সমালোচনা এবং চাটুকারিতায় পুরনো ব্যাকরণ— টাইম টু রিথিঙ্ক

বাজারে এই মুহূর্তে উপাদেয় খবর হচ্ছে তিনটা। সাজু সাহেব বনাম তারিক সালমান, সিদ্দিকুর এবং তাঁর চোখ অ্যান্ড শফি সাহেবের ভারত যাত্রা। ইমতিয়াজ সাহেব কিংবা সরদার আমিন? ওটা আলাদা খবর বলতে পারেন, তবে আই থিংক ওটা তারিক সালমান কাহিনীর এক্সটেনশান। একটা মানহানির মামলা আর অন্যটা ৫৭ ধারা। রুট কজ একটাই, চাটুকারিতা দিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ অ্যান্ড ব্যাকফায়ার। এছাড়াও ছুটকো ছাটকা খবর আছে। অরিজিনাল বাবা, সৎ কিংবা অসৎ বাবা কর্তৃক রেপ বা বনানীর হোটেলে জন্মদিনের পার্টিতে শ্লীলতাহানি টাইপ কাহিনী মাঝে মাঝে আসবে, তবে সেই ইফেক্ট হয়তো আর হবে না। এনিওয়ে, প্যাঁচাল শুরু করি।

ইউএনও সাহেবের ব্যাপারটা নিয়ে পাবলিক এবং মিডিয়া আগামী আরও কিছুদিন মেতে থাকবে বলেই মনে হচ্ছে। পাবলিক বেশ ভালোই খাচ্ছে। সাজু সাহেবের নেগেটিভ নিউজও যেমন খাচ্ছে তেমনি সালমান সাহেবের অনেস্টিও খাচ্ছে। কেউ কেউ সাজু সাহেবের সহযোগীদের কাহিনী আনছেন, কেউ আনছেন সেই বিচারকের জীবন বৃত্তান্ত। ওগুলো ঠিক মার্কেট পাচ্ছে না। আই থিংক তাঁদের সম্ভবতঃ কিছুই হবে না। হয়তো টেলিফোনে এক আধটা ঝাড়ি দেয়া হতে পারে। ব্যাস।

এমন পরিস্থিতিতে সচরাচর যা হয়, মিডিয়া হঠাৎ করে সততার পরীক্ষা দিতে শুরু করে। তারিক সালমান কাহিনীর পেছনের কাহিনী হিসেবে বেশ কিছু গল্প এখন ধীরে ধীরে বাজারে আনতে শুরু করেছে। দারুণ সৎ একজন ব্যক্তি, কাবিখার টাকা মারতে দেননি। কাহিনী ঘাঁটতে গিয়ে দেখা গেল ডিসি এবং বিভাগীয় কমিশনার সাহেবও বঙ্গবন্ধু ইস্যু নিয়ে অ্যাকশানে যাওয়ার মনস্থ করেছিলেন। তাঁদের অফিশিয়াল চিঠি পত্রিকায় চলে এসেছে। অন্য সময় হলে এই খবরে উনাদের পদোন্নতি হলেও, এখন উল্টো ফল দিতে পারে। হাওয়ার দিক বুঝে মিডিয়াও ব্যাপারটাকে নেগেটিভ স্টাইলে প্রচার করছে।

ছয়জন পুলিশের ওপর যে অ্যাকশান হয়েছে ওটা আসলে নি জার্ক রিয়াকশান। কিছুটা বলির পাঁঠাও বলতে পারেন। তবে আই থিংক ওটা তেমন ব্যাপার না। মিডিয়ার নজর সরলেই, উনাদের হিল্লে করা হবে। ওপর মহলের নির্দেশ আসলে পুলিশ কি করবে? আর এভাবে যদি ওপরের নির্দেশের জন্য শাস্তি হয়, তবে তো কেউই আর নির্দেশ পালন করবে না। আসলে কিছু একটা অ্যাকশান যে নেয়া হচ্ছে, সেটা দেখানোই উদ্দেশ্য। নট ব্যাড। পাবলিক খেয়েছে। দে আর এঞ্জয়িং।

লাস্ট বাট নট দ্যা লিস্ট। সাজু সাহেবের কি হবে? আমার ধারণা, আপাততঃ কিছু নি জার্ক রিয়াকশান হবে। পদ থেকে অব্যাহতি এসে গেছে। দুর্নীতি রিলেটেড কিছু কেসও হয়তো খাবেন। পত্র পত্রিকা লেগে পড়েছে উনাকে বিশিষ্ট ভিলেন বানাবার জন্য। সাজু সাহেবের উত্থানের বেশ কিছু মনোমুগ্ধকর কাহিনীও বাজারে আসছে। তাঁর হৃদকম্প নিয়ে ব্যাঙ্গবিদ্রূপও হচ্ছে। ওদিকে আওয়ামী নেত্রী যেহেতু সাজু সাহেবের ওপর নাখোশ হয়েছেন, তাই আপাততঃ মনে হচ্ছে, হি ইজ ইন ডেঞ্জার অ্যান্ড গোয়িং টু বি অ্যানাদার বলির পাঁঠা। কিন্তু এরপরে? মিডিয়ার স্ক্যানার সরে গেলে? সেটাই দেখার ব্যাপার।

উনাকে বলির পাঁঠা বলছি কেন? বলছি কারণ তারিক সাহেবকে ফাঁসানোর মাস্টার প্ল্যানে আরও যারা জড়িত, তাঁদের অনেকেই সাজু সাহেবের ঘাড়ে চেপে পার পেয়ে যাবেন। ইভেন, কাহিনী ঠাণ্ডা হলে, সাজু সাহেবের একটা হিল্লে হলে সেটাও আমার কাছে অস্বাভাবিক মনে হবে না। তাই আপাততঃ বললাম। পত্রিকায় যা খবর এসেছে সেই অনুসারে বাকীদের ব্যাপারে যেহেতু গ্রিন সিগন্যাল আসেনি কিংবা সিদ্ধান্ত হয়নি, তাই সাজু সাহেবের সহকারী বা সাহায্যকারীরা আপাততঃ নিশ্চিন্ত।

জুনিয়র আওয়ামী বাহিনীর বিবেক জাগতে মনে হয় আর কোন বাঁধা নেই। উনাকে আওয়ামী পদ থেকে অব্যহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত ওপর থেকে এসে গেছে। এবার লোকালদের কাজ শুরু হবে। তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা দুটো কাজ করতে পারে। নতুন যে নেতা হবে, তাঁর ধামা ধরতে পারে, আর কোমরে জোর থাকলে, সাজু সাহেবের প্রত্যাবর্তনের জন্য অপেক্ষা করতে পারে। মিডিয়াও হঠাৎ করে যে দ্বায়িত্বশীলতার চরম উদাহরণ এনে হাজির করছে, দারুণ সব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম দেখাচ্ছে, সেটাও এক্সপেক্টেড। চাটুকারিতা ইন ডিজগাইজ। শুধু এই প্রশ্নের উত্তর দেবে না, এতদিন এই কাজটা কেন করেনি।

নেক্সট টপিক, সিদ্দিকুরের চোখ। ওটা কেমন মার্কেট পাবে, আই অ্যাম নট সো সিওর। পরীক্ষার তারিখ এসে গেছে। ছাত্ররা আর আন্দোলনে নামবে কি না, বোঝা যাচ্ছে না। এক আধটা মানব বন্ধন হতে পারে। অনলাইনের প্রতিক্রিয়া তেন জোরালো মনে হল না। তাঁর ঠিকুজি খুঁজতে গিয়ে বিএনপি কিংবা শিবির পাওয়া গেলে, সম্ভবতঃ কাহিনী এখানেই শেষ। অন্য কিছু হলে, হয়তো সরকারী অনুদান টনুদান পেতে পারে। পুলিশ সাহেবকেও হয়তো মৃদু চটকানা দেয়া হতে পারে। ব্যাস। সিদ্দিকুর টাইপরা ভোগার জন্যই জন্ম নেয়। এবং ভোগে। এনিওয়ে, এই কিসসা খুব লম্বা না টানলে, আপাততঃ এখানেই খতম।

শফি সাহেবের চিকিৎসার জন্য ভারত যাত্রা। কমবেশি সবাই ফেসবুকে এ নিয়ে ট্রল করছে। হেলিকপ্টারে অসুস্থ ব্যক্তিটিকে ওঠানোর ছবিতে ফেসবুক এখন সয়লাব। কেন ‘মালু’দের দেশে যাচ্ছেন, এই যাওয়া হালাল না হারাম, এমন সব টিপ্পনী চলছে। বাম আক্টিভিস্টদের পুঁজিবাদী আমেরিকা কিংবা জার্মানিতে আসাইলাম চাওয়া নিয়েও একসময় এমন ব্যঙ্গ হত। আই থিংক ইটস পার্ট অফ দ্যা গেম।

ইমতিয়াজ সাহেব আর সরদার আমিন, এই দুটো খবর অন্য সময়ে বড়সড় খবর হত। আওয়ামী ধামাধরা হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী আমলে এই ভোগান্তি? আই থিংক, অন্য কেউ কেস খাইলে যে রিয়কশান হত, উনাদের ক্ষেত্রে তেমনটা হবে না। সহমর্মিতার সাথে কিছু টিপ্পনীও শোনানো হবে। বাম বাহিনীর চাপার যে জোর, উনাদের হিরো বানাবার আপ্রাণ চেষ্টা চালাবে। কিছুদিন ফুটেজও খাবে তবে অরিজিনাল স্টোরি হিসেবে মার্কেট পাবে কি না, সিওর না। বাজারে যেহেতু তারিক সালমান সাহেব লিড করছে, তাই ইনাদের স্টোরিটা তারিক সাহেবের স্টোরির এক্সটেনশান হিসেবেই সবাই দেখবে।
আর এন্ডিং যেহেতু অনেকটাই সলভড, তাই ব্লকবাস্টার নিউজ হওয়া কষ্টকর হবে। তারিক সালমান ইফেক্টের রেশে উনার কেসটারও অচিরেই হিল্লে হয়ে যাবে। পুরো ফেসবুক যেভাবে ফুঁসে উঠেছে, তাতে আই থিংক অভিযোগকারীর দশা সাজু সাহেবের মতই হতে যাচ্ছে। বোনাস হিসেবে সম্ভবতঃ ৫৭ ধারা নিয়ে সরকারী লেভেলে আরেকটা রিভিউ হতে পারে।

সো? কি বুঝলেন? তেল দেয়ার ব্যাকরণে কিছু পরিবর্তন এখন অত্যাবশ্যকীয় হয়ে উঠেছে। বঙ্গবন্ধুর প্রতি অতি আবেগ অনুভূতিতে আঘাত, ৫৭ ধারা, এসবের বাজার এখন একটু ডাল যাচ্ছে। এসব দেখিয়ে নেত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের বদলে রোষানলে পড়তে হচ্ছে। সো, তেল দেয়ার নতুন কোন ফর্মুলা খুঁজুন। আর হ্যাঁ, ভারত, বিধর্মী, পুঁজিবাদ, কমিউনিজম এসব নিয়ে তত্ত্ব কপচানোর ব্যাকরণেও পরিবর্তন আনুন। সমালোচনা এবং চাটুকারিতার পুরনো ব্যাকরণ এই বাজারে আর চলবে না। যেহেতু সমালোচনা আর চাটুকারিতা করেই পেট চালাবেন, তাই ইটস টাইম টু রিথিঙ্ক। নতুন ব্যাকরণ তৈরি করুন।
অ্যান্ড পরিবর্তন আনতে হবে আন্দোলনের ব্যাকরণেও। বি প্র্যাক্টিক্যাল।

১ thought on “সমালোচনা এবং চাটুকারিতায় পুরনো ব্যাকরণ— টাইম টু রিথিঙ্ক

  1. বাহ, মজাদার লেখা ভাই ! সুন্দর
    বাহ, মজাদার লেখা ভাই ! সুন্দর

    ইস্টিশনে আমার গল্প/প্রবন্ধ পড়ার ও ফেসবুকে আমার “বন্ধু” হওয়ার আমন্ত্রণ রইল। আগের আইডি ছাগলের পেটে।এটা নতুন লিংক :
    https://web.facebook.com/JahangirHossainDhaka

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *