কেন নাস্তিকেরাই ভাল মানুষ….

দেশে আস্তিকের সংখ্যা অধিক, দুর্নীতিবাজ লোকের সংখ্যা অধিক।
দেশে আস্তিকের সংখ্যা বেশি, অসত লোকের সংখ্যাটা বেশি।
দেশে আস্তিকের সংখ্যা বেশি, ধর্ষকের সংখ্যাটা নেহায়েত কম নয়।
দেশে আস্তিকের সংখ্যা বেশি, লম্পটের সংখ্যাটাও কি কম?

এই যদি হয় আস্তিক প্রধান দেশের চিত্র তাহলে লাভটা কী হলো?

অপরদিকে এখন পর্যন্ত নাস্তিকের সংখ্যাটা সঠিকভাবে নির্নয় না করা গেলেও তা যে আস্তিকদের চেয়ে বেশি তা বলা যাবে না। বরং নাই না বললে অনেকে তেড়ে আসবেন ক্ষেপা মোষের মত। তবু ধরে নিলাম নাস্তিক মাত্র হাতে গোণা কয়জন। এই কয়জন নাস্তিক ( আস্তিকগণের মতে মারাত্মকভাবে খারাপ) কি দেশের সমস্ত দুর্নীতি, অসামাজিক কার্যকলাপের জন্য দায়ী? বাস্তবে দেখা যায় হাতে নাতে ধরা খাওয়া এসব খারাপ লোকেরা কোনও না কোন ধর্মকে ধারন করেন, নিদেনপক্ষে স্রষ্টা বিশ্বাস করেন। অন্যদিকে স্বঘোষিত নাস্তিক কিংবা অভিযুক্ত নাস্তিকদেরকে এখন পর্যন্ত তেমন কোন খারাপ বা অন্যায় কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

দেশের অবস্থা যাই হোক, আমার মতে নাস্তিকদের দ্বারা কোন প্রকার অন্যায় কাজ করা সম্ভব নয়, কারণ একজন নাস্তিক যখন কোন কাজ করার পদক্ষেপ নেন তখন আগেই তিনি সেই কাজটি করা কতটূকু যুক্তিসঙ্গত, কতটুকু নিজের এবং সমাজের জন্য ক্ষতিকর, কতটুকু ইতিবাচক কিংবা কতটুকু নেতিবাচক তা নিশ্চিত হয়ে নেন। এই ভাবনাটুকু একজন নাস্তিকের জন্য খুব স্বাভাবিক, ভাবনা-চিন্তাবিহীন নাস্তিক খুজে পাওয়া খুব কঠিন। নিজস্ব ভাবনা, নিজের ভিতরে জন্ম নেয়া প্রশ্নের সংঘাতই তো একজন নাস্তিকের জন্ম দেয়। কিন্তু আস্তিক হতে গেলে এত ভাবনা-চিন্তার প্রয়োজন নেই, শুধু অন্ধ বিশ্বাসে বিশ্বাস স্থাপন করতে পারলেই আস্তিক হওয়া সম্ভব। একটা ভাবনা-চিন্তা পুষ্ট যৌক্তিক সিদ্ধান্ত ভুল কিংবা অন্যায় ঘটার কোন সম্ভাবনা রাখে কি?

আস্তিকগণ কথায় কথায় ভাল কাজ করার প্রেরণা কিংবা অন্যায় থেকে বিরত থাকার কারণ হিসেবে পরকালে স্রষ্টার কাছে জবাব দেয়ার দোহাই দেন। এই জবাবদিহিতার দোহাই তাদেরকে অন্যায় কাজ থেকে কতটুকু বিরত রাখতে পেরেছে, তা দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করলে সহজেই বুঝা যায়। এর কারণ কী? এর কারণ হতে পারে, হয়ত তারা মুখে বললেও বাস্তবে ততটা ভীত নয়। তবে আসল কারন কিন্তু তা না, আসলে আস্তিকগণের মন্দ কাজ করার একটা বিশাল সুযোগ রয়েছে, প্রায়শ্চিত্ত কিংবা তওবার মাধ্যমে। এই প্রায়শ্চিত্ত আর তওবার সুযোগ সামনে থাকার ফলে তারা মন্দ কাজ করার সময়ও আত্মপক্ষ সমর্থন করে। তাদের কাছে মনে হয় এইবারই শেষবার করবো, পরে তওবা করে আর করবো না। কিন্তু নেতি যার মজ্জাগত তার মন্দকাজের নেশা কি বন্ধ হয়? সর্বোপরি ভয়, বাধাকে ডিঙ্গিয়ে যাবার একটা স্বাভাবিক প্রবনতা মানুষের মাঝে সবসময়ই থাকে, ধর্ম আর ঈশ্বরের ভয় কতক্ষণ মানুষকে মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখতে পারবে? যেখানে গন্দম খাবার গল্প বাস্তব বলে প্রচারিত?

আস্তিকদের মাঝে একটা কথা খুব শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত যে তারা ভাবে যেহেতু নাস্তিকদের স্রষ্টা ও পরকালভীতি নাই সেহেতু তাদের দ্বারা সকল মন্দ কাজ করাই সম্ভব। আমাকে একটা কথা মারাত্মক বিব্রতভাবে মোকাবেলা করতে হয়, তোমাদের কাছে যেহেতু কোন ধরাবাধা নিয়মনীতি নাই, সবাই সমান, তাহলে তো তোমাদের নিজ মায়ের সাথে সঙ্গমে বাধা নেই, তোমরা লিপ্ত হও কি? আমি খুব বিক্ষুদ্ধভাবে বলি, রে ভাই এমন ভাবনা কেবল আস্তিকেরাই ভাবতে পারে। আর নাস্তিকেরা করবে তো দুরে থাক, এমন ভাবনা ভাবতেই পারে না। অন্যদিকে দেখা যায় আস্তিকেরা মায়ের সাথেও সঙ্গমে লিপ্ত হতে চায়, শুধু ধর্মে বাধা বলে পারে না। তাই নয় কি?

কাজী নজরুলের একটা কথা পড়েছিলাম ” শিউলি মালা” গল্পে। কথাটা ছিলা এরকম ” আমাদের এই অবাধ স্বাধীনতাই ছিল দুর্লংঘ্য বাধা।” এই কথাটা খুব সহজে উচ্চারন আর পড়া গেলেও এর যে নিগূঢ় অর্থ তা কি আমরা অস্বীকার করতে পারি? ভয় মানুষকে কি আদতে ভাল মানুষ রাখতে পারে? না কি সুযোগ নাই তাই ভাল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে? শিক্ষকের বেত্রাঘাত হয়ত সাময়িকভাবে কোন দুষ্ট ছেলেকে দুষ্টামি থেকে বিরত রাখতে পারে, তাই বলে কি দুষ্ট ছেলেটি দুষ্টামি চিরতরে ছেড়ে দেয়?

এইবার আসি কেনো একমাত্র এবং একমাত্র নাস্তিকেরাই ভাল মানুষ সে প্রসঙ্গে। আস্তিকগণ যে ভাল কাজ করেন না, তা কিন্তু নয়। কিন্তু আস্তিকগণের ভাল কাজগুলো তাকে ভাল মানুষে পরিণত করে না, বরং একটা চরম স্বার্থপর মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। ধরা যাক, একজন আস্তিক ব্যক্তি কোন দুর্গতকে দান করলেন। তার এই দান কতটুকু নিঃস্বার্থ হতে পারে? যেখানে সে দান করার সাথে সাথেই বেহেস্ত কিংবা স্বর্গে প্রশান্তির আশা করে? স্বর্গলাভ কিংবা বেহেস্ত লাভের আশা না থাকলে সে কি দানে উতসাহী থাকতো? তাহলে একজন আস্তিকের দান কিংবা ভাল কাজ কতটূকু নিঃস্বার্থ? আর স্বার্থপর মানুষকে কতটূকু ভাল মানুষ বলা যায়? প্রশ্নটা অমূলক কি?

অপরদিকে, নাস্তিক যখন ভাল কাজ অর্থাত অন্যকে সহায়তা করার জন্য উদ্দোগী হয় তা একান্তই মানবতার সেবার তাগিদ থেকেই করেন। কোন স্বর্গ কিংবা বেহেস্ত লাভের লোভ তার ভেতরে কাজ করে না। নাস্তিকের দান কিংবা সেবা পুরোটাই নিঃস্বার্থভাবে মানবতার সেবার জন্য, সেখানে কোন ব্যক্তিগত লোভ কিংবা লাভ কাজ করে না ।

তাহলে নাস্তিকেরাই একমাত্র ভাল মানুষ তা বলা ভুল হবে কি?

২ thoughts on “কেন নাস্তিকেরাই ভাল মানুষ….

  1. দেশে নাস্তিকের সংখ্যা বাড়লে

    দেশে নাস্তিকের সংখ্যা বাড়লে সমাজে সহিষ্ণুতা বাড়বে, ফলে সমাজে পাপ কমবে।
    আবারো প্রকাশ্যে বলছি
    আমি নাস্তিক, তাই তো আস্তিকের চেয়ে বেশি পাপ করি নি

    ———-আহমদ শরিফ

  2. অপরদিকে, নাস্তিক যখন ভাল কাজ

    অপরদিকে, নাস্তিক যখন ভাল কাজ অর্থাত অন্যকে সহায়তা করার জন্য উদ্দোগী হয় তা একান্তই মানবতার সেবার তাগিদ থেকেই করেন। কোন স্বর্গ কিংবা বেহেস্ত লাভের লোভ তার ভেতরে কাজ করে না। –

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *