কর্ণ-যে ভাবে আমরা শব্দ শুনতে পাই,শব্দ যে ভাবে কর্ণ কুহরে প্রবেশ করে, পর্ব-২৭(১)

কর্ণ–যে ভাবে আমরা শব্দ শুনতে পাই,শব্দ যে ভাবে কর্ণ কুহরে প্রবেশ করে, পর্ব–২৭(১)
শব্দ বস্তুটা কী?

শব্দ একটা শক্তি যা সম্পূর্ণ আমাদের দৃষ্টির বাইরে থাকে।আলোক যেমন একটা শক্তি কিন্তু সেটা আমরা শুধু মাত্র দৃষ্টির মাধ্যমে বুঝতে পারি। শব্দ চলতে পদার্থের অনু পরমানুর মাধ্যম দরকার হয়।
আলোক চলতে কোন মাধ্যম দরকার হয়না।

শব্দ কীভাবে উৎপন্ন হয়?
শব্দ উৎপন্ন হবে যদি কোন পদার্থে (বায়বীয়,শক্ত,অথবা তরল) তরঙ্গ (ঢেউ) উৎপাদন করা যায়।যখন কোন পদার্থে শক্তি প্রয়োগ করে তরঙ্গ উৎপাদন করা হয় তখন সেই তরঙ্গ আমাদের চতুর্পাশের বায়ু মন্ডলেও তরঙ্গের সৃস্টি করে এবং সেই তরঙ্গ চতুর্পার্শের বায়ু মন্ডলেও ছড়াতে থাকে।যেমন ধরুন আপনি একটি পকুরে এক খন্ড পাথর ছুড়ে মারলেন । তখন দেখতে পাবেন ঐ আঘাতের কারনে পানিতে একটি তরঙ্গ উৎপন্ন হয়ে তা চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়তেছে।
ঠিক একই ভাবে আপনি যখন একটি ড্রামের চামড়ায় আঘাত করলে একটি তরঙ্গ বায়ূ মন্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। চিত্র–১ ও লিংকটায় তরঙ্গ দেখুন।

Source of figure- http://www.dosits.org/images/dosits/drumset.gif
চিত্র–১ ড্রামের চামড়ায় লাঠির আঘাত করলে কী ভাবে বায়ুমন্ডলে শব্দ তরঙ্গ চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়তেছে তা উপরের লিংকটায় ক্লিক করে দেখুন।

একটি তরঙ্গের সর্বোপরি চুড়া হতে পরবর্তি তরঙ্গের সর্বোপরি চুড়ার দূরত্বকে WAVE LENGTH বলে।

নীচে চিত্র–২ দেখুন।

Source of figure- http://tellmewhyfacts.com/2007/09/how-does-sound-travel.html

চিত্র–২ বায়ু মন্ডলে শব্দ তরঙ্গের WAVE LENGH।
শব্দ তরঙ্গের গতি কত?
শব্দ তরঙ্গের গতি,কী ধরনের মাধ্যম, কী রকম তাপ মাত্রা,ও মাধ্যমের ঘনত্বের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন রকম হয়।

পৃথিবীর সমুদ্র পৃষ্ঠের বায়ুমন্ডলে ১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় শব্দের গতিবেগ ৭৬১.২ মাইল/ঘন্টা (১)

বাইরের এই শব্দ তরঙ্গ আমাদের কর্ণ কুহরে ঢুকে যায়।চিত্র–৩

Source of figure- http://tellmewhyfacts.com/2007/09/how-does-sound-travel.html

চিত্র–৩,  লক্ষ করুন শব্দ তরঙ্গ কী ভাবে আমাদের কর্ণ কুহরে ঢুকতেছে।
এখানে একটা কথা মনে রাখতে হবে, শব্দ তরঙ্গ কোন পদার্থের (বায়বীয়,শক্ত,অথবা তরল) মাধ্যমের অনু বা পরমানু ছাড়া কোন তরঙ্গ  উৎপাদন ও করতে পারবেনা ও চলতেও পারবেনা।
কিন্তু আলোক বা RADIATION চলার জন্য কোন পদার্থের মাধ্যম দরকার হয়না।

এই কারনে আমাদের পৃথিবী পৃষ্ঠের ৩০০ মাইল উপরে যেখানে কোন বায়ুমন্ডল নাই সেখানে আমরা পৌছাইলে আমাদের একজনের মুখের কথা আর একজনকে শুনাতে পারবনা।

এ সব ক্ষেত্রে মহাশুন্য বিজ্ঞানীগন RADIO HEAD PHONE ব্যবহার করে মহাশুন্য SPACE STATION এর বাইরে পরশ্পরের সংগে কথাবার্তা বলেন ও কাজ কাম করে থাকেন। SPACE STATION এর ভিতরে বায়ুর ব্যবস্থা রয়েছে।
উপরে তাহলে দেখতে পেলেন কী ভাবে শব্দ তরঙ্গ আমাদের কর্ণ কুহরে ঢুকে পড়ল।

  আচ্ছা, তাহলে কী আমরা এখনি শব্দটি শুনে ফেল্লাম?

মোটেই নয়।
শব্দকে আমাদের শুনতে ও বুঝতে এই বায়বীয় তরঙ্গটাকে বিদ্যুৎ তরঙ্গে রুপান্তরিত করে AUDITORY NERVE নামক স্নায়ুটার মধ্য দিয়ে মস্তিকের TEMPORAL LOBE এর শ্রুতি কেন্দ্রে ( AUDITORY CENTER) পৌছিতে হবে। চিত্র–৪।
এরপর মস্তিস্কের  একটা বিশেষ অংস এটা বিবেচনা করে রায় দিবে, এই শব্দটার কী তাৎপর্য।এটা কী একটা বাঘের আওয়াজ নাকী এটা একটা সুমধুর গানের আওয়াজ?

এটা কী আপনার শত্রু পক্ষের আওয়াজ নাকী আপনার মিত্র পক্ষের আওয়াজ?
মানুষের কান একটি নির্দিষ্ট মাপের শব্দ তরঙ্গ ধরতে সক্ষম, তার বাইরে সে ধরতে পারেনা। তাই মানুষ সব শব্দ শুনতে সক্ষম নয়। আবার একটি কুকুর যা শুনতে পারে মানুষ তা শুনতে পারবেনা।(১০)

Source of figure- https://www.quora.com/Which-parts-of-the-brain-control-which-human-behaviours
চিত্র–৪ মস্তিস্ক।লক্ষ্য করুন  AUDITORY CENTER (শ্রুতি কেন্দ্র)
কিন্তু কথা হল, শব্দের এই বায়বীয় তরঙ্গ টাকে বৈদ্যুতিক তরঙ্গে রুপান্তরিত করবে কে?
নাকী একেবারে ম্যাজিকের মতন বায়ু তরঙ্গটা বৈদ্যুতিক তরঙ্গৈ রুপান্তরিত হয়ে যাবে?

নাহ, এখানে ম্যাজিক বলে মোটেই কিছু নাই।
আমাদের কর্ণই একমাত্র সেই যন্ত্র, যে এই বায়বীয় তরঙ্গকে তার মধ্য দিয়ে অত্যন্ত জটিল প্রকৃয়ার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করিয়ে বৈদ্যুতিক তরঙ্গে রুপান্তরিত করে মস্তিস্কের শ্রুতি কেন্দ্রে (AUDITORY CENTER) এ পাঠিয়ে থাকে।চিত্র–৪
কর্ণের এই কাজটুকু সুষ্ঠু ভাবে সম্পাদন করার জন্য ৩টি অংস আছে, যেমন–
১)বহি কর্ণ (EXTERNAL EAR)
২)মধ্য কর্ণ (MIDDLE EAR)
৩)আভ্যন্তরীন কর্ণ (INNER EAR)
এখানে আগে ভাগে একটু বলে রাখা ভাল, আভ্যন্তরীন কর্ণ দুই ধরনের কাজ করে, যেমন–

১)শ্রুতির কাজ, এখানে বাহির হতে আগত তরঙ্গকে বৈদ্যুতিক তরঙ্গে রুপান্তরিত করা হয়।

২) এর সংলগ্ন একটা অংস শরীরের ভার সাম্য রক্ষার কাজ (BODY BALANCE)ও করে।
(২,৩,৪,৫,৬,৭,৮,৯,১০)
চলতে থাকবে–
পূর্ববর্তী পর্ব সমূহের লিংক
 
Updated on- 5/30/2017
২৭ তম পর্বের সুত্র সমূহ–

১) SOUND SPEED
http://www.livescience.com/37022-speed-of-sound-mach-1.html
2) http://en.wikipedia.org/wiki/Ear
AUDITORY & VESTIBULAR PATHWAYS
3) http://www.bioon.com/bioline/neurosci/course/audvest.html
4) HAIR CELL
http://www.ncbi.nlm.nih.gov/books/NBK11122/
5)VESTIBULE & COCHLEA
http://www.cochlea.eu/en/ear/inner-ear
6) VESTIBULE
https://www.boundless.com/biology/sensory-systems/hearing-and-vestibular-sensation/transduction-of-sound/
7) FUNCTION OF SEMICIRCULAR CANAL
http://www.healthline.com/human-body-maps/semicircular-canals
8)FUNCTION OF INNER EAR
http://www.healthline.com/human-body-maps/semicircular-canals
9)How sound travel
http://www.tellmewhyfacts.com/2007/09/how-does-sound-travel.html
10) http://tellmewhyfacts.com/2007/09/how-does-sound-travel.html

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *