এক মূর্খের দর্শন চিন্তা

মানুষের সাথে পশুর একটা মৌলিক তফাত হচ্ছে যে, মানুষ স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারে। বিজ্ঞান বা দর্শন তারই ফসল। তবু সত্যি কি আমরা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারি? আমাদের বেশিরভাগ চিন্তাই তো আমাদের আগের অর্জিত জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা দ্বারা প্রভাবিত।হঠাৎ মাথায় এলো ইশ্বর বা স্রষ্টা নিয়ে একটু চিন্তা করে দেখি নিরপেক্ষভাবে ভাবতে পারি কি না? যদিও জানি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বিশ্বাস আমার চিন্তাকে প্রভাবিত করবে অনেকটাই।



মানুষের সাথে পশুর একটা মৌলিক তফাত হচ্ছে যে, মানুষ স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারে। বিজ্ঞান বা দর্শন তারই ফসল। তবু সত্যি কি আমরা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারি? আমাদের বেশিরভাগ চিন্তাই তো আমাদের আগের অর্জিত জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা দ্বারা প্রভাবিত।হঠাৎ মাথায় এলো ইশ্বর বা স্রষ্টা নিয়ে একটু চিন্তা করে দেখি নিরপেক্ষভাবে ভাবতে পারি কি না? যদিও জানি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বিশ্বাস আমার চিন্তাকে প্রভাবিত করবে অনেকটাই।

প্রথমে অবশ্য সেটাও প্রশ্ন স্রষ্টা আছেন নাকি নেই? ধরে নিলাম থাকতেও পারেন নাও পারেন। কারণ উত্তরটা আমার জানা নেই।আচ্ছা সে যাকগে শুরু তো করি!

স্রষ্টা কে? যিনি সৃষ্টি করেন সেই তো? সৃষ্টি কি? নতুন করে কিছু বানানো। আপনি কাগজে একটা ছবি আকলেন, কিংবা দুধ দিয়ে তৈরী করলেন এক পাতিল দৈ। অথবা বানিয়ে ফেললেন একটা গাড়ি। এগুলো কি সৃষ্টি? আমার তো মনে হয় না। কারণ এটাতো বস্তুর রূপান্তর মাত্র। আচ্ছা তাহলে একজন কবির লেখা কবিতা? সেটাও তো চিন্তার রূপান্তর। সৃষ্টি কি তাহলে নেই?

বলতে পারেন কেন পৃথিবী তাহলে কে সৃষ্টি করলো এটাকে তো সৃষ্টি বলতেই হবে আপনাকে। যদি বলি না। পৃথিবীও কোন সৃষ্টি না, এটাও তো বস্তুর রূপান্তর মাত্র। হয়তো কোন নক্ষত্রের খন্ডাংশ হতে তৈরী এটা। সেটাও হয়তো কোন না কোন রূপে ছিলোই আগে। তাহলে তারও আগে? বা তারও আগে? কোন না কোনভাবে ছিলোই সেটা নাকি কিছুই ছিলো না। ধরে নিলাম কখনও একটা সময় ছিলো যখন কিছুই ছিলো না। তারপর একবারে একটা কিছু সৃষ্টি হলো। এর পর তো আর নতুন করে সৃষ্টির দরকার নেই।এরপর তো যাই হচ্ছে তাই বস্তু বা শক্তির রূপান্তর।তাহলে সৃষ্টি যদি হয়েও থাকে তবে সে একবারই হয়েছিলো তারপর আর হয় নি। অথবা এই মহাবিশ্ব বা যা কিছু যেরূপেই থাক সেটা চিরকাল ছিলো কখনোই ছিলো না এমন নয়।

তাহলে প্রকৃতি বা বিশ্বব্রম্মান্ড একবারই সৃষ্টি হয়েছিলো অথবা কখনোই হয় নি, এটা চিরকালীন।এরপর আর কিছু আসলে সৃষ্টি হয় নি। কারণ এরপর যাই হয়ে থাকুক তা বস্তু বা শক্তির রূপান্তর মাত্র।আদিতে হয়তো তা এক বিন্দুতে ছিলো বা একক সত্ত্বা ছিলো কোন। হয়তো এখনও তাই একটি একক, নৈবর্ত্তিক সত্ত্বাই শুধু আছে, আর কিছু নেই এর ভিতর বাইরে বলেও কিছু নেই। তাহলে নিজেকে বাদ দিয়ে কোন বাইরের ঈশ্বর এর কল্পনা করে কি লাভ? আমাদের থেকে পৃথক বলে তো কিছু নেই। যা কিছুকে আমরা আলাদা ভাবছি তা তো কোন না কোনভাবে আমাদের সাথে সম্পর্কিত হওয়ার্ ই কখা। যুক্তিবিদ্যা পড়ি নি, বিজ্ঞান বা দর্শন সম্পর্কেও আমার নেই কোন স্বচ্ছ ধারণা। যা কিছু প্রশ্ন বা ভাবনা প্রকাশ করলাম একান্তই ব্যক্তিগত ভাবনা, ভূল শুদ্ধ জানিনা, কখনও জানতে পারবো এমন দূরাশাও হয়না।তবু মনে হয় মহাবিশ্বের একক ক্ষুদ্র সত্ত্বা আমি এই মহাপ্রকৃতিরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *