ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী সরকার বনাম বাংলাদেশ অসম্প্রদায়িক সরকারের নীতি। তবুও আমরা অনেক নিচে!


এদেশের নির্যাতিত হিন্দু সংখ্যালঘুদের পক্ষে দাঁড়িয়ে যখন আমরা গুটি কয়েকজন মুসলিম-সাম্প্রদায়িক আক্রমনের বিরুদ্ধে দু-কলম লিখে প্রতিবাদ জানাচ্ছি, চিৎকার করছি, ঠিক তখন ঐদেশে (ভারতের হরিয়ানা আর ঝাড়খণ্ডে) উগ্র হিন্দুবাদীরা গরুর মাংস বহন করা কিংবা ভক্ষন করার অপরাধে (?) দুই সংখ্যালঘু মুসলিম মানুষকে পিঠিয়ে মেরে ফেলেছে। এটা শুনে লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যায়। কি ভয়ানক সাম্প্রদায়িকতা আমরা বহন করে চলেছি এই একবিংশ শতাব্দীতে! মানুষ ধর্মের জন্য কিভাবেই না অমানুষ হয়ে উঠেছে।

ছাগল হিন্দুদের খাবার, গরু আবার অধিকাংশ হিন্দুরা খায়না। কিন্তু মুসলিম সহ তাবদ দুনিয়ার অধিকাংশ খ্রিস্টান ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর গৌ মাংস তাদের পছন্দের খাবার। একটা মানুষকে যখন তার প্রিয় খাবার গৌ মাংস খাওয়ার অপরাধে পিঠিয়ে হত্যা করা হয়, তখন বোঝায় যায় সেই হিন্দু উগ্রবাদী খুনীটি ধর্মের প্রতি অন্ধ হলে কতটা সহিংস হতে পারে। শুধুমাত্র গরুর প্রতি ভক্তির জন্য মুসলিম যুবককে হত্যা করে ফেলা এটা আদিম ও অসভ্য বর্বতার বঃহিপ্রকাশ। কি লজ্জাজনক বিষয়! মানুষের জীবনের চেয়ে গরুর জীবনের প্রয়োজনীতা কি বেশি? কি উদ্ভট ধর্ম ভক্তি! ছি! কি হিন্দু, কি মুসলিম, এই উপমহাদেশে উগ্রতা যেন সমান তালে বেড়ে চলেছে। মানুষগুলো ধর্মের তরে হয়ে উঠছে একেকটা ধার্মিক-জানোয়ার! তবে আমাদের আশার আলো হচ্ছে এই দুই সংখ্যালঘু মুসলিম হত্যার প্রতিবাদে গোটা ভারতের প্রগতিশীল মানুষগুলো রাস্তায় নেমে এসেছে। বুদ্ধিজীবী, কবি, সাংবাদিক, শিল্পী, সাহিত্যিক, অভিনয় শিল্পীরা রাস্তায় নেমে এসে প্লেক্যাড হাতে নিয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। ভারত এখন সাম্প্রদায়িক হামলার বিরুদ্ধে সোচ্চার। বুঝায় যাচ্ছে তারা উগ্র হিন্দুত্ববাদীকে প্রশ্রয় দিতে মোটেও সম্মত নয়। কট্টর হিন্দুত্ববাদী নামে পরিচিত ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মৌদি বলেছেন, গো-ভক্তির নামে মানুষ হত্যা ভারতে মেনে নেয়া হবে না বলে নিজের অবস্থান পরিস্কার করেছেন। তার মানে গরুর প্রতি ভক্তির জন্য মানুষ হত্যা করা এটা অন্যায় তিনি তা পরোক্ষভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

এবার আসি আমার প্রিয় দেশ বাংলাদেশের দিকে। গত বছর সহিংস মুসলিমদের দেয়া আগুনে ব্রাম্মনবাড়িয়ার নাসির নগরে গোটা শ তিনশ হিন্দু পরিবারের বাড়ি-ঘর যখন শন্মান হয়ে জ্বলছিল, হিন্দুরা যখন নিজের ঘরে আগুনের লেলিহান দেখে দিক্বিদিক জ্ঞাণশুন্য হয়ে ছুটোছুটি করে পালাচ্ছিল, ঠিক তখনি আমাদের প্রধানমন্ত্রী ইংল্যান্ডের সাথে ম্যাচ জেতায় বাংলাদেশের এক ক্রিকেটারকে হেসে হেসে বাড়ি নির্মাণ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আর এদেশের স্বনাম ধন্য বুদ্ধিজীবী, কবি, সাংবাদিক, সাহিত্যিকরা কোনো প্রতিবাদ না করে বাংলাদেশ ম্যাচ জেতার আনন্দে বিজয়ের সেলিব্রেট যাপন করছেন। কলামিস্ট আসিফ নজরুল, উপন্যাসিক আনিসুল হক, নাট্যকার মামুনুর রশিদরা এদেশে না হল বুদ্ধিজীবি, না হল প্রগতিশীল। তারা যেটা হল, তা হল এদেশের মুসলমানিত্বের পেইড দালাল! ১৫ সালে এদেশেরই নাগরিক, এদেশেরই সচেতন প্রতিবাদী ব্লগারদের যখন ইসলামিস্টরা ইসলামের জন্য একে একে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করছিল, তখন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিন্দু মাত্র লজ্জাবোধ না রেখেই নির্লজ্জের মতো বলে ফেললেন, ব্লগার হত্যার দায় আমাদের সরকার নেবেনা। কি নির্মম চক্ষুলজ্জাহীনতা! কিছুদিন আগেও রাঙ্গামাটির লংদুতে যখন বাঙালী সেনা ও সেটেলাররা মিলে আদিবাসীদের শত শত বাড়ি-ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে তাদের ভুমি দখল করছিল, তখনো আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আদিবাসীদের জন্য সমবেদনা তো দূরে থাক, প্রতিবাদের ভাষায় একটি বাক্যও বলেননি।

-যেখানে ঐদেশের (ভারতের) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মৌদি একজন হিন্দুত্ববাদী হয়েও মুসলিম সংখ্যালঘু হত্যায় প্রতিবাদ করেন, গৌ-ভক্তির নামে মানুষ হত্যা এটা অন্যায় মনে করেন, সেখানে আমাদের তথা কথিত মুক্তিযুদ্ধের তেতনাদারী ও অথম্প্রদায়িক দলের প্রধান, গনতন্ত্রের মানত কন্যা নামে ক্ষ্যাত প্রধানমন্ত্রী থেক্কাতিনা এদেশের মুসলমানের হাতে সংখ্যালঘু আর আদিবাসী নির্যাতন দেখেও খুব নিরব থাকেন। এতে কি বোঝা গেল? তার মানে এদেশের সরকারের অসম্প্রদায়িক ও সেক্যুলার নীতির অবস্থা এতোটা নিম্মমানের, এতোটা ইতর মানের যে, তা ভারতের সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদী সরকারের নীতির পায়ের কাছেও স্থান করে নেবার যোগ্য নয়। যেখানে ওখানকার অনুকুল ঠাকুরের শিষ্য হিন্দু ধার্মিক উপন্যাসিক শীর্ষেন্দুরাও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কলম ধরেন, সেখানে আমাদের দেশের তথা কথিক ….দার চেক্যুলার কবি সাংবাদিকরা সংখ্যালঘু নির্যাতন দেখেও না দেখার ভান করে পপকর্ণ নিয়ে ক্রিকেট খেলা দেখায় মজে থাকেন। এখানেও পার্থক্যটা খুব উল্লেখযোগ্য! মুসলমানিত্বের পেইড দালাল তো! সেক্যুলারিজম কি এদেরকে মানায়?

১ thought on “ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী সরকার বনাম বাংলাদেশ অসম্প্রদায়িক সরকারের নীতি। তবুও আমরা অনেক নিচে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *