সহিংসতার শক্তি যেভাবে কমেছে জামাত-শিবিরের

সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর হার্ডলাইনে ছিল জামাত শিবির। রায়কে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নজিরবিহীন সন্ত্রাস চালানোর পরের প্রায় দেড় মাস একই হারে সহিংসতা চালিয়েছে তারা। পুরান পাগলের এহেন কর্মকান্ডের মাঝে উদয় হয় নতুন পাগল-হেফাজত। জামাত হেফাজত গলাগলী করে নতুন করে সহিংসতা শুরু করে। ঠ্যঙ্গানী খেয়ে হেফাজতের কপালে সীল পরছে ৫ মে রাতেই।
অন্যদিকে দলের আমের মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির রায়ের পর হরতালে সেরকম কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি জামাত শিবির। দলের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির ও রাজাকার বাহিনীর প্রতিষ্ঠানা আবুল কালাম মোহাম্মদ ইউসুফের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে ডাকা হরতালেও জামায়াত কর্মীরা তেমন কিছু করতে পারেনি। কী এমন ঘটলো যে জানোয়াররা সভ্য আচরন করা শুরু করলো?

জামায়াত নেতা সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর চাঁদে সাঈদীকে দেখা যাওয়ার গুজব ছড়িয়ে গ্রামের নিরক্ষর মানুষকে তাঁকে বাঁচাতে রাস্তায় নেমে আসতে উস্কানি দেয় জামাত-শিবির। আবার সহজ সরল মানুষদের সরকারি সম্পত্তি এবং পুলিশের ওপর হামলায় উস্কানি দিলেও জামাত শিবিরের কোনো নেতাগোছের কেউ সামনের সারিতে থাকেনি। পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় গুলিতে নিহতদের কেউ জামায়াত-শিবিরের নেতা গোছের কেউ নাই। আবার জামাত নেতাদের সন্তান বা কোনো স্বজনও সহিংসতায় নামেনি। সাধারন পাব্লিকরে ফুসলিয়ে ফাসলিয়ে সামনে ঠেলে দিয়ে নিজেরা নিরাপদ শেলটার নিয়েছে।সাধারন পাব্লিক তো আর বার বার বেল তলায় যাবে না।

কিছুদিন আগে থেকেই বাটামের মধ্যে আছে জামাত শিবির। আগেই তাদের বাটাম দেয়া হয়েছে, হরতালে বেশি ফাল পাড়বা তাইলে, যে নেতা কর্মীর পাল জেলে আছে তাদের তো ছাড়াই হবে না আরো নতুন পাল ভেতরে পাঠানো হবে।

জামাতে্র সর্বোচ্চ পর্ষদ ২০ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের একমাত্র ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাককে প্রকাশ্যে দেখা যায়। বাকিদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামাতের আমির মতিউর রহমান নিজামী, তিন নায়েবে আমির আবুল কালাম মোহাম্মদ ইউসুফ, আব্দুস সুবহান এবং দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ,তিন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা এবং এটিএম আজহারুল ইসলাম,কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলী এখন কারাগারে। দলটির সাবেক আমির গোলাম আযমেরও বিচার চলছে। এদের মধ্যে সাঈদী এবং কামারুজ্জামানের ফাঁসি আর কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বাকিরা বিভিন্ন মামলার আসামি হয়ে আত্মগোপনে।

এই সরকারের শাসনামলে জামাত-শিবিরের প্রায় ৩৬ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা হয়েছে ১৭ হাজার। আসামি করা হয়েছে তিন লাখ নেতাকর্মীকে। দলের সর্বোচ্চ পর্ষদ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের ২০ জনের বিরুদ্ধে ঝুলছে শতাধিক মামলা। কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের ৫৮ সদস্যের ৪৭ জনের বিরুদ্ধেও রয়েছে সহস্রাধিক মামলা। অনেক নেতাই দীর্ঘদিন ধরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নিয়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে। ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতিকেও সম্প্রতি আটক করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান একাধিক মামলায় আসামি।

তবে হটাৎ করে চুপ মেরে যাওয়ার পেছনে অন্য ধান্দাও থাকতে পারে। হতে পারে, আন্ডারগ্রাউন্ডে যেতে হলে কিভাবে টিকতে হবে, কাজ চালিয়ে নিতে হবে তার একটা ট্রায়ালের মধ্যে আছে তারা। শেষ পর্যন্ত সরকার যদি জামাত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করেই দেয় তবে বর্তমান অভিজ্ঞতাকে তারা কাজে লাগাবে এই চিন্তায়। তাই কোনো সুযোগ রাখা যাবে না। তাছাড়া হেফাজতের কর্মসূচির আড়ালে সহিংসতা করে দেশে অস্থিরতা তৈরির পরিকল্পনা ভন্ডুল হয়ে পড়ায় জামাত-শিবিরের কর্মীরা চরম হতাশায় আছে।

মোটকথা জামাত শিবির যেভাবে কোনঠাসা অবস্থায় আছে এটাই ছিল মোক্ষম অবস্থা তাদের রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করার। একারনে জামাত শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে এ দেশে জঙ্গী কারখানা চিরতরে বন্ধ করার যে সপ্ন আমরা দেখেছি তাতে শান দিতে হবে, আবারো…এখনি উচ্চকন্ঠে আওয়াজ তুলতে হবে এদেশের মাটি থেকে স্বমূলে জামাত শিবিরের চিহ্ন মুচে ফেলার।

১৬ thoughts on “সহিংসতার শক্তি যেভাবে কমেছে জামাত-শিবিরের

  1. আমার কিন্তু তা মনে হয় না
    আমার কিন্তু তা মনে হয় না ।
    গুয়াজমের রায় কয়েকদিন পরেই । এটাকে ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতাই মনে হচ্ছে ।

    1. আমার মনে হয় জামাত-শিবির সবচে
      আমার মনে হয় জামাত-শিবির সবচে বড় আঘাতটা করবে সাইদির ফাঁসির আগে-পরের কয়েকদিন… জাতির উপর চরম ক্রোধে তারা প্রতিশোধ নিবে। জিয়ার পাপের পায়শ্চিত্য করতে হবে একালের জিয়া প্রেমিকদেরও, সাধারণদের তো অবশ্যয় ভুগতে হবে!!

  2. শেষ থাবা ওরা মারবেই । ঝড়
    শেষ থাবা ওরা মারবেই । ঝড় আসবে । হাজার হলেও ”জামায়াত শিবির ” ট্যাগ পেছনে ।

  3. tai shudhu shorkar er upor
    tai shudhu shorkar er upor boshe thakle hobe na,hobe na kebol internet e oder fyt diye.amader akta definite plan niye agute hobe karon ami personally blv kori ora nishiddho holeo ora manusher moddhe aki vabe virus chorate thakbe.tai oder purapuri upre felte hobe.jate jamaat shibir naam tai edeshe taboo hoye uthe.jemon aj germany te “nazi” akta taboo word.sheijonno shahbag ke jagiye tule jamaat utpaton er next step decide korte hobe.jaate ora underground eo opo prochar chalate na pare.onnanno islamic dol er under eo kaj korte na pare. oder shokriyo shomosto neta-kormir full list toiri korte hobe.jaate ora onno dol e giyeo kaj korte na pare.akhono oder economic ar media assets gula fully nishiddho holo na……
    31st May ke shamne rekhe akhon thekei prostoot hote hobe.Joy Bangla,Joy Shahbag.

    1. জামায়াত-শিবির যতই নমনীয় আচরণ
      জামায়াত-শিবির যতই নমনীয় আচরণ করুক, এদের বিশ্বাস করা যায়না। হতে পারে নতুন করে ভিন্ন কৌশলে নাশকতা ও যড়যন্ত্রের নকশা নিয়ে এরা আন্ডারগ্রাউন্ডে আছে। জামায়াত-শিবির নামক এই কাল-কেউটে সাপকে সুযোগ দিলেই ছোবল মেরে বসবে।

      এদের মূল শিকড়-সহ উপড়ে ফেলা পর্যন্ত রাষ্ট্রকে সামনে আরো কঠিন অগ্নি পরীক্ষা দিতে হবে। তবে ইতিহাস বলে জয় বাংলার বিজয় অনিবার্য

    2. এইটা কি রে ??!!!! ব্লগে
      এইটা কি রে ??!!!! ব্লগে ব্যাংলিশ !!! :মানেকি: :মানেকি: :মানেকি:

      :হাসি: :হাসি: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

  4. মোটকথা জামাত শিবির যেভাবে

    মোটকথা জামাত শিবির যেভাবে কোনঠাসা অবস্থায় আছে এটাই ছিল মোক্ষম অবস্থা তাদের রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করার।

    কবে যে সরকারের বোধোদয় হবে…

  5. কাল সাপকে বিশ্বাস করা যায় !
    কাল সাপকে বিশ্বাস করা যায় ! কিন্তু জামাত-শিবিরকে বিশ্বাস করা যায় না…..সুযোগ পেলেই দংশন করবে জাতিকে….

  6. জামাত শিবির এতো সহজেই হাল
    জামাত শিবির এতো সহজেই হাল ছেড়ে দিবে ,মনে হয় না। তারা হয়তো বড় কিছু পরিকল্পনা করছে। তারা কোণঠাসা হয়ে গেছে, ভাবলে ভুল হবে। হয়তো সামনে বিভীষিকা অপেক্ষা করছে।

  7. প্রথম কথা হলো জামায়াত এখন কেন
    প্রথম কথা হলো জামায়াত এখন কেন এরকম নিষ্ক্রিয় তা আমার থেকে আপনারই ভালো জানার কথা একজন সাংবাদিক হবার সুবাদে। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও জামায়াত-শিবিরের নেতা কর্মী গ্রেফতার হচ্ছেই। জামায়ত-শিবিরের হামলাগুলোতে যে তাদের তেমন কেউই থাকে না তা কিন্তু না। শুরুর দিকে তারাই শুরু করে এবং সময় বুঝে পালিয়ে যায়। কিন্তু এখন গণগ্রেফতারের কারণে তাদের সেই মাস্টারমাইন্ড নেতা-কর্মীরা জেলের হাওয়া খাচ্ছে ফলে তারা সেরকম একটা সুবিধা করে উঠতে পারছে না।

    তবে এই মুহুর্তে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে দেওয়াটা ঠিক হবে নাকি বেঠিক হবে সেটি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরাই ভালো বলতে পারবেন। কেননা আপনার লেখাতেও ফুটে উঠেছে যে তারা এই মুহুর্তে নিষিদ্ধ হলে নতুন রুপে কিভাবে আবির্ভুত হবে সেটির জন্যও তারা প্রস্তুত। সুতরাং এই মুহুর্তে নিষিদ্ধ করলে সেটি কি তাদের পক্ষে যাবে নাকি বিপক্ষে যাবে সেটি আমি চরম সন্দিহান।

  8. জামাত-শিবির বিগত কয়েক দশক ধরে
    জামাত-শিবির বিগত কয়েক দশক ধরে যেভাবে শক্তি সঞ্চয় করেছে তাতে এতো সহজে তাদের নির্মূল করা যাবে বলে মনে হয়না। তবে এবারের শাহবাগের গণজাগরণের একটা সুফল হচ্ছে নতুন প্রজন্ম এতো সহজে আর শিবিরের ফাঁদে পা দেবে না। স্পষ্ট একটা ঘৃনা তৈরি হয়েছে। তাই নতুন নতুন ছাগুর সাপ্লাইয়ে টান পড়বে। তবে বর্তমানের হাজার হাজার ছাগুদের নিশ্চিহ্ন করতে হলে তাদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে হবে।

    1. তবে বর্তমানের
      হাজার হাজার

      তবে বর্তমানের
      হাজার হাজার ছাগুদের নিশ্চিহ্ন
      করতে হলে তাদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড
      ভেঙে দিতে হবে।

    2. তবে বর্তমানের
      হাজার হাজার

      তবে বর্তমানের
      হাজার হাজার ছাগুদের নিশ্চিহ্ন
      করতে হলে তাদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড
      ভেঙে দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *