অবরুদ্ধ সময় থেকে

শুধু বুকের ভিতর উন্মত্ত আগ্নেয়গিরির
সুপ্রাচীন আগুন নিয়ে ফেটে পড়তে ইচ্ছে করে,
চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে, খামোশ…!

থাকবে না কোনো চায়ের কাপের ঝড়,
মাঠে-ঘাটে, ছবির হাটে থাকবে না
শিল্প-সাহিত্যের জমজমাট কোনো আড্ডা!
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হবে অবরুদ্ধ চারণক্ষেত্র!
কিছু সংবাদপত্র পুঁড়িয়ে ফেলা হবে
টেলিভিশনের ক্যামেরাগুলো করা হবে জব্দ!

আর ওদিকে চলবে গুম-খুনের মচ্ছব
সন্তান পিতাকে হারাবে,
পিতা হবে পুত্রহারা
মায়ের চোখের জল শুকিয়ে চোখেই থেকে যাবে
কেটে নেওয়া হবে আমাদের ছাপমারার বৃদ্ধাঙ্গুলিটিও!
আর অট্টহাসি হেসে বিলাসি খাবার টেবিলে
রসালো নরমাংসে কামড় বসাবে
সরকারি কোনো জল্লাদ-হর্তাকর্তা
তারপর রেশমী রুমালে মুছে ফেলবে
ঠোঁটে লেগে থাকা রক্ত।

সবাই বলে,
নেই গণতন্ত্র,
নেই বাক-স্বাধীনতা,
নেই মানবাধিকার,
নেই আইনের শাসন!

আর আমি বলি,
গানের পাখিদের ডানাগুলো ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে
সিংহকে করা হচ্ছে নখদন্তহীন,
বাঘের কণ্ঠ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে রণহুংকার
ঝিরিরিঝিরি বৃষ্টিকে থামিয়ে দেয়া হয়েছে,
বাঁধ দেয়া হয়েছে প্রমত্ত নদীতে
আর হত্যা করা হয়েছে মনুষ্যত্বকে!

এভাবে কখন কি হবে,
কে কখন হারিয়ে যাবে দৃশ্যপট থেকে,
কেউ জানে না।
কে হবে আনিস, জাফর, ইমাম বা রনো,
তাও জানা নেই কারও,
শুধু বুকের ভিতর উন্মত্ত আগ্নেয়গিরির
সুপ্রাচীন আগুন নিয়ে ফেটে পড়তে ইচ্ছে করে,
চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে করে, খামোশ…!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *