা নগরীর কথা বলা হয়েছে তা পেট্রার বাক্কা নগরী।

মুসলিম ফতোয়াবাজরা আবার মহিলাদের জন্য কলা ও শশা স্পর্শ করা হারাম করেছেন ! কারণ কলা এবং শশা ‘resemble the male penis’ and hence could arouse women or ‘make them think of sex’ and “If women wish to eat these food items, a third party, preferably a male related to them such as their a father or husband, should cut the items into small pieces and serve,” the cleric supposedly dictated. (http://www.thedailybeast.com/the-fatwa-against-women-touching-bananas-and-other-stupid-islamic-orders)

– রুদ্রমঙ্গল

২ thoughts on “কোরআনের কলা কাহিনী

  1. বাহ সুন্দর উপস্থাপন
    বাহ সুন্দর উপস্থাপন

    ==============================================
    আমার ফেসবুকের মূল ID হ্যাক হয়েছিল ২ মাস আগে। নানা চেষ্টা তদবিরের পর গতকাল আকস্মিক তা ফিরে পেলাম। আমার এ মুল আইডিতে আমার ইস্টিশন বন্ধুদের Add করার ও আমার ইস্টিশনে আমার পোস্ট পড়ার অনুরোধ করছি। লিংক : https://web.facebook.com/JahangirHossainDDMoEduGoB

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *