অচেনা অতিথির কথোপকথন……

কোনো এক সন্ধ্যায় একা একা হাটছিলাম। সময় নিয়ে তেমন কোনো চিন্তা নেয় আমার কিন্তু তারপরও সময় বুঝে চলা ভালো। তাই একটা ল্যামপোষ্টের নিচে একটা লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখ এগিয়ে গেলাম সময় জানার জন্য……..

আমি ঃকয়টা বাজে ?

অচেনা মানুষ ঃঘড়ির দিকে তাকিয়ে ৯ টা বাজতে একটু বাকি ।

আমি ঃআপনি এখানে একা একা বসে আছেন কেনো ?

অচেনা মানুষ ঃ কোনো উত্তর নেই !!

আমি ঃ ভাই আপনার নাম কি ?

অচেনা মানুষ ঃ কোনো উত্তর নেই।

আমি ঃ কিছু মনে না করলে বলবেন আপনি কোথায় থাকেন ?


কোনো এক সন্ধ্যায় একা একা হাটছিলাম। সময় নিয়ে তেমন কোনো চিন্তা নেয় আমার কিন্তু তারপরও সময় বুঝে চলা ভালো। তাই একটা ল্যামপোষ্টের নিচে একটা লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখ এগিয়ে গেলাম সময় জানার জন্য……..

আমি ঃকয়টা বাজে ?

অচেনা মানুষ ঃঘড়ির দিকে তাকিয়ে ৯ টা বাজতে একটু বাকি ।

আমি ঃআপনি এখানে একা একা বসে আছেন কেনো ?

অচেনা মানুষ ঃ কোনো উত্তর নেই !!

আমি ঃ ভাই আপনার নাম কি ?

অচেনা মানুষ ঃ কোনো উত্তর নেই।

আমি ঃ কিছু মনে না করলে বলবেন আপনি কোথায় থাকেন ?

অচেনা মানুষ ঃ অদ্ভুদ দৃষ্টিতে আমার দিকে দেখলো মনে হলো যেনো আমি উনার ছাত্র এবং উনি আমার শিক্ষক আমি পড়া পারছিনা বলে আমার উপর অনেক ক্ষেপে আছেন ।আমি কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম তাই আর তেমন কিছু জিজ্ঞেস করার সাহস পেলাম না !তাই আনি পাশেই একটা বেঞ্চ এ গিয়ে বসলাম।

কিছুক্ষণ পর লোকটা আমার কাছে এগিয়ে এসে বলল…………………

অচেনা মানুষ ঃ ভাই বলতে পারেন মানুষের উপকার করলে মানুষ মানুষকে হত্যা করে কেনো ?

আমি ঃ কিছুটা অবাক হয়ে গেলাম উনার কথা শুনে ।। আমার প্রশ্নের উত্তর দিলনা আবার পালটা প্রশ্ন করছে আজব তো।

অচেনা মানুষ ঃ মানুষের উপকার করতে গিয়ে যদি লাশ হতে হয় তাহলে কেনো মানুষের উপকার করব বলতে পারেন ?

আমি ঃ কিছুই বুঝতে পারছিনা কি বলবো উনাকে একটা মানুষকে চিনিনা জানিনা তার উপর উনার এই রকম উদ্ভট টাইপের প্রশ্ন শুনে প্রথমে পাগল মনে হলেও দেখে কিন্তু মনে হচ্ছেনা কিছু একটা বলতে যাবো তার আবার প্রশ্ন ।

অচেনা মানুষ ঃ আপনি কখনো কারো উপকার করেছেন ?

আমি ঃ পাল্টা প্রশ্ন শুনে কিছুটা ইতস্ততবোধ করে জবাব দিলাম হ্যাঁ কিন্তু প্রতিদান চাইনি। নিজেকে বড় প্রমান করার চেষ্টা (আদো করেছি বলে মনে পরছে না) !!

অচেনা মানুষ ঃ কারো উপকার করার পর কেউ কি আপনাকে খুন করতে চেয়েছে ?

আমি ঃ তার প্রশ্নের ধরন শুনে আমারতো গলতঘম মানে গলা দিয়ে ঘাম পরছে। উপকার করলে কেউ কাউকে খুন করতে চায় আমি এই প্রথম শুনলাম। আমি খুব সাবলীল ভাষায় তাকে জবাব দিলাম না।

অচেনা মানুষ ঃ তাহলে আমাকে কেনো ওরা হত্যা করলো ? ওরা কেনো আমাকে একটু সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসলোনা ?

আমি ঃ আমার মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছেনা কি বলছে এই লোক কি বলছে এইসব ? উনাকে হত্যা করলো মানে কি !! কেউ কারো উপকার করলে কেউ উপকারীকে হত্যা করতে পারে ? আমার বিশ্বাস হচ্ছেনা আর উনাকে যদি হত্যা করেই থাকে তাহলে আমি কার সাথে কথা বলছি ভুতের সাথে !! নিজের মনেই সাথে কিছুক্ষন নির্বাক যুদ্ধ করে বললাম ভাই আপনি আসলে কি বলতে চাচ্ছেন আমি কিছুই বুঝতে পারছিনা । দয়া করে যদি একটু পরিষ্কার করে বলতেন ।

অচেনা মানুষ ঃ দিনটি ছিলো রবিবার হরতাল চলছিলো সারাদেশে। আমি পেশায় একজন পুলিশ। সেদিনও আমি অন্যান্য হরতালের দিনের মতো ডিউটিরত অবস্থায় ছিলাম। অন্য সবার মতো আমিও হাতে রাইফেল নিয়ে দারিয়ে আছি পরনে ছিলো আমাদের বিশেষ সেফটি পোশাক। আমার সঙ্গীদের সাথে বসে কথা বলছিলাম মাঝে মাঝে রাস্তার এইপাশ ওপাশ দেখছিলাম কোনো প্রকার সমস্যা হচ্ছে কিনা। রাস্তার ওপাশে দেখলাম একটা ছোটো বাচ্চা মেয়েকে একটা লোক কোলে করে রাস্তা পার হচ্ছে বাচ্চাটির বাবা হবে সম্ভবত। সাথে সাথে আমার মেয়ের কথা মনে পড়লো। আমার মেয়েটা এখন ক্লাস ২ তে পড়ে আমাকে ছেড়ে থাকেনা একদম। প্রতিদিন ওকে নিয়ে স্কুলে নিয়ে যাওয়া হয়না আমার কিন্তু মাঝে মাঝে নিয়ে যায় আর যাওয়ার সময় ওর নানান বায়না নানান কথা । বাবা আমাকে একটা ময়না পাখি কিনে দিও। আমি ওটাকে পুষবো ওটার নাম দিবো “পিউ” আমি ওটার সাথে কথা বলবো ওটার সাথে গান করবো । আরো কত যে কথা কত যে আবদার আমার পাগলিটার। হা হা হা হা হা ……

আমি ঃ খুব অদ্ভুদভাবে হেসে উঠলেন তিনি। তার হাসি দেখে আমি অবাক না হয়ে পারলাম না কারন মন থেকে হাসতে সবাই পারেনা কিন্তু এই লোকটি পারছে শুধু পারছে বললেই চলবেনা রীতিমত চিৎকার করে হাসছে। আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো উনার কথা শুনে যাচ্ছি।

অচেনা মানুষ ঃ রাস্তার অন্য পাশে দেখলাম একটি ফুলের দোকানে ফুল বিক্রি করছে। নানান রঙের ফুল জবা, গাঁদা, রজনীগন্ধা আরও নাম না জানা অনেক ফুল। শেষ কবে যে আমার স্ত্রীকে ফুল দিয়েছিলাম আমার মনে নেই।এইবার ভ্যালেন্টাইন ডে তে ও আমার কাছে ফুল চেয়েছিলো আমি দিতে পারিনি।কিভাবে দিবো বলেন সরকারি চাকরী করি জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে দিতে নিজেদের স্বপ্নপূরন করা হয়ে উঠেনা। তাই ওকে কথা দিয়েছেলাম সামনেবার ঠিক ফুল এনে খোপায় পড়িয়ে দিবো। স্ত্রী কন্যা সবাইকে অনেক মিস করি কিন্তু তাদেরকে বুঝাতে পারিনা আমি তাদের কতটা ভালবাসি। আমারও ইচ্ছে হয় ওদের ভালবাসতে কিন্তু পারিনা আমি যে আপনাদের কাছে বন্দী !!

আমি ঃ অনেকটা আক্ষেপের সাথে কথাগুলো বলে চলেছেন তিনি আমার কিছুই বলার মতো ছিলনা কি বলবো আমি বুঝে উঠতে পারছিনা। একটু পর দেখলাম লোকটা বাম হাতটা চোখের কাছে নিয়ে গিয়ে কিছু একটা পরিষ্কার করলো মনে হল চোখের জল পরিষ্কার করল। আমার জানা মতে কষ্ট অনেক বেশি হলে তা চোখের জল হয়ে ঝরে পড়ে এই লোকটারও কি তাই ?? নিজের মনেই নিজে প্রশ্ন করলাম। লোকটা আবার বলা শুরু করল……

অচেনা মানুষ ঃ রাস্তার ঠিক পাশেই দেখলাম একজন বৃদ্ধ ভিক্ষা করছে এগিয়ে গেলাম তার দিকে ৫ টাকা পকেট থেকে বের করে দিলাম একটা হাসি দিলো টাকাটা পেয়ে মনে হয় আমাকে মনে মনে আশীর্বাদ করেছে। আমারও ভাল লাগলো কারন আমাদের তেমন কেউ আশীর্বাদ করেনা সবাই আমাদের বদনাম করতে ব্যস্ত থাকে। এর মাঝেই দেখলাম দূরে কিছু মানুষ দৌড়ে আমাদের দিকে আসছে আমার সঙ্গীরা সবাই ব্যস্ত হয়ে উঠলো ঘটনা কি দেখার জন্য। আমরা এগিয়ে গেলাম কিছু বুঝে উঠার আগেই আমাদের দিকে ইট,পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়ে গেলো। কেউকেউ রাস্তার পাশে দোকান পাট ভাঙতে শুরু করে দিলো। আমরা প্রথমে আমাদের সেফটি গার্ড দিয়ে ইট পাটকেল আটকাতে চেষ্টা করলাম কিন্তু মুহূর্তের মধ্য ককটেল এর মতো কিছু একটা আমাদের দিকে লক্ষ্য করে ছুড়ে মারা হলো মুহূর্তেই বিষ্ফোরনের শব্দ আমি লুটিয়ে পরলাম মাটিতে আমার সঙ্গীরা আমাকে নিয়ে আড়াল হওয়ার চেষ্টা করল কিন্তু ওরা আমাদের খুব কাছে চলে আসার কারনে আমরা ফাঁকা গুলি রবার বুলেট ছুড়তে লাগলাম টিয়ার সেল মারলাম কিন্তু ওরা আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করল আমরা পিছু হটতে শুরু করলাম কারন আমাদের কাছে গুলি ছোড়ার অনুমতি নেই। আমরা শুধুমাত্র আটক করতে পারবো কিন্তু কেউ আমাদের উপর গুলি করলে আমরা পাল্টা গুলি করতে পারবোনা গুলি করলেও করতে হবে ফাঁকা। কেউ আমাদের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারলেও আমাদের কেউ সাহায্য করতে আসবেনা কারন আমরা পুলিশ আমরা শুধু মানুষের সাহায্য করার জন্য আছি আমাদের সাহায্য করার জন্য কেউ নেয়। আমরা দুই একজন পুলিশ মরলে কোনো মানববন্ধন হবেনা কারন আমরা পুলিশ, আমাদেরকে রাষ্ট্রীয় সম্মান দিবেনা কারন আমরা পুলিশ, আমাদের নিয়ে বিচারের দাবিতে কেউ আন্দোলন করবে না কারন আমরা পুলিশ !!! আমরা মরলে কার কি এসে যায় আমরা তো সাধারন জনগণ না আমরা পুলিশ।অনেকেই বলবে পুলিশ মরলে কিসের আন্দোলন ওরা তো ঘুষখোর মরছে ত ভালো হয়ছে কিন্তু কেউ একটি বারের জন্যও জানতে চায়না আমাদের ও পরিবার আছে আমাদেরও ভালোবাসার মানুষ আছে আমাদেরও স্বপ্ন আছে আমাদেরও আছে স্বপ্নপুরনের ইচ্ছা ।

আমি ঃ কথাগুলো গর্জন করেই বলে উঠলেন তিনি আমি বুঝতে পারলাম রেগে আছেন। আমি সহানুভুতির সুরে বললাম ভাই সবার সব স্বপ্নপুরন হয়না। আমি নিজেও স্বপ্ন দেখি কিন্তু পুরনের আশা নিয়ে না ভালো লাগে বলেই দেখি (মিথ্যা বলে মিথ্যা সান্তনা দেওয়ার চেষ্টা)। আমিও সপ্নপুরনের আশায় স্বপ্ন দেখি কিন্তু জানি সব স্বপ্ন পুরন হয়না হয়তোবা হবেনা কিন্তু স্বপ্ন দেখা কি ছেড়ে দিবো ? নিজের মনের কাছেই প্রশ্ন করলাম উত্তরটা হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো। আমি আবার তার দিকে তাকালাম তিনি বলে যাচ্ছেন……

অচেনা মানুষ ঃ ওরা আমাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলছে প্রায় আমরা পালানোর কোনো পথ খুজে পাচ্ছিলাম না। আমরা আমাদের সাধ্য মতো চেষ্টা করে যাচ্ছি কিন্তু ওদের সাথে পেরে উঠছি না। আমাদের দু পক্ষের এই অবস্থা দেখে রাস্তার লোকজন দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দিয়েছে। আমরা জনগণকে বাঁচাতে ওদের উদ্দেশ্য করে আবারো ফাঁকা গুলি ছুড়লাম কিন্তু এতে ওরা পিছু হটলনা বরং আমাদের উপর বৃষ্টির মতো ইট পাটকেল এবং মাঝে মাঝে গুলি ছুড়তে লাগলো। কিছুক্ষনের মধ্য ওরা এসে আমাদের কাছ থেকে আমাদের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে আমাদের বেধরক ভাবে মারতে থাকে। একটা পর্যায়ে আমাদের কিছুসঙ্গী পালাতে সক্ষম হয় কিন্তু আমি একলা পড়ে যায় ককটেল বিস্ফোরনের কারনে আমি পায়ে এবং হাতে অনেকটা আহত হয় তাই আমি দোড় দিতে পারলাম না। আমাকে পেয়ে ওরা ওদের মনের ঝাল মিটিয়ে নেয়। সবার সামনে আমাকে ইচ্ছেমতো মারলো কেউ এগিয়ে আসলো না। ওরা ছিলো সংখ্যায় ২০০ জন কিন্তু জনগণ ছিলো ২০০০ কেউ একটি বারের জন্যও আমাকে একটু সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসলোনা। আসবে কেনো বলেন আমি তো পুলিশ তায়না আমি তো আর সাধারণ জনগণ না। সাধারন জনগণ মনে করে আমাদের মাঝে আছে অনেক ক্ষমতা। কিন্তু আমাদের আসলেয় কোনো ক্ষমতা নেয় আমরা শুধু মাত্র জনগণ এবং সরকারের চাকর।আমি ওদের কাছে অনেক আকুতি মিনতি করলাম কিন্তু ওরা আমার কথা কানে ও নিলনা আমার অস্ত্র দিয়ে আমাকেই রক্তাক্ত করে দিয়ে গেলো।আস্তে আস্তে আমার সামনে আমি সবকিছু অন্ধকার দেখতে পায় আমার মা-মণির মুখখানা আমার সামনে ভেসে ওঠে আমার মা-মণি আমাকে বলছে বাবা তুমি শুয়ে আছো কেনো ওঠ আমাকে আমাকে ময়না পাখি কিনে দিবেনা আমি ওঠার সাথে কথা বলবো হাসবো। আমি কিছুই বলতে পারছি না শুধু আমার মা-মণির দিকে চেয়ে থাকলাম। আমার স্ত্রী আমাকে বলছে তুমি না আমাকে কথা দিয়েছো সামনেবার ভ্যালেন্টাইন ডে তে তুমি আমাকে ফুল দিবে তুমি তো কথা দিয়ে কথা রাখো তাহলে আজকে কেনো আমাকে দেয়া কথা না রেখে তুমি চলে যেতে চাইছো ?ধীরে ধীরে আমার চোখটা বন্ধ হয়ে আসছে নিঃশাস ভারী হয়ে আসছে আমি বুঝতে পারছি আমার হাতে সময় নেই কিন্তু আমার যে আরো অনেক সময় লাগবে আমাকে যে আমার মেয়েকে ময়না কিনে দিতে হবে আমার মেয়ের ইচ্ছাপুরন করতে হবে আমার স্ত্রীকে ফুল দিতে হবে না হলে যে ও রাগ করবে। কিন্তু এসব আমি কাকে বলবো সেইসব মানুষকে যাদেরকে বাচানোর জন্য আজকে আমার এই অবস্থা ? আমার তো কোনো দোষ ছিলনা তাহলে কেনো আমাকে এইভাবে জীবন দিতে হল ? কেনো আমাকে কেউ বাচাতে আসলোনা ? কেনো আমার জীবনটা এইভাবে শুরুর আগেই শেষ করে দেয়া হল ? ওরা তো সংখ্যা ছিলো মাত্র ২০০ কিন্তু জনগণ ছিলো ২০০০ তাহলে কেনো জনগণ চুপ করে ছিলো ? আমি পুলিশ বলে ? আমি জনগণের চাকর বলে ?আসলেই আমাদের দেশের মানুষেরা এইরকম হয়ে গেছে অন্যায় দেখলে কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনা বরং দূর থেকে তামাশা দেখে আর মুখ ছিটকাতে পারে।আমার খুনি হল জনগণ আমাকে জনগণ খুন করেছে।আপনারা সবাই আমার খুনি! আপনারা সবাই আমার খুনের জন্য দায়ী !!

আমি ঃ ঘৃণার সাথে কথাগুলো বলে গেলেন তিনি আমি কিছুই বলতে পারলাম না কারন উনি যা বলে যাচ্ছেন সব কিছুই সঠিক।উনার কথা শুনে আমার নিজের চোখ কখন যে জলে ভরে উঠলো খেয়াল করলান না।নিজের প্রতি কেমন জানি ঘৃণা হতে লাগলো। আমি উনাকে জিজ্ঞেস করলাম ভাই আপনার নামটা কি ? যাবেন কোথায় ?

অচেনা মানুষ ঃ নিরুত্তর ভাবে উঠে দাড়ালেন ।তার চোখগুলো থেকে আগুনের মতো রশ্মি দের হতে লাগলো।

আমি ঃ তিনি আমার কথা বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করলেন না। চলে যেতে লাগলেন কিছুদুর যাবার পর পকেটে হাত দিয়ে কিছু একটা বের করলেন আমি খেয়াল করে দেখলাম রিভালভার !! আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই আমাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দিলেন সাথে সাথে আমার ঘুমটা ভেঙে গেলো !! উঠে বসলাম চারদিকে অন্ধকার দেখে কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম হাতের কাছের ঝাউবাতিটা জালিয়ে দিলাম আর মনে মনে চিন্তা করতে লাগলাম আমি এতক্ষন এগুলা কি দেখলাম ?কেনো দেখলাম ?অনেক চিন্তা মাথার মধ্য ঘুরপাক খেতে লাগল সঠিক কিছুই বুঝে উঠতে পারলাম না শুধু এতটুকু বুঝলাম আমি দুঃসপ্ন দেখেছি।

সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে খবরের কাগজে চোখ পরতেই আতকে উঠলাম। পেপারের কোনাই লিখা আছে “সন্ত্রাসীদের আক্রমণে পুলিশের কনস্টেবল নিহত”।খুব অবাক হলাম নিউসটা দেখে আফসোস হতে লাগলো আমার। সবথেকে বেশি কষ্ট লাগলো একটা পুলিশ মারা গেলো অথচ পেপার এর কোনায় শুধু মাত্র একটুকরো খবর হয়ে থেকে গেলো !!!

৫ thoughts on “অচেনা অতিথির কথোপকথন……

  1. বেশ আবেগ দিয়ে লিখেছেন। ভালো
    বেশ আবেগ দিয়ে লিখেছেন। ভালো লাগল। এইবারের ঘটনার একটা পজিটিভ দিক হচ্ছে পুলিশের মতো কিছু পেশার মানুষ নিয়ে আমরা নতুন করে ভাবতে শিখেছি।

    আপনার লেখার হাত ভালো। কিন্তু বানানে খুব ভুল হচ্ছে। বানান ভুল হলে লেখার মান কমে যায়। ঐদিকে একটু নজর দেন।

    1. ধন্যবাদ আপনার উপযুক্ত
      ধন্যবাদ আপনার উপযুক্ত মন্তব্যর জন্য এবং ভালো লাগলো আমার আবেগময় কথাগুলো আপনি বিবেক সহকারে দেখেছেন………

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *